TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - Geography (ভূগোল)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

বায়ু

বায়ুমণ্ডলের গঠন ও স্তর, আবহাওয়া–জলবায়ু, তাপমাত্রা, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘ, বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণবাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

বায়ু

পৃথিবীকে ঘিরে থাকা গ্যাস, জলীয় বাষ্প ও সূক্ষ্ম কণার আবরণকে বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) বলা হয়। পৃথিবীর মহাকর্ষ এই আবরণকে ধরে রাখে। বায়ুমণ্ডল জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করে, সূর্যের ক্ষতিকর বিকিরণের বড় অংশ শোষণ করে, উল্কাখণ্ডের ছোট অংশ পুড়িয়ে দেয় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রাকে জীবনধারণের উপযোগী রাখতে সাহায্য করে।

বায়ুমণ্ডলের গঠন

উপাদানশুষ্ক বায়ুতে আনুমানিক পরিমাণগুরুত্ব
নাইট্রোজেন78.08 শতাংশউদ্ভিদের বৃদ্ধি ও প্রোটিন গঠনে নাইট্রোজেনচক্রের মাধ্যমে ব্যবহৃত
অক্সিজেন20.95 শতাংশশ্বসন (Respiration) ও দহন
আর্গন0.93 শতাংশতুলনামূলক নিষ্ক্রিয় গ্যাস
কার্বন ডাই-অক্সাইডপ্রায় 0.04 শতাংশসালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) ও গ্রিনহাউস প্রভাব
অন্যান্য গ্যাসঅতি অল্পনিয়ন, হিলিয়াম, মিথেন, ওজোন ইত্যাদি

জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ স্থান ও সময়ভেদে বদলায়, তাই এগুলি শুষ্ক বায়ুর স্থির শতাংশে ধরা হয় না।

প্রধান গ্যাসের ভূমিকা

গ্যাসভূমিকা
নাইট্রোজেনউদ্ভিদ সরাসরি অধিকাংশ বায়বীয় নাইট্রোজেন নিতে পারে না; ব্যাকটেরিয়া ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য যৌগে রূপান্তরিত হয়
অক্সিজেনজীবের শ্বসন, দহন ও জারণে অংশ নেয়
কার্বন ডাই-অক্সাইডউদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষে কাঁচামাল এবং তাপ ধরে রাখে
ওজোনসমতাপমণ্ডলে অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষণ করে
জলীয় বাষ্পমেঘ, বৃষ্টি, আর্দ্রতা এবং তাপবণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ

ধূলিকণা ও এরোসল

বায়ুতে ধূলি, লবণকণা, ধোঁয়া, ছাই, পরাগরেণু ও ক্ষুদ্র জলকণা ভেসে থাকে। এগুলিকে সম্মিলিতভাবে সূক্ষ্ম বায়বীয় কণা বলা যায়। জলীয় বাষ্প এসব কণার ওপর ঘনীভূত হয়ে মেঘবিন্দু তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত কণা শ্বাসযন্ত্র, দৃশ্যমানতা ও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।

বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমা

বায়ুমণ্ডলের কোনো ধারালো শেষসীমা নেই। উচ্চতার সঙ্গে বায়ু ক্রমে পাতলা হয়ে মহাকাশে মিশে যায়। মোট বায়ুভরের প্রায় অর্ধেক ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রথম 5–6 কিলোমিটারের মধ্যে এবং অধিকাংশ প্রথম কয়েক দশ কিলোমিটারের মধ্যে কেন্দ্রীভূত।

বায়ুমণ্ডলের স্তর

তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগামী পরিবর্তনের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে কয়েকটি প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়।

স্তরআনুমানিক বিস্তারপ্রধান বৈশিষ্ট্য
ক্ষুব্ধমণ্ডলভূপৃষ্ঠ থেকে গড়ে 8–18 কিলোমিটারআবহাওয়া (Weather), মেঘ ও বৃষ্টির প্রধান ক্ষেত্র
সমতাপমণ্ডলপ্রায় 18–50 কিলোমিটারওজোনস্তর; উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ে
মধ্যমণ্ডলপ্রায় 50–80 কিলোমিটারতাপমাত্রা কমে; বহু উল্কা পুড়ে যায়
তাপমণ্ডলপ্রায় 80 কিলোমিটারের ওপরঅতি পাতলা বায়ু; তাপমাত্রা বৃদ্ধি; আয়নিত কণা
বহির্মণ্ডলসর্ববহির্ভাগবায়ু অত্যন্ত বিরল; মহাকাশে ধীরে মিশে যায়

