একটি সাম্রাজ্যের নির্মাণ
বাবর থেকে ঔরঙ্গজেব, মনসবদারি, জাগির, রাজস্ব, রাজপুত সম্পর্ক, দাক্ষিণাত্য এবং মুঘল প্রশাসনের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।
Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team
একটি সাম্রাজ্যের নির্মাণ
ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে বাবরের বিজয় থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা। আকবরের সময় সাম্রাজ্য (Empire) একটি বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামো পায়; জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের সময় তা আরও সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত হয়; ঔরঙ্গজেবের সময় ভৌগোলিক বিস্তার সর্বাধিক হলেও দীর্ঘ যুদ্ধ, রাজস্বসংকট ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ সাম্রাজ্যের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। মুঘল শক্তির ভিত্তি ছিল সেনাবাহিনী, কৃষিজ রাজস্ব, মনসবদারি ব্যবস্থা (Mansabdari System), দুর্গ ও পথ, প্রশাসনিক নথি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা।
মুঘল নাম ও বংশপরিচয়
‘মুঘল’ শব্দটি ‘মঙ্গোল’ শব্দের পারসিক রূপ থেকে এসেছে। বাবর পিতার দিক থেকে তৈমুর এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন। তিনি নিজের স্মৃতিকথায় ‘তুর্ক’ পরিচয় ও তিমুরীয় ঐতিহ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
| বংশসূত্র | রাজনৈতিক তাৎপর্য |
|---|---|
| তিমুরীয় উত্তরাধিকার | মধ্য এশীয় রাজকীয় মর্যাদা ও সমরকন্দের দাবি |
| চেঙ্গিসীয় মাতৃবংশ | মঙ্গোল সাম্রাজ্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ |
| ভারতীয় বৈবাহিক সম্পর্ক | রাজপুত ও অন্যান্য আঞ্চলিক রাজপরিবারের সঙ্গে জোট |
প্রধান সম্রাটদের সময়রেখা
| সম্রাট | শাসনকাল | প্রধান ঘটনা ও বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| বাবর | 1526–1530 | পানিপথ, খানুয়া ও ঘাঘরার যুদ্ধ; সাম্রাজ্যের ভিত্তি |
| হুমায়ুন | 1530–1540 এবং 1555–1556 | শের শাহের কাছে পরাজয়; পারস্যে আশ্রয়; দিল্লি পুনর্দখল |
| আকবর | 1556–1605 | সাম্রাজ্যবিস্তার, মনসবদারি, রাজস্বসংস্কার ও বহুগোষ্ঠীর সংযুক্তি |
| জাহাঙ্গীর | 1605–1627 | দরবারি রাজনীতি, নূরজাহানের প্রভাব, চিত্রকলার বিকাশ |
| শাহজাহান | 1628–1658 | দাক্ষিণাত্য অভিযান, স্থাপত্য ও রাজকীয় জাঁকজমক |
| ঔরঙ্গজেব | 1658–1707 | সর্বাধিক ভৌগোলিক বিস্তার, দীর্ঘ দাক্ষিণাত্য যুদ্ধ ও প্রশাসনিক চাপ |
ইতিহাস জানার প্রধান উৎস
| উৎস | রচয়িতা বা ধরন | প্রধান তথ্য |
|---|---|---|
| বাবরনামা | বাবরের তুর্কি ভাষায় স্মৃতিকথা | যুদ্ধ, ভূগোল, উদ্ভিদ, নগর ও ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ |
| আকবরনামা | আবুল ফজল | আকবরের বংশ, রাজত্ব ও অভিযান |
| আইন-ই-আকবরি | আবুল ফজল | প্রশাসন, রাজস্ব, মনসব, সেনা, প্রদেশ ও সমাজ |
| তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি | জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথা | দরবার, বিচার, প্রকৃতি, অভিযান ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত |
| বাদশাহনামা | আবদুল হামিদ লাহোরি ও অন্যরা | শাহজাহানের রাজত্ব ও দরবারি অনুষ্ঠান |
