TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - Geography (ভূগোল)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

পরিবেশ—প্রাকৃতিক ও মানব পরিবেশ

প্রাকৃতিক, মানব ও মানবনির্মিত পরিবেশ, পৃথিবীর মণ্ডল, বাস্তুতন্ত্র, মানুষ–পরিবেশ সম্পর্ক, অবক্ষয়, সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

পরিবেশ—প্রাকৃতিক ও মানব পরিবেশ

জীবকে ঘিরে থাকা এবং তার জীবনকে প্রভাবিত করা সমস্ত প্রাকৃতিক, মানবীয় ও মানবনির্মিত উপাদানের সমষ্টি হল পরিবেশ। ভূমি, জল, বায়ু, উদ্ভিদ ও প্রাণীর পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, বসতি, রাস্তা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিও পরিবেশের অংশ। মানুষ পরিবেশের ওপর নির্ভর করে, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলে এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সাহায্যে তাকে পরিবর্তনও করে।

পরিবেশের প্রধান উপাদান

পরিবেশের ধরনউপাদান
প্রাকৃতিক পরিবেশভূমি, জল, বায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণী
মানব পরিবেশব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, ধর্ম, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতি
মানবনির্মিত পরিবেশবাড়ি, রাস্তা, সেতু, বাঁধ, ক্ষেত, কারখানা ও নগর

এই বিভাগগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। একটি বাঁধ মানবনির্মিত হলেও নদী, কৃষি (Agriculture), বসতি, জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) ও মানুষের জীবিকায় পরিবর্তন আনে।

পরিবেশের জীব ও জড় উপাদান

উপাদানঅর্থউদাহরণ
জীবজজীবিত উপাদানউদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও মানুষ
জড়অজীব উপাদানআলো, তাপ, বায়ু, জল, মাটি ও খনিজ

জীবজ উপাদান খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের জন্য জড় উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। আবার জীব মাটি তৈরি, অক্সিজেন উৎপাদন, পচন ও পুষ্টিচক্রে ভূমিকা রাখে।

পৃথিবীর চারটি প্রধান মণ্ডল

শিলামণ্ডল + জলমণ্ডল (Hydrosphere) + বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) + জীবমণ্ডল (Biosphere) → পৃথিবীর সমন্বিত পরিবেশ

মণ্ডলপরিচয়
শিলামণ্ডলপৃথিবীর কঠিন বহির্ভাগ; শিলা, মাটি ও ভূমিরূপ
জলমণ্ডলমহাসাগর, নদী, হ্রদ, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ জল ও জলীয় বাষ্প
বায়ুমণ্ডলপৃথিবীকে ঘিরে থাকা গ্যাসের আবরণ
জীবমণ্ডলযেখানে স্থল, জল ও বায়ুর সংযোগে জীবন সম্ভব

শিলামণ্ডল

শিলামণ্ডল পৃথিবীর ভূত্বক এবং উপরের কঠিন অংশ নিয়ে গঠিত। মহাদেশ, মহাসাগরীয় তল, পাহাড়, মালভূমি ও সমভূমি এর অংশ। কৃষি, বসতি, খনিজ, বন এবং পরিবহণের ভিত্তি হিসেবে শিলামণ্ডল মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান ভূমিরূপ

ভূমিরূপবৈশিষ্ট্যসাধারণ ব্যবহার
পাহাড়উঁচু, খাড়া ঢাল ও অমসৃণ ভূমিবন, পশুপালন, ধাপচাষ, পর্যটন ও জলবিদ্যুৎ
মালভূমিচারপাশের তুলনায় উঁচু, ওপরের অংশ তুলনামূলক সমতলখনিজ, পশুচারণ, কৃষি ও জলপ্রপাত
সমভূমিনিচু ও সমতল বা মৃদু ঢালকৃষি, ঘন বসতি, শিল্প ও পরিবহণ (Transport)

জলমণ্ডল

পৃথিবীর সমস্ত জল জলমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় 71 শতাংশ জলাবৃত হলেও মোট জলের প্রায় 97 শতাংশ লবণাক্ত মহাসাগরীয় জল। মিষ্টি জলের অধিকাংশ হিমবাহ ও ভূগর্ভে সঞ্চিত; নদী ও হ্রদে সহজলভ্য অংশ খুব কম।

