TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Primary TET - Environmental Studies - Content (বিষয়বস্তু)

জল, বায়ু ও ভূমি

-এর বিষয়ক্রম অনুসারে জলের উৎস ও ব্যবহার, জলচক্র, ভূগর্ভস্থ জল, নিরাপদ পানীয় জল, বায়ুর গঠন, মাটি, ভূমিরূপ ও সংরক্ষণ নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: পরিবেশ বিদ্যা Content Review Team

জল, বায়ু ও ভূমি

জল, বায়ু ও ভূমি জীবনের মৌলিক প্রাকৃতিক ভিত্তি। এগুলি আলাদা সম্পদ নয়—বৃষ্টি মাটিতে পড়ে নদী ও ভূগর্ভস্থ জল তৈরি করে, বায়ু জলীয় বাষ্প বহন করে, মাটি উদ্ভিদকে জল ও খনিজ দেয়, আবার উদ্ভিদ মাটি ও জল ধরে রাখে। মানুষের বসতি, কৃষি (Agriculture), জীবিকা এবং স্বাস্থ্যও এই পারস্পরিক সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল।

পরিচিত জল-ব্যবহার থেকে বৃহত্তর জলব্যবস্থায়

স্তরঅনুসন্ধানের প্রধান ক্ষেত্র
শ্রেণি IIIবাড়িতে জল কোথা থেকে আসে, কে জল আনে, কী কাজে কত জল লাগে, পাত্রের আকার এবং জল সংরক্ষণের অভ্যাস
শ্রেণি IVজলস্রোত, নদী ও স্থানীয় জলাশয়, পানীয় জলের নিরাপত্তা, জলজনিত রোগ, জলাভাব ও জল নিয়ে সামাজিক অভিজ্ঞতা
শ্রেণি Vআগেকার কুয়ো ও বাওলি, ভূগর্ভস্থ জল, সেচ, জল তোলা, জলচালিত কাজ, জলজ উদ্ভিদ-প্রাণী এবং সময়ের সঙ্গে জলপ্রাপ্যতার পরিবর্তন

কল থেকে জল পড়ছে—এই পর্যবেক্ষণে থেমে গেলে জলের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা বোঝা যায় না। জল কোথা থেকে আসে, কীভাবে পৌঁছায়, কারা এর সঙ্গে কাজ করেন, সবাই সমানভাবে পায় কি না এবং ব্যবহারের পরে কোথায় যায়—এই পুরো ধারাটি বুঝতে হবে।

পৃথিবীতে জলের বণ্টন

পৃথিবীর পৃষ্ঠের অধিকাংশ জল দিয়ে আবৃত হলেও তার বেশির ভাগ সমুদ্রের লবণাক্ত জল। মিঠা জলের বড় অংশ হিমবাহ ও বরফে অথবা ভূগর্ভে সঞ্চিত। নদী, হ্রদ ও বায়ুমণ্ডলে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য মিঠা জলের অংশ তুলনামূলকভাবে খুব কম। তাই “পৃথিবীতে এত জল, জলাভাব কেন?”—এর উত্তর জলের অবস্থান, লবণাক্ততা, ঋতু, দূষণ, অবকাঠামো ও অসম বণ্টনের মধ্যে আছে।

জলের প্রধান উৎস

  • বৃষ্টির জল;
  • নদী, ঝরনা, খাল, হ্রদ ও পুকুর;
  • কুয়ো, নলকূপ ও প্রস্রবণের ভূগর্ভস্থ জল;
  • হিমবাহ ও বরফগলা জল;
  • জলাধার ও বাঁধে সঞ্চিত জল;
  • পরিশোধিত ও পুনর্ব্যবহৃত জল।

বৃষ্টিই অধিকাংশ স্থলভাগের মিঠা জলের মূল পুনর্ভরণ উৎস। নদী বা ভূগর্ভস্থ জলকে আলাদা অসীম উৎস ভাবা ভুল।