| মুনতখব-উত-তাওয়ারিখ | আবদুল কাদির বদাউনি | আকবরের নীতির সমালোচনামূলক সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গি |
| ফরমান ও রাজস্বনথি | সরকারি আদেশ ও হিসাব | জমি, পদ, কর, দান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া |
| চিত্র ও স্থাপত্য | কর্মশালা ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা | পোশাক, দরবার, যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতীক |
বাবর ও সাম্রাজ্যের ভিত্তি
বাবর মধ্য এশিয়ার ফারগানার শাসক ছিলেন। সমরকন্দের ওপর কর্তৃত্ব ধরে রাখতে না পেরে তিনি কাবুল দখল করেন এবং পরে উত্তর ভারতে অভিযান চালান। 1526 সালের পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লি ও আগ্রার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
| যুদ্ধ | সাল | প্রতিপক্ষ | ফল ও তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| পানিপথের প্রথম যুদ্ধ | 1526 | ইব্রাহিম লোদি | লোদি শাসনের অবসান; দিল্লি–আগ্রা দখল |
| খানুয়ার যুদ্ধ | 1527 | মেবারের রানা সাংগার নেতৃত্বাধীন জোট | রাজপুত জোটের সামরিক চ্যালেঞ্জ দমন |
| চান্দেরির যুদ্ধ | 1528 | মেদিনী রায় | মধ্য ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ দখল |
| ঘাঘরার যুদ্ধ | 1529 | আফগান শক্তি ও বাংলা-সংলগ্ন বিরোধী জোট | পূর্বদিকে বাবরের অবস্থান শক্তিশালী |
বারুদ, কামান ও যুদ্ধকৌশল
পানিপথে বাবর অশ্বারোহী বাহিনীর সঙ্গে ক্ষেত্রকামান ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। গাড়ি দড়ি বা চামড়ায় যুক্ত করে প্রতিরক্ষারেখা এবং মাঝখানে কামান ও বন্দুকধারীর স্থান তৈরি করা হয়। তুলুঘমা কৌশলে বাহিনীর দুই পাশ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘিরে আক্রমণ করা হত।
গাড়ির প্রতিরক্ষারেখা → কামান ও বন্দুকের আঘাত → প্রতিপক্ষের সারিতে বিশৃঙ্খলা → দুই পাশ থেকে অশ্বারোহী আক্রমণ
বাবরের বিজয়ে কামান গুরুত্বপূর্ণ হলেও নেতৃত্ব, গতিশীল অশ্বারোহী বাহিনী, শৃঙ্খলা, প্রতিপক্ষের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিকল্পনাও সমান ভূমিকা রাখে।
হুমায়ুন ও সূর শাসন
হুমায়ুনকে ভাইদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আফগান শক্তি এবং দুর্বল রাজনৈতিক ভিত্তির মোকাবিলা করতে হয়। চৌসা (1539) ও কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধে (1540) শের খানের কাছে পরাজিত হয়ে তিনি ভারত ত্যাগ করেন। পারস্যের শাহ তাহমাস্পের সাহায্যে কাবুল ও কান্দাহার পুনর্দখল করে 1555 সালে দিল্লি ফিরে পান।
| শের শাহের ব্যবস্থা | বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব |
|---|---|
| সড়ক | সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু পর্যন্ত দীর্ঘ পথসহ প্রধান যোগাযোগপথ |
| সরাই | যাত্রী, বণিক, ডাক ও ঘোড়ার বিশ্রামকেন্দ্র |
| মুদ্রা | মানসম্মত রৌপ্য রুপিয়া; পরবর্তী মুদ্রাব্যবস্থায় প্রভাব |
| জমি মাপ | উৎপাদন ও জমির ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণের প্রচেষ্টা |
| পাট্টা ও কবুলিয়ত | জমি ও দাবির লিখিত বিবরণ; কৃষকের সম্মতিপত্র |
| প্রশাসনিক বিভাগ | সরকার, পরগনা ও গ্রামের স্তরবিন্যাস |
আকবরের প্রাথমিক শাসন
