TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

স্বাধীনতার পর ভারত

দেশভাগ, দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তি, সংবিধান, নির্বাচন, ভাষাভিত্তিক রাজ্য, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

স্বাধীনতার পর ভারত

1947 সালে স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে ভারতের সমস্যার অবসান হয়নি; বরং একটি নতুন রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের কঠিন কাজ শুরু হয়। দেশভাগের সহিংসতা ও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তি, সংবিধান (Constitution) প্রণয়ন, ভাষা ও প্রদেশের দাবি, দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য (Unity in Diversity) রক্ষা ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। ভারত সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার (Universal Adult Franchise), সংসদীয় গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism), সামাজিক ন্যায় (Social Justice) এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের পথ বেছে নেয়।

রাষ্ট্রগঠনের ধারাচিত্র

স্বাধীনতা ও দেশভাগ → উদ্বাস্তু পুনর্বাসন → দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তি → সংবিধান → প্রথম সাধারণ নির্বাচন → ভাষাভিত্তিক রাজ্য → পরিকল্পনা ও উন্নয়ন → সামাজিক আন্দোলন ও গণতন্ত্রের সম্প্রসারণ

স্বাধীনতার সময় প্রধান চ্যালেঞ্জ

চ্যালেঞ্জতাৎক্ষণিক কাজ
দেশভাগসহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, উদ্বাস্তু আশ্রয় ও পুনর্বাসন
দেশীয় রাজ্যভারতীয় ইউনিয়নে সংযুক্তি ও প্রশাসনিক একীকরণ
সংবিধাননাগরিক অধিকার, প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক নির্ধারণ
বৈচিত্র্যভাষা, ধর্ম, জাতপাত ও অঞ্চলের মধ্যে সমতা
অর্থনীতিখাদ্য, শিল্প, কৃষি (Agriculture), কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন
গণতন্ত্রবিশাল ও প্রধানত নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর জন্য নির্বাচন পরিচালনা

দেশভাগ ও মানবিক সংকট

1947 সালে পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগ হলে প্রায় দেড় কোটি মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেন। হত্যা, অপহরণ, সম্পত্তি হারানো এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতার শিকার হন লক্ষ লক্ষ মানুষ। দিল্লি, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্য অঞ্চলে শিবির, বাড়ি, জমি ও কাজের ব্যবস্থা করতে হয়। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে স্থানান্তর পশ্চিম সীমান্তের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে চলে।

মহাত্মা গান্ধীর শেষ দিন

গান্ধী নোয়াখালি, কলকাতা ও দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক শান্তির জন্য কাজ করেন। দিল্লিতে মুসলমানদের নিরাপত্তা ও পাকিস্তানের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের ক্ষুব্ধ করে। 30 জানুয়ারি 1948 নাথুরাম গডসে তাঁকে হত্যা করে। এই ঘটনা নতুন রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী ভিত্তির সামনে গুরুতর বিপদের সংকেত ছিল।

দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তি

ব্রিটিশ শাসনের অবসানে 560টির বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার প্রশ্ন সামনে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ভি. পি. মেনন সংযুক্তির দলিল বা সংযুক্তির দলিলের মাধ্যমে অধিকাংশ রাজ্যকে ভারতে যুক্ত করেন। রাজা সাধারণত প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগের ক্ষমতা ভারত সরকারের হাতে দেন; পরে পূর্ণ প্রশাসনিক একীকরণ ঘটে।

জুনাগড়, হায়দরাবাদ ও কাশ্মীর

রাজ্যপরিস্থিতিফল
জুনাগড়হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজা, মুসলমান নবাব; পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্তভারতীয় প্রশাসন ও 1948 সালের গণভোটে ভারতে অন্তর্ভুক্তি
হায়দরাবাদনিজাম স্বাধীন থাকতে চান; রজাকার সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয়সেপ্টেম্বর 1948 ভারতীয় সামরিক অভিযানের পরে ভারতে সংযুক্তি
জম্মু ও কাশ্মীরমহারাজা হরি সিং প্রথমে স্বাধীন থাকতে চান; উপজাতীয় আক্রমণঅক্টোবর 1947 সংযুক্তির দলিল; ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ ও বিতর্কিত বিভাজন

কাশ্মীর প্রশ্ন ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক, জাতিসংঘ, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার জটিল ইতিহাসের অংশ।

সংবিধান সভা (Constituent Assembly)