জলের ভাণ্ডারসাধারণ বৈশিষ্ট্য
মহাসাগরবৃহত্তম লবণাক্ত জলের ভাণ্ডার
হিমবাহ ও বরফস্তরমিষ্টি জলের বৃহৎ সঞ্চয়
ভূগর্ভস্থ জলশিলা ও মাটির ফাঁকে সঞ্চিত
নদী ও হ্রদসহজলভ্য মিষ্টি জলের ছোট অংশ
বায়ুমণ্ডলজলীয় বাষ্প, মেঘ ও বৃষ্টির উৎস

বায়ুমণ্ডল

বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর মহাকর্ষে ধরে রাখা গ্যাসের আবরণ। এতে প্রায় 78 শতাংশ নাইট্রোজেন, 21 শতাংশ অক্সিজেন এবং অল্প পরিমাণ আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস আছে। এটি শ্বাসের গ্যাস, আবহাওয়া (Weather), তাপমাত্রার ভারসাম্য এবং ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

জীবমণ্ডল

শিলামণ্ডল, জলমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের যে সংকীর্ণ অংশে জীব বাস করে তাকে জীবমণ্ডল বলা হয়। গভীর সমুদ্র থেকে নিম্ন বায়ুমণ্ডল এবং ভূত্বকের অল্প গভীরতা পর্যন্ত জীবন পাওয়া যায়। জীবমণ্ডলের সীমানা স্থির ও সমান নয়; জীবের সহনশীলতা ও পরিবেশগত অবস্থার ওপর তা নির্ভর করে।

বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)

একটি নির্দিষ্ট স্থানের জীবজ ও জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক ক্রিয়ায় গঠিত কার্যকরী ব্যবস্থাকে বাস্তুতন্ত্র বলা হয়। একটি পুকুর, বন, তৃণভূমি, মরুভূমি অথবা কৃষিক্ষেত্র বাস্তুতন্ত্র হতে পারে।

সূর্যশক্তি → উৎপাদক → খাদক → বিয়োজক → মাটি ও জলে পুষ্টি → উৎপাদক

বাস্তুতন্ত্রের প্রধান অংশ

অংশভূমিকাউদাহরণ
উৎপাদকসূর্যালোক ব্যবহার করে খাদ্য তৈরিসবুজ উদ্ভিদ ও শৈবাল
প্রথম স্তরের খাদকউদ্ভিদ খায়হরিণ, খরগোশ, ঘাসফড়িং
দ্বিতীয় ও উচ্চস্তরের খাদকঅন্যান্য প্রাণী খায়ব্যাঙ, সাপ, বাঘ
বিয়োজকমৃতদেহ ও বর্জ্য ভেঙে পুষ্টি ফিরিয়ে দেয়ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক
জড় পরিবেশআলো, জল, বায়ু, মাটি ও তাপ সরবরাহপুকুরের জল ও তলদেশের মাটি

খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল

এক জীব থেকে অন্য জীবে খাদ্য ও শক্তি প্রবাহের ধারাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলা হয়। বাস্তবে অধিকাংশ জীব একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ; সংযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খলগুলি খাদ্যজাল গঠন করে।

ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল

খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে শক্তির বড় অংশ তাপ ও জীবনের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই উচ্চ খাদ্যস্তরে জীবের সংখ্যা ও উপলভ্য শক্তি সাধারণত কম।

প্রাকৃতিক পরিবেশে আন্তঃনির্ভরতা

পরিবর্তনসম্ভাব্য প্রভাব
বন উজাড়মাটিক্ষয়, জলপ্রবাহ বৃদ্ধি, আবাসস্থল নষ্ট ও বৃষ্টিচক্রে পরিবর্তন
নদীর প্রবাহ বাধামাছের চলাচল, পলি, কৃষি ও বদ্বীপে প্রভাব
শিকারি প্রাণী কমে যাওয়াতৃণভোজীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদে চাপ
জলাভূমি ভরাটবন্যা নিয়ন্ত্রণ, মাছ ও পাখির আবাস কমে যাওয়া
দূষণজীবের স্বাস্থ্য, খাদ্যজাল ও পানীয় জলে প্রভাব

