TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - Social and Political Life (সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

বিচার বিভাগ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের স্তর, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার, বিচারিক পর্যালোচনা, জনস্বার্থ মামলা ও ন্যায়প্রাপ্তির বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

বিচার বিভাগ (Judiciary)

আইন ব্যাখ্যা, বিরোধ নিষ্পত্তি, অপরাধের বিচার এবং নাগরিক অধিকার রক্ষাকারী রাষ্ট্রের অঙ্গ হল বিচার বিভাগ। ব্যক্তি-ব্যক্তি, ব্যক্তি-সরকার এবং বিভিন্ন সরকারি স্তরের বিরোধ আদালতে আসতে পারে। ন্যায়বিচারের জন্য বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা অপরিহার্য।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (Independence of Judiciary)

বিচারক যেন সরকার, রাজনৈতিক দল বা অন্য ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর চাপ ছাড়া আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটিই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল কথা। নিয়োগ, কর্মকালের সুরক্ষা, বেতন এবং অপসারণের বিশেষ পদ্ধতি এই স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়ক। স্বাধীনতা মানে জবাবদিহির অনুপস্থিতি নয়।

আদালতের স্তর

স্তরআদালত
সর্বোচ্চভারতের সর্বোচ্চ আদালত
রাজ্য বা একাধিক রাজ্যউচ্চ আদালত
জেলা ও অধস্তন স্তরজেলা আদালত এবং অন্যান্য অধস্তন আদালত

স্তরবিন্যাসের ফলে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ থাকে। সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত দেশের সব আদালতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেয়।

একীভূত বিচারব্যবস্থা (Integrated Judicial System)

ভারতে কেন্দ্র ও রাজ্যের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক আদালতব্যবস্থা নেই; সর্বোচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালত পর্যন্ত একটি একীভূত কাঠামো রয়েছে। আদালত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য—উভয় আইনের বিচার করতে পারে।

দেওয়ানি মামলা (Civil Case) ও ফৌজদারি মামলা (Criminal Case)

সম্পত্তি, চুক্তি, পারিবারিক বিরোধ বা ক্ষতিপূরণের মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকারের বিরোধ সাধারণত দেওয়ানি মামলা। চুরি, আঘাত, প্রতারণা বা হত্যার মতো আইনবিরুদ্ধ কাজ ফৌজদারি মামলা। ফৌজদারি মামলায় রাষ্ট্র অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিচালনা করে এবং দোষ প্রমাণের জন্য নির্ধারিত প্রমাণের মান পূরণ করতে হয়।

নির্দোষতার অনুমান (Presumption of Innocence) ও ন্যায্য বিচার (Fair Trial)

আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ বলে গণ্য করা হয়। অভিযোগ জানা, আইনজীবীর সাহায্য, প্রমাণ উপস্থাপন ও প্রতিপক্ষের প্রমাণের জবাব দেওয়ার সুযোগ ন্যায্য বিচারের অংশ। জনরোষ বা সংবাদমাধ্যমের আলোচনা আদালতের প্রমাণের বিকল্প নয়।

বিচারিক পর্যালোচনা (Judicial Review)

আইনসভা (Legislature) প্রণীত আইন বা কার্যনির্বাহীর পদক্ষেপ সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না আদালত পর্যালোচনা করতে পারে। সংবিধানবিরোধী হলে আদালত তা বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণা করতে পারে। এর মাধ্যমে সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) রক্ষা পায়।

মৌলিক অধিকার রক্ষা

মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিক উচ্চ আদালত বা সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। আদালত নির্দিষ্ট নির্দেশ জারি করে ব্যক্তি বা সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনসম্মত কাজ করতে বাধ্য করতে পারে। বিচার পাওয়ার অধিকার কার্যকর করতে আদালতে প্রবেশের বাস্তব সুযোগও জরুরি।

জনস্বার্থ মামলা (Public Interest Litigation)

যে সমস্যায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অধিকার বা জনস্বার্থ জড়িত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে নিজে আদালতে যাওয়া কঠিন, সেখানে জনস্বার্থে আবেদন করা যেতে পারে। এটি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ন্যায়প্রাপ্তির সুযোগ বিস্তৃত করেছে। তবে ব্যক্তিগত প্রচার বা অপ্রাসঙ্গিক স্বার্থে এর অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।

ন্যায়প্রাপ্তির বাধা

মামলার ব্যয়, দীর্ঘসূত্রতা, ভাষাগত সমস্যা, আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং আদালতের দূরত্ব ন্যায়প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আইনি সহায়তা, সহজ পদ্ধতি, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সময়মতো বিচার এই বাধা কমাতে সহায়ক।