1946 সালে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংবিধান সভা গঠিত হয়। এর সদস্যরা সরাসরি সর্বজনীন ভোটে নয়, প্রাদেশিক আইনসভার মাধ্যমে নির্বাচিত হন; দেশীয় রাজ্য থেকে মনোনীত সদস্যও ছিলেন। দেশভাগের পরে ভারতীয় সংবিধান সভায় 299 সদস্য থাকেন। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সভাপতি এবং বি. এন. রাউ সাংবিধানিক উপদেষ্টা ছিলেন।

খসড়া কমিটি ও আম্বেদকর

29 আগস্ট 1947 খসড়া কমিটি গঠিত হয় এবং ড. বি. আর. আম্বেদকর সভাপতি হন। বিভিন্ন কমিটির প্রতিবেদন, বিশ্বসংবিধান, ভারত শাসন আইন 1935 এবং দীর্ঘ বিতর্কের ভিত্তিতে খসড়া তৈরি হয়। সংবিধান 26 নভেম্বর 1949 গৃহীত এবং 26 জানুয়ারি 1950 কার্যকর হয়।

তারিখঘটনা
9 ডিসেম্বর 1946সংবিধান সভার প্রথম বৈঠক
13 ডিসেম্বর 1946নেহরুর উদ্দেশ্য প্রস্তাব উত্থাপন
29 আগস্ট 1947খসড়া কমিটি গঠন
26 নভেম্বর 1949সংবিধান গৃহীত
24 জানুয়ারি 1950সদস্যদের চূড়ান্ত স্বাক্ষর
26 জানুয়ারি 1950সংবিধান কার্যকর; ভারত প্রজাতন্ত্র (Republic)

সংবিধানের মূল আদর্শ

আদর্শঅর্থ
সার্বভৌমঅভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সিদ্ধান্তে স্বাধীন
সমাজতান্ত্রিকসামাজিক–অর্থনৈতিক ন্যায়ের লক্ষ্য; শব্দটি 1976 সালে প্রস্তাবনায় যুক্ত
ধর্মনিরপেক্ষরাষ্ট্র কোনো ধর্মকে সরকারি ধর্ম করে না; সকল ধর্মের সমান মর্যাদা
গণতান্ত্রিকজনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক নির্বাচন করে
প্রজাতন্ত্রবংশানুক্রমিক রাজা নয়; নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান
ন্যায়সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়
স্বাধীনতাচিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা
সাম্যমর্যাদা ও সুযোগের সমতা
ভ্রাতৃত্বব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি

মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) ও সামাজিক ন্যায়

সংবিধান সমতার অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার দেয়। 17 অনুচ্ছেদ অস্পৃশ্যতা বিলোপ করে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির জন্য আইনসভা (Legislature), শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে বিশেষ ব্যবস্থা ঐতিহাসিক বৈষম্য (Discrimination) কমানোর উপায় হিসেবে গৃহীত হয়।

নীতিনির্দেশক তত্ত্ব ও মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties)

রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্দেশক তত্ত্ব আদালতে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়, কিন্তু কল্যাণরাষ্ট্র, জীবিকা, সমান মজুরি, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। মৌলিক কর্তব্য মূল সংবিধানে ছিল না; 1976 সালের 42তম সংশোধনে যুক্ত হয় এবং পরে শিক্ষাসংক্রান্ত আরেকটি কর্তব্য সংযোজিত হয়।

সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার

স্বাধীনতার শুরু থেকেই সম্পত্তি, শিক্ষা, লিঙ্গ, ধর্ম বা জাতপাত নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ভোটাধিকার দেওয়া হয়। তখন বহু পশ্চিমি গণতন্ত্র ধাপে ধাপে ভোটাধিকার প্রসারিত করেছিল; ভারতের তৎক্ষণাৎ সর্বজনীন ভোট গ্রহণ ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত। প্রথমে ভোটের ন্যূনতম বয়স 21 ছিল; 1988 সালের 61তম সংশোধনে তা 18 করা হয়।

প্রথম সাধারণ নির্বাচন

1951–1952 সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনের নেতৃত্বে ভোটার তালিকা, প্রতীক, ব্যালট বাক্স ও ভোটকেন্দ্রের বিশাল ব্যবস্থা তৈরি হয়। প্রায় 17.3 কোটি ভোটার নথিভুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের অধিকাংশ নিরক্ষর হওয়ায় প্রার্থীর প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং জওহরলাল নেহরু প্রথম নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) হন।

সংসদীয় ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা (Federal System)

