সৌরজগতে পৃথিবী
মহাবিশ্ব, সৌরজগৎ, গ্রহ, পৃথিবীর আকৃতি ও গতি, ঋতু, চাঁদ, গ্রহণ, গ্রহাণু, ধূমকেতু ও উল্কার সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।
Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team
সৌরজগতে পৃথিবী
পৃথিবী সৌরজগতের আটটি গ্রহের একটি এবং সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমে তৃতীয়। সূর্যের আলো ও তাপ, উপযুক্ত দূরত্ব, তরল জল, বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) এবং জীবনধারণের অনুকূল তাপমাত্রা পৃথিবীকে বিশেষ করে তুলেছে। মহাবিশ্ব, ছায়াপথ, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ও অন্যান্য জ্যোতিষ্কের পার্থক্য জানা পৃথিবীর অবস্থান বোঝার ভিত্তি।
মহাবিশ্ব থেকে পৃথিবীর অবস্থান
মহাবিশ্ব → আকাশগঙ্গা ছায়াপথ → সৌরজগৎ (Solar System) → পৃথিবী → এশিয়া মহাদেশ → ভারত
| স্তর | পরিচয় |
|---|---|
| মহাবিশ্ব | সমস্ত পদার্থ, শক্তি, স্থান ও সময়ের সমগ্রতা |
| ছায়াপথ | কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণার বৃহৎ ব্যবস্থা |
| আকাশগঙ্গা | যে ছায়াপথে সৌরজগৎ অবস্থিত |
| সৌরজগৎ | সূর্য এবং তার মহাকর্ষে আবদ্ধ গ্রহ ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক |
| পৃথিবী | সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহ |
জ্যোতিষ্ক
মহাকাশে থাকা প্রাকৃতিক বস্তুগুলিকে জ্যোতিষ্ক বলা হয়। নক্ষত্র নিজস্ব আলো ও তাপ উৎপন্ন করে; গ্রহ ও উপগ্রহ প্রধানত নক্ষত্রের আলো প্রতিফলিত করে দৃশ্যমান হয়।
| জ্যোতিষ্ক | প্রধান বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|
| নক্ষত্র | নিজস্ব আলো ও তাপ আছে | সূর্য |
| গ্রহ | নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে; নিজস্ব আলো নেই | পৃথিবী, মঙ্গল |
| উপগ্রহ | গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে | চাঁদ |
| গ্রহাণু | সূর্যকে প্রদক্ষিণকারী ছোট পাথুরে বস্তু | প্রধান গ্রহাণুপুঞ্জের বস্তু |
| ধূমকেতু | বরফ, ধূলি ও শিলার বস্তু; সূর্যের কাছে লেজ দেখা যায় | হ্যালির ধূমকেতু |
| উল্কাখণ্ড | মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো ছোট শিলা বা ধাতব খণ্ড | বিভিন্ন ক্ষুদ্র খণ্ড |
নক্ষত্র ও নক্ষত্রমণ্ডল
নক্ষত্রগুলি পৃথিবী থেকে অত্যন্ত দূরে। কয়েকটি নক্ষত্রকে কাল্পনিক রেখায় যুক্ত করলে পরিচিত আকৃতির যে গুচ্ছ দেখা যায় তাকে নক্ষত্রমণ্ডল বলা হয়। নক্ষত্রমণ্ডলের নক্ষত্রগুলি বাস্তবে পরস্পরের খুব কাছে নাও থাকতে পারে।
| নক্ষত্রমণ্ডল বা নক্ষত্র | গুরুত্ব |
|---|---|
| সপ্তর্ষিমণ্ডল | সাতটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পরিচিত বিন্যাস |
| ধ্রুবতারা | উত্তর আকাশে প্রায় স্থির দেখা যায়; উত্তর দিক নির্ণয়ে সহায়ক |
| কালপুরুষ | তিনটি সারিবদ্ধ নক্ষত্রসহ সহজে চেনা নক্ষত্রমণ্ডল |
সপ্তর্ষিমণ্ডলের পাত্রের বাইরের দুই নক্ষত্র বরাবর কাল্পনিক রেখা বাড়ালে ধ্রুবতারার দিক পাওয়া যায়। পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তের দিকের কাছাকাছি থাকায় ধ্রুবতারাকে প্রায় স্থির দেখায়।
সূর্য
সূর্য একটি মধ্যম আকারের নক্ষত্র এবং সৌরজগতের কেন্দ্র। সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় 99.8 শতাংশ সূর্যে কেন্দ্রীভূত। সূর্যের মহাকর্ষ গ্রহগুলিকে কক্ষপথে ধরে রাখে। পৃথিবীর আবহাওয়া (Weather), জলচক্র (Water Cycle), উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন এবং অধিকাংশ শক্তির মূল উৎস সূর্য।
আলোকবর্ষ
নক্ষত্রের দূরত্ব কিলোমিটারে প্রকাশ করলে সংখ্যা অত্যন্ত বড় হয়। আলো এক বছরে শূন্যস্থানে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলা হয়। আলোকবর্ষ সময় নয়, দূরত্বের একক। সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় 8 মিনিট 20 সেকেন্ড সময় নেয়।