1556 সালে হুমায়ুনের মৃত্যুর সময় আকবর অল্পবয়সী ছিলেন। বৈরাম খান অভিভাবক ও প্রধান সেনানায়ক হিসেবে শাসন পরিচালনা করেন। একই বছরে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হেমুকে পরাজিত করে মুঘলরা দিল্লি পুনর্দখল করে। 1560 সালের পরে আকবর নিজে পূর্ণ শাসনভার গ্রহণ করেন।
আকবরের সাম্রাজ্যবিস্তার
| অঞ্চল বা শক্তি | প্রধান ঘটনা |
|---|---|
| মালব | 1561 সালে মুঘল দখল |
| গণ্ডোয়ানা | রানি দুর্গাবতীর প্রতিরোধ; 1564 সালের অভিযান |
| রাজপুতানা | আম্বেরের সঙ্গে জোট; মেওয়ারের প্রতিরোধ; চিতোর ও রণথম্ভোর দখল |
| গুজরাট | 1572–1573 সালে দ্রুত অভিযান; সমুদ্রবাণিজ্যের সঙ্গে সংযোগ |
| বাংলা ও বিহার | আফগান শক্তির পরাজয়; 1576 সালের রাজমহলের যুদ্ধ |
| উত্তর-পশ্চিম | কাবুল, কাশ্মীর, সিন্ধু ও কান্দাহারের ওপর প্রভাব |
| দাক্ষিণাত্য | আহমদনগর, বেরার ও খানদেশে অভিযান |
মেবার ও হলদিঘাট
1576 সালের হলদিঘাটের যুদ্ধে মুঘল বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন আম্বেরের মানসিংহ; মেবারের নেতৃত্বে ছিলেন মহারানা প্রতাপ। যুদ্ধের পরে মুঘলরা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়, কিন্তু মহারানা প্রতাপ পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রতিরোধ চালিয়ে যান এবং মেবারের বহু অংশ পুনরুদ্ধার করেন। চিতোর তখনও মুঘল অধিকারে ছিল।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সাল | 1576 |
| স্থান | হলদিঘাটি, আরাবল্লি অঞ্চল |
| মুঘল সেনাপতি | রাজা মানসিংহ |
| মেবারের শাসক | মহারানা প্রতাপ |
| প্রকৃতি | একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ; দীর্ঘ মুঘল–মেবার সংঘর্ষের অংশ |
মুঘল উত্তরাধিকারনীতি
মুঘলদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্রের স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকার বা প্রথমজাত অধিকার স্থির নিয়ম ছিল না। তৈমুরীয় অংশবণ্টন পরম্পরা অনুযায়ী সব রাজপুত্র রাজত্বের দাবিদার হতে পারতেন। ফলে সম্রাটের অসুস্থতা বা মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকারযুদ্ধ সাধারণ ঘটনা হয়ে ওঠে।
| উত্তরাধিকারযুদ্ধ | ফল |
|---|---|
| হুমায়ুন ও ভাইদের দ্বন্দ্ব | মুঘল শক্তির প্রাথমিক দুর্বলতা |
| জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে খুসরোর বিদ্রোহ | খুসরোর পরাজয় ও বন্দিত্ব |
| শাহজাহানের পুত্রদের যুদ্ধ | দারা শিকোহের পরাজয়; ঔরঙ্গজেবের সিংহাসন লাভ |
মনসবদারি ব্যবস্থা
মনসব অর্থ পদমর্যাদা। মনসবদার ছিলেন সামরিক–প্রশাসনিক কর্মকর্তা; তাঁকে নির্দিষ্ট মর্যাদা, বেতন ও নির্ধারিত সংখ্যক অশ্বারোহী রাখার দায়িত্ব দেওয়া হত। পদ ছিল সম্রাটপ্রদত্ত ও বদলিযোগ্য।
| উপাদান | অর্থ |
|---|---|
| জাত | মনসবদারের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মূল বেতনের সূচক |
| সওয়ার | রক্ষণীয় অশ্বারোহীর সংখ্যার সূচক |
| দাগ | ঘোড়ায় সরকারি চিহ্ন |
| চেহরা | সৈনিকের পরিচয় ও বর্ণনামূলক নথি |
| নগদ বেতন | রাজকোষ থেকে অর্থে বেতন |
| জাগির (Jagir) | বেতনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাজস্ব গ্রহণের অধিকার |
সম্রাট → মনসব প্রদান → জাত ও সওয়ার নির্ধারণ → সৈন্য ও ঘোড়ার যাচাই → নগদ বা জাগিরে বেতন → বদলি ও পদোন্নতি