স্তরগুলির উচ্চতা অক্ষাংশ (Latitude), ঋতু ও সংজ্ঞাভেদে কিছুটা বদলাতে পারে।

ক্ষুব্ধমণ্ডল

ক্ষুব্ধমণ্ডল বিষুব অঞ্চলে বেশি পুরু এবং মেরু অঞ্চলে কম পুরু। বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ ভর ও প্রায় সমস্ত জলীয় বাষ্প এই স্তরে থাকে। ভূপৃষ্ঠ সূর্যরশ্মি শোষণ করে বায়ুকে নিচ থেকে গরম করে বলে সাধারণভাবে উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা কমে। গড় হ্রাসের হার প্রতি 1,000 মিটারে প্রায় 6.5° সেলসিয়াস।

ক্ষুব্ধসীমা

ক্ষুব্ধমণ্ডল ও সমতাপমণ্ডলের মধ্যবর্তী সীমাকে ক্ষুব্ধসীমা বলা হয়। এখানে তাপমাত্রা হ্রাস সাময়িকভাবে থেমে যায়। শক্তিশালী জেট বায়ুপ্রবাহ সাধারণত ক্ষুব্ধসীমার কাছাকাছি অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।

সমতাপমণ্ডল ও ওজোনস্তর

সমতাপমণ্ডলে প্রায় 15–35 কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোনের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। ওজোন সূর্যের অতিবেগুনি বিকিরণ শোষণ করে, ফলে ওপরের দিকে তাপমাত্রা বাড়ে। এই স্তর তুলনামূলক স্থিতিশীল ও মেঘহীন; আবহাওয়ার অস্থিরতা কম।

ওজোনের ভূমিকা ও ক্ষয়

সমতাপমণ্ডলীয় ওজোন জীবজগতকে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। কিছু মানবসৃষ্ট ক্লোরিন ও ব্রোমিনযুক্ত গ্যাস ওজোন ভাঙে। ওজোনস্তরের ক্ষয় এবং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ওজোন এক বিষয় নয়—নিচের স্তরে ওজোন একটি ক্ষতিকর বায়ুদূষক হতে পারে।

মধ্যমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও বহির্মণ্ডল

মধ্যমণ্ডলে উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা কমে এবং এর ওপরের সীমা বায়ুমণ্ডলের শীতলতম অঞ্চলের একটি। তাপমণ্ডলে উচ্চশক্তির সৌর বিকিরণ শোষিত হওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ে। এই অঞ্চলের আয়নিত কণা বেতার যোগাযোগ (Communication) ও মেরুপ্রভায় ভূমিকা রাখে। বহির্মণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো হালকা গ্যাস অত্যন্ত বিরল অবস্থায় থাকে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু (Climate)

বিষয়আবহাওয়াজলবায়ু
সময়কালঘণ্টা, দিন বা স্বল্পকালসাধারণত অন্তত 30 বছরের দীর্ঘমেয়াদি ধারা
পরিবর্তনদ্রুত বদলাতে পারেতুলনামূলক স্থায়ী সাধারণ বৈশিষ্ট্য
উদাহরণআজ বৃষ্টি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 30°অঞ্চলে গ্রীষ্ম উষ্ণ ও বর্ষা আর্দ্র
উপাদানতাপমাত্রা, চাপ, বায়ু, আর্দ্রতা, মেঘ ও বৃষ্টিএকই উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি গড়, পরিবর্তন ও চরম অবস্থা

জলবায়ু শুধু গড় নয়; ঋতুভিত্তিক ধারা, পরিবর্তনশীলতা এবং চরম ঘটনার সাধারণ বৈশিষ্ট্যও অন্তর্ভুক্ত।

আবহাওয়ার প্রধান উপাদান

  1. তাপমাত্রা
  2. বায়ুচাপ
  3. বায়ুর দিক ও গতি
  4. আর্দ্রতা
  5. মেঘ
  6. বৃষ্টিপাত (Precipitation) বা তুষারপাত
  7. সূর্যালোকের স্থায়িত্ব

