TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Weekly Mock Tests2 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - Geography (ভূগোল)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

গ্লোব

গ্লোব, পৃথিবীর অক্ষ, মেরু, অক্ষাংশ–দ্রাঘিমাংশ, তাপমণ্ডল, স্থানীয় ও প্রমাণ সময় এবং আন্তর্জাতিক তারিখরেখার বাংলা আলোচনা।

Author: Mr. Sandipan Roy, M.A., B.Ed. Last reviewed: 2026-09-25Report a correction

গ্লোব পৃথিবীর ক্ষুদ্র গোলাকার প্রতিরূপ। এতে মহাদেশ, মহাসাগর, দেশ এবং অক্ষাংশ (Latitude)–দ্রাঘিমাংশের পারস্পরিক অবস্থান পৃথিবীর প্রকৃত গোলাকার রূপের কাছাকাছি দেখানো যায়। সমতল মানচিত্রের মতো গ্লোবে সমগ্র পৃথিবী একসঙ্গে দেখা যায় না, কিন্তু আকৃতি, দিক ও দূরত্বের বিকৃতি তুলনামূলক কম থাকে।

গ্লোবের বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্যব্যাখ্যা
গোলাকার প্রতিরূপপৃথিবীর সামগ্রিক আকৃতির কাছাকাছি
নির্দিষ্ট স্কেলবাস্তব পৃথিবীকে একই অনুপাতে ছোট করা
অক্ষাংশ–দ্রাঘিমাংশ (Longitude)অবস্থান নির্ণয়ের কাল্পনিক রেখাজাল
স্থল–জল বণ্টনমহাদেশ ও মহাসাগরের আপেক্ষিক অবস্থান
ঘূর্ণনযোগ্যপৃথিবীর আবর্তনের দিক বোঝানো যায়

গ্লোবের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধাসীমাবদ্ধতা
পৃথিবীর গোলাকার রূপ দেখায়বহন ও সংরক্ষণ তুলনামূলক অসুবিধাজনক
মহাদেশ–মহাসাগরের সম্পর্ক স্পষ্টখুব ছোট এলাকার বিস্তারিত তথ্য দেখানো যায় না
মেরু ও বিষুব অঞ্চলের অবস্থান বোঝায়একই সঙ্গে পুরো পৃষ্ঠ দেখা যায় না
সমতল মানচিত্রের তুলনায় বিকৃতি কমবিষয়ভিত্তিক তথ্য দ্রুত বদলানো কঠিন

পৃথিবীর অক্ষ

উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুকে যুক্ত করে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে যাওয়া কাল্পনিক রেখাকে পৃথিবীর অক্ষ বলা হয়। পৃথিবী এই অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে। গ্লোবে যে দণ্ডের ওপর গোলকটি ঘোরে, তা পৃথিবীর কাল্পনিক অক্ষ বোঝায়।

পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের তলের সঙ্গে প্রায় 66.5° এবং কক্ষপথের তলের লম্বের সঙ্গে প্রায় 23.5° কোণ করে হেলে আছে।

মেরু

পৃথিবীর অক্ষ ভূপৃষ্ঠকে যে দুটি কাল্পনিক বিন্দুতে ছেদ করে সেগুলি উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু। উত্তর মেরু 90° উত্তর অক্ষাংশে এবং দক্ষিণ মেরু 90° দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত। মেরুতে সব দ্রাঘিমারেখা মিলিত হয়।

কাল্পনিক রেখাজাল

পৃথিবীতে অবস্থান নির্ণয়ের জন্য গ্লোব ও মানচিত্রে অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের কাল্পনিক রেখা আঁকা হয়। এই রেখাগুলির সম্মিলিত জালকে ভৌগোলিক রেখাজাল বলা হয়। বাস্তব ভূপৃষ্ঠে এগুলি আঁকা নেই।

অক্ষাংশ

বিষুবরেখার উত্তর বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলা হয়। এটি ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে প্রকাশ করা হয়। একই অক্ষাংশের স্থানগুলিকে যুক্ত করা কাল্পনিক বৃত্তকে অক্ষরেখা বা সমান্তরাল বলা হয়।

উপাদানমান
বিষুবরেখা0° অক্ষাংশ
উত্তর মেরু90° উত্তর
দক্ষিণ মেরু90° দক্ষিণ
এক ডিগ্রি অক্ষাংশের দূরত্বপ্রায় 111 কিলোমিটার