জলের তিন অবস্থা ও অবস্থার পরিবর্তন

জল কঠিন বরফ, তরল জল ও গ্যাসীয় জলীয় বাষ্প—তিন অবস্থায় থাকতে পারে।

পরিবর্তনঅর্থ
গলন (Melting)কঠিন থেকে তরল
কঠিনীভবন (Freezing)তরল থেকে কঠিন
বাষ্পীভবন (Evaporation)তরলের উপরিভাগ থেকে বাষ্পে পরিবর্তন
স্ফুটন (Boiling)নির্দিষ্ট চাপে সারা তরলে দ্রুত বাষ্প সৃষ্টি
ঘনীভবন (Condensation)বাষ্প থেকে তরল
ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation)কিছু কঠিন পদার্থের সরাসরি গ্যাসে পরিবর্তন; জলচক্রের প্রধান ধাপ নয়

বাষ্পীভবন শুধু ফুটন্ত অবস্থায় হয় না; সাধারণ তাপমাত্রাতেও ঘটে। তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, উন্মুক্ত পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল (Area) ও বায়ুর আর্দ্রতা এর হারকে প্রভাবিত করে।

জলচক্র (Water Cycle)

সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী, হ্রদ ও ভেজা ভূমি থেকে জল বাষ্পীভূত হয়। উদ্ভিদের বাষ্পমোচন থেকেও জলীয় বাষ্প আসে। ওপরে উঠে বায়ু ঠান্ডা হলে জলীয় বাষ্প ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণায় ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে। কণাগুলি বড় ও ভারী হলে বৃষ্টি, তুষার বা শিলারূপে অধঃক্ষেপণ (Precipitation) ঘটে।

ভূপৃষ্ঠে পড়া জলের একাংশ:

  • নদী-খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়—পৃষ্ঠপ্রবাহ (Runoff);
  • মাটির মধ্যে প্রবেশ করে—অনুপ্রবেশ (Infiltration);
  • গভীরে গিয়ে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ করে—Percolation;
  • উদ্ভিদ গ্রহণ করে;
  • আবার বাষ্পীভূত হয়।

জলচক্রে জল পুনরাবর্তিত হলেও কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে একই সময়ে একই মানের জল পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। দূষিত জলও চক্রের অংশ হতে পারে।

মেঘ, বৃষ্টি ও শিশির

মেঘ জলীয় বাষ্প নয়; অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণার সমষ্টি। জলীয় বাষ্প অদৃশ্য। ঠান্ডা গ্লাসের বাইরে যে জল জমে, তা গ্লাসের ভেতর থেকে বের হয় না; আশপাশের বায়ুর জলীয় বাষ্প ঠান্ডা পৃষ্ঠে ঘনীভূত হয়।

শিশির ভূমির কাছের ঠান্ডা পৃষ্ঠে ঘনীভূত জল। কুয়াশা ভূমির কাছাকাছি বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র জলকণা। তুষারপাত মেঘে বরফ স্ফটিক তৈরি হয়ে পড়ার ফল; শিশির জমে সাধারণত তুষারপাত হয় না।

ভূগর্ভস্থ জল

মাটির নিচে শিলা ও মাটির ফাঁকে সঞ্চিত জলকে ভূগর্ভস্থ জল বলে। যে স্তরের নিচে ফাঁকগুলি জলে পূর্ণ থাকে তার উপরের সীমা জলস্তর (Water Table)। জলধারক শিলা বা পলির স্তরকে জলভাণ্ডার (Aquifer) বলে।

বৃষ্টির জল মাটিতে ঢুকে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ করে। কংক্রিটে ঢাকা শহুরে ভূমি, জলাভূমি ভরাট ও বন উজাড় অনুপ্রবেশ কমিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত নলকূপে জল তোলা হলে পুনর্ভরণের চেয়ে নিষ্কাশন বেশি হয়ে জলস্তর নেমে যায়। গভীর নলকূপ সব সময় নিরাপদ সমাধান নয়।

কুয়ো, বাওলি ও ঐতিহ্যগত জলব্যবস্থা

কুয়ো ভূগর্ভস্থ জলে পৌঁছায়। ধাপকূপ বা বাওলিতে সিঁড়ি দিয়ে নিচের জলস্তরে নামা যায়; এগুলি জল সংরক্ষণ, সামাজিক মিলন ও স্থাপত্যের অংশ ছিল। পুকুর, জোহড়, ট্যাংক, বাঁধ ও পাহাড়ি জলচ্যানেলের মতো স্থানীয় ব্যবস্থা জলবায়ু (Climate) ও ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে গড়ে উঠেছে। পুরোনো ব্যবস্থা সবসময় স্বাস্থ্যকর ছিল না, তবে তাদের জলধারণ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা থেকে শেখার সুযোগ আছে।