সৌর বিকিরণ ও পৃথিবীর তাপ

সূর্য থেকে আগত স্বল্পতরঙ্গ বিকিরণের একটি অংশ মেঘ, বায়ু ও ভূপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয় এবং বাকিটা শোষিত হয়। উষ্ণ ভূপৃষ্ঠ দীর্ঘতরঙ্গ তাপ বিকিরণ করে। বায়ুমণ্ডল সেই তাপের কিছু অংশ শোষণ ও পুনর্বিকিরণ করে। এই শক্তির আদান–প্রদান পৃথিবীর তাপমাত্রা নির্ধারণ করে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান

নিয়ামকপ্রভাব
অক্ষাংশবিষুব অঞ্চলে খাড়া, মেরুতে তির্যক সূর্যরশ্মি
উচ্চতাক্ষুব্ধমণ্ডলে সাধারণত উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা কমে
সমুদ্র থেকে দূরত্বজল ধীরে গরম–ঠান্ডা হওয়ায় উপকূলে তাপমাত্রার পরিসর কম
সমুদ্রস্রোতউষ্ণ বা শীতল জল উপকূলের তাপমাত্রা বদলায়
বায়ুপ্রবাহউৎস অঞ্চলের তাপ ও আর্দ্রতা বহন করে
ভূমির ঢালসূর্যমুখী ঢাল বেশি তাপ পেতে পারে
মেঘদিনে সূর্যরশ্মি কমায়, রাতে তাপ বেরোনো বাধা দেয়
ভূমির আবরণবন, শহর, বরফ ও মাটির শোষণ–প্রতিফলন আলাদা

দৈনিক ও বার্ষিক তাপমাত্রার পরিসর

এক দিনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য দৈনিক তাপমাত্রার পরিসর। বছরের উষ্ণতম ও শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রার পার্থক্য বার্ষিক পরিসর। শুষ্ক মরুতে দৈনিক পরিসর এবং মহাদেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক পরিসর সাধারণত বেশি।

তাপমাত্রা মাপা

তাপমাত্রা থার্মোমিটারে মাপা হয়। আবহাওয়া কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন থার্মোমিটার ব্যবহৃত হতে পারে। যন্ত্র সরাসরি সূর্যালোক ও বৃষ্টির প্রভাব থেকে রক্ষা করে বায়ুচলাচলযুক্ত সাদা আবরণে রাখা হয়। সেলসিয়াস তাপমাত্রার বহুল ব্যবহৃত একক।

বায়ুচাপ

বায়ুর ওজন ভূপৃষ্ঠের ওপর যে বল প্রয়োগ করে তাকে বায়ুচাপ বলা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠে গড় বায়ুচাপ প্রায় 1013.25 হেক্টোপাস্কাল। উচ্চতার সঙ্গে ওপরের বায়ুর পরিমাণ কমে বলে বায়ুচাপ দ্রুত হ্রাস পায়। ব্যারোমিটারে বায়ুচাপ মাপা হয়।

বায়ুচাপের পরিবর্তন

কারণসাধারণ প্রভাব
উচ্চতা বৃদ্ধিবায়ুচাপ কমে
তাপমাত্রা বৃদ্ধিবায়ু প্রসারিত ও হালকা হয়ে নিম্নচাপের প্রবণতা
তাপমাত্রা হ্রাসবায়ু ঘন হয়ে উচ্চচাপের প্রবণতা
জলীয় বাষ্প বৃদ্ধিআর্দ্র বায়ু একই তাপমাত্রায় শুষ্ক বায়ুর তুলনায় হালকা

বায়ুপ্রবাহ

ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে চলমান বায়ুকে বায়ুপ্রবাহ বলা হয়। চাপের পার্থক্য যত বেশি, বায়ু সাধারণত তত দ্রুত প্রবাহিত হয়। পৃথিবীর আবর্তন, ঘর্ষণ এবং ভূমিরূপ তার দিক ও গতি পরিবর্তন করে।

পরিমাপ (Measurement)যন্ত্র
বায়ুর গতিঅ্যানিমোমিটার
বায়ুর দিকবায়ুদিক নির্দেশক
বায়ুচাপব্যারোমিটার

বায়ুর নাম যে দিক থেকে আসে সেই দিক অনুযায়ী হয়। উত্তরী বায়ু উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়।

