TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

আদি মানবসমাজ

শিকারি–সংগ্রাহক সমাজ, প্রস্তরযুগ, পাথরের সরঞ্জাম, আগুন, চলাচল, শিলাচিত্র, পরিবেশ ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

আদি মানবসমাজ

মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম অংশে মানুষ কৃষিকাজ, স্থায়ী গ্রাম বা লিখিত নথির সঙ্গে পরিচিত ছিল না। তারা শিকার, মাছ ধরা এবং প্রকৃতি থেকে ফল, মূল, কন্দ, বীজ, মধু ও অন্যান্য খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকত। এই মানুষদের শিকারি–সংগ্রাহক বলা হয়। “আদি” শব্দটি ব্যবহার করলেও তাঁদের অদক্ষ বা বুদ্ধিহীন ভাবা ভুল; কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকতে উদ্ভিদ, প্রাণী, ঋতু, জল, পাথর ও ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক জ্ঞান দরকার ছিল।

আমরা কীভাবে তাঁদের কথা জানি

এই সময়ের লিখিত নথি নেই। তাই ইতিহাস নির্মাণে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ প্রধান:

  • পাথরের সরঞ্জাম ও অস্ত্র
  • প্রাণীর হাড় এবং কাটার দাগ
  • পোড়া বীজ, কাঠকয়লা ও চুল্লির চিহ্ন
  • গুহা ও শিলাশ্রয়
  • শিলাচিত্র
  • বসতির মেঝে, খুঁটির গর্ত ও আবর্জনার স্তূপ
  • মানুষের কঙ্কাল ও সমাধি

একটি পাথর প্রকৃতিগতভাবে ভেঙেছে, না মানুষ আঘাত করে ধারালো করেছে—তা বোঝার জন্য আঘাতের দাগ, ধার, আকৃতি এবং একই স্থানে অনুরূপ বস্তুর উপস্থিতি দেখা হয়। একটি প্রমাণ একা যথেষ্ট নয়; তার স্তর, স্থান এবং সঙ্গে পাওয়া অন্যান্য বস্তু মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ ও পাথরের সরঞ্জাম

লিখিত নথির আগের সময়কে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয়। পাথরের সরঞ্জামের প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন বোঝাতে গবেষকেরা কয়েকটি পর্ব ব্যবহার করেন। এই পর্বগুলির তারিখ সব অঞ্চলে এক নয় এবং পরিবর্তনও একই দিনে ঘটেনি।

প্রাচীন প্রস্তর যুগ

এই দীর্ঘ পর্বে হাতকুঠার, চপার, ক্লিভার, স্ক্র্যাপার ও ধারালো ফ্লেক ব্যবহৃত হত। প্রথম দিকে সরঞ্জাম তুলনামূলক বড় ও ভারী ছিল; পরে অনেক ক্ষেত্রে আরও পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম সরঞ্জাম দেখা যায়। শিকার কাটা, চামড়া ছাড়ানো, হাড় ভাঙা, কাঠ কাটা বা খোঁড়ার কাজে বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতে পারে। কোনো সরঞ্জাম-এর কাজ শুধু আকৃতি দেখে নিশ্চিত করা যায় না; ধার ক্ষয়ের চিহ্ন ও পরীক্ষামূলক প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) সাহায্য করে।

মধ্য প্রস্তর যুগ

এই পর্বে ছোট ধারালো পাথরের ফলক—ক্ষুদ্রপ্রস্তর—বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এগুলি কাঠ বা হাড়ের হাতলে বসিয়ে তীর, বর্শা, কাস্তে বা যৌগিক সরঞ্জাম তৈরি করা যেত। পরিবেশ পরিবর্তন, ছোট প্রাণী শিকার, মাছ ধরা এবং খাদ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির সঙ্গে এই প্রযুক্তির সম্পর্ক ছিল। কিছু স্থানে দীর্ঘদিনের বসতি, সমাধি ও মানুষ–প্রাণীর পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রমাণও পাওয়া যায়।