মূল ধারণা

বিষয়অর্থ
স্বাধীন বিচার বিভাগবাহ্যিক চাপমুক্তভাবে আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার
আপিলনিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত উচ্চতর আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন
দেওয়ানি মামলাঅধিকার, সম্পত্তি বা চুক্তিসংক্রান্ত বিরোধ
ফৌজদারি মামলাঅপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত বিচার
বিচারিক পর্যালোচনাআইন ও সরকারি পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই

আদালতের এখতিয়ার (Jurisdiction)

কোন আদালত কোন ধরনের মামলা প্রথমে শুনবে এবং কোন এলাকার মামলা বিচার করবে, তা তার এখতিয়ার নির্ধারণ করে। সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্র ও রাজ্যের কিছু বিরোধ সরাসরি শুনতে পারে, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের আপিল গ্রহণ করে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় নির্দেশ দিতে পারে। উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট রাজ্যে বিস্তৃত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

আইন ব্যাখ্যা ও নজির (Precedent)

আইনের ভাষা বাস্তব ঘটনার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, আদালত তা ব্যাখ্যা করে। উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্ত পরবর্তী অনুরূপ মামলায় অনুসরণযোগ্য নীতি বা নজির তৈরি করতে পারে। এর ফলে একই ধরনের মামলায় আইনের প্রয়োগে সামঞ্জস্য আসে।

বিচার প্রক্রিয়ার প্রধান ব্যক্তিরা

বিচারক নিরপেক্ষভাবে মামলা পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত দেন। আইনজীবীরা পক্ষগুলির বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করেন। ফৌজদারি মামলায় সরকারি কৌঁসুলি রাষ্ট্রের পক্ষে অভিযোগ পরিচালনা করেন। পুলিশ তদন্ত করে; পুলিশ অপরাধের চূড়ান্ত দোষ নির্ধারণ করে না—সেটি আদালতের কাজ।

আইনি সহায়তা (Legal Aid) ও সমান ন্যায়

অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে বিনা খরচে আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। আদালত ভবন থাকা মাত্রই সমান ন্যায় নিশ্চিত হয় না; সহজ ভাষা, প্রবেশযোগ্যতা, সময়মতো শুনানি ও আইনজীবীর সহায়তাও দরকার।

ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া

ঘটনা বা অভিযোগ → পুলিশের তদন্ত বা দেওয়ানি আবেদন → প্রাসঙ্গিক আদালতে শুনানি → উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ → বিচারকের সিদ্ধান্ত → প্রযোজ্য হলে উচ্চতর আদালতে আপিল

সব বিরোধে পুলিশ যুক্ত হয় না; দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ সাধারণত সরাসরি আদালতের শরণাপন্ন হয়।

প্রাথমিক (Original), আপিল (Appellate) ও পরামর্শমূলক ক্ষমতা (Advisory Jurisdiction)

কোনো আদালত মামলা প্রথমবার শুনলে তা প্রাথমিক ক্ষমতা। নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে আপিল ক্ষমতা। রাষ্ট্রপতি (President) গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বা বাস্তব প্রশ্নে সর্বোচ্চ আদালতের মত চাইতে পারেন; এটি পরামর্শমূলক ক্ষমতা। সব আদালতের সব ধরনের ক্ষমতা নেই।

লিখিত নির্দেশ (Writ)

মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনসম্মত সীমায় রাখতে সর্বোচ্চ আদালত ও উচ্চ আদালত বিশেষ লিখিত নির্দেশ জারি করতে পারে। বেআইনি আটক থেকে মুক্তি, কর্তব্য পালনের নির্দেশ বা ক্ষমতাবহির্ভূত সিদ্ধান্ত রোধ—এগুলি তার বিভিন্ন উদ্দেশ্য।

ফৌজদারি বিচারের দায়িত্ব-বণ্টন

অংশগ্রহণকারীপ্রধান কাজ
পুলিশঅভিযোগ নথিভুক্ত, তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ
সরকারি কৌঁসুলিরাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন
প্রতিরক্ষা আইনজীবীঅভিযুক্তের আইনগত বক্তব্য ও অধিকার রক্ষা
বিচারকনিরপেক্ষ শুনানি, প্রমাণ মূল্যায়ন (Assessment) ও রায়

তদন্তকারী, অভিযোগকারী ও বিচারকের ভূমিকা আলাদা রাখা ন্যায্য বিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ্য বিচার ও যুক্তিসংগত রায়

