TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

সামাজিক পরিবর্তন

বর্ণ ও জাতি, উপজাতীয় সমাজ, রাজপুত, গোণ্ড, অহোম, পাইক, যাযাবর, বানজারা, কৃষি ও সামাজিক গতিশীলতার সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

সামাজিক পরিবর্তন

মধ্যযুগীয় ভারতীয় সমাজে গ্রাম, নগর, অরণ্য, পাহাড়, মরুভূমি ও তৃণভূমির মানুষের জীবন একরকম ছিল না। কৃষির বিস্তার, নতুন রাজ্যের উত্থান, বাণিজ্য, পেশার বিশেষায়ন, যুদ্ধ, অভিবাসন এবং ধর্মীয় আন্দোলনের ফলে সামাজিক পরিচয় ও সম্পর্ক বদলেছে। উপজাতীয় সমাজ, যাযাবর পশুপালক, বণিকদল, কৃষক, কারিগর, যোদ্ধা ও জমিদার পরস্পরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ (Communication) রাখত।

পরিবর্তনের প্রধান চালিকা

চালিকাসামাজিক প্রভাব
কৃষির সম্প্রসারণঅরণ্য পরিষ্কার, নতুন গ্রাম, করব্যবস্থা ও ভূমির অধিকারে পরিবর্তন
নতুন রাজ্যস্থানীয় প্রধানের রাজা বা জমিদারে রূপান্তর
বাণিজ্যবণিক, পরিবহণকারী, পশুপালক ও নগরের সংযোগ বৃদ্ধি
পেশার বিশেষায়ননতুন জাতি, কারিগরগোষ্ঠী ও পেশাভিত্তিক সংগঠন
সামরিক সেবাযোদ্ধাগোষ্ঠীর মর্যাদা ও নতুন রাজবংশের উত্থান
ধর্মীয় আন্দোলনভক্তি, সুফি ও আঞ্চলিক ভাষার মাধ্যমে নতুন সামাজিক সংযোগ
অভিবাসনভাষা, খাদ্য, প্রযুক্তি ও পরিচয়ের মিশ্রণ

উপজাতি শব্দের অর্থ

‘উপজাতি’ একটি বিস্তৃত আধুনিক শ্রেণি। ঐতিহাসিক সমাজে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজস্ব নাম, ভাষা, ভূখণ্ড, রাজনৈতিক সংগঠন ও জীবিকা ছিল। কেউ শিকার–সংগ্রহ, কেউ স্থানান্তরিত চাষ, কেউ পশুপালন, কেউ স্থায়ী কৃষি (Agriculture) এবং কেউ রাজ্যশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বৈশিষ্ট্যসম্ভাব্য রূপ
আত্মীয়তার বন্ধনকুল, গোত্র বা বংশভিত্তিক সংগঠন
নেতৃত্বপ্রধান, প্রবীণদের পরিষদ বা বংশানুক্রমিক রাজা
জীবিকাকৃষি, পশুপালন, অরণ্যসম্পদ, শিকার, কারুশিল্প ও বাণিজ্য
ভূখণ্ডপাহাড়, অরণ্য, তৃণভূমি, নদী উপত্যকা বা সীমান্ত অঞ্চল
ধর্মীয় জীবনপূর্বপুরুষ, প্রকৃতি, স্থানীয় দেবতা এবং পরে বিভিন্ন ধর্মীয় পরম্পরার সংমিশ্রণ

বর্ণ ও জাতি

বর্ণ ছিল ব্রাহ্মণ্য গ্রন্থে সমাজকে চারটি বৃহৎ আদর্শ শ্রেণিতে ভাগ করার ধারণা। বাস্তব সমাজে অসংখ্য জাতি ছিল; পেশা, অঞ্চল, বংশ, বিবাহ ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে তাদের পরিচয় গড়ে উঠত।

দিকবর্ণজাতি
সংখ্যাচার প্রধান বর্ণের আদর্শ কাঠামোবহু আঞ্চলিক ও পেশাভিত্তিক গোষ্ঠী
ভিত্তিধর্মীয়–আদর্শগত শ্রেণিবিভাগজন্ম, পেশা, অঞ্চল, বংশ ও সামাজিক সম্পর্ক
বিস্তারসর্বভারতীয় দাবিস্থানীয় ও আঞ্চলিক বাস্তবতা
নিয়ন্ত্রণধর্মশাস্ত্রীয় বিধানজাতিপঞ্চায়েত, রীতি ও স্থানীয় সমাজ
পরিবর্তনতাত্ত্বিকভাবে স্থিরনতুন পেশা, ক্ষমতা ও অভিবাসনে অবস্থান বদলেছে

