কর্মরত শিক্ষকদের টেট: ৩১ আগস্ট ২০২৮ শেষ সময়সীমা, নিয়মিত পরীক্ষার নির্দেশ রাজ্যের
নির্দিষ্ট কর্মরত শিক্ষকদের ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তাঁদের সুযোগ দিতে দ্রুত এবং পরবর্তী সময়ে প্রায় ছ’মাস অন্তর টেট আয়োজনের প্রস্তুতির নির্দেশ রাজ্যের।
Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: News Editorial Team Published: 2026-09-11 Source: West Bengal School Education Department

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর: কর্মরত (In-service) শিক্ষকদের জন্য দ্রুত শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টেট) - Teacher Eligibility Test (TET) আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (West Bengal Central School Service Commission) এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে (West Bengal Board of Primary Education) নির্দেশ দিল রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই দফতরের প্রাথমিক শিক্ষা শাখা ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর State of U.P. বনাম Anjuman Ishaat-E-Taleem Trust ও অন্যান্য মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রায় অনুযায়ী, শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ কার্যকর হওয়ার আগে নিযুক্ত এবং যাঁদের চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি অবশিষ্ট রয়েছে, এমন কর্মরত শিক্ষকদের চাকরিতে বহাল থাকার জন্য টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় টেট যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অধিকারী হবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রথমে এই যোগ্যতা অর্জনের জন্য দুই বছরের সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট মামলার রিভিউ পিটিশনে সুপ্রিম কোর্ট ২০২৬ সালের ২৯ মে একটি সংশোধিত নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়। ফলে নির্দেশের আওতাভুক্ত কর্মরত শিক্ষকদের এখন ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
যোগ্য কর্মরত শিক্ষকেরা যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগ পান, সে জন্য রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত টেট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সম্ভব হলে বছরে দু’বার, অর্থাৎ পরপর দুটি পরীক্ষার মধ্যে আনুমানিক ছ’মাসের ব্যবধান রেখে টেট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়ানোর কোনও আবেদন ভবিষ্যতে গ্রহণ করা হবে না।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর স্কুল সার্ভিস কমিশন ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে নিজেদের এক্তিয়ারের মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব টেট আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে বলেছে। প্রথম পরীক্ষার পরেও প্রায় ছ’মাস অন্তর নিয়মিত পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি রাখতে হবে, যাতে নির্দেশের আওতাভুক্ত প্রত্যেক শিক্ষক ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর আগে যোগ্যতা অর্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ পান।
পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি, প্রস্তুতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার বিষয়ে দ্রুত বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট চাইলে রাজ্যের পক্ষ থেকে নির্দেশ পালনের অগ্রগতি জানাতে এই রিপোর্ট ব্যবহার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মূল রায় এবং ২৯ মে ২০২৬-এর সংশোধিত নির্দেশের প্রতিলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে। নির্দেশের প্রতিলিপি রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনার, বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দফতর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দফতরেও পাঠানো হয়েছে।
তবে এই বিজ্ঞপ্তিতে নতুন টেটের নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদন শুরুর সময়, যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত, পরীক্ষার পাঠ্যক্রম কিংবা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য নিয়ম ঘোষণা করার পরেই সেই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে। তাই কর্মরত শিক্ষকদের স্কুল সার্ভিস কমিশন, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর, প্রাথমিক শিক্ষা শাখা; স্মারক নং 402-SED-13037/191/2025 LAW SEC, তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