মানব পরিবেশ

মানুষ, পরিবার, সমাজ, ভাষা, ধর্ম, শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক আচরণ মানব পরিবেশ গঠন করে। মানুষ দলবদ্ধভাবে সম্পদ ব্যবহার, শ্রমবিভাগ, নিয়ম, জ্ঞান ও প্রযুক্তি তৈরি করে। তাই একই প্রাকৃতিক পরিবেশে ভিন্ন সমাজের জীবনধারা আলাদা হতে পারে।

মানবনির্মিত পরিবেশ

মানুষ প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তন করে ক্ষেত, বাঁধ, রাস্তা, বসতি, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলে। মানবনির্মিত পরিবেশও পরে মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে; যেমন উন্নত সড়ক বাজার ও বসতির বিস্তার ঘটাতে পারে।

মানুষ–পরিবেশ সম্পর্ক

মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক তিনটি প্রধান প্রক্রিয়ায় বোঝা যায়—নির্ভরতা, অভিযোজন ও পরিবর্তন।

প্রক্রিয়াব্যাখ্যাউদাহরণ
নির্ভরতাপ্রকৃতি থেকে জল, খাদ্য, কাঁচামাল ও শক্তি নেওয়ানদী থেকে সেচের জল
অভিযোজনপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে জীবনযাপনপাহাড়ে ধাপচাষ, মরুতে মোটা দেওয়ালের ঘর
পরিবর্তনপ্রযুক্তি দিয়ে পরিবেশের রূপ বদলানোবাঁধ, সুড়ঙ্গ, নগর ও সেচখাল

পরিবেশ নির্ধারণবাদ ও সম্ভাবনাবাদ

দৃষ্টিভঙ্গিধারণা
পরিবেশ নির্ধারণবাদপ্রকৃতি মানুষের জীবন ও সমাজকে সরাসরি নির্ধারণ করে—এমন অতিরঞ্জিত মত
সম্ভাবনাবাদপ্রকৃতি সুযোগ ও সীমা দেয়; মানুষ জ্ঞান, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি দিয়ে নির্বাচন করে
পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গিমানুষ ও পরিবেশ উভয়ই পরস্পরকে পরিবর্তিত করে

একই জলবায়ু (Climate) অঞ্চলে প্রযুক্তি, সম্পদ, শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের পার্থক্যে ভিন্ন অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে। তাই প্রকৃতিকে মানব উন্নয়নের একমাত্র নিয়ামক বলা যায় না।

পরিবেশে অভিযোজনের উদাহরণ

পরিবেশঅভিযোজন
উষ্ণ মরুভূমিঢিলেঢালা পোশাক, জলসংরক্ষণ, রাতের যাত্রা ও মরূদ্যানকেন্দ্রিক বসতি
মেরু অঞ্চলতাপনিরোধক পোশাক, বিশেষ ঘর, মাছধরা ও পশুপালন
বন্যাপ্রবণ সমভূমিউঁচু ভিটা, খুঁটির ওপর ঘর ও বন্যাসহিষ্ণু ফসল
পাহাড়ধাপচাষ, ঢাল অনুসারী পথ ও বিশেষ ছাদের ঘর
উপকূলঘূর্ণিঝড় আশ্রয়, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও নৌজীবিকা

অভিযোজন স্থির নয়। বাজার, আধুনিক প্রযুক্তি, রাষ্ট্রের নীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পুরোনো অভিযোজন বদলে যায়।

প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural Resources)

প্রকৃতি থেকে পাওয়া এবং মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত উপাদানকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়। কোনো বস্তু জ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রয়োজন ও মূল্যবোধের মাধ্যমে সম্পদে পরিণত হয়। তাই সম্পদের ধারণা সময় ও সমাজভেদে বদলায়।

শ্রেণিউদাহরণ
নবীকরণযোগ্যসূর্যশক্তি, বায়ু, প্রবাহমান জল ও পরিচালিত বন
অনবীকরণযোগ্যকয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ও ধাতব খনিজ
জীবজবন, মাছ, পশু ও জীবাশ্ম জ্বালানি
অজীবজল, বায়ু, মাটি ও খনিজ