জাতিপঞ্চায়েত

জাতিপঞ্চায়েত একটি জাতি বা পেশাগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিষয় দেখত। বিবাহ, পেশাগত নিয়ম, সম্পত্তি, সামাজিক বিরোধ ও আচরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা থাকতে পারত। গ্রামের একাধিক জাতির বিষয়ে গ্রামপঞ্চায়েত বা স্থানীয় প্রধানের আলাদা কর্তৃত্বও ছিল।

কাজব্যবহৃত পদ্ধতি
বিরোধ মীমাংসাউভয় পক্ষের বক্তব্য ও গোষ্ঠীর রীতি
বিবাহসংক্রান্ত নিয়মঅনুমোদিত সম্পর্ক ও সামাজিক স্বীকৃতি
পেশার মানউৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও গোষ্ঠীগত নিয়ম
শাস্তি (Punishment)জরিমানা, ভোজ, প্রায়শ্চিত্ত বা সাময়িক বহিষ্কার
পারস্পরিক সাহায্যবিপদ, অনুষ্ঠান ও পেশাগত সহযোগিতা

পেশা ও নতুন জাতির গঠন

কৃষি ও নগরের বিস্তারে তাঁতি, কুমোর, কামার, ছুতোর, স্বর্ণকার, তেলি, নাপিত, ধোপা, চর্মকার, লেখক, হিসাবরক্ষক ও পরিবহণকারীর চাহিদা বাড়ে। একটি পেশাগোষ্ঠী বংশানুক্রমিক ও অন্তর্বিবাহী হলে পৃথক জাতিগত পরিচয় দৃঢ় হতে পারত।

নতুন প্রযুক্তি বা পেশা → বিশেষ দক্ষতা → পেশাগোষ্ঠী → নিজস্ব বিবাহ ও আচরণরীতি → পৃথক জাতিগত পরিচয়

পেশাসামাজিক–অর্থনৈতিক ভূমিকা
কামারকৃষিযন্ত্র, অস্ত্র ও লোহার সামগ্রী
কুমোররান্না, সঞ্চয় ও আচারসংক্রান্ত মৃৎপাত্র
তাঁতিগ্রাম ও বাজারের জন্য বস্ত্র
ছুতোরবাড়ি, গাড়ি, নৌকা ও কৃষিযন্ত্র
চর্মকারজুতো, জলপাত্র, দড়ি ও সামরিক সরঞ্জাম
লেখক ও হিসাবরক্ষকরাজস্ব, জমি, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক নথি

সামাজিক গতিশীলতা

সম্পদ, জমি, সামরিক ক্ষমতা, রাজকীয় সেবা ও ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা কোনো গোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে পারত। স্থানীয় প্রধান রাজা হলে সভাকবি বা পুরোহিত তাঁর বংশকে প্রাচীন ক্ষত্রিয় বংশের সঙ্গে যুক্ত করতেন। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে কখনও সংস্কৃতায়ন বলা হয়।

মর্যাদা বৃদ্ধির পথপ্রকাশ
জমি ও কৃষিভূমির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সংগ্রহ
সামরিক সাফল্যদুর্গ, অনুসারী, উপাধি ও রাজ্য
রাজকীয় পদমনসব, জাগির (Jagir) বা প্রাদেশিক দায়িত্ব
ধর্মীয় দানমন্দির, মঠ, মসজিদ বা পণ্ডিতের পৃষ্ঠপোষকতা
বংশকাহিনিমর্যাদাপূর্ণ পূর্বপুরুষের দাবি
বিবাহউচ্চমর্যাদার গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক

রাজপুত পরিচয়ের গঠন

‘রাজপুত’ শব্দের আদি অর্থ রাজপুত্রের সঙ্গে যুক্ত। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে নানা যোদ্ধা, ভূস্বামী ও স্থানীয় প্রধান নতুন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের অনেকে রাজপুত পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত হন। গুহিল, চাহমান, পরমার, প্রতিহার, সোলাঙ্কি ও অন্যান্য বংশের নিজস্ব ইতিহাস ছিল।