নতুন প্রস্তর যুগের দিকে পরিবর্তন

পরবর্তী পর্যায়ে ঘষে মসৃণ করা পাথরের কুঠার, খাদ্য উৎপাদন এবং অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বসতির প্রসার ঘটে। তবে শিকার–সংগ্রহ হঠাৎ বন্ধ হয়নি। বহু সমাজ কৃষি (Agriculture) বা পশুপালন গ্রহণের পরেও বনজ খাদ্য, মাছ ও শিকার ব্যবহার করত। ইতিহাসে এই সহাবস্থান ও ধীর পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ কেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেত

সব শিকারি–সংগ্রাহক একইভাবে চলাফেরা করত না। চলাচলের সম্ভাব্য কারণ ছিল:

  1. কোনো স্থানে খাদ্য ও জল কমে যাওয়া
  2. পশুর পালের ঋতুভিত্তিক চলাচল অনুসরণ
  3. ফল, কন্দ বা বীজের মৌসুমি প্রাপ্যতা
  4. অতিবৃষ্টি, শীত, খরা বা নদীর পরিবর্তন
  5. পাথর, কাঠ বা অন্য কাঁচামালের সন্ধান
  6. সামাজিক যোগাযোগ (Communication) ও জ্ঞান বিনিময়

যাযাবর মানে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা নয়। অনেক গোষ্ঠীর চলাচল ছিল পরিচিত পথ, ঋতু ও সম্পদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পিত মৌসুমি চলন।

বসতি নির্বাচনের যুক্তি

মানুষ সাধারণত এমন স্থান বেছে নিত যেখানে জল, খাদ্য, আশ্রয় এবং সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামাল পাওয়া যেত। নদী ও হ্রদের ধার জল ও প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ; শিলাশ্রয় বৃষ্টি, রোদ ও প্রাণী থেকে সুরক্ষা দিতে পারত; পাথরের উৎসের কাছে সরঞ্জাম তৈরি সহজ হত। কিন্তু সব কাজ একই জায়গায় হত না—শিকারস্থল, অস্থায়ী শিবির, সরঞ্জাম কারুশালা ও দীর্ঘস্থায়ী আবাস আলাদা হতে পারত।

উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণস্থলের মধ্যে মধ্য ভারতের ভীমবেটকা, কর্ণাটকের হুনসগি, অন্ধ্র অঞ্চলের কুর্নুল গুহা, রাজস্থানের দিদওয়ানা এবং উত্তর-পশ্চিমের সোয়ান উপত্যকা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি স্থান একই সময় বা একই জীবনরীতির প্রতিনিধিত্ব করে না; প্রত্নস্থান-নির্দিষ্ট প্রমাণ বিচার করতে হয়।

খাদ্য সংগ্রহ ও শিকার

“শিকারি-সংগ্রাহক” শব্দে শিকারের গুরুত্ব বেশি মনে হলেও উদ্ভিদজাত খাদ্য অনেক গোষ্ঠীর খাদ্যের বড় অংশ হতে পারে। উদ্ভিদ নরম হওয়ায় তার প্রমাণ হাড় বা পাথরের মতো সহজে টেকে না—এটিকে সংরক্ষণ-পক্ষপাত বলা যায়। পোড়া বীজ, পরাগরেণু, উদ্ভিদকণা, দাঁতের ক্ষয় ও সরঞ্জাম-এর ব্যবহারজনিত ক্ষয়ের চিহ্ন থেকে খাদ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

শিকার সবসময় একা করা হত না। প্রাণীর আচরণ জানা, পদচিহ্ন অনুসরণ, দলগত পরিকল্পনা, ফাঁদ, বর্শা বা তীর ব্যবহার এবং শিকার ভাগ করা—সবই সামাজিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। তবে প্রতিটি প্রাণীর হাড় মানুষ শিকার করেছে এমন নয়; শিকারি প্রাণীও হাড় গুহায় আনতে পারে। কাটার দাগ, পোড়ার দাগ ও হাড়ের ভাঙন বিশ্লেষণ দরকার।