বিষুবরেখা

বিষুবরেখা পৃথিবীর বৃহত্তম অক্ষরেখা এবং একটি মহাবৃত্ত। এটি পৃথিবীকে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান দুই ভাগে ভাগ করে। বিষুবরেখা থেকে দুই মেরুর দূরত্ব সমান।

অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য

  1. অক্ষরেখাগুলি পূর্ব–পশ্চিম দিকে বিস্তৃত।
  2. সব অক্ষরেখা পরস্পর সমান্তরাল।
  3. বিষুবরেখা বৃহত্তম; মেরুর দিকে পরিধি কমতে থাকে।
  4. দুটি অক্ষরেখার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় সমান থাকে।
  5. বিষুবরেখা ছাড়া অন্য অক্ষরেখাগুলি ক্ষুদ্রবৃত্ত।
  6. অক্ষাংশের মান 0° থেকে 90° উত্তর বা দক্ষিণ পর্যন্ত।

প্রধান অক্ষরেখা

রেখাঅবস্থানগুরুত্ব
বিষুবরেখা0°পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে
কর্কটক্রান্তি রেখা23.5° উত্তরসূর্যের লম্ব রশ্মির উত্তরতম সীমা
মকরক্রান্তি রেখা23.5° দক্ষিণসূর্যের লম্ব রশ্মির দক্ষিণতম সীমা
উত্তর মেরুবৃত্ত66.5° উত্তরমেরু দিবস ও মেরু রাত্রির দক্ষিণ সীমা
দক্ষিণ মেরুবৃত্ত66.5° দক্ষিণদক্ষিণ মেরু অঞ্চলের মেরু দিবস–রাত্রির উত্তর সীমা
উত্তর মেরু90° উত্তরপৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্ত
দক্ষিণ মেরু90° দক্ষিণপৃথিবীর অক্ষের দক্ষিণ প্রান্ত

অক্ষাংশ ও সূর্যরশ্মি

বিষুব অঞ্চলে সূর্যরশ্মি তুলনামূলক খাড়াভাবে পড়ে এবং অল্প এলাকায় শক্তি কেন্দ্রীভূত হয়। মেরুর দিকে রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে, বেশি এলাকা জুড়ে ছড়ায় এবং বায়ুমণ্ডলের ভেতর দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। তাই সাধারণভাবে বিষুব অঞ্চল উষ্ণ এবং মেরু অঞ্চল শীতল।

পৃথিবীর তাপমণ্ডল

তাপমণ্ডলবিস্তারবৈশিষ্ট্য
উষ্ণমণ্ডলকর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির মধ্যেবছরে অন্তত একদিন সূর্য মাথার ওপর লম্বভাবে পড়তে পারে
উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলকর্কটক্রান্তি থেকে উত্তর মেরুবৃত্তসূর্য কখনও মাথার ওপর লম্ব হয় না; মাঝারি তাপমাত্রা
দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলমকরক্রান্তি থেকে দক্ষিণ মেরুবৃত্তমাঝারি তাপমাত্রা ও স্পষ্ট ঋতু পরিবর্তন
উত্তর হিমমণ্ডলউত্তর মেরুবৃত্ত থেকে উত্তর মেরুঅত্যন্ত তির্যক রশ্মি ও তীব্র শীত
দক্ষিণ হিমমণ্ডলদক্ষিণ মেরুবৃত্ত থেকে দক্ষিণ মেরুঅত্যন্ত তির্যক রশ্মি ও তীব্র শীত

তাপমণ্ডল অক্ষাংশভিত্তিক সাধারণ বিভাগ। উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত, বায়ু, ভূমিরূপ ও সমুদ্র থেকে দূরত্বের কারণে একই অক্ষাংশের সব স্থানের তাপমাত্রা সমান হয় না।

দ্রাঘিমাংশ

প্রধান মধ্যরেখার পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলা হয়। উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত একই দ্রাঘিমার স্থানগুলিকে যুক্ত করা অর্ধবৃত্তকে দ্রাঘিমারেখা বা মধ্যরেখা বলা হয়।

উপাদানমান
প্রধান মধ্যরেখা (Prime Meridian)0° দ্রাঘিমা
পূর্ব দ্রাঘিমা0° থেকে 180° পূর্ব
পশ্চিম দ্রাঘিমা0° থেকে 180° পশ্চিম
বিপরীত মধ্যরেখা180° দ্রাঘিমা

