ঔপনিবেশিকতা ও আদিবাসী সমাজ
আদিবাসী জীবিকার বৈচিত্র্য, বন আইন, দিকু, শ্রমস্থানান্তর, সাঁওতাল হুল, বিরসা মুন্ডা ও উলগুলানের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা ইতিহাস পাঠ।
Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team
ঔপনিবেশিকতা (Colonialism) ও আদিবাসী সমাজ
ভারতের আদিবাসী সমাজগুলি একরূপ ছিল না। পাহাড়, মালভূমি, বন ও সমতলে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষা, সামাজিক সংগঠন এবং জীবিকা ছিল স্বতন্ত্র। কেউ জুমচাষ, কেউ স্থায়ী কৃষি (Agriculture), কেউ পশুপালন, শিকার–সংগ্রহ, বনজ পণ্য বা কারুশিল্পের ওপর নির্ভর করতেন। ঔপনিবেশিক শাসন ভূমিরাজস্ব, বন আইন, মহাজনি ঋণ, বাজার ও শ্রমনিয়োগের মাধ্যমে এই সমাজগুলিকে গভীরভাবে বদলে দেয়।
বিষয়টির ধারাচিত্র
ভূমি ও বননির্ভর জীবন → ঔপনিবেশিক জরিপ ও শ্রেণিবিন্যাস → জমি–বনের ওপর রাষ্ট্রীয় দাবি → জমিদার, মহাজন ও ব্যবসায়ীর প্রবেশ → জীবিকা ও সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন → প্রতিরোধ ও নতুন রাজনৈতিক চেতনা
‘আদিবাসী’ ও ‘জনজাতি’ ধারণা
‘আদিবাসী’ শব্দের অর্থ আদি বাসিন্দা; বিংশ শতকে এটি অধিকার ও রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হয়ে ওঠে। ঔপনিবেশিক নথিতে আদিবাসী বা জনজাতি বলে বহু ভিন্ন জনগোষ্ঠীকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। কোনো সমাজ স্থির বা ইতিহাসহীন ছিল না—তারা কৃষক, রাজ্য, বাজার, মন্দির, বণিক ও শহরের সঙ্গে দীর্ঘকাল যোগাযোগ (Communication) রেখেছিল।
| ধারণা | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| আদিবাসী | ঐতিহাসিক ভূমি, সংস্কৃতি ও স্বশাসনের দাবি বহনকারী পরিচয় |
| জনজাতি | প্রশাসনিক ও নৃতাত্ত্বিক শ্রেণি; বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাস্তব বৈচিত্র্য ঢেকে দিতে পারে |
| দিকু | সাঁওতাল ও মুন্ডা অঞ্চলে বহিরাগত শোষকের জন্য ব্যবহৃত শব্দ |
| আবুয়া দিশুম | মুন্ডারি ভাবনায় ‘আমাদের দেশ’ বা নিজস্ব ভূভাগ |
| উলগুলান | বিরাট আলোড়ন; বিরসা মুন্ডার আন্দোলনের পরিচিত নাম |
জীবিকার বৈচিত্র্য
| জীবিকা | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণস্বরূপ অঞ্চল বা জনগোষ্ঠী |
|---|---|---|
| জুমচাষ | বনভূমির অংশ পরিষ্কার করে কয়েক বছর চাষ, পরে অন্য জমিতে সরে যাওয়া | উত্তর-পূর্ব ও মধ্য ভারতের বহু জনগোষ্ঠী |
| স্থায়ী কৃষি | একই জমিতে লাঙলচাষ ও বসতি | সাঁওতাল, মুন্ডা ও গোন্ডদের বহু অংশ |
| শিকার–সংগ্রহ | ফল, কন্দ, মধু, লাক্ষা, গাছের আঠা ও শিকার | বনাঞ্চলের বিভিন্ন সমাজ |
| পশুপালন | ঋতুভিত্তিক চলাচল ও পশুচারণ | গুজ্জর, বকরওয়াল, গাড্ডি প্রভৃতি |
| বনজ কারুশিল্প | বাঁশ, পাতা, কাঠ, লোহা ও তন্তুর কাজ | মধ্য ও পূর্ব ভারতের অঞ্চল |
| মজুরি শ্রম | খনি, বাগান, রেল ও নির্মাণে কাজ | ঔপনিবেশিক যুগে দ্রুত বৃদ্ধি |
জুমচাষের চক্র
জমি নির্বাচন → গাছ ও ঝোপ কাটা → শুকনো উদ্ভিদ পোড়ানো → ছাই দিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি → মিশ্র বীজ বপন → কয়েক বছর ফসল → জমিকে বিশ্রাম দিয়ে নতুন অংশে চাষ
জুমচাষে ধান, বাজরা, ডাল, সবজি ও তুলা একসঙ্গে ফলানো যেত। দীর্ঘ বিরতিতে বন পুনরুজ্জীবিত হত। জনসংখ্যার চাপ এবং বনাঞ্চল সংকুচিত হলে বিশ্রামের সময় কমে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারত।
বন, কৃষি ও সাধারণ অধিকার
