TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Weekly Mock Tests2 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

প্রথম নগরসমূহ

হরপ্পা সভ্যতার সময়, বিস্তার, নগর পরিকল্পনা, জলব্যবস্থা, কৃষি, craft, seal, script, trade, সমাজ ও রূপান্তরের প্রমাণভিত্তিক বাংলা আলোচনা।

Author: Mr. Sandipan Roy, M.A., B.Ed. Last reviewed: 2026-09-25Report a correction

উপমহাদেশের প্রথম বিস্তৃত নগরসভ্যতা সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতা। এর বসতিগুলি শুধু সিন্ধু নদীর উপত্যকায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বর্তমান পাকিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তৃত অঞ্চলে এগুলি পাওয়া গেছে। তাই “হরপ্পা সভ্যতা” নামটি বেশি যথাযথ—হরপ্পা ছিল প্রথম শনাক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির একটি।

সময় ও পর্যায়

হরপ্পা সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসকে সাধারণত তিন পর্যায়ে বোঝানো হয়:

  • প্রারম্ভিক হরপ্পা পর্যায়: আনুমানিক 3300–2600 খ্রিস্টপূর্ব
  • পরিণত হরপ্পা পর্যায়: আনুমানিক 2600–1900 খ্রিস্টপূর্ব
  • পরবর্তী হরপ্পা পর্যায়: আনুমানিক 1900–1300 খ্রিস্টপূর্ব, অঞ্চলভেদে তারতম্যসহ

পরিণত পর্যায়ে পরিকল্পিত নগর, মানসম্মত ইট, ওজন, সিল, দূরপাল্লার বাণিজ্য ও বিস্তৃত সাংস্কৃতিক মিল সবচেয়ে স্পষ্ট। 1900 খ্রিস্টপূর্ব-এর পরে সব মানুষ বা বসতি অদৃশ্য হয়ে যায়নি; বড় নগরের গুরুত্ব কমে এবং বহু আঞ্চলিক সংস্কৃতিতে রূপান্তর ঘটে।

বিস্তার ও প্রধান নগর

এই সভ্যতার স্থান আফগানিস্তানের নিকটবর্তী অঞ্চল ও বালুচিস্তান থেকে পাঞ্জাব, সিন্ধু, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এত বিস্তৃত অঞ্চলে পরিবেশ এক ছিল না—নদীসমভূমি, শুষ্ক অঞ্চল, উপকূল ও চরাঞ্চলের মানুষ স্থানীয় সম্পদ অনুযায়ী জীবন গড়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ স্থান:

  • হরপ্পা: পাঞ্জাব অঞ্চলের বৃহৎ নগর
  • মহেঞ্জোদারো: সিন্ধু অঞ্চলের পরিকল্পিত নগর ও বৃহৎ স্নানাগার
  • ধোলাভিরা: কচ্ছ অঞ্চলে জলসংরক্ষণ ও তিন ভাগে বিভক্ত নগর
  • লোথাল: গুজরাটে কারুশিল্প উৎপাদন ও সামুদ্রিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র
  • কালিবঙ্গান: রাজস্থানে নগরবিন্যাস ও চাষকরা জমির চিহ্ন
  • রাখিগড়ি: হরিয়ানার বৃহৎ হরপ্পা বসতি
  • বানাওয়ালি, চানহুদারো, সুরকোটাডা প্রভৃতি আঞ্চলিক কেন্দ্র

নগর পরিকল্পনা

অনেক হরপ্পা নগরে উঁচু পশ্চিমাংশকে দুর্গাঞ্চল এবং বৃহত্তর নিচু অংশকে নিম্ননগর বলা হয়। তবে সব নগরের বিন্যাস এক নয়; ধোলাভিরা তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিল। “উঁচু দুর্গাঞ্চল” শব্দটি ব্যবহার করলেও এটি অবশ্যই সামরিক দুর্গ ছিল—এমন প্রমাণ নেই। উঁচু মঞ্চে বিশেষ স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ থাকতে পারে।

