বিকাশের নির্ধারক হিসেবে বংশগতি ও পরিবেশ (Heredity and Environment as Factors of Development)
CDP Child Development and Pedagogy WBTET/CTET in Bengali Heredity and Environment as Factors of Development
Published by: TET Sampan Editorial Team
১. বংশগতি (Heredity) কী? (Concept of Heredity)
জন্মসূত্রে বা গর্ভধারণের মুহূর্তে শিশু তার পিতা-মাতা এবং পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যে সমস্ত শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য লাভ করে, তাকে বংশগতি (Heredity) বলে।
- জৈবিক ভিত্তি: মানুষের প্রতিটি কোষে ৪৬টি (২৩ জোড়া) ক্রোমোসোম থাকে। এই ক্রোমোসোমের মধ্যে থাকা জিন (Gene) হলো বংশগতির প্রধান বাহক।
- প্রকৃতি: বংশগতিকে বিকাশের একটি স্থির বা স্থিতিশীল (Static) উপাদান বলা হয়, কারণ জন্মের পর একে পরিবর্তন করা যায় না।
- প্রভাব: শিশুর চোখের রঙ, চুলের গঠন, রক্তের গ্রুপ, উচ্চতা এবং বুদ্ধির প্রাথমিক ক্ষমতা মূলত বংশগতি দ্বারা নির্ধারিত হয়।
২. পরিবেশ কী? (Concept of Environment)
গর্ভধারণের পর থেকে আমৃত্যু মানবজীবনকে বাইরে থেকে যা কিছু প্রভাবিত করে, তার সমষ্টিই হলো পরিবেশ (Environment)।
- প্রকারভেদ: পরিবেশ দুই প্রকার হতে পারে—
- অভ্যন্তরীণ পরিবেশ: মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর চারপাশের অবস্থা।
- বাহ্যিক পরিবেশ: জন্মের পর ভৌত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পারিপার্শ্বিকতা।
- প্রকৃতি: পরিবেশ হলো বিকাশের একটি গতিশীল (Dynamic) উপাদান, যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে।
- প্রভাব: শিশুর ভাষা শিক্ষা, আচার-ব্যবহার, নৈতিকতা, অভ্যাস এবং সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে পরিবেশের ভূমিকা মুখ্য।
৩. বংশগতি ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক (Interplay of Heredity & Environment)
আধুনিক মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, বিকাশ কেবল বংশগতি বা কেবল পরিবেশের একক ফল নয়; বরং এটি এই দুটি উপাদানের জটিল মিথস্ক্রিয়ার (Interplay) পরিণাম।
ক. গুণফলের সূত্র (Product, Not Sum)
মনোবিজ্ঞানী উডওয়ার্থ (Woodworth)-এর মতে, শিশুর বিকাশ হলো বংশগতি ও পরিবেশের যোগফল নয়, বরং গুণফল।
বিকাশ = বংশগতি X পরিবেশ
(Development = Heredity X Environment)
তাৎপর্য: কোনো একটি উপাদান যদি শূন্য হয়, তবে সামগ্রিক বিকাশও শূন্য হবে। যেমন— উন্নত বংশগতি নিয়ে জন্মানো একটি শিশুকে যদি সমাজবিচ্ছিন্ন করে বনের মধ্যে রাখা হয় (উন্নত পরিবেশের অভাব), তবে তার মানবিক বিকাশ ঘটবে না।
খ. প্রকৃতি বনাম প্রতিপালন বিতর্ক (Nature vs. Nurture Debate)
এই আলোচনায় দুটি পরিভাষা গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রকৃতি (Nature): এটি নির্দেশ করে শিশুর বংশগতি ও জৈবিক গঠনকে।
- প্রতিপালন (Nurture): এটি নির্দেশ করে শিশুর চারপাশের পরিবেশ, শিক্ষা এবং লালন-পালনকে।
- উপসংহার: আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান এই দুইয়ের কোনোটিকেই আলাদা করে দেখে না, বরং এদের যৌথ প্রভাবকে স্বীকার করে।
গ. সীমানা ও বাস্তবায়ন (Reaction Range)
- বংশগতি সম্ভাবনা তৈরি করে: বংশগতি শিশুর বিকাশের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন সীমানা বা দেওয়াল (Potential/Limit) নির্ধারণ করে দেয়।
- পরিবেশ বাস্তবে রূপ দেয়: পরিবেশ নির্ধারণ করে শিশুটি তার সেই সীমানার ঠিক কতটা ছুঁতে পারবে।
PRACTICE QUIZ
Take a Test from This Topic
05. বিকাশের নির্ধারক হিসেবে বংশগতি ও পরিবেশ — MCQ Test
30 questions
OWNER QUIZ TOOL
Add a test to this topic
The quiz form will automatically select this topic and its primary category.
➕ Add a Quiz for This Topic