বন ছিল খাদ্য, ঔষধ, জ্বালানি, পশুখাদ্য, ঘর তৈরির উপকরণ এবং ধর্মীয় স্থানের উৎস। বন ও জমির অধিকার প্রায়ই পরিবার, গোত্র ও গ্রামের প্রথায় নিয়ন্ত্রিত হত; ব্যক্তিগত লিখিত দলিল সব সময় ছিল না। ঔপনিবেশিক জরিপ এই নমনীয় অধিকারকে সরকারি বন, ব্যক্তিগত জমি বা ‘অনাবাদি’ অঞ্চলে ভাগ করে।
ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের বন-দৃষ্টি
ব্রিটিশ শাসকের কাছে বন ছিল কাঠ, রাজস্ব এবং সাম্রাজ্যিক নিয়ন্ত্রণের সম্পদ। রেলপথের স্লিপার, জাহাজ, নির্মাণ ও সামরিক প্রয়োজনে শাল, সেগুন ও দেবদারুর চাহিদা বাড়ে। বৈজ্ঞানিক বনব্যবস্থাপনা নামে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক গাছ লাগানো এবং অন্য উদ্ভিদ পরিষ্কার করার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও স্থানীয় ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়।
বন আইন
1865 সালের প্রথম ভারতীয় বন আইন সরকারকে বনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে। 1878 সালের আইনে বনকে সংরক্ষিত, সুরক্ষিত ও গ্রামবনে ভাগ করা হয়। 1927 সালের আইন আগের বিধানগুলি একত্র করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সুসংহত করে।
| বনশ্রেণি | সাধারণ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| সংরক্ষিত বন | কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ; শিকার, চারণ ও সংগ্রহে প্রবল বাধা |
| সুরক্ষিত বন | সরকারি অধিকার প্রতিষ্ঠিত, কিছু স্থানীয় ব্যবহার অনুমোদিত |
| গ্রামবন | গ্রামের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করার বিধান; বাস্তবে সীমিত প্রয়োগ |
বন আইনের সামাজিক প্রভাব
| আগের ব্যবহার | ঔপনিবেশিক পরিবর্তন |
|---|---|
| জুমচাষ | আগুন ও স্থানান্তরকে বনধ্বংস বলে সীমিত বা নিষিদ্ধ |
| পশুচারণ | অনুমতি, ফি ও নির্দিষ্ট এলাকার বিধান |
| কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহ | পাস, ঠিকাদার ও সরকারি অনুমতির প্রয়োজন |
| শিকার | প্রজার জীবিকা সীমিত; শাসক ও অভিজাতের বিনোদনমূলক শিকার বহাল |
| বনজ পণ্য বিক্রি | ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি |
| বসতি | কোনো কোনো গোষ্ঠী উচ্ছেদ বা বনগ্রামে শ্রমে আবদ্ধ |
জমি, রাজস্ব ও বহিরাগতদের প্রবেশ
জমির জরিপ এবং নগদ রাজস্ব প্রথাগত যৌথ অধিকারের বদলে লিখিত মালিকানাকে গুরুত্ব দেয়। জমিদার, ঠিকাদার, মহাজন, পুলিশ ও বণিক আদিবাসী অঞ্চলে প্রবেশ করেন। ঋণের দলিল, উচ্চ সুদ ও অনাদায়ে জমি হস্তান্তর বাড়ে। অনেক এলাকায় এই বহিরাগত শোষককে দিকু বলা হত।
স্বল্প ফলন বা জরুরি ব্যয় → মহাজনের ঋণ → সুদ ও বন্ধক → ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা → জমি হারানো বা বেগার শ্রম
বাজারের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক
বনজ পণ্যের বাণিজ্য নতুন আয়ের সুযোগ দিলেও দাম ও মাপ নিয়ন্ত্রণ করতেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। লাক্ষা, রেশমকীট, মধু, গাছের আঠা ও চামড়া কম দামে সংগ্রহ করে দূরের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হত। লবণ, কাপড় ও লোহার জিনিস কেনার জন্য নগদের প্রয়োজন বেড়ে যায়।
শ্রমস্থানান্তর
জমি ও বনজ অধিকার হারানো বহু মানুষকে আসাম ও দার্জিলিংয়ের চা-বাগান, ঝাড়খণ্ডের কয়লাখনি, রেল নির্মাণ এবং শহরের কাজে যেতে বাধ্য করে। আড়কাঠি বা শ্রম-নিয়োগকারী অগ্রিম ও কাজের প্রতিশ্রুতি দিতেন। দূরত্ব, কম মজুরি, ঋণ এবং চুক্তির কারণে শ্রমিকেরা কঠিন অবস্থায় পড়তেন।