মনসবদারের স্তর ও গঠন
মনসব কয়েক দশ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারত। উচ্চ মনসব রাজপুত্র, বিশিষ্ট আমির ও বড় সেনানায়কের মর্যাদা বোঝাত। মুঘল অভিজাতগোষ্ঠীতে তুরানি, ইরানি, আফগান, ভারতীয় মুসলমান, রাজপুত, দাক্ষিণাত্যবাসী ও মারাঠাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ অন্তর্ভুক্ত হন।
| গোষ্ঠী | সাধারণ পরিচয় |
|---|---|
| তুরানি | মধ্য এশীয় উৎসের অভিজাত |
| ইরানি | পারস্য থেকে আগত ব্যক্তি বা পরিবার |
| আফগান | আফগান বংশ বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী |
| রাজপুত | বিভিন্ন রাজপুত রাজবংশের শাসক ও যোদ্ধা |
| ভারতীয় মুসলমান | ভারতে দীর্ঘদিন বসবাসকারী মুসলমান পরিবার |
| দাক্ষিণাত্য ও মারাঠা | দাক্ষিণাত্যের শাসক, সেনাপতি ও স্থানীয় প্রধান |
বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্রাটের ওপর নির্ভরশীল একটি ভারসাম্যপূর্ণ অভিজাতশ্রেণি গড়তে সাহায্য করে।
জাগিরদারি ব্যবস্থা
জাগির ব্যক্তিগত মালিকানার জমি নয়; নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে নির্ধারিত রাজস্ব সংগ্রহের সাময়িক অধিকার। জাগিরদার সাধারণত নিজ জাগিরে স্থায়ীভাবে থাকতেন না এবং তাঁকে বদলি করা হত। জমির হিসাবি রাজস্বকে জমা এবং বাস্তব আদায়কে হাসিল বলা হত।
| বিষয় | খালিসা | জাগির |
|---|---|---|
| রাজস্বের প্রাপক | সরাসরি রাজকোষ | মনসবদারের বেতন বাবদ বরাদ্দ |
| নিয়ন্ত্রণ | কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা | জাগিরদার ও রাজস্বকর্মী |
| মালিকানা | রাষ্ট্রের রাজস্বক্ষেত্র | জাগিরদারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় |
| বদলি | প্রশাসনিক প্রয়োজনে পরিবর্তন | নিয়মিত বদলির প্রবণতা |
প্রশাসনিক বিভাগ
| স্তর | প্রধান কর্মকর্তা বা একক |
|---|---|
| সাম্রাজ্য | সম্রাট ও কেন্দ্রীয় দপ্তর |
| সুবা | সুবাদার; প্রাদেশিক শাসন |
| সরকার | একাধিক পরগনার সমন্বয় |
| পরগনা | শিকদার, আমিল, কানুনগো প্রভৃতি কর্মকর্তা |
| গ্রাম | মুকদ্দম, পাটোয়ারি ও স্থানীয় পঞ্চায়েত |
আকবরের সময় সাম্রাজ্য প্রথমে 12টি সুবায় ভাগ হয়; বিস্তারের সঙ্গে সুবা সংখ্যা বাড়ে। সুবাদার সামরিক ও প্রশাসনিক প্রধান হলেও দেওয়ান রাজস্বের আলাদা দায়িত্ব পালন করতেন। এই বিভাজন প্রাদেশিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করত।
কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা
| পদ | প্রধান কাজ |
|---|---|
| ওয়াকিল | সম্রাটের উচ্চ প্রতিনিধি; প্রাথমিক সময়ে ব্যাপক ক্ষমতা |
| দেওয়ান-ই-আলা | সাম্রাজ্যের রাজস্ব ও অর্থ |
| মির বখশি | মনসবদার, সেনা, নিয়োগ ও সামরিক হিসাব |
| সদর-উস-সুদুর | ধর্মীয় দান ও বিচারসংক্রান্ত কিছু বিষয় |
| কাজি-উল-কুজাত | প্রধান কাজি বা বিচারক |
| মির সামান | রাজকীয় গৃহস্থালি ও কারখানা |
| ওয়াকিয়া-নবিস | সংবাদ ও ঘটনাবিবরণ প্রেরণ |
কৃষিজ রাজস্ব ও জবত
কৃষিজ উৎপাদনের অংশ ছিল মুঘল আয়ের প্রধান উৎস। রাজা টোডরমলের সঙ্গে যুক্ত জবত ব্যবস্থায় জমি মাপ, ফসলের গড় উৎপাদন এবং গড় মূল্যের ভিত্তিতে নগদ রাজস্বহার নির্ধারণ করা হত। দশ বছরের গড়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিকে দহসালা বলা হয়।