জল তোলা ও প্রবাহ

জল স্বাভাবিকভাবে উঁচু বিভব থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। মানুষ কপিকল, দড়ি-বালতি, ঢেঁকি-জাতীয় লিভার, রহট, হ্যান্ডপাম্প, বৈদ্যুতিক পাম্প ও সৌরচালিত পাম্প দিয়ে জল তোলে। সাইফনে তরলকে এক পাত্র থেকে নিচু স্তরে স্থানান্তর করা যায়, তবে এর জন্য চাপের পার্থক্য ও অবিচ্ছিন্ন তরলস্তম্ভ দরকার; জল নিজে স্থায়ীভাবে নিচু স্থান থেকে উঁচু স্থানে উঠে যায় না।

প্রবাহমান জলের শক্তি জলচাকা বা টারবাইন ঘুরিয়ে শস্য পেষা বা বিদ্যুৎ (Electricity) উৎপাদনে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে জল নিঃশেষ না হলেও বাঁধ ও প্রবাহ পরিবর্তনে নদীর বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) ও মানুষের জীবন প্রভাবিত হতে পারে।

কৃষিতে জল

সব ফসলের জলের চাহিদা সমান নয়। ধান সাধারণত বেশি জলনির্ভর, আর বহু মিলেট তুলনামূলক কম জলে জন্মাতে পারে। তবে অঞ্চল, জাত, মাটি ও কৃষিপদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজন বদলায়।

সেচপদ্ধতিবৈশিষ্ট্য
পৃষ্ঠসেচনালা বা ক্ষেতের উপর দিয়ে জল প্রবাহিত; সহজ কিন্তু অপচয় বেশি হতে পারে
স্প্রিংকলারবৃষ্টির মতো জল ছড়ায়; অসম জমিতেও ব্যবহারযোগ্য
ড্রিপ সেচগাছের মূলের কাছে ধীরে জল দেয়; বাষ্পীভবন ও অপচয় কমাতে পারে
বৃষ্টিনির্ভর কৃষিস্থানীয় বৃষ্টির উপর নির্ভর; মাটি-জল সংরক্ষণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ

সেচের দক্ষতা শুধু যন্ত্রের উপর নয়—ফসল নির্বাচন, মাটির আর্দ্রতা, সময়, ফুটো এবং কৃষকের প্রবেশাধিকারের উপরও নির্ভর করে।

জলের ব্যবহার ও হিসাব

পান, রান্না, স্নান ও ধোয়ার প্রত্যক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি খাদ্য, কাপড়, কাগজ ও শিল্পপণ্য তৈরিতেও বিপুল জল লাগে। কোনো পণ্যের সম্পূর্ণ উৎপাদনে ব্যবহৃত মোট জলকে জল-পদচিহ্ন (Water Footprint) বলা হয়। এটি স্থান ও উৎপাদনপদ্ধতিভেদে বদলে যায়; একটি স্থির সংখ্যা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

জল বাঁচানোর উপায়:

  • ফুটো কল ও পাইপ দ্রুত মেরামত;
  • কল খোলা না রেখে পাত্রে জল ব্যবহার;
  • উপযুক্ত হলে ধোয়া জল পুনর্ব্যবহার;
  • বৃষ্টির জল সংগ্রহ ও ভূগর্ভস্থ পুনর্ভরণ;
  • স্থানীয় জলাশয় ও জলাভূমি রক্ষা;
  • কৃষিতে ফসল ও সেচের উপযুক্ত নির্বাচন;
  • দূষণ কমিয়ে ব্যবহারযোগ্য জল রক্ষা।

শুধু ব্যক্তিগত কল বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; জলবহুল শিল্প, কৃষি, শহুরে সরবরাহ ও ন্যায্য বণ্টনের নীতিও জরুরি।