রাজপুত মর্যাদার উপাদানপ্রকাশ
যুদ্ধ ও দুর্গভূখণ্ড রক্ষা ও বিস্তার
বংশকাহিনিসূর্যবংশ, চন্দ্রবংশ বা অগ্নিকুলের দাবি
ভূমিকৃষিজ রাজস্ব ও সামন্তীয় অধিকার
আনুগত্যঅধিপতি ও সামন্তের সম্পর্ক
বিবাহবংশ ও রাজনৈতিক জোট
বীরকাব্যযুদ্ধ, সম্মান, দান ও আত্মত্যাগের স্মৃতি

রাজপুত পরিচয় একটি সময়ে, এক স্থানে বা একমাত্র বংশ থেকে তৈরি হয়নি; এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক গঠনের ফল।

অরণ্য ও কৃষির সম্পর্ক

রাজ্য ও কৃষকসমাজ নতুন জমির সন্ধানে অরণ্য অঞ্চলে প্রবেশ করত। বন পরিষ্কার, লাঙলচাষ, জলব্যবস্থা ও নতুন গ্রাম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন বদলাত। কেউ কৃষক, শ্রমিক বা করদ প্রজায় পরিণত হত; কেউ গভীর অরণ্যে সরে যেত; কেউ রাজ্যের সেনা বা প্রধান হিসেবে যুক্ত হত।

অরণ্যভূমি → পরিষ্কার ও বসতি → কৃষিজ উৎপাদন → রাজস্ব → গ্রাম ও বাজার → নতুন সামাজিক সম্পর্ক

অরণ্যসম্পদব্যবহার
কাঠঘর, জাহাজ, গাড়ি, জ্বালানি ও দুর্গ
মধু ও মোমখাদ্য, আলো, কারুশিল্প ও বাণিজ্য
লাক্ষারং, অলংকার ও বার্নিশ
হাতিসেনা, পরিবহণ (Transport) ও রাজকীয় মর্যাদা
ঔষধি উদ্ভিদচিকিৎসা ও বাজার
ধাতু ও খনিজসরঞ্জাম, অস্ত্র ও মুদ্রা

স্থানান্তরিত চাষ

স্থানান্তরিত চাষে একটি জমির উদ্ভিদ কেটে ও পুড়িয়ে অল্প কয়েক বছর চাষ করা হয়; মাটির উর্বরতা কমলে অন্য জমিতে যাওয়া হয় এবং আগের জমি পুনরুজ্জীবনের সময় পায়। উত্তর-পূর্বে ঝুমসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এর আলাদা নাম আছে।

ধাপকাজ
জমি নির্বাচনগোষ্ঠী ও এলাকার রীতি অনুযায়ী অংশ নির্ধারণ
উদ্ভিদ পরিষ্কারছোট গাছ ও ঝোপ কাটা
নিয়ন্ত্রিত পোড়ানোছাই থেকে সাময়িক পুষ্টি
মিশ্র বপনএক জমিতে একাধিক ফসল
ফসল সংগ্রহপরিবার ও বিনিময়ের জন্য উৎপাদন
পতিত রাখাউদ্ভিদ ও মাটির পুনর্গঠন

গোণ্ড সমাজ

গোণ্ডরা মধ্য ভারতের বিস্তৃত অরণ্য ও পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী বহু গোষ্ঠীর সমষ্টি। তাঁদের অঞ্চলকে কখনও গোণ্ডোয়ানা বলা হয়। কৃষি, অরণ্যসম্পদ, পশুপালন ও স্থানীয় বাণিজ্য তাঁদের অর্থনীতির অংশ ছিল। কিছু গোণ্ড প্রধান শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

গোণ্ড রাজ্যপ্রধান কেন্দ্র বা তথ্য
গড়া-কাটাঙ্গাবর্তমান মধ্যপ্রদেশের বিস্তৃত অংশ; সাঙ্গ্রাম শাহের সময় শক্তিবৃদ্ধি
দেওগড়মধ্য ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোণ্ড রাজ্য
চাঁদাবর্তমান চন্দ্রপুর অঞ্চলের শক্তি
খেরলামধ্য ভারতের আরেকটি গোণ্ড রাজনৈতিক কেন্দ্র