প্রধান মধ্যরেখা

লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের মধ্য দিয়ে যাওয়া 0° দ্রাঘিমারেখাকে প্রধান মধ্যরেখা বলা হয়। এটি পৃথিবীকে পূর্ব গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করার ভিত্তি। 1884 সালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গ্রিনিচ মধ্যরেখাকে 0° দ্রাঘিমা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

দ্রাঘিমারেখার বৈশিষ্ট্য

  1. প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত অর্ধবৃত্ত।
  2. বিপরীত দুটি দ্রাঘিমারেখা মিলে একটি মহাবৃত্ত তৈরি করে।
  3. সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
  4. বিষুবরেখায় তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব সর্বাধিক এবং মেরুতে শূন্য।
  5. তারা মেরুতে মিলিত হওয়ায় পরস্পর সমান্তরাল নয়।
  6. দ্রাঘিমার মান 0° থেকে 180° পূর্ব বা পশ্চিম পর্যন্ত।

অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের তুলনা

বৈশিষ্ট্যঅক্ষাংশদ্রাঘিমাংশ
ভিত্তিবিষুবরেখাপ্রধান মধ্যরেখা
দিকপূর্ব–পশ্চিমে বিস্তৃতউত্তর–দক্ষিণে বিস্তৃত
মাপউত্তর বা দক্ষিণপূর্ব বা পশ্চিম
আকৃতিপূর্ণ বৃত্তঅর্ধবৃত্ত
দৈর্ঘ্যবিষুব থেকে মেরুর দিকে কমেসব সমান
পারস্পরিক দূরত্বপ্রায় সমানমেরুর দিকে কমে
প্রধান ব্যবহারজলবায়ু (Climate) ও উত্তর–দক্ষিণ অবস্থানস্থানীয় সময় (Local Time) ও পূর্ব–পশ্চিম অবস্থান

স্থানাঙ্কের সাহায্যে অবস্থান

একটি অক্ষাংশ ও একটি দ্রাঘিমাংশের ছেদবিন্দু কোনো স্থানের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান বোঝায়। শুধু ‘22° উত্তর’ বললে একটি সম্পূর্ণ অক্ষরেখা বোঝায়; নির্দিষ্ট স্থানের জন্য দ্রাঘিমাংশও দরকার।

উদাহরণ: কলকাতার অবস্থান প্রায় 22.6° উত্তর অক্ষাংশ এবং 88.4° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

মহাবৃত্ত ও ক্ষুদ্রবৃত্ত

যে বৃত্তের তল পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে যায় এবং পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে তাকে মহাবৃত্ত বলা হয়। বিষুবরেখা একটি মহাবৃত্ত। বিপরীত দুটি দ্রাঘিমারেখাও একত্রে মহাবৃত্ত গঠন করে। বিষুবরেখা ছাড়া অন্য অক্ষরেখাগুলি ক্ষুদ্রবৃত্ত।

মহাবৃত্ত পথ

গোলকের পৃষ্ঠে দুটি স্থানের মধ্যে ক্ষুদ্রতম পথ মহাবৃত্তের অংশ। দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ও জাহাজ চলাচলে মহাবৃত্ত পথ গুরুত্বপূর্ণ। সমতল মানচিত্রে এই পথ অনেক সময় বাঁকা দেখা যায়।

স্থানীয় সময়

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করায় পূর্বের স্থানে সূর্য আগে মধ্যাহ্নরেখায় পৌঁছায়। তাই পূর্বের স্থান পশ্চিমের স্থানের তুলনায় সময়ে এগিয়ে থাকে। কোনো স্থানে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়কে স্থানীয় সময় বলা হয়।

দ্রাঘিমা ও সময়ের সম্পর্ক

পৃথিবী 24 ঘণ্টায় 360° আবর্তন করে।

360° ÷ 24 ঘণ্টা = প্রতি ঘণ্টায় 15°

24 ঘণ্টা × 60 মিনিট ÷ 360° = প্রতি 1° দ্রাঘিমায় 4 মিনিট

দ্রাঘিমার পার্থক্যসময়ের পার্থক্য
1°4 মিনিট
15°1 ঘণ্টা
30°2 ঘণ্টা
180°12 ঘণ্টা

সময় নির্ণয়ের নিয়ম

  1. দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে।
  2. একই গোলার্ধে হলে বড় মান থেকে ছোট মান বিয়োগ করতে হবে।
  3. একটি পূর্ব ও অন্যটি পশ্চিমে হলে দুই মান যোগ করতে হবে।
  4. প্রতি ডিগ্রির জন্য 4 মিনিট ধরে সময়ের পার্থক্য বের করতে হবে।
  5. পূর্বের স্থান সময়ে এগিয়ে; পশ্চিমের স্থান সময়ে পিছিয়ে।