| কর্মক্ষেত্র | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| চা-বাগান | দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, নিয়ন্ত্রিত বসতি ও কঠোর শ্রম |
| কয়লা ও খনি | বিপজ্জনক কাজ, ঋতুভিত্তিক বা স্থায়ী অভিবাসন |
| রেলপথ | বন পরিষ্কার, মাটি কাটা, সেতু ও লাইন নির্মাণ |
| কৃষি অঞ্চল | ফসল কাটার মৌসুমি শ্রম |
| শহর | নির্মাণ, গৃহকর্ম ও অদক্ষ মজুরি শ্রম |
মিশনারি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
খ্রিস্টান মিশনারিরা বিদ্যালয়, চিকিৎসা, মুদ্রণ এবং স্থানীয় ভাষায় ব্যাকরণ বা অভিধান তৈরি করেন। কিছু আদিবাসী শিক্ষা ও নতুন ধর্মীয় সম্প্রদায়ে সুযোগ পান; আবার ধর্মান্তর, প্রথা ও মিশনারি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিরোধও হয়। বিদ্যালয় ও মুদ্রণ পরবর্তী সময়ে আদিবাসী লেখক, সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশেও সহায়তা করে।
ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস
ঔপনিবেশিক কর্মকর্তারা কখনও জনগোষ্ঠীকে ‘বন্য’, ‘অপরাধপ্রবণ’ বা ‘সভ্যতার বাইরে’ বলে বর্ণনা করতেন। 1871 সালের অপরাধপ্রবণ জনজাতি আইন বহু চলমান জনগোষ্ঠীকে জন্মগত সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে নজরদারি ও চলাচলের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। এ ধরনের শ্রেণি সামাজিক কলঙ্ক সৃষ্টি করে এবং জীবিকার স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত করে।
পাহাড়িয়া ও সাঁওতাল
রাজমহল পাহাড়ের পাহাড়িয়ারা বনজীবিকা ও স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেন। কোম্পানি প্রথমে দমন এবং পরে অগাস্টাস ক্লিভল্যান্ডের সময় ভাতা ও পাহাড়ি প্রধানদের মাধ্যমে শান্ত রাখার চেষ্টা করে। উনিশ শতকে সাঁওতালদের দামিন-ই-কোহ অঞ্চলে বসতি ও কৃষি সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা হয়। পরে জমিদার, মহাজন ও পুলিশের শোষণে তাদের অসন্তোষ তীব্র হয়।
সাঁওতাল হুল
1855 সালে সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে সাঁওতাল হুল শুরু হয়। জমিদার, মহাজন, পুলিশ, রাজস্ব কর্মকর্তা এবং কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিদ্রোহ দমন করা হলেও 1855–1856 সালের ঘটনায় ঔপনিবেশিক শাসনের গভীর সংকট প্রকাশ পায়। পরে সাঁওতাল পরগনা পৃথক প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে গঠিত হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সময় | 1855–1856 |
| অঞ্চল | দামিন-ই-কোহ ও বর্তমান সাঁওতাল পরগনা |
| নেতা | সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরব মুর্মু |
| প্রধান বিরোধী | জমিদার, মহাজন, পুলিশ ও কোম্পানি প্রশাসন |
| তাৎপর্য | ভূমি, মর্যাদা ও স্বশাসনের বৃহৎ গণপ্রতিরোধ |
বিরসা মুন্ডা ও উলগুলান
বিরসা মুন্ডা 1875 সালে উলিহাতুতে জন্মগ্রহণ করেন। মিশনারি বিদ্যালয়, বৈষ্ণব প্রভাব এবং মুন্ডা সমাজের নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে তাঁর চিন্তা গড়ে ওঠে। অনুসারীরা তাঁকে ধরতি আবা বা পৃথিবীর পিতা বলতেন। তিনি নৈতিক শুদ্ধি, নিজস্ব ধর্ম, দিকুর শোষণের অবসান এবং মুন্ডা রাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