জমি মাপ → জমির শ্রেণি → ফসলের গড় ফলন → গড় মূল্য → রাষ্ট্রের অংশ → নগদ রাজস্বহার
| জমির ধরন | সাধারণ অর্থ |
|---|---|
| পোলজ | প্রতি বছর চাষ করা জমি |
| পরৌতি | সাময়িকভাবে পতিত রেখে পরে চাষযোগ্য জমি |
| চাচর | কয়েক বছর পতিত জমি |
| বঞ্জর | দীর্ঘকাল অনাবাদি জমি |
জবত মূলত উত্তর ভারতের মাপযোগ্য ও নিয়মিত চাষের অঞ্চলে কার্যকর ছিল। অন্যত্র ফসল ভাগ, অনুমান বা স্থানীয় ব্যবস্থায় রাজস্ব নেওয়া হত।
জমিদার
মুঘল যুগে ‘জমিদার’ শব্দে গ্রামপ্রধান থেকে বিস্তৃত অঞ্চলের বংশানুক্রমিক প্রধান পর্যন্ত বিভিন্ন স্তর বোঝাত। তাঁদের স্থানীয় বংশ, জমি, দুর্গ, সশস্ত্র অনুসারী এবং কৃষকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারত। তাঁরা রাজস্ব সংগ্রহে রাষ্ট্রকে সাহায্য করতেন এবং নির্দিষ্ট অংশ পেতেন; কখনও বিদ্রোহও করতেন।
| জমিদারের ভূমিকা | প্রকাশ |
|---|---|
| রাজস্ব | কৃষকের কাছ থেকে আদায় ও রাষ্ট্রে জমা |
| স্থানীয় কর্তৃত্ব | সামাজিক মর্যাদা, বংশ ও ভূমির ওপর প্রভাব |
| সামরিক শক্তি | নিজস্ব সশস্ত্র অনুসারী বা দুর্গ |
| কৃষি (Agriculture) সম্প্রসারণ | নতুন বসতি ও চাষে উদ্যোগ |
| প্রতিরোধ | অতিরিক্ত দাবি বা রাজনৈতিক বিরোধে বিদ্রোহ |
কৃষক ও গ্রামীণ সমাজ
রায়ত বা কৃষক নিজের পরিবার, বীজ, পশু ও শ্রমের সাহায্যে উৎপাদন করতেন। খুদকশত কৃষক নিজ গ্রামে স্থায়ীভাবে চাষ করতেন; পাহিকশত অন্য গ্রামে গিয়ে চাষ করতে পারতেন। ভূমিহীন শ্রমিক, কারিগর, পশুপালক ও বনবাসী জনগোষ্ঠীও গ্রামের অর্থনীতির অংশ ছিল।
কৃষকের শ্রম → ফসল → পারিবারিক ভোগ + বীজ + স্থানীয় দাবি + রাষ্ট্রীয় রাজস্ব + বাজারে বিক্রি
রাজপুত নীতি
আকবর বহু রাজপুত শাসকের সঙ্গে বিবাহ, মনসব, জাগির ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়েন। আম্বেরের ভরমল, ভগবন্ত দাস ও মানসিংহ মুঘল ব্যবস্থায় উচ্চ মর্যাদা পান। মেবারের সিসোদিয়ারা দীর্ঘ প্রতিরোধ চালায়। সহযোগিতা ও সংঘর্ষ একই সময়ে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে চলেছে।
| পদ্ধতি | ফল |
|---|---|
| বৈবাহিক সম্পর্ক | রাজপরিবারের মধ্যে আত্মীয়তা ও আস্থা বৃদ্ধি |
| মনসব ও জাগির | রাজপুত প্রধানদের সাম্রাজ্যিক পদে অন্তর্ভুক্তি |
| নিজস্ব রাজ্য রাখা | অভ্যন্তরীণ উত্তরাধিকার ও আচার আংশিক বজায় |
| সামরিক সহযোগিতা | সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অভিযানে রাজপুত সেনানায়ক |
| প্রতিরোধ ও অভিযান | চিতোর, রণথম্ভোর ও মেবারের সংঘর্ষ |
সুলহ-ই-কুল
সুলহ-ই-কুল অর্থ ‘সকলের সঙ্গে শান্তি’। আবুল ফজল এই ধারণাকে এমন শাসননীতির ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন যেখানে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বদলে আনুগত্য, যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রজাকে দেখা হয়।
| আকবরের পদক্ষেপ | সাল বা বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| তীর্থকর প্রত্যাহার | 1563 |
| জিজিয়া প্রত্যাহার | 1564 |
| ইবাদতখানা | ফতেহপুর সিক্রিতে ধর্মীয় আলোচনা; 1575 থেকে |
| মহজর | 1579; ধর্মীয় ব্যাখ্যার বিরোধে সম্রাটের সিদ্ধান্তের মর্যাদা |
| অনুবাদ বিভাগ | সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষার গ্রন্থ পারসিকে অনুবাদ |
| দীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত ব্যক্তিগত আনুগত্যবৃত্ত | অল্পসংখ্যক দরবারি; জনসাধারণের নতুন ধর্ম নয় |
পারসি ভাষা ও অনুবাদ
পারসি ছিল মুঘল প্রশাসন ও উচ্চ সংস্কৃতির প্রধান ভাষা। স্থানীয় স্তরে হিন্দবি, বাংলা, গুজরাটি, রাজস্থানি, মারাঠি ও অন্যান্য ভাষা ব্যবহৃত হত। আকবরের অনুবাদ বিভাগে মহাভারতের পারসি অনুবাদ ‘রজমনামা’, রামায়ণ এবং অন্যান্য গ্রন্থ অনূদিত হয়।
মূল গ্রন্থ → অনুবাদক ও পণ্ডিতের আলোচনা → পারসি গদ্য → চিত্রিত পাণ্ডুলিপি (Manuscript) → দরবারে পাঠ ও প্রচার
মুঘল চিত্রকলা
হুমায়ুন পারস্য থেকে মির সৈয়দ আলি ও আবদুস সামাদের মতো শিল্পী আনেন। আকবরের বৃহৎ চিত্রশালায় বহু ভারতীয় শিল্পী যুক্ত হয়ে পারসিক সূক্ষ্মরেখা, ভারতীয় রং ও স্থানিক গভীরতার সমন্বয় ঘটান।
| সম্রাট | চিত্রকলার বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| আকবর | হামজনামা, আকবরনামা; যুদ্ধ, শিকার, দরবার ও কাহিনির জনবহুল দৃশ্য |
| জাহাঙ্গীর | প্রকৃতি, পাখি, প্রাণী, প্রতিকৃতি ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ |
| শাহজাহান | আনুষ্ঠানিক দরবার, সমমিতি ও রাজকীয় জাঁকজমক |
| ঔরঙ্গজেব | রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হ্রাস; শিল্পীদের আঞ্চলিক দরবারে বিস্তার |
জাহাঙ্গীর ও নূরজাহান
জাহাঙ্গীরের শাসনে নূরজাহান, তাঁর পিতা ইতমাদ-উদ-দৌলা, ভাই আসফ খান এবং যুবরাজ খুররমকে ঘিরে একটি শক্তিশালী দরবারি জোট গড়ে ওঠে। নূরজাহানের নামে মুদ্রা জারি এবং ফরমান প্রকাশ তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদার প্রমাণ।
| ক্ষেত্র | নূরজাহানের ভূমিকা |
|---|---|
| দরবার | নিয়োগ, বিবাহ ও জোটে প্রভাব |
| রাজকীয় আদেশ | তাঁর সিলসহ ফরমান |
| মুদ্রা | জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর নামযুক্ত কিছু মুদ্রা |
| স্থাপত্য | পিতার সমাধি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা |
| বাণিজ্য | জাহাজ ও বাণিজ্যিক স্বার্থের উল্লেখ |
শাহজাহানের রাজত্ব
শাহজাহানের সময় রাজদরবারের আচার, স্থাপত্য ও সমমিত পরিকল্পনা সাম্রাজ্যিক মর্যাদার কেন্দ্রীয় প্রকাশ হয়ে ওঠে। দিল্লিতে শাহজাহানাবাদ, লালকেল্লা ও জামা মসজিদ নির্মিত হয়; আগ্রায় তাজমহল নির্মাণ করা হয়। ময়ূর সিংহাসন রাজকীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিল।
| স্থাপনা | স্থান | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| তাজমহল | আগ্রা | মুমতাজ মহলের সমাধি; মার্বেল, সমমিতি ও জড়াই কাজ |
| লালকেল্লা | দিল্লি | প্রাসাদনগর, দরবারকক্ষ ও জলনালা |
| জামা মসজিদ | দিল্লি | বৃহৎ সমবেত মসজিদ |
| শাহজাহানাবাদ | দিল্লি | প্রাচীরঘেরা রাজধানী, বাজার ও প্রধান সড়ক |
ঔরঙ্গজেবের সিংহাসন লাভ
1657 সালে শাহজাহানের অসুস্থতার পরে দারা শিকোহ, শাহ সুজা, ঔরঙ্গজেব ও মুরাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। 1658 সালের সামুগড়ের যুদ্ধে দারা পরাজিত হন। ঔরঙ্গজেব আগ্রা দখল করে শাহজাহানকে বন্দি রাখেন এবং আলমগীর উপাধিতে সিংহাসনে বসেন।
| রাজপুত্র | প্রধান ভিত্তি বা অবস্থান |
|---|---|
| দারা শিকোহ | সম্রাটের মনোনীত উত্তরসূরি; উত্তর ভারতের কেন্দ্রীয় সম্পদ |
