TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

গ্রামীণ জীবন ও সমাজ

ভূমি, কৃষি, সেচ, গ্রামীণ স্তরভেদ, নারী ও কারিগর, মুঘল রাজস্ব, ঔপনিবেশিক বন্দোবস্ত, বাণিজ্যিক কৃষি ও কৃষক প্রতিরোধের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

গ্রামীণ জীবন ও সমাজ

ভারতের ইতিহাসে গ্রাম শুধু কৃষি (Agriculture) উৎপাদনের স্থান নয়; এটি পরিবার, জাতি–সম্প্রদায়, পেশা, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের রাজস্বব্যবস্থার মিলনক্ষেত্র। অঞ্চল, কাল, মাটি, জল, ফসল ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের পার্থক্যে গ্রামীণ সমাজের রূপ বদলেছে। কোথাও স্বয়ংসম্পূর্ণতার কিছু লক্ষণ থাকলেও কোনো গ্রাম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল না—হাট, বন্দর, তীর্থ, শহর, জমিদার, মহাজন ও রাষ্ট্রের সঙ্গে তার নিয়মিত সম্পর্ক ছিল।

গ্রামীণ সমাজের প্রধান উপাদান

ভূমি ও জল → কৃষি ও পশুপালন → পরিবার ও শ্রম → উদ্বৃত্ত উৎপাদন → খাজনা ও বাজার → কারিগর ও পরিষেবা → সামাজিক সম্পর্ক ও ক্ষমতা

উপাদানঐতিহাসিক গুরুত্ব
কৃষিজমিজীবিকা, সম্পদ ও মর্যাদার প্রধান ভিত্তি
জলসেচ, পানীয়, পশুপালন ও বসতির অবস্থান নির্ধারণ
পরিবারউৎপাদন, ভোগ, উত্তরাধিকার ও শ্রমসংগঠনের একক
জাতি ও পেশাশ্রমবিভাজন ও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত
গ্রামপ্রধান ও পঞ্চায়েতস্থানীয় বিরোধ, সম্পদ ও রাজস্বসংক্রান্ত কাজে ভূমিকা
হাট ও বাজারশস্য, কারুশিল্প, ঋণ ও বাইরের জগতের সংযোগ
রাষ্ট্রভূমিরাজস্ব, আইন, জরিপ ও প্রশাসনের মাধ্যমে উপস্থিত

ভূমির অধিকার: একাধিক দাবির সহাবস্থান

ঐতিহাসিক ভারতে একই জমির ওপর বিভিন্ন স্তরের অধিকার থাকতে পারত। কৃষক চাষ করতেন, গ্রামসমাজ কিছু সাধারণ সম্পদ ব্যবহার করত, জমিদার বা মধ্যস্বত্বভোগী রাজস্ব আদায় করতেন এবং রাজা বা রাষ্ট্র সর্বোচ্চ কর দাবি করত। আধুনিক ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণা দিয়ে এই সমস্ত সম্পর্ক পুরোপুরি বোঝা যায় না।

পক্ষসাধারণ দাবি বা ভূমিকা
চাষি বা রায়তদখল, চাষ, উত্তরাধিকার ও কখনও হস্তান্তরের অধিকার
গ্রামসমাজপথ, পুকুর, চর, বন ও পতিত জমির যৌথ ব্যবহার
গ্রামপ্রধানহিসাব, রাজস্ববণ্টন ও প্রশাসনিক যোগাযোগ (Communication)
জমিদাররাজস্ব আদায় এবং কখনও স্থানীয় বিচার ও সশস্ত্র কর্তৃত্ব
রাষ্ট্রভূমিরাজস্ব ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের দাবি
মন্দির, মঠ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানদানপ্রাপ্ত জমির আয় ও ব্যবস্থাপনা

ঋণ ও মহাজন

বীজ, বলদ, খাজনা, বিবাহ বা দুর্ভিক্ষের সময় কৃষকের ঋণ লাগত। মহাজন, বণিক, জমিদার অথবা সমৃদ্ধ কৃষক ঋণ দিতেন। ঋণ উৎপাদন চালু রাখতে সাহায্য করলেও উচ্চ সুদ, বন্ধক ও অনাদায়ে জমি হারানোর ঝুঁকি তৈরি করত। শস্যের দাম পড়ে গেলে অথবা ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ত।

