TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Primary TET - Language (Bengali) - বর্ণবিশ্লেষণUpper Primary TET - Language (Bengali) - বর্ণবিশ্লেষণ

বর্ণবিশ্লেষণ

বর্ণবিশ্লেষণ (for TET/WBTET/CTET for both Freshers and In-Service)

Published by: TET Sampan Editorial Team

বর্ণবিশ্লেষণ

কোনো লিখিত শব্দ কোন কোন বর্ণ ও বর্ণচিহ্নের সমন্বয়ে গঠিত, তা ক্রমানুসারে আলাদা করে দেখানোকে বর্ণবিশ্লেষণ বা বর্ণবিচ্ছেদ বলা হয়। এতে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, কারচিহ্ন, যুক্তবর্ণ এবং অযোগবাহ চিহ্নের গঠন বোঝা যায়।

বর্ণবিশ্লেষণ এবং ধ্বনিবিশ্লেষণ এক নয়। বর্ণবিশ্লেষণ লিখিত রূপের উপাদান দেখায়, আর ধ্বনিবিশ্লেষণ উচ্চারিত ধ্বনি (Sound) দেখায়। বাংলা বানান ও উচ্চারণ সব ক্ষেত্রে একরকম না হওয়ায় একই শব্দের বর্ণগত গঠন ও উচ্চারণগত বিশ্লেষণ আলাদা হতে পারে।

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ

স্বরবর্ণ স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হতে পারে। ব্যঞ্জনবর্ণ বিশ্লেষণের সময় তার বিশুদ্ধ ব্যঞ্জনরূপ বোঝাতে সাধারণত হসন্ত (্) ব্যবহার করা হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে আলাদা কারচিহ্ন না থাকলে প্রাসঙ্গিক স্থানে নিহিত ধরা হয়। যেমন—

  • কলম: ক্ + অ + ল্ + অ + ম্
  • রবি: র্ + অ + ব্ + ই
  • বই: ব্ + অ + ই

শব্দের শেষে নিহিত অ লেখা হবে কি না, তা ব্যবহৃত বিশ্লেষণরীতি ও উচ্চারণের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই একটি লেখার মধ্যে একই রীতি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা জরুরি। লিখিত বর্ণবিচ্ছেদকে উচ্চারণের প্রতিলিপি হিসেবে দেখানো উচিত নয়।

কারচিহ্নের বিশ্লেষণ

ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত কারচিহ্ন বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্ট পূর্ণ স্বরবর্ণ লেখা হয়—

লিখিত রূপবিশ্লেষণ
কাক্ + আ
কিক্ + ই
কীক্ + ঈ
কুক্ + উ
কূক্ + ঊ
কৃক্ + ঋ
কেক্ + এ
কৈক্ + ঐ
কোক্ + ও
কৌক্ + ঔ

কারচিহ্নের অবস্থান দেখে বিশ্লেষণের ক্রম বদলায় না। যেমন ই-কার দেখতে ব্যঞ্জনের আগে বসলেও কি = ক্ + ই

যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণ

দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জন মিললে যুক্তবর্ণ গঠিত হয়। যুক্তবর্ণ ভাঙার সময় তার মূল ব্যঞ্জনগুলি সঠিক ক্রমে লেখা হয়। যেমন—

  • ক্ষ = ক্ + ষ
  • জ্ঞ = জ্ + ঞ
  • ত্র = ত্ + র
  • শ্র = শ্ + র
  • ঙ্ক = ঙ্ + ক
  • ঙ্গ = ঙ্ + গ
  • ঞ্চ = ঞ্ + চ
  • ঞ্জ = ঞ্ + জ
  • দ্ধ = দ্ + ধ
  • ন্ত = ন্ + ত

যুক্তবর্ণের লিখিত গঠন ও প্রচলিত উচ্চারণ সব সময় এক নয়। যেমন জ্ঞ-এর বর্ণগত উপাদান জ্ + ঞ হলেও বিভিন্ন শব্দ ও কথ্যরীতিতে তার উচ্চারণ বদলাতে পারে। বর্ণবিশ্লেষণে লিখিত গঠনটিই মুখ্য।

রেফ ও ফলার গঠন

যুক্তবর্ণে র-এর অবস্থান বুঝে বিশ্লেষণ করতে হয়।

  • রেফ: র্ পরবর্তী ব্যঞ্জনের আগে যুক্ত হয়—যেমন র্ক = র্ + ক, র্ম = র্ + ম
  • র-ফলা: ব্যঞ্জনের পরে র যুক্ত হয়—যেমন প্র = প্ + র, ক্র = ক্ + র
  • য-ফলা: ব্যঞ্জনের পরে য যুক্ত হয়—যেমন ত্য = ত্ + য, ক্য = ক্ + য
  • ব-ফলা: ব্যঞ্জনের পরে ব যুক্ত হয়—যেমন স্ব = স্ + ব, দ্ব = দ্ + ব

অনুস্বার, বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু

অনুস্বার (ং), বিসর্গ (ঃ) ও চন্দ্রবিন্দু (ঁ)-কে অযোগবাহ বলা হয়। এগুলির কাজ এক নয়—

  • অনুস্বার (ং) নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনির সূচক: বাংলা, সংগীত
  • বিসর্গ (ঃ) বিশেষ শ্বাসজাত ধ্বনির চিহ্ন: দুঃখ, প্রাতঃকাল
  • চন্দ্রবিন্দু (ঁ) স্বরের অনুনাসিকতা নির্দেশ করে: চাঁদ, হাঁস

চন্দ্রবিন্দুকে আলাদা স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণ হিসেবে না দেখে পূর্ববর্তী স্বরের অনুনাসিকতার চিহ্ন হিসেবে বোঝা উচিত।

বিশ্লেষণের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি

প্রথমে শব্দের স্বাধীন স্বরবর্ণ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর কারচিহ্নকে পূর্ণ স্বরবর্ণে রূপান্তর, যুক্তবর্ণকে মূল ব্যঞ্জনে বিভাজন এবং রেফ বা ফলার অবস্থান নির্ণয় করতে হবে। শেষে অনুস্বার, বিসর্গ বা চন্দ্রবিন্দুর ভূমিকা আলাদাভাবে দেখতে হবে। সন্দেহ হলে বানান, লিখিত গঠন ও উচ্চারণ—এই তিনটিকে গুলিয়ে না ফেলে স্বীকৃত অভিধান বা ব্যাকরণগ্রন্থের রীতি অনুসরণ করা উচিত।