| শাহ সুজা | বাংলার সুবাদার |
| ঔরঙ্গজেব | দাক্ষিণাত্যের অভিজ্ঞ সেনানায়ক ও সুবাদার |
| মুরাদ | গুজরাটের সুবাদার; প্রথমে ঔরঙ্গজেবের সহযোগী |
দাক্ষিণাত্যে সম্প্রসারণ
ঔরঙ্গজেব 1686 সালে বিজাপুর এবং 1687 সালে গোলকোণ্ডা দখল করেন। এরপর মারাঠাদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘর্ষে সাম্রাজ্যের বিপুল সেনা ও অর্থ দক্ষিণে আবদ্ধ থাকে। দুর্গ দখল, রসদ, বর্ষা, দূরত্ব এবং গেরিলা কৌশল মুঘল বাহিনীর ব্যয় বাড়ায়।
উত্তর ভারতের রাজস্ব → দাক্ষিণাত্যে সৈন্য ও রসদ → দীর্ঘ অবরোধ → জাগিরের চাহিদা বৃদ্ধি → প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ
মারাঠা শক্তি ও শিবাজি
শিবাজি পশ্চিম দাক্ষিণাত্যের পাহাড়ি দুর্গ, দ্রুত অশ্বারোহী বাহিনী, স্থানীয় সমর্থন ও আকস্মিক আক্রমণের সাহায্যে একটি শক্তিশালী রাজ্য গড়েন। 1674 সালে রায়গড়ে তাঁর রাজ্যাভিষেক হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভৌগোলিক ভিত্তি | পশ্চিমঘাট, কোঙ্কণ ও পাহাড়ি দুর্গ |
| সামরিক কৌশল | দ্রুত চলাচল, আকস্মিক আক্রমণ ও দুর্গের জাল |
| প্রশাসন | অষ্টপ্রধান নামে আট উচ্চ কর্মকর্তার পরিষদ |
| রাজস্বদাবি | চৌথ ও সরদেশমুখী |
| মুঘল সম্পর্ক | সংঘর্ষ, পুরন্দরের সন্ধি (Sandhi), আগ্রা-পর্ব ও পুনরায় অভিযান |
মুঘল সামরিক শক্তি
| বাহিনী বা উপাদান | ভূমিকা |
|---|---|
| অশ্বারোহী | দ্রুত অভিযান ও খোলা যুদ্ধ |
| পদাতিক | বন্দুকধারী, প্রহরী ও সহায়ক বাহিনী |
| কামান | দুর্গ অবরোধ ও যুদ্ধক্ষেত্রে গোলাবর্ষণ |
| হাতি | পরিবহণ (Transport), রাজকীয় প্রতীক ও সীমিত সামরিক ব্যবহার |
| দুর্গ | প্রশাসন, ভাণ্ডার ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ |
| নৌযান | নদী ও উপকূলীয় পরিবহণ; স্থায়ী বৃহৎ নৌবাহিনী সীমিত |
জাগির সংকট ও সাম্রাজ্যের চাপ
ঔরঙ্গজেবের সময় মনসবদারের সংখ্যা ও উচ্চ পদ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু প্রত্যাশিত আয়ের উপযুক্ত জাগিরের ঘাটতি দেখা দেয়। হিসাবি জমা ও বাস্তব হাসিলের পার্থক্য মনসবদারের আয় কমাতে পারত। তাঁরা কৃষকের কাছ থেকে দ্রুত বেশি আদায়ের চেষ্টা করলে কৃষি ও গ্রামীণ সমাজে চাপ বাড়ত।
মনসবদার বৃদ্ধি → জাগিরের চাহিদা → ভালো জাগিরের ঘাটতি → ঘনঘন বদলি ও অধিক আদায় → কৃষক ও জমিদারের প্রতিরোধ
সাম্রাজ্য ও আঞ্চলিক শক্তির সম্পর্ক
| সম্পর্কের ধরন | উদাহরণ |
|---|---|
| সরাসরি প্রাদেশিক শাসন | সুবা, সরকার ও পরগনার কর্মকর্তা |
| মনসবদারি অন্তর্ভুক্তি | রাজপুত, দাক্ষিণাত্য ও অন্যান্য প্রধান |
| করদ সম্পর্ক | স্থানীয় রাজা নির্দিষ্ট কর বা উপহার দেন |
| সামরিক অভিযান | বিদ্রোহী জমিদার, দুর্গ বা স্বাধীন রাজ্যের বিরুদ্ধে |
| সন্ধি ও বিবাহ | সহযোগিতা ও রাজনৈতিক জোট |
| পরিবর্তনশীল সীমান্ত | আফগান সীমান্ত, উত্তর-পূর্ব ও দাক্ষিণাত্যের অঞ্চল |
ধর্ম ও রাজনীতি
| আকবর | ঔরঙ্গজেব |
|---|---|
| জিজিয়া প্রত্যাহার | 1679 সালে জিজিয়া পুনরায় আরোপ |
| সুলহ-ই-কুলের আদর্শ | ইসলামি আইন ও আলেমদের ভূমিকার ওপর বেশি গুরুত্ব |
| বহুধর্মীয় আলোচনা | ফতাওয়া-ই-আলমগিরি সংকলনে পৃষ্ঠপোষকতা |
| রাজপুতদের ব্যাপক অন্তর্ভুক্তি | বহু রাজপুত মনসবদার বহাল; মারওয়ার ও মেবারের সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটে |
মন্দিরে দান, সুরক্ষা, করমুক্তি, ধ্বংস বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত—সব ধরনের ফরমান বিভিন্ন মুঘল শাসনের দলিলে পাওয়া যায়। রাজনৈতিক আনুগত্য, বিদ্রোহ, যুদ্ধ, স্থানীয় সম্পর্ক ও ধর্মীয় নীতি ঘটনাভেদে একত্রে কাজ করেছে।
সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক বিস্তার ও বাস্তব নিয়ন্ত্রণ
| অঞ্চল | নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি |
|---|---|
| আগ্রা–দিল্লি ও গঙ্গা সমভূমি | প্রশাসন ও রাজস্বের মূল অঞ্চল |
| রাজস্থান | জোট, মনসবদারি ও কিছু অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ |
| বাংলা ও গুজরাট | সমৃদ্ধ সুবা, বন্দর ও বাণিজ্য |
| উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত | দুর্গ, উপজাতীয় প্রধান ও পরিবর্তনশীল সামরিক পরিস্থিতি |
| দাক্ষিণাত্য | বিজাপুর–গোলকোণ্ডা সংযুক্তির পরেও দীর্ঘ প্রতিরোধ |
| উত্তর-পূর্ব | কোচ, অহোম ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ ও সন্ধি |
মুঘল অর্থনীতি ও বিশ্ববাণিজ্য
কৃষিজ উদ্বৃত্ত সাম্রাজ্যের ভিত্তি হলেও তুলাবস্ত্র, রেশম, নীল, মসলা, চিনি ও অন্যান্য পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে যেত। সুরাট, হুগলি, মসুলিপত্তনম ও বালাসোর গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল। ইউরোপীয় বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি ভারতীয় পণ্য কিনতে বিপুল রুপো আনত।
| অঞ্চল বা কেন্দ্র | গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বা ভূমিকা |
|---|---|
| বাংলা | সূক্ষ্ম তুলাবস্ত্র, রেশম, চিনি ও চাল |
| গুজরাট | তুলাবস্ত্র, নীল ও পশ্চিমমুখী সমুদ্রবাণিজ্য |
| করোমণ্ডল উপকূল | বস্ত্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য |
| সুরাট | লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হজযাত্রার প্রধান বন্দর |
| আগ্রা–লাহোর | স্থলবাণিজ্য, কারুশিল্প ও রাজদরবারের চাহিদা |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য
| বিষয় | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| মনসব | পদমর্যাদা; জমির ব্যক্তিগত মালিকানা নয় |
| জাত ও সওয়ার | জাত ব্যক্তিগত মর্যাদা; সওয়ার অশ্বারোহীর দায় |
| জাগির | বেতন বাবদ সাময়িক রাজস্বক্ষেত্র |
| খালিসা | সরাসরি রাজকোষে রাজস্ব দেওয়া অঞ্চল |
| জমা ও হাসিল | জমা হিসাবি দাবি; হাসিল বাস্তব আদায় |
| জমিদার ও জাগিরদার | জমিদারের স্থানীয় বংশগত ভিত্তি থাকতে পারে; জাগিরদার বদলিযোগ্য কর্মকর্তা |
| সুবাদার ও দেওয়ান | সুবাদার প্রাদেশিক শাসন; দেওয়ান রাজস্ব ও অর্থ |
| উত্তরাধিকার | জ্যেষ্ঠ পুত্রের স্বয়ংক্রিয় অধিকার ছিল না |
| দীন-ই-ইলাহি | জনসাধারণের নতুন ধর্ম নয়; অল্প দরবারির ব্যক্তিগত আনুগত্যবৃত্ত |
| সাম্রাজ্যের বিস্তার | মানচিত্রের সব অঞ্চলে সমান প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল না |
PRACTICE QUIZ
Take a Test from This Topic
14. একটি সাম্রাজ্যের নির্মাণ — MCQ Test
30 questions
OWNER QUIZ TOOL
Add a test to this topic
The quiz form will automatically select this topic and its primary category.
➕ Add a Quiz for This Topic