গড়া-কাটাঙ্গা ও রানি দুর্গাবতী

সাঙ্গ্রাম শাহ গড়া-কাটাঙ্গার শক্তি বিস্তার করেন। তাঁর পুত্র দলপত শাহ চন্দেল রাজকন্যা দুর্গাবতীকে বিবাহ করেন। দলপতের মৃত্যুর পরে রানি দুর্গাবতী অল্পবয়সী পুত্র বীরনারায়ণের পক্ষে শাসন পরিচালনা করেন। 1564 সালে আকবরের কর্মকর্তা আসফ খানের অভিযানের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করেন এবং পরাজয়ের মুখে আত্মবলিদান করেন।

বিষয়তথ্য
রাজ্যগড়া-কাটাঙ্গা
শাসকরানি দুর্গাবতী
উত্তরাধিকারীবীরনারায়ণ
মুঘল সেনানায়কআসফ খান
সংঘর্ষের সাল1564
সম্পদকৃষিজ এলাকা, অরণ্যসম্পদ ও হাতির উল্লেখ

গোণ্ড রাজ্যের বিকাশে বংশভিত্তিক সমাজের মধ্যে সামাজিক স্তরভেদ বাড়ে। প্রধান ও যোদ্ধারা উচ্চ মর্যাদা পায়; ব্রাহ্মণ ও কারিগরদের বসতি স্থাপন এবং কৃষির বিস্তার নতুন সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করে।

অহোমদের আগমন

তাই ভাষাভাষী অহোমরা 1228 সালে সুকাফার নেতৃত্বে পাটকাই পাহাড় অতিক্রম করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় প্রবেশ করেন। তাঁরা স্থানীয় বড়ো-কছারি, নাগা ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ, জোট, বিবাহ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী রাজ্য গড়েন।

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠাতাসুকাফা
আগমনের সাল1228
প্রধান অঞ্চলব্রহ্মপুত্র উপত্যকা
রাজধানীর পরিবর্তনচরাইদেউসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কেন্দ্র
শাসনের স্থায়িত্বত্রয়োদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত

অহোম প্রশাসন ও পাইক ব্যবস্থা

পাইক ছিলেন রাষ্ট্রকে শ্রম বা সামরিক সেবা দিতে বাধ্য প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। সাধারণত কয়েকজন পাইককে একটি গোটে ভাগ করা হত; পালাক্রমে একজন সেবা দিলে অন্যরা তাঁর জমি ও পরিবারের কাজ দেখতেন।

পাইক পরিবার → গোটে সংগঠন → পালাক্রমে রাষ্ট্রীয় সেবা → কৃষিকাজ ও পরিবারের ধারাবাহিকতা

পদ বা এককভূমিকা
স্বর্গদেউঅহোম রাজা
বুরাগোহাঁইপ্রধান পাত্রমন্ত্রীদের একজন
বরগোহাঁইপ্রধান পাত্রমন্ত্রীদের একজন
বরপাত্রগোহাঁইপরবর্তী কালে যুক্ত উচ্চ পাত্রমন্ত্রী
পাইকশ্রম ও সামরিক সেবাদাতা
খেলপেশা বা প্রশাসনিক কাজভিত্তিক পাইক সংগঠন

অহোম কৃষি ও প্রযুক্তি

অহোমরা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ভেজা ধানচাষ, বাঁধ ও জলনিয়ন্ত্রণের বিস্তার ঘটায়। ঘন জনবসতি (Settlement) ও কৃষিজ উদ্বৃত্ত রাজ্যের সেনা ও প্রশাসনকে শক্তি দেয়। লোহা, গানপাউডার, নৌকা ও দুর্গ নির্মাণেও দক্ষতা ছিল।

ক্ষেত্রবৈশিষ্ট্য
কৃষিভেজা ধানচাষ ও নতুন বসতি
জলব্যবস্থাবাঁধ, নালা ও প্লাবন নিয়ন্ত্রণ
সামরিক শক্তিপদাতিক, নৌবাহিনী, দুর্গ ও আগ্নেয়াস্ত্র
ইতিহাসরচনাবুরঞ্জি নামে ধারাবাহিক রাজকীয় বিবরণ
সমাজবিভিন্ন স্থানীয় গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তকরণ