ভারত ব্রিটিশ ধাঁচের সংসদীয় সরকার গ্রহণ করে—রাষ্ট্রপতি (President) সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা (Council of Ministers) লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিষয় ভাগ করা হলেও জরুরি ক্ষমতা, অবশিষ্ট ক্ষমতা ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কারণে কেন্দ্র তুলনামূলক শক্তিশালী। বিচারবিভাগ সংবিধানের ব্যাখ্যা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় স্বাধীন ভূমিকা পায়।

ভাষার প্রশ্ন

সংবিধান হিন্দিকে দেবনাগরী লিপিতে কেন্দ্রের সরকারি ভাষা করে, কিন্তু ইংরেজি অন্তত পনেরো বছর চালু রাখার ব্যবস্থা করে। অ-হিন্দিভাষী অঞ্চলের প্রতিবাদে ইংরেজির ব্যবহার পরে অব্যাহত থাকে। ভারত কোনো একক ভাষাকে ‘জাতীয় ভাষা’ ঘোষণা করেনি। অষ্টম তফসিলে প্রথমে 14টি ভাষা ছিল; পরবর্তী সংশোধনে সংখ্যা 22 হয়েছে।

ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন

স্বাধীনতার আগে কংগ্রেস ভাষাভিত্তিক প্রদেশ সমর্থন করলেও দেশভাগের পরে নেতৃত্ব বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছিল। তেলুগুভাষী রাজ্যের দাবিতে পোত্তি শ্রীরামুলুর অনশন ও 1952 সালে মৃত্যুর পর 1953 সালে অন্ধ্র রাজ্য গঠিত হয়। ফজল আলি কমিশনের সুপারিশে 1956 সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন ভাষাকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে।

ঘটনাসালফল
অন্ধ্র রাজ্য1953প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্য; মাদ্রাজ থেকে পৃথক
রাজ্য পুনর্গঠন আইন1956রাজ্যসীমার বৃহৎ ভাষাভিত্তিক পুনর্বিন্যাস
মহারাষ্ট্র ও গুজরাট1960দ্বিভাষিক বোম্বে রাজ্য বিভাজন
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা1966ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন; চণ্ডীগড় কেন্দ্রশাসিত

ভাষাভিত্তিক রাজ্য ভারতকে ভেঙে দেয়নি; বরং আঞ্চলিক পরিচয়কে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে স্বীকৃতি দিয়ে ঐক্যকে শক্তিশালী করেছে।

পরিকল্পিত উন্নয়ন

1950 সালে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয় এবং 1951 সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু হয়। ভারত মিশ্র অর্থনীতি গ্রহণ করে—রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্র উভয়ই কাজ করবে। প্রথম পরিকল্পনায় কৃষি, সেচ ও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন; দ্বিতীয় পরিকল্পনায় পি. সি. মহলানবিশের কৌশল অনুযায়ী ভারী শিল্প ও সরকারি ক্ষেত্র গুরুত্ব পায়।

ক্ষেত্ররাষ্ট্রের উদ্যোগ
সেচ ও বিদ্যুৎ (Electricity)ভাকরা–নাঙ্গাল, হিরাকুদ, দামোদর ভ্যালি প্রকল্প
ভারী শিল্পভিলাই, রাউরকেলা ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা
বিজ্ঞানগবেষণাগার, আইআইটি, পরমাণু (Atom) শক্তি কর্মসূচি
কৃষিসেচ, সমবায়, সম্প্রসারণ পরিষেবা ও পরে সবুজ বিপ্লব
পরিবহনরেল, সড়ক, বন্দর ও রাষ্ট্রায়ত্ত পরিকাঠামো

ভূমিসংস্কার

স্বাধীনতার পরে জমিদারি উচ্ছেদ, প্রজাস্বত্ব রক্ষা, খাজনা নিয়ন্ত্রণ, জমির ঊর্ধ্বসীমা এবং ভূমিহীনকে জমি দেওয়ার আইন করা হয়। বাস্তবায়ন রাজ্যভেদে অসম ছিল; আইনের ফাঁক, বেনামি হস্তান্তর ও রাজনৈতিক প্রভাব সংস্কার সীমিত করে। বিনোবা ভাবের ভূদান আন্দোলনে জমির মালিককে স্বেচ্ছায় জমি দানের আহ্বান জানানো হয়।

সবুজ বিপ্লব

1960-এর দশকের মাঝামাঝি উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, সেচ ও ঋণের সমন্বয়ে গম ও পরে ধানের উৎপাদন বাড়ে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ প্রথমে প্রধান সুবিধাভোগী হয়। খাদ্যশস্যে আত্মনির্ভরতা বাড়লেও অঞ্চল, জমির আকার ও শ্রেণিভেদে লাভ অসম ছিল এবং পরিবেশে জল–মাটির চাপ তৈরি হয়।