পৃথিবীর আবর্তন ও বায়ুর বিক্ষেপ

পৃথিবীর আবর্তনের ফলে চলমান বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিজের গতিপথের ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে যায়। বিষুবরেখায় এই বিক্ষেপ প্রায় শূন্য এবং মেরুর দিকে বৃদ্ধি পায়। এটি বায়ুর গতি তৈরি করে না; বিদ্যমান গতির দিক পরিবর্তন করে।

বায়ুচাপ বলয়

বলয়সাধারণ অবস্থানবৈশিষ্ট্য
বিষুবীয় নিম্নচাপবিষুবের কাছাকাছিতীব্র উত্তাপ, ঊর্ধ্বগামী আর্দ্র বায়ু ও বৃষ্টি
উপক্রান্তীয় উচ্চচাপপ্রায় 30° উত্তর ও দক্ষিণনিম্নগামী শুষ্ক বায়ু; বহু মরুভূমি
উপমেরু নিম্নচাপপ্রায় 60° উত্তর ও দক্ষিণউষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলন
মেরু উচ্চচাপদুই মেরুঅত্যন্ত শীতল ও ঘন বায়ু

চাপবলয়গুলি ঋতুর সঙ্গে সূর্যের লম্ব রশ্মির অবস্থান অনুসারে কিছুটা উত্তর–দক্ষিণে সরে যায়।

স্থায়ী বায়ুপ্রবাহ

বায়ুউৎস ও গন্তব্যসাধারণ দিক
আয়ন বায়ুউপক্রান্তীয় উচ্চচাপ থেকে বিষুবীয় নিম্নচাপউত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব; দক্ষিণে দক্ষিণ-পূর্ব
পশ্চিমা বায়ুউপক্রান্তীয় উচ্চচাপ থেকে উপমেরু নিম্নচাপসাধারণত পশ্চিম থেকে পূর্ব
মেরু পূর্বা বায়ুমেরু উচ্চচাপ থেকে উপমেরু নিম্নচাপসাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিম

পর্যায়ক্রমিক বায়ু

যে বায়ু দিন–রাত বা ঋতুভেদে নিয়মিত দিক পরিবর্তন করে তাকে পর্যায়ক্রমিক বায়ু বলা হয়। স্থলবায়ু–সমুদ্রবায়ু এবং মৌসুমি বায়ু এর উদাহরণ।

সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু

দিনে স্থল দ্রুত গরম হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি করলে তুলনামূলক শীতল সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে সমুদ্রবায়ু আসে। রাতে স্থল দ্রুত ঠান্ডা হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করলে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে স্থলবায়ু প্রবাহিত হয়।

সময়স্থলের অবস্থাবায়ুর দিক
দিনদ্রুত গরম, তুলনামূলক নিম্নচাপসমুদ্র থেকে স্থল
রাতদ্রুত ঠান্ডা, তুলনামূলক উচ্চচাপস্থল থেকে সমুদ্র

মৌসুমি বায়ু

ঋতুভেদে বৃহৎ অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনকে মৌসুমি বায়ু বলা হয়। স্থল ও সমুদ্রের অসম উত্তাপ, চাপবলয়ের স্থানান্তর, ভূপ্রকৃতি ও ঊর্ধ্ববায়ুর প্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুকে প্রভাবিত করে। এটি শুধু বৃহৎ আকারের সমুদ্রবায়ু নয়; বহু নিয়ামকের সমন্বিত ব্যবস্থা।

স্থানীয় বায়ু

বায়ুঅঞ্চলবৈশিষ্ট্য
লুউত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতগ্রীষ্মের উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু
চিনুকরকি পর্বতের পূর্ব ঢালউষ্ণ ও শুষ্ক অবরোহী বায়ু
ফনআল্পসের অবরোহী ঢালউষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু
মিস্ত্রালদক্ষিণ ফ্রান্সশীতল ও শুষ্ক প্রবল বায়ু

আর্দ্রতা

বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পকে আর্দ্রতা বলা হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ু সর্বোচ্চ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। উষ্ণ বায়ুর ধারণক্ষমতা শীতল বায়ুর তুলনায় বেশি।

ধারণাঅর্থ
পরম আর্দ্রতানির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের প্রকৃত ভর
আপেক্ষিক আর্দ্রতাবর্তমান জলীয় বাষ্প ও ঐ তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার শতকরা (Percentage) অনুপাত (Ratio)
সম্পৃক্ত বায়ুনির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ জলীয় বাষ্প ধারণকারী বায়ু
শিশিরাঙ্কযে তাপমাত্রায় ঠান্ডা হলে বায়ু সম্পৃক্ত হয়