রাস্তা অনেক ক্ষেত্রে ছকবদ্ধ বিন্যাস-এ একে অপরকে প্রায় সমকোণে ছেদ করত। বাড়ির দরজা প্রায়ই প্রধান রাস্তার বদলে গলিতে খুলত। বহু বাড়ির মাঝখানে উঠান, চারপাশে কক্ষ, স্নানের স্থান এবং কখনও কূপ ছিল। বাড়ির আকারের পার্থক্য সামাজিক বা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিলেও শুধু আকার থেকে মালিকের সঠিক পরিচয় জানা যায় না।

ইট ও নির্মাণ

অনেক নগরে পোড়া ও কাঁচা ইট ব্যবহৃত হয়েছে। পরিণত পর্যায়ে বহু স্থানে ইটের অনুপাত (Ratio) প্রায় 1:2:4—পুরুত্ব, প্রস্থ ও দৈর্ঘ্যের একটি মানসম্মত সম্পর্ক। এত দূরের নগরে একই ধরনের অনুপাত পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও মাপজোকের সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। তবে সব নির্মাণে একই উপকরণ ছিল না; ধোলাভিরায় পাথরের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।

ইটের পুনর্ব্যবহারের কারণে বহু প্রাচীন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিকাশি ও জলব্যবস্থা

হরপ্পা নগরের ঢাকা নালা, বাড়ির স্নানের জল বের করার পথ, শোষণ গর্ত ও পরিদর্শন-মুখ তাদের নগর ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য দিক। নালা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা ছিল বলেও ধারণা করা হয়।

মহেঞ্জোদারোতে বহু কূপ পাওয়া গেছে। ধোলাভিরায় বাঁধ, নালা ও বিশাল জলাধার ব্যবহার করে মৌসুমি জল ধরে রাখা হত। শুষ্ক অঞ্চলে জলসংগ্রহ শহর টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্ত ছিল। প্রযুক্তি ও পরিবেশের এই সম্পর্ক হরপ্পা নগরায়ণের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

বৃহৎ স্নানাগার

মহেঞ্জোদারোর বৃহৎ স্নানাগার পোড়া ইট, জলরোধী নির্মাণ, সিঁড়ি ও চারপাশের কক্ষসহ একটি বিশেষ স্থাপনা। এটি সম্ভবত সমষ্টিগত বা আচারমূলক স্নানের কাজে ব্যবহৃত হত। “সম্ভবত” শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ—কোনো পাঠযোগ্য লিখিত নথি না থাকায় এর নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিশ্চিত নয়।

ধোলাভিরার বিশেষত্ব

ধোলাভিরা কচ্ছের খাদির বেটে অবস্থিত। নগরটি তিন ভাগে বিভক্ত এবং প্রতিটি অংশ শক্ত প্রাচীরে ঘেরা ছিল। এখানে পাথরের নির্মাণ, বৃহৎ জলাধার, জলনালা এবং বড় অক্ষরের একটি ফলক সদৃশ নিদর্শন পাওয়া গেছে। অন্যত্র হরপ্পা লেখা সাধারণত ছোট সিল বা বস্তুতে দেখা যায়; তাই এই বড় অক্ষরগুলি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ধোলাভিরা দেখায় যে হরপ্পা নগর পরিকল্পনা এক ছাঁচে তৈরি ছিল না। স্থানীয় পাথর, সীমিত মিষ্টি জল ও শুষ্ক জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে আলাদা নগররূপ গড়ে উঠেছিল।

লোথাল ও সামুদ্রিক যোগাযোগ (Communication)

কৃষি (Agriculture) ও খাদ্য

নগরের মানুষ নিজেরা সবাই কৃষক ছিল না, কিন্তু শহর টিকত গ্রামের উৎপাদিত খাদ্যের ওপর। গম, যব, ডাল, তিল, সরিষা ও খেজুর ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু অঞ্চলে বাজরা এবং সীমিত ধান প্রমাণ-ও আছে। তুলা ব্যবহারের প্রাচীন প্রমাণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গবাদি পশু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ও শূকর পালিত হত; মাছ ও বন্য প্রাণীও খাদ্যে ছিল। কালিবঙ্গানে একসঙ্গে আড়াআড়ি লাঙলের দাগ-সহ চাষকরা জমির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা মিশ্র চাষ-এর সম্ভাবনা দেখায়। হাল সাধারণত কাঠের হওয়ায় নষ্ট হয়েছে, কিন্তু পোড়ামাটি লাঙল প্রতিরূপ ও ক্ষেত দাগ থেকে ধারণা পাওয়া যায়।