মুঘল–অহোম সংঘর্ষ

মুঘলরা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পশ্চিমাংশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। 1667 সালে অহোমরা গুয়াহাটি পুনর্দখল করে। 1671 সালের সরাইঘাটের যুদ্ধে লাচিত বরফুকনের নেতৃত্বে অহোম নৌবাহিনী মুঘল বাহিনীকে পরাজিত করে।

যুদ্ধসালঅহোম নেতৃত্বফল
সরাইঘাট1671লাচিত বরফুকনব্রহ্মপুত্রে মুঘল নৌবাহিনীর পরাজয়; গুয়াহাটিতে অহোম কর্তৃত্ব বজায়

নদীর স্রোত, সরু জলপথ, ছোট দ্রুত নৌকা, দুর্গ ও স্থানীয় ভূগোলের জ্ঞান অহোম প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করে।

যাযাবর পশুপালক

যাযাবর ও অর্ধ-যাযাবর পশুপালকেরা ঋতু অনুযায়ী পশুর খাদ্য ও জলের সন্ধানে চলাচল করতেন। চলাচল স্থির পথ ও চারণচক্রের ওপর ভিত্তি করত। তাঁরা কৃষকের সঙ্গে পশু, দুধ, ঘি, পশম ও পরিবহণসেবা বিনিময় করতেন এবং ফসল কাটার পরে জমিতে পশু চরিয়ে সার যোগ করতেন।

গোষ্ঠী বা অঞ্চলপ্রধান জীবিকা বা বৈশিষ্ট্য
গুজ্জর-বকরওয়ালজম্মু–কাশ্মীর অঞ্চলে ভেড়া ও ছাগল পালন
গাদ্দিহিমাচল অঞ্চলে ঋতুভিত্তিক পশুচারণ
ভুটিয়াহিমালয় অতিক্রমী পশুপালন ও বাণিজ্য
রাইকারাজস্থানে উট ও ভেড়া পালন
ধাঙ্গরদাক্ষিণাত্যে ভেড়া ও ছাগল পালন

বানজারা

বানজারারা বৃহৎ বলদবাহী বণিক ও পরিবহণকারী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের চলমান বণিকদলকে টান্ডা বলা হত। শস্য, লবণ ও অন্যান্য পণ্য দূরপথে বহনে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। সেনাবাহিনীর খাদ্য ও রসদ সরবরাহেও বানজারাদের ব্যবহার করা হত।

বানজারা কার্যক্রমগুরুত্ব
শস্য পরিবহণউদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে ঘাটতির অঞ্চলে সরবরাহ
লবণ বাণিজ্যদৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দূরপাল্লার চলাচল
সামরিক রসদচলমান সেনাবাহিনীকে খাদ্য ও পশুখাদ্য
বলদের পালপণ্যবাহী স্থল পরিবহণ
টান্ডাপরিবার, পশু, বণিক ও রক্ষীসহ চলমান সংগঠন

যাযাবর ও স্থায়ী সমাজের সম্পর্ক

পশুপালক → পশু, ঘি, পশম ও পরিবহণ → কৃষক ও নগর

কৃষক → শস্য, ডাল ও কারুশিল্পজাত পণ্য → পশুপালক

ফসলের পর জমি → পশুচারণ → গোবরের সার → পরবর্তী চাষ

সম্পর্কসহযোগিতাসম্ভাব্য সংঘর্ষ
চারণভূমিপতিত জমিতে পশুচারণকৃষিজমি বেড়ে পথ বন্ধ হওয়া
বাজারপশুজাত ও কৃষিজ পণ্যের বিনিময়শুল্ক ও দামের বিরোধ
রাষ্ট্রপরিবহণ ও সামরিক সেবাচলাচলে কর ও নিয়ন্ত্রণ
অরণ্যযৌথ সম্পদ ব্যবহারবন পরিষ্কার ও অধিকার নিয়ে বিরোধ

নারী ও সামাজিক পরিবর্তন

নারীরা কৃষি, পশুপালন, বয়ন, খাদ্যসংগ্রহ, বাজার ও গৃহস্থালির উৎপাদনে অংশ নিতেন। রাজপরিবারে রানি দুর্গাবতীর মতো নারী শাসন ও যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্পত্তি, বিবাহ, উত্তরাধিকার ও শ্রমে নারীর অধিকার গোষ্ঠী ও অঞ্চলভেদে ভিন্ন ছিল।