পানীয় জল ও পরিশোধন

স্বচ্ছ জল সবসময় নিরাপদ নয়। এতে রোগজীবাণু, আর্সেনিক, ফ্লুরাইড, লবণ বা অন্যান্য অদৃশ্য দূষক থাকতে পারে। পানীয় জলের নিরাপত্তা উৎস ও দূষণের ধরন অনুযায়ী বিচার করতে হয়।

সাধারণ পরিশোধনধাপ

  1. থিতানো (Sedimentation)—ভারী কণা নিচে বসে।
  2. ঊর্ধ্বতরল আলাদা করা (Decantation)—উপরের স্বচ্ছতর জল ঢেলে নেওয়া।
  3. ছাঁকন (Filtration)—সূক্ষ্ম স্থগিত কণা কমানো।
  4. জীবাণুনাশ (Disinfection)—ফোটানো, উপযুক্ত ক্লোরিন বা অনুমোদিত পদ্ধতিতে জীবাণু কমানো।
  5. নিরাপদ সংরক্ষণ—ঢাকনাযুক্ত পরিষ্কার পাত্রে রাখা এবং হাত না ডুবিয়ে জল নেওয়া।

ফোটালে বহু রোগজীবাণু মারা যায়, কিন্তু দ্রবীভূত লবণ, আর্সেনিক বা সব রাসায়নিক দূষক দূর হয় না। কাপড়ে ছেঁকে নেওয়াও রাসায়নিক বা অধিকাংশ অণুজীব দূর করার পূর্ণ পদ্ধতি নয়।

জলজনিত ও জলসম্পর্কিত রোগ

দূষিত জল পান করলে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও হেপাটাইটিস A-এর মতো রোগ ছড়াতে পারে। জমা জলে মশা জন্মালে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ে—এগুলি মশাবাহিত, সরাসরি জলপানজনিত রোগ নয়। পরিষ্কার জলেও ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা জন্মাতে পারে।

নিরাপদ জল, শৌচাগার, হাত ধোয়া, আবর্জনা নিয়ন্ত্রণ এবং জলপাত্র ঢেকে রাখা একসঙ্গে দরকার। রোগ হলে শুধু উৎস পরিষ্কার করলেই চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হয় না।

জলপ্রাপ্তি, শ্রম ও ন্যায্যতা

সব পরিবার সমান দূরত্বে বা সমান দামে জল পায় না। অনেক স্থানে নারী ও শিশুকে দূর থেকে জল আনতে হয়, ফলে শিক্ষা, বিশ্রাম ও উপার্জনের সময় কমে। শহরের অনানুষ্ঠানিক বসতিতে কম সরবরাহের জল বেশি দামে কিনতে হতে পারে, অথচ সচ্ছল এলাকায় পাইপের জল তুলনামূলক সস্তা হয়।

জল একটি মৌলিক প্রয়োজন এবং সাধারণ সম্পদ। উজানের অতিরিক্ত ব্যবহার ভাটির মানুষের অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। ন্যায্য জলব্যবস্থাপনায় পরিমাণ, গুণমান, দূরত্ব, নিয়মিততা, সামর্থ্য এবং বিভিন্ন জীবের পরিবেশগত প্রয়োজন বিবেচনা করতে হয়।

বায়ু কী?

বায়ু বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। শুষ্ক বায়ুতে প্রায় 78 শতাংশ নাইট্রোজেন, 21 শতাংশ অক্সিজেন এবং অল্প পরিমাণ আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস থাকে। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও সময়ভেদে বদলে যায়। ধুলো, পরাগরেণু, ধোঁয়া ও অণুজীবও বায়ুতে থাকতে পারে।

বায়ু অদৃশ্য হলেও স্থান দখল করে, ভর আছে এবং চাপ প্রয়োগ করে। উল্টানো গ্লাস জলে ডোবালে ভেতরের বায়ু জলকে ঢুকতে বাধা দেয়। চাপ দিলে সিরিঞ্জে আবদ্ধ বায়ুর আয়তন (Volume) কমে—বায়ু সংকোচনযোগ্য।