নবীকরণযোগ্য মানে অসীম নয়। ব্যবহারের হার পুনর্গঠনের হারের চেয়ে বেশি হলে মাটি, বন, মাছ বা ভূগর্ভস্থ জলও নিঃশেষ বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশের ভারসাম্য

পরিবেশের ভারসাম্য কোনো স্থির অবস্থা নয়; পরিবর্তনের মধ্যেও বাস্তুতন্ত্রের গঠন ও কাজ বজায় রাখার ক্ষমতা। খরা, আগুন বা বন্যার পরে একটি বাস্তুতন্ত্র কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী চাপ তার সহনক্ষমতা অতিক্রম করলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

পরিবেশগত অবক্ষয়

অবক্ষয়ের ধরনপ্রধান কারণপ্রভাব
বায়ুদূষণযানবাহন, শিল্প, জ্বালানি পোড়ানোশ্বাসরোগ, ধোঁয়াশা ও জলবায়ু প্রভাব
জলদূষণনিকাশি, শিল্পবর্জ্য, সার ও কীটনাশকপানীয় জলের সংকট ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি
মাটিক্ষয়বন উজাড়, অতিচারণ ও ভুল চাষউর্বরতা কমা ও নদীতে পলি বৃদ্ধি
বননাশকৃষি সম্প্রসারণ, খনি, রাস্তা ও কাঠ সংগ্রহজীববৈচিত্র্য ও জীবিকার ক্ষতি
শব্দদূষণযান, শিল্প ও উচ্চ শব্দশ্রবণ, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব
বর্জ্যঅতিভোগ ও দুর্বল ব্যবস্থাপনামাটি–জল দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

দূষক ও দূষণ

পরিবেশে এমন পদার্থ বা শক্তির উপস্থিতি যা জীব ও পরিবেশের ক্ষতি করে তাকে দূষণ বলা হয়। ক্ষতিকর পদার্থ, জীবাণু, অতিরিক্ত তাপ, আলো বা শব্দ দূষক হতে পারে। একটি পদার্থের প্রভাব তার পরিমাণ, ঘনত্ব, স্থায়িত্ব এবং পরিবেশের সহনক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

জীববৈচিত্র্য

জিন, প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্রের বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। এটি খাদ্য, ঔষধ, পরাগায়ন, মাটির উর্বরতা, জল পরিশোধন এবং পরিবেশের স্থিতিস্থাপকতায় ভূমিকা রাখে। বাসস্থান ধ্বংস, অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ, বহিরাগত প্রজাতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন জীববৈচিত্র্যের প্রধান হুমকি।

স্তরঅর্থ
জিনগত বৈচিত্র্যএকই প্রজাতির ভেতরের বংশগত পার্থক্য
প্রজাতিগত বৈচিত্র্যএকটি অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতি
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যবন, তৃণভূমি, মরু, জলাভূমি ইত্যাদির বৈচিত্র্য

সংরক্ষণ

প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পরিকল্পিত রক্ষা এবং টেকসই ব্যবহারকে সংরক্ষণ বলা হয়। সংরক্ষণ মানে সব ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা নয়; ব্যবহারকে পরিবেশের পুনর্গঠনক্ষমতা ও সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

পদ্ধতিউদাহরণ
প্রাকৃতিক আবাসে সংরক্ষণজাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বন
আবাসের বাইরে সংরক্ষণচিড়িয়াখানা, উদ্ভিদ উদ্যান ও বীজ ভাণ্ডার
সম্প্রদায়ভিত্তিক সংরক্ষণস্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বন ও জল ব্যবস্থাপনা
সম্পদ দক্ষতাকম উপকরণে একই কাজ ও শক্তিসাশ্রয়
পুনরুদ্ধারক্ষতিগ্রস্ত বন, নদী ও জলাভূমি পুনরুজ্জীবন

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

বর্জ্য কমানো → প্রয়োজনমতো ব্যবহার → পুনরায় ব্যবহার → মেরামত → পুনর্চক্রায়ন → নিরাপদ নিষ্পত্তি