সৌরজগতের সদস্য
সূর্য, আটটি গ্রহ, তাদের প্রাকৃতিক উপগ্রহ, বামন গ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতু, উল্কাখণ্ড, ধূলি ও গ্যাস নিয়ে সৌরজগৎ গঠিত। সব সদস্য সূর্যের মহাকর্ষীয় প্রভাবে আবদ্ধ।
গ্রহগুলির ক্রম
সূর্য → বুধ → শুক্র → পৃথিবী → মঙ্গল → বৃহস্পতি → শনি → ইউরেনাস → নেপচুন
| ক্রম | গ্রহ | প্রধান পরিচয় |
|---|---|---|
| 1 | বুধ | সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ |
| 2 | শুক্র | আকারে পৃথিবীর কাছাকাছি; ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল |
| 3 | পৃথিবী | তরল জল ও পরিচিত জীবনের গ্রহ |
| 4 | মঙ্গল | লৌহ অক্সাইডের কারণে লালচে; দুটি ছোট উপগ্রহ |
| 5 | বৃহস্পতি | সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ |
| 6 | শনি | সুস্পষ্ট বলয়ব্যবস্থার জন্য পরিচিত |
| 7 | ইউরেনাস | অক্ষ অত্যন্ত হেলানো; বরফীয় দৈত্য |
| 8 | নেপচুন | সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরের স্বীকৃত গ্রহ |
অন্তঃস্থ ও বহিঃস্থ গ্রহ
| বৈশিষ্ট্য | অন্তঃস্থ গ্রহ | বহিঃস্থ গ্রহ |
|---|---|---|
| সদস্য | বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল | বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন |
| গঠন | প্রধানত পাথর ও ধাতু | প্রধানত গ্যাস ও বরফীয় পদার্থ |
| আকার | তুলনামূলক ছোট | তুলনামূলক বড় |
| উপগ্রহ | কম | অনেক |
| বলয় | নেই | সবগুলিরই বলয় আছে, তবে সব সমান স্পষ্ট নয় |
| সূর্য থেকে অবস্থান | গ্রহাণুপুঞ্জের ভেতরে | গ্রহাণুপুঞ্জের বাইরে |
গ্রহ কেন কক্ষপথে থাকে
সূর্যের মহাকর্ষ গ্রহকে নিজের দিকে টানে, আবার গ্রহের গতিজড়তা তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই দুইয়ের মিলিত ফলে গ্রহ সূর্যের চারদিকে বাঁকা কক্ষপথে ঘোরে। গ্রহের কক্ষপথ নিখুঁত বৃত্ত নয়; উপবৃত্তাকার।
বুধ
বুধ সূর্যের নিকটতম এবং সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় 88 পৃথিবী-দিন লাগে। বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় পার্থক্য দেখা যায়। এর কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই।
শুক্র
শুক্র আকার ও ভরে পৃথিবীর কাছাকাছি বলে কখনও পৃথিবীর যমজ বলা হয়। ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল ও প্রবল গ্রিনহাউস প্রভাবে এটি সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ। এটি অধিকাংশ গ্রহের বিপরীত দিকে আবর্তিত হয়। কোনো উপগ্রহ নেই। সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পরে উজ্জ্বল দেখা গেলে একে ভোরের তারা বা সন্ধ্যাতারা বলা হয়, কিন্তু এটি নক্ষত্র নয়।
পৃথিবী
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| সূর্য থেকে ক্রম | তৃতীয় |
| আকারে ক্রম | পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ |
| প্রাকৃতিক উপগ্রহ | একটি—চাঁদ |
| পৃষ্ঠ | প্রায় 71 শতাংশ জল ও 29 শতাংশ স্থল |
| আবর্তনকাল | প্রায় 24 ঘণ্টা |
| পরিক্রমণকাল | প্রায় 365 দিন 6 ঘণ্টা |
| অক্ষের হেলন | কক্ষপথের তলের লম্বের সঙ্গে প্রায় 23.5° |
মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায়, কারণ পৃষ্ঠের বড় অংশ জল এবং বায়ুমণ্ডল নীল আলো বেশি বিচ্ছুরিত করে। তাই পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয়।
পৃথিবীর আকৃতি
পৃথিবী নিখুঁত গোলক নয়। আবর্তনের কারণে বিষুবীয় অঞ্চলে সামান্য স্ফীত এবং মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা। পৃথিবীর এই বাস্তব আকৃতিকে ভূ-আকৃতি বলা হয়। সহজ পাঠে একে চাপা গোলকও বলা হয়।