উদাহরণ: 75° পূর্বে দুপুর 12টা হলে 90° পূর্বের স্থান 15° পূর্বে অবস্থিত। সময়ের পার্থক্য 15 × 4 = 60 মিনিট। তাই সেখানে সময় দুপুর 1টা।

প্রমাণ সময়ের প্রয়োজন

প্রতিটি দ্রাঘিমার স্থানীয় সময় ব্যবহার করলে একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা সময় হত। প্রশাসন, রেল, বিমান, যোগাযোগ (Communication) ও দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য একটি দেশ বা অঞ্চল নির্দিষ্ট মধ্যরেখার স্থানীয় সময়কে প্রমাণ সময় হিসেবে গ্রহণ করে। বড় দেশ একাধিক প্রমাণ সময় ব্যবহার করতে পারে।

ভারতের প্রমাণ সময়

ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমা। এটি উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের কাছ দিয়ে গেছে। এই মধ্যরেখার স্থানীয় সময় সমগ্র দেশে ভারতীয় প্রমাণ সময় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সমন্বিত বিশ্বসময়ের চেয়ে 5 ঘণ্টা 30 মিনিট এগিয়ে।

বিষয়তথ্য
ভারতের প্রমাণ মধ্যরেখা82°30′ পূর্ব
নিকটবর্তী স্থানমির্জাপুর, উত্তরপ্রদেশ
বিশ্বসময়ের পার্থক্য5 ঘণ্টা 30 মিনিট এগিয়ে
ব্যবহারসমগ্র ভারতের সরকারি সময়

ভারতের পূর্ব–পশ্চিম সময়ের পার্থক্য

ভারতের পূর্বতম ও পশ্চিমতম অংশের দ্রাঘিমার পার্থক্য প্রায় 29°। স্থানীয় সময়ের পার্থক্য প্রায় 116 মিনিট বা প্রায় 2 ঘণ্টা। তাই অরুণাচল প্রদেশে সূর্য গুজরাটের তুলনায় অনেক আগে ওঠে; তবু প্রশাসনিক সুবিধার জন্য উভয় স্থানে একই প্রমাণ সময় ব্যবহৃত হয়।

সময়মণ্ডল

পৃথিবীকে সাধারণভাবে 24টি সময়মণ্ডলে ভাগ করা হয়, প্রতিটি প্রায় 15° দ্রাঘিমা বিস্তৃত। বাস্তবে দেশের রাজনৈতিক সীমা ও প্রশাসনিক সুবিধার কারণে সময়মণ্ডলের সীমানা সরল দ্রাঘিমারেখা অনুসরণ করে না। কিছু দেশ পূর্ণ ঘণ্টার বদলে আধঘণ্টা বা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের পার্থক্য ব্যবহার করে।

সমন্বিত বিশ্বসময়

আধুনিক আন্তর্জাতিক সময়ের ভিত্তি হল পরমাণু (Atom) ঘড়িনির্ভর সমন্বিত বিশ্বসময়। গ্রিনিচের 0° দ্রাঘিমার সময়ের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। বিভিন্ন দেশের সময়কে এর চেয়ে কত ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে তা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক তারিখরেখা

180° দ্রাঘিমার কাছাকাছি কাল্পনিক রেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বলা হয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ ও দেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুই তারিখে ভাগ না করতে বিভিন্ন স্থানে পূর্ব বা পশ্চিমে বেঁকে গেছে। এটি সম্পূর্ণ সরল রেখা নয় এবং 180° দ্রাঘিমার সঙ্গে সর্বত্র এক নয়।

তারিখরেখা অতিক্রমের নিয়ম

যাত্রার দিকতারিখের পরিবর্তন
পশ্চিম থেকে পূর্বেএক দিন বিয়োগ করতে হয়
পূর্ব থেকে পশ্চিমেএক দিন যোগ করতে হয়

উদাহরণ: এশিয়া থেকে আমেরিকার দিকে পূর্বে তারিখরেখা পার হলে ক্যালেন্ডারে এক দিন পিছিয়ে যেতে হয়। আমেরিকা থেকে এশিয়ার দিকে পশ্চিমে পার হলে এক দিন যোগ হয়।