আগুনের ব্যবহার

আগুন উষ্ণতা ও আলো দিত, বন্যপ্রাণী দূরে রাখতে এবং কিছু খাদ্য রান্না করতে সাহায্য করত। রান্না খাদ্য নরম ও নিরাপদ করতে পারে। আগুনের পাশে মানুষ কাজ, কথা ও সামাজিক যোগাযোগও করতে পারত।

পোশাক, আশ্রয় ও দৈনন্দিন জীবন

জৈব বস্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পোশাকের সরাসরি প্রমাণ কম। প্রাণীর চামড়া, ঘাস, বাকল বা উদ্ভিদতন্তু ব্যবহৃত হতে পারে—এগুলি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, সব স্থানের নিশ্চিত সত্য নয়। গুহা ছিল একটি আশ্রয়, কিন্তু সব মানুষ গুহায় থাকত না। ডাল, ঘাস ও চামড়ায় তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়ও থাকতে পারে, যার প্রত্নচিহ্ন কম টেকে।

শিলাচিত্র ও ভাবজগৎ

ভীমবেটকাসহ বিভিন্ন শিলাশ্রয়ে প্রাণী, শিকার, নৃত্য ও মানবগোষ্ঠীর ছবি দেখা যায়। এগুলি থেকে মানুষ কোন প্রাণী চিনত, কীভাবে চলাফেরা বা দলগত কাজ কল্পনা করত—তার আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু ছবির সঠিক অর্থ নিশ্চিত নয়। তা দৈনন্দিন ঘটনার স্মৃতি, শিক্ষা, আচার, প্রতীক বা একাধিক উদ্দেশ্যে আঁকা হতে পারে।

শ্রমবিভাগ ও সামাজিক সম্পর্ক

কে শিকার করত আর কে খাদ্য সংগ্রহ করত—এ বিষয়ে সব সমাজের জন্য একই নিয়ম ধরে নেওয়া যায় না। আধুনিক গতানুগতিক ধারণা দিয়ে অতীতের নারী–পুরুষের ভূমিকা স্থির করা অনুচিত। শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন দক্ষতার মানুষ সংগ্রহ, সরঞ্জাম তৈরি, পরিচর্যা, পথ চেনা ও জ্ঞান হস্তান্তরে ভূমিকা রাখতে পারত। সমাজে সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, তবে সংঘাত বা অসমতা একেবারেই ছিল না—এমন প্রমাণও নেই।

পরিবেশ পরিবর্তন ও অভিযোজন

শেষ বরফযুগের পরে বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত (Precipitation) ও উদ্ভিদজগত বদলায়। ঘাসভূমি ও নতুন ধরনের প্রাণীর বিস্তার, জলাশয়ের পরিবর্তন এবং মৌসুমি সম্পদের প্রাপ্যতা মানুষের খাদ্য ও চলাচলে প্রভাব ফেলে। অভিযোজন মানে মানুষ শুধু পরিবেশের কাছে নিষ্ক্রিয় ছিল না; সরঞ্জাম, আগুন, সহযোগিতা ও জ্ঞানের মাধ্যমে তারা পরিবেশের সুযোগ ব্যবহার করত এবং তাকেও কিছুটা বদলাত।

মূল পরিভাষা

  • শিকারি–সংগ্রাহক
  • প্রাগৈতিহাসিক যুগ
  • প্রত্নস্থল
  • শিলাশ্রয়
  • প্রাচীন প্রস্তর যুগ
  • মধ্য প্রস্তর যুগ
  • ক্ষুদ্রপ্রস্তর
  • যৌগিক সরঞ্জাম
  • মৌসুমি চলন
  • সংরক্ষণ-পক্ষপাত
  • অভিযোজন

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

02. আদি মানবসমাজ — MCQ Test
30 questions

Start quiz →