স্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্রনীতি

ভারত কোনো সামরিক শক্তিজোটে যোগ না দিয়ে জোটনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করে। নেহরু, যুগোস্লাভিয়ার টিটো, মিশরের নাসের, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ এবং ঘানার নক্রুমা এই ধারার গুরুত্বপূর্ণ নেতা। জোটনিরপেক্ষতা নিষ্ক্রিয় নিরপেক্ষতা নয়; উপনিবেশবিরোধিতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং স্বাধীন পররাষ্ট্র সিদ্ধান্ত ছিল এর লক্ষ্য।

প্রধান যুদ্ধ ও সীমান্তসংকট

বছরঘটনা
1947–1948জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রথম ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ
1962ভারত–চীন সীমান্ত যুদ্ধ
1965দ্বিতীয় ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ
1971বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ; ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ
1999কারগিল সংঘর্ষ

1971 সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট, সামরিক দমন ও উদ্বাস্তু প্রবাহের প্রেক্ষিতে যুদ্ধ হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণতন্ত্রে বিরোধী দল ও রাজ্য রাজনীতি

কংগ্রেস প্রথম কয়েক দশক প্রভাবশালী হলেও কমিউনিস্ট, সমাজবাদী, জনসংঘ, স্বতন্ত্র পার্টি, দ্রাবিড় দল এবং আঞ্চলিক দল সক্রিয় ছিল। 1957 সালে কেরালায় ই. এম. এস. নাম্বূদিরিপাদের নেতৃত্বে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিউনিস্ট সরকার গঠিত হয়। 1967 সালের নির্বাচনের পর বহু রাজ্যে অকংগ্রেসি জোট সরকার প্রতিষ্ঠা পায়।

জরুরি অবস্থা

1975 সালের 25 জুন থেকে 1977 সালের 21 মার্চ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি ছিল। নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত, বিরোধী নেতা গ্রেপ্তার, সংবাদপত্রে সেন্সর এবং জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের অভিযোগ ওঠে। 1977 সালের নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত এবং জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসে। ঘটনাটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা ও ভোটারের ক্ষমতা—উভয়ই দেখায়।

গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা

সালঘটনা
1947স্বাধীনতা, দেশভাগ ও কাশ্মীরের সংযুক্তি
1948গান্ধী হত্যা; হায়দরাবাদ সংযুক্তি
1949সংবিধান গৃহীত
1950প্রজাতন্ত্র; পরিকল্পনা কমিশন
1951–1952প্রথম সাধারণ নির্বাচন
1953অন্ধ্র রাজ্য
1956রাজ্য পুনর্গঠন আইন
1962ভারত–চীন যুদ্ধ
1965ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ; সবুজ বিপ্লবের প্রসার
1971বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
1975–1977জরুরি অবস্থা
1991অর্থনৈতিক উদারীকরণ
199273তম ও 74তম সংশোধন পাস

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
দেশীয় রাজ্যপ্যাটেল রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ভি. পি. মেনন প্রশাসনিক–কূটনৈতিক ভূমিকা নেন
সংবিধান26 নভেম্বর 1949 গৃহীত; 26 জানুয়ারি 1950 কার্যকর
সংবিধান সভাসরাসরি সর্বজনীন ভোটে নির্বাচিত ছিল না
আম্বেদকরখসড়া কমিটির সভাপতি; সংবিধান বহু সদস্য ও কমিটির যৌথ কাজ
জাতীয় ভাষাভারতের কোনো ঘোষিত জাতীয় ভাষা নেই; হিন্দি কেন্দ্রের সরকারি ভাষা
ভোটাধিকারশুরু থেকেই নারী–পুরুষের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার
প্রথম নির্বাচন1951–1952 সালে একাধিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত
ভাষাভিত্তিক রাজ্যজাতীয় ঐক্য ভাঙেনি; যুক্তরাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বাড়িয়েছে
মিশ্র অর্থনীতিশুধু রাষ্ট্র বা শুধু বাজার নয়; সরকারি ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রের সহাবস্থান
সবুজ বিপ্লবখাদ্য উৎপাদন বাড়ায়, কিন্তু লাভ ও পরিবেশগত প্রভাব অসম
জোটনিরপেক্ষতাবিশ্বরাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা নয়; স্বাধীন সিদ্ধান্তের নীতি
জরুরি অবস্থা1975–1977; নির্বাচনের মাধ্যমে তার অবসানের পথ তৈরি হয়

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

24. স্বাধীনতার পর ভারত — MCQ Test
31 questions

Start quiz →