| পরিমাপ (Measurement) | আনুমানিক মান |
|---|---|
| বিষুবীয় ব্যাস | 12,756 কিলোমিটার |
| মেরু ব্যাস | 12,714 কিলোমিটার |
| বিষুবীয় পরিধি | প্রায় 40,075 কিলোমিটার |
পৃথিবীর আবর্তন
পৃথিবী নিজের কাল্পনিক অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে। এক পূর্ণ আবর্তনে প্রায় 24 ঘণ্টা লাগে। উত্তর মেরুর ওপর থেকে দেখলে আবর্তন ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে।
| আবর্তনের ফল | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| দিন ও রাত | সূর্যমুখী অর্ধে দিন, বিপরীত অর্ধে রাত |
| সূর্যের আপাত গতি | সূর্যকে পূর্বে উঠতে ও পশ্চিমে অস্ত যেতে দেখা যায় |
| স্থানীয় সময় (Local Time) | ভিন্ন দ্রাঘিমায় ভিন্ন সময় |
| বায়ু ও স্রোতের বিক্ষেপ | পৃথিবীর আবর্তনের কারণে চলমান বস্তুর দিক বেঁকে যায় |
| বিষুবীয় স্ফীতি | আবর্তনের ফলে বিষুবীয় অংশ সামান্য স্ফীত |
আলোকবৃত্ত
পৃথিবীর আলোকিত অর্ধ এবং অন্ধকার অর্ধের বিভাজক কাল্পনিক বৃত্তকে আলোকবৃত্ত বলা হয়। এটি পৃথিবীর অক্ষের সঙ্গে সর্বদা মিলে যায় না। আলোকবৃত্ত পৃথিবীকে দিন ও রাতের দুই অংশে ভাগ করে।
পৃথিবীর পরিক্রমণ
পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রদক্ষিণ করে। একবার পরিক্রমণে 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ডের কাছাকাছি সময় লাগে, যা সাধারণভাবে 365 দিন 6 ঘণ্টা ধরা হয়। চার বছরে অতিরিক্ত প্রায় 24 ঘণ্টা জমে একটি দিন হয়।
অধিবর্ষ
সাধারণ বছর 365 দিনের এবং অধিবর্ষ 366 দিনের। অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারি 29 দিনের হয়। সাধারণভাবে 4 দ্বারা বিভাজ্য বছর অধিবর্ষ; তবে শতাব্দীবর্ষকে 400 দ্বারা বিভাজ্য হতে হয়। তাই 2000 অধিবর্ষ, কিন্তু 1900 অধিবর্ষ নয়।
ঋতু পরিবর্তনের কারণ
পৃথিবীর পরিক্রমণ + অক্ষের 23.5° হেলন + মহাকাশে অক্ষের দিক প্রায় অপরিবর্তিত থাকা → সূর্যরশ্মির কোণ ও দিন–রাতের দৈর্ঘ্যের বার্ষিক পরিবর্তন → ঋতু পরিবর্তন
পৃথিবী সূর্যের কাছে বা দূরে যাওয়াই ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ নয়। জানুয়ারির শুরুতে পৃথিবী সূর্যের তুলনামূলক কাছে থাকলেও উত্তর গোলার্ধে তখন শীতকাল।
অয়ন ও বিষুব
| অবস্থান | আনুমানিক তারিখ | সূর্যের লম্ব রশ্মি | উত্তর গোলার্ধের অবস্থা |
|---|---|---|---|
| জুন অয়ন | 21 জুন | কর্কটক্রান্তি রেখা | দীর্ঘতম দিন; গ্রীষ্ম |
| সেপ্টেম্বর বিষুব | 23 সেপ্টেম্বর | বিষুবরেখা | দিন–রাত প্রায় সমান; শরৎ শুরু |
| ডিসেম্বর অয়ন | 22 ডিসেম্বর | মকরক্রান্তি রেখা | ক্ষুদ্রতম দিন; শীত |
| মার্চ বিষুব | 21 মার্চ | বিষুবরেখা | দিন–রাত প্রায় সমান; বসন্ত শুরু |
তারিখ এক দিন আগে বা পরে হতে পারে। বিষুবের সময় সূর্য বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং দুই গোলার্ধে দিন–রাত প্রায় সমান হয়।
উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত ঋতু
জুনে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকলে সেখানে গ্রীষ্ম এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীত। ডিসেম্বরে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকলে সেখানে গ্রীষ্ম এবং উত্তর গোলার্ধে শীত। বিষুবের সময় কোনো গোলার্ধ সূর্যের দিকে বিশেষভাবে হেলে থাকে না।
পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ
চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ। পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় 3,84,400 কিলোমিটার। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই; সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। এর ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং মহাকর্ষ পৃথিবীর প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।