ঔপনিবেশিক ভূমিরাজস্বের পরিবর্তন

কোম্পানি শাসন প্রতিষ্ঠার পরে রাজস্বকে নির্দিষ্ট, নিয়মিত ও নগদ আয়ে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়। জরিপ, লিখিত নথি ও আদালত ভূমির অধিকারকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। তিনটি পরিচিত বন্দোবস্ত ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি।

ব্যবস্থাপ্রধান অঞ্চলকার সঙ্গে বন্দোবস্তবৈশিষ্ট্য
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তবাংলা, বিহার ও ওড়িশার অংশজমিদার1793 সালে রাজস্ব স্থায়ী; নির্দিষ্ট সময়ে না দিলে জমিদারি নিলামের ঝুঁকি
রায়তওয়ারিমাদ্রাজ ও বোম্বে প্রেসিডেন্সির বড় অংশপৃথক রায়তজমি জরিপ করে কৃষকের সঙ্গে সরাসরি রাজস্ব বন্দোবস্ত
মহলওয়ারিউত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, পাঞ্জাবের অংশ ও মধ্য ভারতগ্রাম বা মহলগ্রামের সম্মিলিত এককের ওপর রাজস্ব; সময়ে সময়ে পুনর্নির্ধারণ

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও গ্রামীণ বাংলা

1793 সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। কোম্পানির কাছে জমিদারের দেওয়া রাজস্ব স্থায়ী করা হলেও জমিদার কৃষকের কাছ থেকে কত খাজনা নেবেন তা প্রথমে একইভাবে স্থির ছিল না। অনেক জমিদারি নিলামে যায় এবং নতুন ক্রেতা, মধ্যস্বত্বভোগী ও জোতদারের উত্থান ঘটে।

পক্ষপ্রভাব
কোম্পানিনির্দিষ্ট রাজস্ব পাওয়ার আশা; প্রথমদিকে বকেয়ার সমস্যা
জমিদারভূমির ওপর নতুন আইনি মর্যাদা; রাজস্ব না দিলে নিলাম
জোতদারগ্রামে জমি, ঋণ, বাজার ও প্রভাবের শক্তিশালী স্তর
রায়তখাজনা, ঋণ ও উচ্ছেদের চাপ; পরে কিছু আইনি অধিকার স্বীকৃত
অধীন রায়তজোতদার বা অন্য মধ্যস্তরের অধীনে চাষ

রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি

থমাস মনরোর সঙ্গে যুক্ত রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় কোম্পানি পৃথক চাষিকে ভূমির অধিকারী হিসেবে ধরে সরাসরি রাজস্ব ধার্য করত। কিন্তু দাবি বেশি হলে বা ফলন কমলে রায়ত ঋণে পড়তেন। মহলওয়ারি বন্দোবস্তে একটি গ্রাম বা রাজস্ব একক সম্মিলিতভাবে দায়ী ছিল; গ্রামপ্রধান বা প্রভাবশালী ব্যক্তি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

বাণিজ্যিক কৃষি (Commercial Farming)

ঔপনিবেশিক বাণিজ্যে ভারতীয় কৃষিকে বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। নীল, আফিম, তুলা, পাট, চা ও আখের মতো ফসলের উৎপাদন বাড়ে। সব ক্ষেত্রেই পদ্ধতি এক ছিল না—কোথাও বাগান, কোথাও চুক্তি, কোথাও অগ্রিম বা রাষ্ট্রের একচেটিয়া ক্রয় ব্যবহৃত হয়।

ফসলপ্রধান অঞ্চল ও ব্যবস্থা
নীলবাংলা ও বিহার; অগ্রিম দিয়ে রায়তের জমিতে চাষ করানো
আফিমবিহার ও উত্তরপ্রদেশ; কোম্পানির নিয়ন্ত্রিত চুক্তি ও ক্রয়
তুলাপশ্চিম ও মধ্য ভারত; ব্রিটিশ শিল্প ও বিশ্ববাজারের চাহিদা
পাটপূর্ববঙ্গ; কলকাতার পাটকল ও রপ্তানি
চাঅসম ও দার্জিলিং; বৃহৎ বাগান ও চুক্তিবদ্ধ শ্রম