সাধারণত বিচারপ্রক্রিয়া জনসমক্ষে হয় এবং আদালত সিদ্ধান্তের কারণ লিখে দেয়। এতে বিচার পর্যবেক্ষণ, আপিল এবং আইনের সঙ্গত প্রয়োগ সহজ হয়। শিশু, যৌন সহিংসতা বা গোপনীয়তার বিশেষ ক্ষেত্রে পরিচয় ও শুনানি সুরক্ষিত রাখা হতে পারে।

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি

অনুচ্ছেদ ১২৪ সর্বোচ্চ আদালত এবং অনুচ্ছেদ ২১৪ প্রতিটি রাজ্যের জন্য উচ্চ আদালতের ভিত্তি দেয়। অনুচ্ছেদ ৫০ রাষ্ট্রের নীতিতে বিচার বিভাগকে কার্যনির্বাহী থেকে পৃথক করার নির্দেশ দেয়। অধস্তন আদালত উচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধানে কাজ করে।

লিখিত নির্দেশের ধরন

নির্দেশসাধারণ উদ্দেশ্য
বন্দি-প্রত্যক্ষীকরণবেআইনি আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে আটকের বৈধতা যাচাই
পরমাদেশসরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনগত কর্তব্য পালনের নির্দেশ
প্রতিষেধনিম্ন আদালত বা কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখা
উৎপ্রেষণক্ষমতাবহির্ভূত আদেশ বাতিলের জন্য নথি উচ্চ আদালতে আনা
অধিকার-পৃচ্ছাকোনো ব্যক্তি বৈধ কর্তৃত্বে সরকারি পদে আছেন কি না যাচাই

সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান ক্ষমতা

কেন্দ্র ও রাজ্য বা রাজ্যগুলির কিছু বিরোধে প্রাথমিক ক্ষমতা, নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল, মৌলিক অধিকার রক্ষায় নির্দেশ, এবং রাষ্ট্রপতির চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরামর্শ দেওয়া—সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। সব মামলা সরাসরি সর্বোচ্চ আদালতে শুরু হয় না।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি

বিচারকের কর্মকালের সুরক্ষা, নির্দিষ্ট অপসারণ-পদ্ধতি এবং আদালতের নিজস্ব কার্যপ্রণালি স্বাধীনতা রক্ষা করে। একই সঙ্গে প্রকাশ্য শুনানি, যুক্তিসংগত রায়, আপিল ও সাংবিধানিক সীমা বিচারিক জবাবদিহির ভিত্তি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অন্য অঙ্গের কাজ গ্রহণ করার সীমাহীন ক্ষমতা নয়।

সর্বোচ্চ আদালতের গঠন ও বিচারকের মেয়াদ

ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত গঠিত। রাষ্ট্রপতি বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতি ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত পদে থাকেন। প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার ভিত্তিতে সংসদের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রক্রিয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাঁদের অপসারণ করতে পারেন।

সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ

ক্ষমতাবিষয়
প্রাথমিক ক্ষমতা (Original Jurisdiction)কেন্দ্র ও রাজ্য বা রাজ্যগুলির নির্দিষ্ট বিরোধ
লিখিত নির্দেশের ক্ষমতা (Writ Jurisdiction)অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার বলবৎ করা
আপিল ক্ষমতা (Appellate Jurisdiction)সাংবিধানিক, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়ে আপিল
বিশেষ অনুমতিতে আপিল (Special Leave Petition)বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত বা বিচারাধিকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনুমতি
পরামর্শমূলক ক্ষমতা (Advisory Jurisdiction)রাষ্ট্রপতির প্রেরিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে মতামত
পুনর্বিবেচনা (Review)নিজের রায় নির্দিষ্ট ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা

সর্বোচ্চ আদালত ও উচ্চ আদালতের লিখিত নির্দেশ

সর্বোচ্চ আদালত অনুচ্ছেদ ৩২-এ মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে লিখিত নির্দেশ দেয়। উচ্চ আদালত অনুচ্ছেদ ২২৬-এ মৌলিক অধিকার এবং অন্যান্য আইনগত অধিকারের জন্যও নির্দেশ দিতে পারে। তাই বিষয়গত পরিসরে উচ্চ আদালতের লিখিত নির্দেশের ক্ষমতা বিস্তৃত, যদিও সর্বোচ্চ আদালত দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়।