আপেক্ষিক আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটারে এবং ভেজা–শুকনো বাল্ব থার্মোমিটারের সাহায্যে নির্ণয় করা যায়।

বাষ্পীভবন (Evaporation) ও ঘনীভবন (Condensation)

তরল জল তাপ গ্রহণ করে জলীয় বাষ্পে পরিণত হলে বাষ্পীভবন ঘটে। জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণায় পরিণত হলে ঘনীভবন হয়। উষ্ণতা, শুষ্কতা ও বায়ুর গতি বাষ্পীভবন বাড়ায়। ঘনীভবনের জন্য বায়ুকে শিশিরাঙ্কে পৌঁছানো এবং সাধারণত সূক্ষ্ম ঘনীভবনকণা দরকার।

শিশির, তুষার, কুয়াশা ও মেঘ

রূপগঠনের স্থান ও পদ্ধতি
শিশিরঠান্ডা পৃষ্ঠে জলীয় বাষ্প তরল কণায় ঘনীভূত
তুষারপৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে হলে বরফকণা জমা
কুয়াশাভূপৃষ্ঠের কাছে অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণা; দৃশ্যমানতা কমায়
মেঘবায়ুমণ্ডলে ভাসমান জলকণা বা বরফকণার সমষ্টি

মেঘের প্রধান ধরন

মেঘআকৃতি ও অবস্থানসাধারণ আবহাওয়া
পক্ষল মেঘউঁচুতে পালকের মতো বরফকণাআবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বসংকেত হতে পারে
স্তর মেঘনিচুতে স্তরের মতো বিস্তৃতমেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টি
পুঞ্জ মেঘতুলোর স্তূপের মতোসাধারণত পরিষ্কার আবহাওয়া; বৃদ্ধি পেলে ঝড়
পুঞ্জবর্ষা মেঘনিচ থেকে অনেক উঁচু পর্যন্ত বিশালবজ্রঝড়, প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি

বৃষ্টিপাতের রূপ

মেঘের কণা বড় ও ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণে ভূপৃষ্ঠে পড়লে অধঃক্ষেপণ ঘটে।

রূপবৈশিষ্ট্য
বৃষ্টিতরল জলবিন্দু
তুষারপাতবরফস্ফটিক বা তুষারকণা
শিলাবৃষ্টিবজ্রমেঘে তৈরি বরফের গোলক
হিমবৃষ্টিঠান্ডা স্তর অতিক্রম করে জমাট বা অতিশীতল জলকণা

বৃষ্টিপাত রেইন গেজে মাপা হয় এবং সাধারণত মিলিমিটারে প্রকাশ করা হয়।

বৃষ্টিপাতের প্রধান প্রকার

প্রকারগঠনের কারণসাধারণ অঞ্চল
পরিচলন বৃষ্টিউত্তপ্ত আর্দ্র বায়ু দ্রুত ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়বিষুবীয় অঞ্চল ও গ্রীষ্মের বিকেল
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাহাড়ে বাধা পেয়ে আর্দ্র বায়ু ওপরে ওঠেপর্বতের প্রতিবাত ঢাল
ঘূর্ণবাত বা সম্মুখ বৃষ্টিভিন্ন তাপমাত্রার বায়ুপুঞ্জের মিলনে উষ্ণ বায়ু ওপরে ওঠেনাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত অঞ্চল

বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল

আর্দ্র বায়ু পাহাড়ের প্রতিবাত ঢালে উঠে ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি দেয়। পাহাড় পার হয়ে অনুবাত ঢালে নামার সময় বায়ু উষ্ণ ও শুষ্ক হয়। ফলে অনুবাত পাশে কম বৃষ্টির যে অঞ্চল তৈরি হয় তাকে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল বলা হয়।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত

বৈশিষ্ট্যঘূর্ণবাতপ্রতীপ ঘূর্ণবাত
কেন্দ্রনিম্নচাপউচ্চচাপ
ভূপৃষ্ঠের বায়ুকেন্দ্রের দিকে আসেকেন্দ্র থেকে বাইরে যায়
উল্লম্ব গতিবায়ু ওপরে ওঠেবায়ু নিচে নামে
আবহাওয়ামেঘ, বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রবণতাসাধারণত পরিষ্কার ও শুষ্ক
উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণনঘড়ির কাঁটার বিপরীতঘড়ির কাঁটার দিকে

ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়

উষ্ণ মহাসাগরের ওপর শক্তিশালী নিম্নচাপ থেকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। উষ্ণ জল, প্রচুর আর্দ্রতা, পর্যাপ্ত বিক্ষেপ বল এবং অনুকূল ঊর্ধ্ববায়ু এর বিকাশে সহায়ক। কেন্দ্রে তুলনামূলক শান্ত ‘চোখ’, তার চারপাশে প্রবল বায়ু ও বৃষ্টির ‘চোখের প্রাচীর’ থাকে। প্রবল বায়ু, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস প্রধান বিপদ।

গ্রিনহাউস প্রভাব

বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস পৃথিবীর নির্গত তাপের কিছু অংশ শোষণ ও পুনর্বিকিরণ করে। প্রাকৃতিক গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীকে জীবনধারণের উপযোগী উষ্ণ রাখে। মানব কর্মকাণ্ডে এসব গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অতিরিক্ত উষ্ণায়ন ঘটায়।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বননাশ, শিল্প ও কৃষির কিছু প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ছে। এর ফলে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, সমুদ্রস্তর বৃদ্ধি, বৃষ্টির ধরন বদল এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি নয়; দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ব্যবস্থার বহুমুখী পরিবর্তন।

বায়ুদূষণ

দূষকপ্রধান উৎসপ্রভাব
সূক্ষ্ম কণাযানবাহন, কয়লা, নির্মাণ ও জৈব জ্বালানিশ্বাস ও হৃদ্‌রোগ
সালফার ডাই-অক্সাইডসালফারযুক্ত জ্বালানিশ্বাসকষ্ট ও অম্লবৃষ্টি
নাইট্রোজেন অক্সাইডযান ও উচ্চতাপ দহনধোঁয়াশা, ওজোন ও অম্লবৃষ্টি
কার্বন মনোক্সাইডঅসম্পূর্ণ দহনরক্তের অক্সিজেন বহনক্ষমতা কমায়
ভূপৃষ্ঠীয় ওজোনসূর্যালোকে দূষকের রাসায়নিক বিক্রিয়াফুসফুস ও উদ্ভিদের ক্ষতি

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
বায়ু ও বায়ুমণ্ডলবায়ু গ্যাসের মিশ্রণ; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীঘেরা সম্পূর্ণ গ্যাসীয় আবরণ
আবহাওয়া ও জলবায়ুআবহাওয়া স্বল্পকালীন অবস্থা; জলবায়ু দীর্ঘমেয়াদি ধারা
ক্ষুব্ধমণ্ডলপ্রায় সমস্ত আবহাওয়ার প্রধান স্তর
ওজোনসমতাপমণ্ডলে সুরক্ষামূলক; ভূপৃষ্ঠের কাছে দূষক
বায়ুচাপবায়ুর ওজনজনিত বল; উচ্চতার সঙ্গে কমে
বায়ুর নামযে দিক থেকে আসে সেই দিক অনুসারে
আর্দ্র বায়ুএকই তাপমাত্রায় শুষ্ক বায়ুর তুলনায় হালকা
আপেক্ষিক আর্দ্রতাতাপমাত্রানির্ভর শতকরা অনুপাত
মেঘ ও কুয়াশাউভয়ই জলকণা; কুয়াশা ভূপৃষ্ঠের কাছে
বৃষ্টি ও বৃষ্টিপাতবৃষ্টি তরল রূপ; বৃষ্টিপাতে তুষার ও শিলাও অন্তর্ভুক্ত
ঘূর্ণবাতনিম্নচাপকেন্দ্রিক; সব ঘূর্ণবাত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় নয়
গ্রিনহাউস প্রভাবপ্রাকৃতিকভাবে প্রয়োজনীয়; অতিরিক্ত বৃদ্ধি উষ্ণায়নের কারণ
জলবায়ু পরিবর্তনশুধু তাপমাত্রা নয়; বৃষ্টি, সমুদ্র, বরফ ও চরম ঘটনার পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

29. বায়ু — MCQ Test
30 questions

Start quiz →