1899–1900 সালের উলগুলানে থানা, গির্জা এবং শোষণের প্রতীক বলে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ হয়। ব্রিটিশ বাহিনী আন্দোলন দমন করে। 1900 সালে বন্দি অবস্থায় রাঁচি জেলে বিরসার মৃত্যু হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আন্দোলন | উলগুলান বা বিরাট আলোড়ন |
| সময় | 1899–1900 |
| নেতা | বিরসা মুন্ডা |
| উপাধি | ধরতি আবা |
| দাবি | ভূমির প্রথাগত অধিকার, দিকুমুক্ত সমাজ ও স্বশাসন |
| পরবর্তী ফল | ছোটনাগপুরে ভূমিহস্তান্তর নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরদার; 1908 সালের আইন |
খুঁটকাট্টি অধিকার
মুন্ডা সমাজে খুঁটকাট্টি বলতে গোত্রের পূর্বপুরুষেরা বন পরিষ্কার করে যে যৌথ ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাকে বোঝায়। জমিদার, ঠিকাদার ও নতুন রায়তের প্রবেশে এই ব্যবস্থা দুর্বল হয়। ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন, 1908 আদিবাসী জমি অ-আদিবাসীর হাতে হস্তান্তরে কিছু নিয়ন্ত্রণ আনে, যদিও শোষণ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ
| আন্দোলন | সময় | অঞ্চল ও বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| ভিল প্রতিরোধ | উনিশ শতকের বিভিন্ন পর্যায় | পশ্চিম ভারত; রাজস্ব, দুর্ভিক্ষ ও প্রশাসনিক অনুপ্রবেশ |
| কোল বিদ্রোহ | 1831–1832 | ছোটনাগপুর; জমি হস্তান্তর ও বহিরাগত শোষণ |
| খোন্ড প্রতিরোধ | 1830–1860-এর দশক | ওড়িশা; প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও বন–ভূমির নিয়ন্ত্রণ |
| সাঁওতাল হুল | 1855–1856 | দামিন-ই-কোহ; দিকু ও কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে |
| রাম্পা বিদ্রোহ | 1879–1880 এবং 1922–1924 | গোদাবরী পাহাড়; বনবিধি, শ্রম ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে |
| উলগুলান | 1899–1900 | ছোটনাগপুর; বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ভূমি ও স্বশাসনের দাবি |
| তানা ভগত আন্দোলন | 1914 থেকে | ওরাঁও সমাজ; ধর্মীয় সংস্কার, খাজনা বিরোধ ও পরে অসহযোগের সংযোগ |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য
| বিষয় | সঠিক ব্যাখ্যা |
|---|---|
| আদিবাসী সমাজ | একরূপ, বিচ্ছিন্ন বা অপরিবর্তিত ছিল না |
| জুমচাষ | পরিকল্পনাহীন ধ্বংস নয়; বিশ্রামচক্রসহ কৃষিপদ্ধতি |
| বন | শুধু কাঠের ভাণ্ডার নয়; জীবিকা, সংস্কৃতি ও ধর্মের ক্ষেত্র |
| ‘অনাবাদি’ জমি | প্রায়ই চারণ, সংগ্রহ বা জুমের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ সম্পদ |
| দিকু | সব অ-আদিবাসীর সাধারণ নাম নয়; শোষক বহিরাগতের রাজনৈতিক অর্থ বহন করে |
| সাঁওতাল হুল | 1855–1856; 1857 সালের বিদ্রোহের সঙ্গে এক নয় |
| উলগুলান | 1899–1900; বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে |
| গোন্ড ও আহোম | ইতিহাসহীন গোষ্ঠী নয়; শক্তিশালী রাজ্য নির্মাণ করেছিলেন |
| বন সংরক্ষণ | পরিবেশরক্ষা একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না; কাঠ ও রাজস্বও প্রধান |
| শ্রমস্থানান্তর | সব সময় স্বেচ্ছামূলক নয়; ঋণ, জমিহানি ও চুক্তির চাপ ছিল |
| ধর্মীয় আন্দোলন | আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি ভূমি, মর্যাদা ও রাজনৈতিক দাবি বহন করত |
PRACTICE QUIZ
Take a Test from This Topic
19. ঔপনিবেশিকতা ও আদিবাসী সমাজ — MCQ Test
31 questions
OWNER QUIZ TOOL
Add a test to this topic
The quiz form will automatically select this topic and its primary category.
➕ Add a Quiz for This Topic