বন্যা-সমভূমির আর্দ্রতা, ঋতুভিত্তিক প্লাবন, কূপ ও স্থানীয় জলব্যবস্থা কৃষিতে সাহায্য করতে পারে। সব অঞ্চলে বৃহৎ খালসেচ ছিল—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

কারুশিল্প ও বিশেষায়ন

হরপ্পা কারিগরেরা তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা, রুপো, পাথর, শাঁস, হাড়, পোড়ামাটি ও ফায়েন্স ব্যবহার করতেন। লোহা তখন সাধারণ ব্যবহারে ছিল না।

ফায়েন্স প্রাকৃতিক পাথর নয়; গুঁড়ো কোয়ার্টজ বা বালিজাত উপকরণ গড়ে চকচকে আবরণ করে চকচকে বস্তু বানানো হত। পুঁতি, বালা ও ছোট অলংকারে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। কার্নেলিয়ান পাথর পুঁতি তৈরিতে পাথর কাটা, গরম করা, ঘষা ও সূক্ষ্ম ছিদ্র করার উচ্চ দক্ষতা দরকার ছিল। চানহুদারো ও লোথাল কারুশিল্প উৎপাদন-এর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

তাকু তাকুর চাকতি, কাপড়ের ক্ষুদ্র অবশেষ ও মূর্তির পোশাক বস্ত্র উৎপাদন-এর ইঙ্গিত দেয়। জৈব উপকরণ সহজে নষ্ট হওয়ায় কাপড়ের প্রমাণ কম—এটি সংরক্ষণজনিত পক্ষপাত-এর উদাহরণ।

মাপ ও ওজন

চের্ট পাথরের ঘনকাকার মানসম্মত ওজন বহু স্থানে পাওয়া গেছে। ছোট ওজনে দ্বিগুণক্রম—1, 2, 4, 8, 16 ধরনের গুণিতক—এবং বড় ওজনে অন্য মান ব্যবহৃত হত। মানসম্মত ওজন বাণিজ্য, কর বা কারুশিল্প উৎপাদন-এ নির্ভুলতার ইঙ্গিত দেয়।

দূরবর্তী শহরে একই ধরনের ইট, সিল, ওজন ও মৃৎপাত্র রীতি পাওয়া সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় দেখায়। কিন্তু এর অর্থ অবশ্যই এক সর্বশক্তিমান সম্রাট পুরো অঞ্চল শাসন করতেন—এ কথা প্রমাণিত নয়।

সিল ও সিলমোহর

স্টিয়াটাইট পাথরে তৈরি বহু সিল-এ প্রাণীর ছবি ও ছোট লিপি আছে। তথাকথিত “একশৃঙ্গ প্রাণী” নকশা সবচেয়ে সাধারণ; ষাঁড়, হাতি, গন্ডার ও অন্যান্য প্রাণীও দেখা যায়। সিল মালামালের পরিচয়, মালিকানা, প্রশাসন, বিনিময় বা প্রতীকী পরিচয়ে ব্যবহৃত হতে পারে। মাটির সিলমোহর-এ দড়ি বা প্যাকেটের ছাপ কখনও সংরক্ষিত হয়েছে।

একটি সিল-এর ছবিকে সরাসরি ধর্মীয় দেবতার নিশ্চিত প্রতিচ্ছবি বলা কঠিন। অর্থ বুঝতে লিপি পড়া এবং প্রেক্ষিত জানা দরকার।

হরপ্পা লিপি

হরপ্পা লিপি আজও পাঠোদ্ধার হয়নি। অধিকাংশ লিপি খুব ছোট; চিহ্ন-এর সংখ্যা সীমিত হলেও তাদের ভাষা অজানা। দীর্ঘ লেখা বা পরিচিত ভাষাসহ দ্বিভাষিক শিলালিপি (Inscription) পাওয়া যায়নি। তাই শাসক, আইন, ধর্ম বা মানুষের নিজস্ব নাম সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।