আদালত অবমাননা ও ন্যায়বিচার

সর্বোচ্চ আদালত ও উচ্চ আদালত অভিলেখ আদালত (Court of Record) এবং আদালত অবমাননার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারে। আদালতের রায়ের যুক্তিসংগত সমালোচনা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা নিজে অবমাননা নয়। বিচারপ্রক্রিয়াকে বাস্তবে বাধা দেওয়া এবং ন্যায়বিচারের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ করার প্রশ্নটি আলাদা।

বিচারিক সক্রিয়তা ও আত্মসংযম

অধিকার রক্ষা বা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় আদালতের বিস্তৃত নির্দেশকে বিচারিক সক্রিয়তা (Judicial Activism) বলা হয়। অন্যদিকে নীতিনির্ধারণে নির্বাচিত অঙ্গের ক্ষেত্রকে সম্মান করার নীতি বিচারিক আত্মসংযম (Judicial Restraint)। উভয়ের ভারসাম্য ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও সাংবিধানিক প্রতিকারের সঙ্গে যুক্ত।

বিচারাধিকরণ

কর, প্রশাসনিক চাকরি বা বিশেষ কারিগরি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিচারাধিকরণ (Tribunal) গঠিত হতে পারে। এগুলি বিশেষায়িত ও তুলনামূলক দ্রুত প্রতিকার দিতে পারে, কিন্তু উচ্চ আদালত ও সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক বিচারিক পর্যালোচনা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় না।

অধস্তন বিচার বিভাগ

জেলা ও অধস্তন আদালত অধিকাংশ মামলায় মানুষের প্রথম বিচারিক সংযোগ। জেলা বিচারক দেওয়ানি বিষয়ে এবং দায়রা বিচারক গুরুতর ফৌজদারি বিষয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন; অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি দুই ভূমিকার বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন। অধস্তন বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণে উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ভূমিকা আছে।

আদালতগুলিতে বিচারকের অনুমোদিত সংখ্যা (Sanctioned Judicial Strength)

আদালতের স্তরঅনুমোদিত পদকর্মরত বিচারকতথ্যের সময়
সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)৩৪—প্রধান বিচারপতিসহশূন্যপদের কারণে পরিবর্তনশীলবর্তমান আইনগত অনুমোদিত সংখ্যা
দেশের ২৫টি উচ্চ আদালত (High Courts)মোট ১,১২২৮১০৬ মার্চ ২০২৬
জেলা ও অধস্তন আদালত (District and Subordinate Courts)মোট ২৫,৮৯৪২১,০২৭২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সর্বোচ্চ আদালতের ৩৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি এবং অন্যান্য বিচারপতির ৩৩টি পদ রয়েছে। সংসদ (Parliament) আইন করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করে; সংবিধান (Constitution) নিজে স্থায়ী মোট সংখ্যা লিখে দেয়নি।

কলকাতা উচ্চ আদালতের বিচারকসংখ্যা

৬ মার্চ ২০২৬-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী কলকাতা উচ্চ আদালতে অনুমোদিত বিচারকের পদ ৭২টি। তখন ৪২ জন বিচারক কর্মরত ছিলেন এবং ৩০টি পদ শূন্য ছিল। নিয়োগ ও অবসরের কারণে কর্মরত সংখ্যা বদলায়, কিন্তু অনুমোদিত সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

অনুমোদিত পদ, কর্মরত বিচারক ও শূন্যপদ

অনুমোদিত পদ (Sanctioned Strength) = কর্মরত বিচারক (Working Strength) + শূন্যপদ (Vacancies)

এই তিনটি সংখ্যা এক নয়। কোনো আদালতের অনুমোদিত পদ ৭২ হলেও নির্দিষ্ট দিনে সব পদ পূর্ণ নাও থাকতে পারে। তাই বিচারকের সংখ্যা উল্লেখ করার সময় তথ্যটি অনুমোদিত না কর্মরত এবং কোন তারিখের—তা স্পষ্ট করা দরকার।

বিচারপীঠে বিচারকের সংখ্যা

আদালতের মোট বিচারকসংখ্যা এবং একটি মামলা শুনতে বসা বিচারকের সংখ্যা আলাদা। সাধারণ মামলা একক বা দুই বিচারকের বিচারপীঠে শুনানি হতে পারে। সংবিধানের ব্যাখ্যাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সর্বোচ্চ আদালতের অন্তত পাঁচ বিচারকের সাংবিধানিক বিচারপীঠ (Constitution Bench) বসে। প্রয়োজন অনুসারে সাত, নয় বা আরও বেশি বিচারকের বৃহত্তর বিচারপীঠ গঠিত হতে পারে।

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

44. বিচার বিভাগ — MCQ Test
30 questions

Start quiz →