জীবনের জন্য বায়ু

অধিকাংশ জীব শ্বসনে অক্সিজেন ব্যবহার করে, তবে সব অণুজীবের জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য নয়। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষে কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে এবং শ্বসনে অক্সিজেন ব্যবহার করে। মাটির ফাঁকের বায়ু মূল ও মাটির জীবের শ্বসনে সাহায্য করে। জলেও দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে, যা বহু জলজ প্রাণী ব্যবহার করে।

দহনেও অক্সিজেন লাগে। ঢাকনা দিয়ে জ্বলন্ত মোমবাতি ঢেকে দিলে সীমিত অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়ে শিখা নিভে যায়। তবে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে বস্তু ও আগুনের ধরন বুঝে পদ্ধতি নিতে হয়; বৈদ্যুতিক বা তেলের আগুনে জল বিপজ্জনক হতে পারে।

বায়ুচাপ ও বাতাস

বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হলে বাতাস তৈরি হয়। ভূমি ও জল অসম হারে গরম হওয়ার কারণে স্থানীয় চাপের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। দিনে স্থল দ্রুত গরম হওয়ায় সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে সমুদ্রবায়ু আসতে পারে; রাতে স্থল দ্রুত ঠান্ডা হয়ে বিপরীত প্রবাহ হতে পারে।

‘গরম বায়ু ওপরে ওঠে’ বলার অর্থ গরম হয়ে প্রসারিত বায়ুর ঘনত্ব আশপাশের ঠান্ডা বায়ুর তুলনায় কমে। বায়ুর নিজস্ব কোনো স্থায়ী ‘ওপরের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা’ নেই।

বিশুদ্ধ বায়ু ও ঘরের বায়ু

বায়ুদূষণের উৎস হতে পারে যানবাহন, শিল্প, নির্মাণের ধুলো, বর্জ্য ও ফসলের অবশিষ্ট পোড়ানো, তামাকের ধোঁয়া এবং ঘরের কঠিন জ্বালানি। দূষিত বায়ু চোখ, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘরের বায়ুও দূষিত হতে পারে। রান্নার ধোঁয়া, তামাক, ছত্রাক, ধূপ বা রাসায়নিক বাষ্প জমলে ঝুঁকি বাড়ে। বায়ুচলাচল, উৎস নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সুগন্ধি ছড়ালে দূষক দূর হয় না। গাছ পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি বন্ধ ঘরে কয়েকটি টব সব দূষণ দূর করতে পারে—এ দাবি অতিরঞ্জিত।

ভূমি, শিলা ও মাটি

ভূমি মানুষের বসতি, কৃষি, বন, শিল্প, পরিবহণ (Transport) ও জীববৈচিত্র্যের স্থান। পৃথিবীর ভূত্বক শিলা ও খনিজ দিয়ে গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে তাপমাত্রা পরিবর্তন, জল, বায়ু, বরফ, উদ্ভিদের মূল ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় শিলা ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়—একে আবহবিকার (Weathering) বলে।

মাটি শুধু ভাঙা শিলা নয়; এতে খনিজ কণা, হিউমাস, জল, বায়ু এবং অসংখ্য জীব থাকে। এক সেন্টিমিটার উর্বর মাটি তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, তাই মানুষের সময়মাত্রায় এটি সহজে নবায়নযোগ্য নয়।

মাটির উপাদান ও স্তর

  • খনিজ কণা: বালি, পলি ও কাদা;
  • হিউমাস: পচা জৈব পদার্থ;
  • জল ও দ্রবীভূত খনিজ;
  • মাটির ফাঁকে বায়ু;
  • কেঁচো, পিঁপড়ে, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীব।

মাটির প্রোফাইলে সাধারণত জৈবপদার্থসমৃদ্ধ উপরিভাগ, খনিজ সঞ্চয়ের নিম্নস্তর, আংশিক ভাঙা শিলা এবং মূল শিলা দেখা যায়। সব স্থানে স্তরের পুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য এক নয়।

মাটির ধরন

ধরনবৈশিষ্ট্য
বেলে মাটিবড় কণা, দ্রুত জল নিষ্কাশন, কম জলধারণ
কাদামাটিখুব সূক্ষ্ম কণা, বেশি জলধারণ, বায়ুচলাচল কম হতে পারে
পলিমাটিমাঝারি কণা; নদীবাহিত পলি অঞ্চলে সাধারণ
দোআঁশ মাটিবালি, পলি, কাদা ও জৈবপদার্থের ভারসাম্য; বহু ফসলে উপযোগী