উৎসে ভেজা ও শুকনো বর্জ্য আলাদা করলে জৈব বর্জ্য থেকে সার তৈরি এবং কাগজ, কাচ, ধাতু ও কিছু প্লাস্টিক পুনর্চক্রায়ন সহজ হয়। বিপজ্জনক ও বৈদ্যুতিন বর্জ্যের আলাদা নিরাপদ ব্যবস্থা দরকার।

টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development)

বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতা নষ্ট না করার উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন বলা হয়। এর তিনটি পরস্পরনির্ভর ভিত্তি হল অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক ন্যায় (Social Justice) এবং পরিবেশগত সুরক্ষা।

ভিত্তিলক্ষ্য
পরিবেশসম্পদ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা
সমাজস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমতা ও অংশগ্রহণ
অর্থনীতিদীর্ঘস্থায়ী জীবিকা, উৎপাদন ও দক্ষতা

পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়

পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাব সবার ওপর সমান পড়ে না। দরিদ্র, আদিবাসী, উপকূলবাসী, শিশু ও প্রান্তিক শ্রমিক দূষণ, স্থানচ্যুতি ও দুর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আবার সম্পদ সংরক্ষণের নামে স্থানীয় মানুষের প্রথাগত অধিকার উপেক্ষা করলেও অবিচার ঘটে। পরিবেশরক্ষায় অংশগ্রহণ, তথ্য ও ন্যায্য সুবিধাবণ্টন জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ

কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস পোড়ানো, বননাশ এবং কিছু শিল্পপ্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ে। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রস্তর পরিবর্তন, চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি এবং বাস্তুতন্ত্রে চাপ তৈরি হয়। নিঃসরণ কমানো এবং পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে অভিযোজন—দুই ধরনের পদক্ষেপ দরকার।

পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তির ভূমিকা

  1. জল ও বিদ্যুৎ (Electricity) অপচয় কমানো।
  2. একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী এড়ানো।
  3. গণপরিবহণ, হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করা।
  4. বর্জ্য আলাদা করা এবং পুনর্ব্যবহার করা।
  5. স্থানীয় উদ্ভিদ ও জলাশয় রক্ষা করা।
  6. পরিবেশসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ করা।

ব্যক্তিগত আচরণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বৃহৎ দূষণ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সরকার, শিল্প, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্বও অপরিহার্য।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক ব্যাখ্যা
পরিবেশশুধু প্রাকৃতিক উপাদান নয়; মানব ও মানবনির্মিত উপাদানও অন্তর্ভুক্ত
জীবমণ্ডলআলাদা কঠিন স্তর নয়; স্থল, জল ও বায়ুর জীবনধারণযোগ্য অংশ
বাস্তুতন্ত্রশুধু জীবের সমষ্টি নয়; জীবজ ও জড় উপাদানের কার্যকর সম্পর্ক
খাদ্যশৃঙ্খলশক্তি একমুখীভাবে প্রবাহিত হয়; পুষ্টি চক্রাকারে ঘোরে
নবীকরণযোগ্য সম্পদ (Renewable Resource)অসীম নয়; অতিব্যবহারে ক্ষয় হতে পারে
অভিযোজনশুধু শারীরিক নয়; প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকও হতে পারে
পরিবেশ নির্ধারণবাদপ্রকৃতিকে মানবজীবনের একমাত্র নিয়ামক ধরে; আধুনিক ব্যাখ্যায় অসম্পূর্ণ
সংরক্ষণসব ব্যবহার বন্ধ নয়; পরিকল্পিত রক্ষা ও টেকসই ব্যবহার
দূষকশুধু কঠিন বা তরল পদার্থ নয়; তাপ, শব্দ ও আলোও হতে পারে
জীববৈচিত্র্যশুধু প্রজাতির সংখ্যা নয়; জিন ও বাস্তুতন্ত্রের বৈচিত্র্যও অন্তর্ভুক্ত
টেকসই উন্নয়নশুধু পরিবেশরক্ষা নয়; সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশের সমন্বয়

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

28. পরিবেশ—প্রাকৃতিক ও মানব পরিবেশ — MCQ Test
30 questions

Start quiz →