কেউ লিপি পাঠোদ্ধারের দাবি করলে দেখতে হবে তার পদ্ধতি সব লিপি-এ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে কি না, চিহ্ন পুনরাবৃত্তির হার ব্যাখ্যা করে কি না এবং স্বাধীন গবেষকেরা ফল যাচাই করতে পারছেন কি না।

বাণিজ্য ও কাঁচামাল

নগরের জন্য বহু কাঁচামাল দূর থেকে আসত:

  • রাজস্থান ও ওমান অঞ্চল থেকে তামা
  • আফগানিস্তান থেকে ল্যাপিস লাজুলি পাথর
  • গুজরাট অঞ্চল থেকে কার্নেলিয়ান পাথর
  • উপকূল থেকে শাঁস
  • বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঠ ও মূল্যবান পাথর

মেসোপটেমীয় নথিতে “মেলুহা” নামে একটি দূরদেশের উল্লেখ আছে, যাকে বহু গবেষক হরপ্পা অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেন। মেসোপটেমিয়া-তে হরপ্পীয় সিল, কার্নেলিয়ান পাথর পুঁতি এবং উপসাগরীয় পথে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। বাণিজ্য সরাসরি বা দিলমুন ও মাগান-এর মতো মধ্যবর্তী অঞ্চলের মাধ্যমে হতে পারে।

বিদেশি বস্তু পেলেই পুরো সমাজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমানভাবে যুক্ত ছিল না। বণ্টন, পরিমাণ, প্রেক্ষিত এবং উৎপাদন প্রত্নস্থান মিলিয়ে বাণিজ্যের মাত্রা বিচার করতে হয়।

সমাজ ও শাসন

হরপ্পা সমাজে পরিকল্পনা ও শ্রমসংগঠন ছিল—নগর, জলাধার, নিকাশি নালা, মানসম্মত ওজন ও দূরপাল্লার বিনিময় তা দেখায়। কিন্তু মিশর বা মেসোপটেমিয়ার মতো বিশাল রাজপ্রাসাদ, রাজসমাধি বা পাঠযোগ্য রাজতালিকা স্পষ্ট নয়। তাই শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে নানা অনুমানভিত্তিক ব্যাখ্যা আছে:

  • এক বা একাধিক শক্তিশালী শাসক
  • নগরভিত্তিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা বণিক–পুরোহিত গোষ্ঠী
  • বহু আঞ্চলিক কেন্দ্রের সমন্বিত ব্যবস্থা
  • সম্মিলিত কর্তৃত্ব বা গোষ্ঠীনির্ভর পরিচালনা

প্রমাণ এখনও কোনো এক প্রতিরূপ-কে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেনি। “পুরোহিত-রাজা নামে পরিচিত মূর্তি” নামে পরিচিত মূর্তিটি সত্যিই পুরোহিত-রাজা—এ নাম প্রত্নতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, প্রমাণিত পরিচয় নয়।

বাড়ির আকার, বিলাসবস্তু ও সমাধিসামগ্রীতে পার্থক্য সামাজিক বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে অত্যন্ত ধনী রাজকীয় সমাধির অনুপস্থিতি হরপ্পা অসমতাহীন সমাজ ছিল—এটি প্রমাণ করে না।

দৈনন্দিন জীবন

বাড়ি, রান্নার পাত্র, খেলনা-গাড়ি, পাশা, পোড়ামাটি ক্ষুদ্র মূর্তি, অলংকার ও সরঞ্জাম থেকে দৈনন্দিন জীবনের আভাস মেলে। শিশু খেলত, মানুষ অলংকার পরত, খাদ্য রান্না ও সংরক্ষণ করত, কারুশিল্প শিখত এবং বাজার বা বিনিময়-এ অংশ নিত।

কিছু বসতিতে সমাধি পাওয়া গেলেও মৃতদেহ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এক ছিল না। সমাধিতে রাখা সামগ্রী সাধারণত সীমিত। কঙ্কাল বিশ্লেষণ খাদ্য, রোগ, আঘাত ও চলাচলের তথ্য দিতে পারে, তবে নমুনা সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না।