মানচিত্রের স্কেল ও গ্লোবের স্কেল

গ্লোব নির্দিষ্ট অনুপাতে পুরো পৃথিবীকে ছোট করে। গ্লোবের পরিধি ও বাস্তব পৃথিবীর পরিধির অনুপাতই তার স্কেল। খুব ছোট গ্লোবে দেশ, নদী বা শহরের বিস্তারিত দেখানো সম্ভব নয়। বৃহৎ গ্লোব বেশি বিস্তারিত হলেও বহন করা কঠিন।

গ্লোব ও মানচিত্রের তুলনা

বিষয়গ্লোবমানচিত্র
রূপগোলাকারসমতল
এলাকাসাধারণত সমগ্র পৃথিবীপৃথিবী, মহাদেশ, দেশ বা ছোট অঞ্চল
বিকৃতিতুলনামূলক কমঅভিক্ষেপভেদে আকৃতি, ক্ষেত্রফল (Area) বা দূরত্বে বিকৃতি
বিস্তারিতসীমিতবড় স্কেলে অনেক বিস্তারিত
ব্যবহারসামগ্রিক অবস্থান ও গোলাকার সম্পর্কপরিকল্পনা, পথ, বিষয়ভিত্তিক তথ্য ও স্থানীয় অধ্যয়ন
বহনতুলনামূলক কঠিনসহজ

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
অক্ষউত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে যুক্ত করা কাল্পনিক রেখা
অক্ষের হেলনকক্ষপথের তলের সঙ্গে 66.5°; লম্বের সঙ্গে 23.5°
বিষুবরেখা0° অক্ষাংশ এবং বৃহত্তম অক্ষরেখা
প্রধান মধ্যরেখা0° দ্রাঘিমা; গ্রিনিচের মধ্য দিয়ে যায়
অক্ষরেখাপরস্পর সমান্তরাল; মেরুর দিকে ছোট হয়
দ্রাঘিমারেখাসমান দৈর্ঘ্যের অর্ধবৃত্ত; মেরুতে মিলিত হয়
অক্ষাংশবিষুবরেখার উত্তর বা দক্ষিণের কৌণিক দূরত্ব
দ্রাঘিমাংশপ্রধান মধ্যরেখার পূর্ব বা পশ্চিমের কৌণিক দূরত্ব
তাপমণ্ডলঅক্ষাংশভিত্তিক সাধারণ বিভাগ; সব স্থানের প্রকৃত তাপমাত্রা এক নয়
স্থানীয় সময়সূর্যের অবস্থান ও দ্রাঘিমার ওপর নির্ভরশীল
প্রমাণ সময়প্রশাসনিক সুবিধার জন্য নির্বাচিত মধ্যরেখার সময়
1° দ্রাঘিমা4 মিনিট সময়ের পার্থক্য
ভারতীয় প্রমাণ সময়82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা180°-এর কাছাকাছি; রাজনৈতিক কারণে বাঁকানো
মহাবৃত্তপৃথিবীকে সমান দুই গোলার্ধে ভাগ করে

স্থানীয় সৌরসময় আর ঘড়ির সময় আলাদা

75° পূর্ব দ্রাঘিমায় স্থানীয় সৌরসময় দুপুর 12টা হলে 90° পূর্বে তা দুপুর 1টা: পার্থক্য 15° × 4 মিনিট = 60 মিনিট। কিন্তু দুটি স্থান একই প্রশাসনিক সময়মণ্ডলে থাকলে ঘড়িতে একই প্রমাণ সময় দেখাতে পারে। তাই প্রতিটি অঙ্কে “স্থানীয় সৌরসময়” না “প্রমাণ সময়” কোনটি চাওয়া হয়েছে লিখুন।

মডেল-গ্লোবে বিষুবরেখায় ও মেরুর কাছে দুটি সমান দ্রাঘিমার পার্থক্য দেখান। কৌণিক পার্থক্য একই হলেও ভূপৃষ্ঠে পূর্ব–পশ্চিম দূরত্ব একই নয়। গোলককে বাস্তব পৃথিবীর হুবহু আকার ও পৃষ্ঠের সব বিস্তারিত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করবেন না; মডেলের সুবিধা ও সীমা দুটিই বলুন।

উৎস ও ব্যবহারসীমা

CSIR–NPL: Indian Standard Time and time dissemination — ভারতের প্রমাণ সময়ের প্রামাণিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয়; স্থানীয় সৌরসময়ের অঙ্কটি নিজস্ব উদাহরণ।

এই পেজটি শেয়ার করুন