নীলচাষ ও নীলবিদ্রোহ

নীলকররা রায়তকে অগ্রিম বা দাদন দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করত। নীল খাদ্যশস্যের জমি দখল করত, মাটির উর্বরতা কমাতে পারত এবং কৃষক ন্যায্য দাম পেতেন না। 1859–1860 সালে বাংলায় ব্যাপক নীলবিদ্রোহ ঘটে। কৃষকেরা নীল বোনা বন্ধ করেন; জমিদারের একাংশ, সংবাদপত্র, শিক্ষিত সমাজ এবং দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ আন্দোলনের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে। নীল কমিশন তদন্তের পরে রায়তকে জোর করে নীল চাষ করানো অনুচিত বলে স্বীকার করে।

কৃষক ও আদিবাসী প্রতিরোধ

আন্দোলনসময়প্রধান কারণ
সন্ন্যাসী–ফকির প্রতিরোধঅষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগকোম্পানির রাজস্ব, দুর্ভিক্ষ ও চলাচলে বাধা
কোল বিদ্রোহ1831–1832বহিরাগত জমিদার, মহাজন ও প্রশাসনের অনুপ্রবেশ
সাঁওতাল হুল1855–1856মহাজন, জমিদার, পুলিশ ও ঔপনিবেশিক শোষণ
নীলবিদ্রোহ1859–1860জবরদস্তি নীলচাষ ও কম দাম
পাবনা কৃষক আন্দোলন1870-এর দশকবেআইনি খাজনা বৃদ্ধি ও জমিদারি চাপ
দাক্ষিণাত্য কৃষক বিদ্রোহ1875ঋণ, মহাজনি দলিল ও তুলার দামপতন
মোপলা কৃষক আন্দোলনঊনবিংশ–বিংশ শতকের বিভিন্ন পর্যায়মালাবারে ভূমিসম্পর্ক, খাজনা ও ধর্মীয়–রাজনৈতিক টানাপোড়েন
বারদৌলি সত্যাগ্রহ1928ভূমিরাজস্ব বৃদ্ধি

এই আন্দোলনগুলিকে এক কারণে ব্যাখ্যা করা যায় না। ভূমি, ঋণ, বন, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং ঔপনিবেশিক আইন বিভিন্ন মাত্রায় কাজ করেছিল।

দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যনিরাপত্তা

খরা বা বন্যা দুর্ভিক্ষের সূচনা করতে পারলেও খাদ্যের বণ্টন, ক্রয়ক্ষমতা, রাজস্বনীতি, যুদ্ধ, পরিবহন ও বাজারের আচরণ তার ব্যাপ্তি নির্ধারণ করত। 1770 সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ এবং ঊনবিংশ শতকের বিভিন্ন দুর্ভিক্ষে বিপুল প্রাণহানি ঘটে। খাদ্যের অভাবের পাশাপাশি মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, শস্য রপ্তানি এবং দেরিতে ত্রাণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক ব্যাখ্যা
গ্রামবিচ্ছিন্ন ও সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ একক নয়
জমিদারসর্বত্র আধুনিক অর্থে জমির একমাত্র মালিক ছিলেন না
রায়তচাষি; তার অধিকার অঞ্চল ও বন্দোবস্তভেদে বদলাত
জাব্‌তমুঘল রাজস্ব নির্ধারণের একটি পদ্ধতি; সমগ্র সাম্রাজ্যে একমাত্র পদ্ধতি নয়
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকোম্পানির জমিদারি রাজস্ব স্থায়ী; কৃষকের খাজনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী নয়
রায়তওয়ারিমধ্যস্বত্ব সম্পূর্ণ দূর করে কৃষককে চাপমুক্ত করেনি
মহলওয়ারিগ্রাম বা মহল ছিল রাজস্ব একক; ব্যক্তিগত সমতার ব্যবস্থা নয়
বাণিজ্যিক কৃষিশুধু ঔপনিবেশিক যুগে শুরু নয়, তবে সেই যুগে বিশ্ববাজারের নিয়ন্ত্রণ গভীর হয়
নারীশ্রমকৃষির অপরিহার্য অংশ, যদিও নথিতে প্রায়ই অদৃশ্য
সাধারণ সম্পদ‘খালি জমি’ নয়; দরিদ্র ও পশুপালকের জীবিকার ভিত্তি
কৃষক আন্দোলনকেবল অর্থনৈতিক নয়; সামাজিক, পরিবেশগত ও রাজনৈতিক কারণও ছিল
দুর্ভিক্ষশুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়; বণ্টন, রাজস্ব ও ক্রয়ক্ষমতাও নির্ধারক

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

18. গ্রামীণ জীবন ও সমাজ — MCQ Test
33 questions

Start quiz →