নগরব্যবস্থার পরিবর্তন

আনুমানিক 1900 খ্রিস্টপূর্ব-এর পরে বহু বড় নগরে মানসম্মত ওজন, সিল, লিপি, দীর্ঘপাল্লার বাণিজ্য এবং নগর স্থাপনার ব্যবহার কমে। কিছু বসতি পরিত্যক্ত হয়, কিছু ছোট হয়, আবার জনসংখ্যার অংশ নতুন অঞ্চলে যায়। একে “সম্পূর্ণ রহস্যময় বিলুপ্তি” না বলে নগরব্যবস্থার অবক্ষয় ও আঞ্চলিক রূপান্তর বলা বেশি যথাযথ।

সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • নদীর গতিপথ ও জলপ্রবাহের পরিবর্তন
  • কিছু অঞ্চলে বন্যা বা জলাভাব
  • দুর্বল মৌসুমি বায়ু ও পরিবেশগত চাপ
  • দূরপাল্লার বাণিজ্যের পরিবর্তন
  • বসতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার আঞ্চলিক পুনর্গঠন

একটি মাত্র আক্রমণ বা বিপর্যয় পুরো বিস্তৃত সভ্যতার পরিবর্তন ব্যাখ্যা করে না। স্থান ও সময়ভেদে ভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। পরিবর্তনের পরেও মৃৎপাত্র, কৃষি, কারুশিল্প ও বসতির বহু ধারাবাহিকতা ছিল।

আবিষ্কার ও ইতিহাস পুনর্লিখন

উনিশ শতকে হরপ্পার প্রাচীন ইট রেলপথের পাথরকুচি হিসেবে ব্যবহারে প্রত্নস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ শতকের গোড়ায় খনন-এর পরে সভ্যতার প্রাচীনত্ব স্বীকৃত হলে উপমহাদেশের নগর ইতিহাস সম্পর্কে পুরোনো ধারণা বদলে যায়। নতুন খনন, কালনির্ণয়, প্রত্ন-উদ্ভিদবিদ্যা, অবশেষ বিশ্লেষণ ও সমস্থানিক বিশ্লেষণ এখনও ব্যাখ্যা সংশোধন করছে।

এই ইতিহাস দেখায়: নতুন প্রমাণ এলে গ্রহণযোগ্য ঐতিহাসিক ধারণাও বদলাতে পারে।

মূল পরিভাষা

  • নগরায়ণ (Urbanisation)
  • দুর্গাঞ্চল ও নিম্ননগর
  • মানসম্মত ইট
  • বৃহৎ স্নানাগার
  • জলাধার
  • কারুশিল্পের বিশেষায়ন
  • ফায়েন্স
  • সিল ও সিলমোহর
  • হরপ্পা লিপি
  • দূরপাল্লার বাণিজ্য
  • নগর অবক্ষয়

ইটের নালা থেকে কত দূর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়?

একটি হরপ্পীয় নগরের নালার ছবি, পথের নকশা ও একটি প্রত্নবস্তুর বর্ণনা পাশাপাশি দিন। শিশুরা প্রথমে দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য লিখবে, তারপর নগর-পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা দেবে। নালা থাকা থেকে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বোঝা যায়; তা দিয়ে প্রত্যেক বাসিন্দার সম্পদ, পেশা বা রাজনৈতিক অধিকার জানা যায় না।

লিপি সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার না হওয়ার সীমাটিও জানান। “বিশাল বাড়ি মানেই অমুক রাজার প্রাসাদ”—এ ধরনের নিশ্চিত পরিচয় দেওয়ার আগে প্রমাণ চাইতে হবে। পাঠের নিজস্ব প্রশ্ন: “কোন দাবি ছবিটি সমর্থন করে, কোনটির জন্য অন্য উৎস দরকার?” উত্তরসহ সীমা লিখতে পারাই এখানে লক্ষ্য।

উৎস ও ব্যবহারসীমা

Harappa Archaeological Research Project — প্রকল্পের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার পরিচয়; প্রশ্নটি এই নিবন্ধের নিজস্ব শিক্ষণকাজ।

এই পেজটি শেয়ার করুন