ক্ষেত্রনারীর ভূমিকার উদাহরণ
কৃষিবীজ বোনা, আগাছা পরিষ্কার, ফসল কাটা ও প্রক্রিয়াকরণ
পশুপালনদুধ সংগ্রহ, পশুর যত্ন ও পশুজাত পণ্য তৈরি
কারুশিল্পসুতা কাটা, বয়ন, ঝুড়ি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ
বাজারছোট পণ্য বিক্রি ও বিনিময়
রাজনীতিঅভিভাবক শাসক, জোট, দান ও সামরিক নেতৃত্ব

ধর্মীয় পরিবর্তন ও সামাজিক পরিচয়

উপজাতীয় ও স্থানীয় দেবতার সঙ্গে ব্রাহ্মণ্য, বৌদ্ধ, জৈন, ইসলামি ও ভক্তি পরম্পরার সংযোগ ঘটে। কোনো স্থানীয় দেবতা বৃহত্তর দেবতার রূপ হিসেবে পরিচিত হতে পারেন; কোনো গোষ্ঠী সুফি পির বা ভক্তি সাধকের অনুসারী হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় পুরোনো আচার সম্পূর্ণ হারিয়ে না গিয়ে নতুন রীতির সঙ্গে মিশেছে।

স্থানীয় দেবতা ও আচার → আঞ্চলিক মন্দির বা পিরস্থান → বৃহত্তর ধর্মীয় পরম্পরার সংযোগ → নতুন যৌথ পরিচয়

ভাষা ও পরিচয়

রাজ্য, বাণিজ্য ও ধর্মীয় প্রচারে অসমিয়া, বাংলা, মারাঠি, রাজস্থানি, পাঞ্জাবি, তেলুগু, কন্নড় ও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যিক রূপ শক্তিশালী হয়। পারসি প্রশাসনিক শব্দ স্থানীয় ভাষায় প্রবেশ করে; আবার স্থানীয় শব্দও দরবারি ব্যবহারে আসে। ভাষা পরিবর্তন সামাজিক মিশ্রণ ও ক্ষমতার সম্পর্কের সাক্ষ্য।

রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন পথ

পথফল
রাজস্ব প্রদানস্থানীয় প্রধান রাষ্ট্রস্বীকৃত জমিদার হন
সামরিক সেবাপদ, ভূমির রাজস্ব বা উপাধি লাভ
বিবাহ ও জোটরাজপরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক
কৃষি সম্প্রসারণনতুন গ্রাম ও করদ প্রজা তৈরি
ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতাসামাজিক মর্যাদা ও বৈধতা বৃদ্ধি
বিদ্রোহ ও সন্ধি (Sandhi)স্বায়ত্তশাসন ও কেন্দ্রীয় দাবির পুনর্নির্ধারণ

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
বর্ণ ও জাতিবর্ণ চারভাগের আদর্শ কাঠামো; জাতি বহু আঞ্চলিক বাস্তব গোষ্ঠী
উপজাতিএক ধরনের জীবন নয়; কৃষক, পশুপালক, যোদ্ধা ও শাসক—বিভিন্ন রূপ ছিল
যাযাবরউদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা নয়; ঋতু ও সম্পদভিত্তিক পরিকল্পিত চলাচল
স্থানান্তরিত চাষপতিত সময়সহ চক্রাকারে জমি ব্যবহার
রাজপুতদীর্ঘ সময়ে গড়ে ওঠা বহু যোদ্ধা ও ভূস্বামী বংশের পরিচয়
গোণ্ডএকক ছোট গোষ্ঠী নয়; বহু গোষ্ঠী ও কয়েকটি শক্তিশালী রাজ্য
অহোমবহিরাগত উৎসের শাসকগোষ্ঠী হলেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে রাজ্য গঠন
পাইকশুধু সৈনিক নয়; শ্রম ও সামরিক সেবাদাতা
বানজারাশুধু ফেরিওয়ালা নয়; বৃহৎ পণ্য ও সামরিক রসদের পরিবহণকারী
সামাজিক মর্যাদাসম্পূর্ণ স্থির ছিল না; ক্ষমতা, জমি, পেশা ও জোটে পরিবর্তিত হতে পারত

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

15. সামাজিক পরিবর্তন — MCQ Test
30 questions

Start quiz →