সব দোআঁশ মাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উর্বর নয় এবং কাদামাটি সব ফসলের জন্য খারাপ নয়। pH, জৈবপদার্থ, খনিজ, নিকাশি, জলবায়ু ও ফসলের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।

মাটিক্ষয় ও সংরক্ষণ

জল বা বায়ুতে উর্বর উপরিভাগ সরে যাওয়াকে মাটিক্ষয় (Soil Erosion) বলে। বন উজাড়, অতিচারণ, খাড়া ঢালে ভুল চাষ, খনন এবং অনাবৃত মাটি ক্ষয় বাড়ায়। নদীর পলি পরিবহণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডে ক্ষয়ের হার অস্বাভাবিক হতে পারে।

সংরক্ষণের উপায়:

  • উদ্ভিদের আবরণ ও বনায়ন;
  • ঢালের সমান্তরালে সমোচ্চ চাষ (Contour Ploughing);
  • সোপান চাষ (Terracing);
  • বাতাসরোধী বৃক্ষসারি (Shelter Belt);
  • আচ্ছাদন ফসল ও মালচ;
  • অতিচারণ নিয়ন্ত্রণ;
  • ছোট বাঁধ, ঘাসের বাধা ও জলধারণ কাঠামো।

প্রধান ভূমিরূপ

  • পর্বত: উচ্চ ও খাড়া ভূমি; নদীর উৎস, বন ও বৈচিত্র্যময় আবাসের সঙ্গে যুক্ত।
  • মালভূমি: আশপাশের তুলনায় উঁচু ও তুলনামূলক সমতল ভূমি; খনিজ সম্পদ থাকতে পারে।
  • সমভূমি: নিম্ন ও বিস্তৃত সমতল ভূমি; নদীবাহিত পলি কৃষি ও ঘন বসতিতে সহায়ক।
  • উপত্যকা: পাহাড় বা উচ্চভূমির মধ্যবর্তী নিম্ন অঞ্চল।
  • মরুভূমি: খুব কম বৃষ্টিপাত (Precipitation); শুধু বালির নয়, পাথুরে বা শীতল মরুভূমিও আছে।
  • বদ্বীপ: নদীর মোহনায় পলি সঞ্চয়ে গঠিত নিম্নভূমি।

ভূমিরূপ স্থির নয়। নদী, ঢেউ, হিমবাহ, বায়ু, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়ক্রিয়া ভূমিকে গঠন ও পরিবর্তন করে।

ভূমি ব্যবহার ও সংঘাত

একই ভূমি কৃষি, বন, বসতি, রাস্তা, শিল্প বা জলাধারের জন্য চাওয়া হতে পারে। একটি ব্যবহার বেছে নিলে অন্য ব্যবহার ও জনগোষ্ঠী প্রভাবিত হয়। ‘অনাবাদি’ বলা জমিও পশুচারণ, জলধারণ, জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) বা স্থানীয় জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় মাটির ক্ষমতা, জল, দুর্যোগঝুঁকি, জীববৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার বিবেচনা করতে হয়। শুধু স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।

জল, বায়ু ও ভূমির পারস্পরিক সম্পর্ক

বন কেটে ভূমি অনাবৃত করলে বৃষ্টির জল দ্রুত প্রবাহিত হয়ে মাটিক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ভূগর্ভস্থ পুনর্ভরণ কমে। দূষিত বায়ুর কিছু পদার্থ বৃষ্টির সঙ্গে মাটি ও জলে জমতে পারে। দূষিত মাটি থেকে রাসায়নিক ভূগর্ভস্থ জলে যেতে পারে। জলাভূমি ভরাট করলে জলধারণ, পরিশোধন ও প্রাণীর আবাস—সব প্রভাবিত হয়। তাই একটি সম্পদের সমস্যা আলাদা করে সমাধান করা যায় না।

গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগত পার্থক্য

কাছাকাছি ধারণাপার্থক্য
বাষ্পীভবন ও স্ফুটনবাষ্পীভবন উপরিভাগে নানা তাপমাত্রায়; স্ফুটন নির্দিষ্ট চাপে সারা তরলে দ্রুত ঘটে
অনুপ্রবেশ ও পৃষ্ঠপ্রবাহঅনুপ্রবেশে জল মাটিতে ঢোকে; পৃষ্ঠপ্রবাহে ভূমির উপর দিয়ে যায়
জলস্তর ও জলভাণ্ডারজলস্তর সম্পৃক্ত অঞ্চলের উপরের সীমা; জলভাণ্ডার জলধারণ ও পরিবহণকারী ভূস্তর
জলজনিত ও মশাবাহিত রোগপ্রথমটি দূষিত জল গ্রহণে; দ্বিতীয়টি বাহক মশার মাধ্যমে ছড়ায়
আবহবিকার ও ক্ষয়আবহবিকারে শিলা স্থানে ভাঙে; ক্ষয়ে কণা অপসারিত ও পরিবাহিত হয়
মাটি ও ভূমিমাটি ভূমির জীবন্ত উপরিস্তরের অংশ; ভূমি বিস্তৃত স্থান ও তার ব্যবহার বোঝায়

পরিস্থিতিভিত্তিক বিশ্লেষণ

পরিস্থিতি 1

এক এলাকায় গভীর নলকূপ বাড়লেও জলাভাব বেড়েছে। কারণ উত্তোলন পুনর্ভরণের চেয়ে বেশি, পুকুর ভরাট এবং কংক্রিটের আবরণে বৃষ্টির জল মাটিতে কম ঢুকতে পারে। আরও গভীর নলকূপ একা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

পরিস্থিতি 2

একটি স্বচ্ছ কুয়োর জলকে নিরাপদ বলা হয়েছে। স্বচ্ছতা স্থগিত কণা কম থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে, কিন্তু জীবাণু বা দ্রবীভূত আর্সেনিক সম্পর্কে তথ্য দেয় না। উৎস পরীক্ষা ও উপযুক্ত পরিশোধন দরকার।

পরিস্থিতি 3

বৃষ্টির পরে খালি ঢালু জমির মাটি নদীতে যাচ্ছে। ঢালে উদ্ভিদের আবরণ, সমোচ্চ রেখায় বাধা ও জলধারণ ব্যবস্থা প্রবাহ ধীর করে মাটি ধরে রাখতে পারে।

পরিস্থিতি 4

এক ঘরে ধোঁয়া কমাতে সুগন্ধি স্প্রে করা হচ্ছে। এতে গন্ধ ঢাকতে পারে, কিন্তু কণা ও গ্যাস দূর হয় না; উৎস কমানো এবং বায়ুচলাচল বাড়ানো দরকার।

সাধারণ ভুল ধারণা

  • মেঘ জলীয় বাষ্প দিয়ে দৃশ্যমান হয়—মেঘ দৃশ্যমান ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণার সমষ্টি।
  • ফুটন্ত জল সব ধরনের দূষণ দূর করে—এটি জীবাণু কমায়, সব রাসায়নিক দূষক নয়।
  • ডেঙ্গু শুধু নোংরা জলে হয়—এডিস মশা পরিষ্কার জমা জলেও জন্মাতে পারে।
  • ভূগর্ভস্থ জল অসীম—অতিরিক্ত উত্তোলনে জলস্তর নেমে যায়।
  • বায়ুতে শুধু অক্সিজেন আছে—নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি।
  • উদ্ভিদ রাতে শ্বাস নেয় না—শ্বসন (Respiration) দিন-রাত চলে।
  • মাটি কেবল ভাঙা পাথর—জৈবপদার্থ, জল, বায়ু ও জীবও থাকে।
  • মরুভূমি মানেই গরম বালির অঞ্চল—শীতল ও পাথুরে মরুভূমিও আছে।

গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ও ইংরেজি পরিভাষা

  • জলচক্র (Water Cycle)
  • ভূগর্ভস্থ জল (Groundwater)
  • জলাধার অঞ্চল (Watershed)
  • বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
  • মাটিক্ষয় (Soil Erosion)
  • জল সংরক্ষণ (Water Conservation)

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

05. জল, বায়ু ও ভূমি — MCQ Test
30 questions

Start quiz →