চাঁদের আবর্তন ও পরিক্রমণ
চাঁদ নিজের অক্ষে আবর্তন এবং পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে প্রায় একই সময়—27.3 দিন—নেয়। তাই পৃথিবী থেকে চাঁদের প্রায় একই পৃষ্ঠ সব সময় দেখা যায়। অমাবস্যা থেকে পরবর্তী অমাবস্যা পর্যন্ত কলাচক্র প্রায় 29.5 দিন।
| সময় | অর্থ |
|---|---|
| প্রায় 27.3 দিন | নক্ষত্রের তুলনায় চাঁদের এক পরিক্রমণ |
| প্রায় 29.5 দিন | এক অমাবস্যা থেকে পরবর্তী অমাবস্যা |
চাঁদের কলা
চাঁদের অর্ধেক অংশ সব সময় সূর্যালোকিত থাকে। পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের আপেক্ষিক অবস্থান বদলালে আলোকিত অংশের ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ দেখা যায়। এই দৃশ্যমান পরিবর্তনকে চাঁদের কলা বলা হয়।
অমাবস্যা → শুক্লপক্ষের চাঁদ → প্রথম চতুর্থী → পূর্ণিমা → কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ → শেষ চতুর্থী → অমাবস্যা
সূর্যগ্রহণ
অমাবস্যায় চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে তার ছায়া পৃথিবীর ওপর ফেললে সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের পূর্ণচ্ছায়ায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এবং আংশিক ছায়ায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় 5° হেলানো বলে প্রতি অমাবস্যায় গ্রহণ হয় না।
সূর্য → চাঁদ → পৃথিবী
চন্দ্রগ্রহণ
পূর্ণিমায় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর ফেললে চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। চাঁদ সম্পূর্ণ পূর্ণচ্ছায়ায় গেলে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ এবং আংশিক প্রবেশ করলে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়। কক্ষপথের হেলনের কারণে প্রতি পূর্ণিমায় গ্রহণ ঘটে না।
সূর্য → পৃথিবী → চাঁদ
গ্রহাণু ও প্রধান গ্রহাণুপুঞ্জ
গ্রহাণু সূর্যকে প্রদক্ষিণকারী পাথুরে বা ধাতব ছোট জ্যোতিষ্ক। অধিকাংশ পরিচিত গ্রহাণু মঙ্গল ও বৃহস্পতির কক্ষপথের মাঝের প্রধান গ্রহাণুপুঞ্জে রয়েছে। সেরেস এই অঞ্চলের বৃহত্তম বস্তু এবং একটি বামন গ্রহ। গ্রহাণুপুঞ্জ কোনো বিস্ফোরিত গ্রহের ঘন ধ্বংসস্তূপ নয়; বস্তুগুলির মধ্যে সাধারণত বিশাল দূরত্ব থাকে।
ধূমকেতু
ধূমকেতু বরফ, ধূলি ও শিলায় গঠিত এবং সূর্যকে দীর্ঘ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে। সূর্যের কাছে এলে তাপে গ্যাস ও ধূলির আবরণ এবং লেজ তৈরি হয়। সৌরবায়ুর কারণে লেজ সব সময় সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে। হ্যালির ধূমকেতু প্রায় 76 বছর অন্তর দেখা যায়।
উল্কা ও উল্কাপিণ্ড
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| উল্কাখণ্ড | মহাকাশে থাকা ছোট পাথর বা ধাতব বস্তু |
| উল্কা | বায়ুমণ্ডলে ঢুকে উত্তপ্ত হয়ে দেখা দেওয়া আলোর রেখা |
| উল্কাপিণ্ড | সম্পূর্ণ পুড়ে না গিয়ে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানো অংশ |
উল্কাকে সাধারণ কথায় খসে পড়া তারা বলা হলেও এটি নক্ষত্র নয়।
বামন গ্রহ ও প্লুটো
বামন গ্রহ সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং নিজের মহাকর্ষে প্রায় গোলাকার, কিন্তু নিজের কক্ষপথের আশপাশের অন্যান্য বস্তু সরিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্লুটোকে 2006 সালে গ্রহের বদলে বামন গ্রহ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। সেরেস, এরিস, হাউমেয়া ও মাকেমাকে অন্যান্য স্বীকৃত বামন গ্রহ।
পৃথিবীতে জীবনের অনুকূল কারণ
| কারণ | গুরুত্ব |
|---|---|
| সূর্য থেকে উপযুক্ত দূরত্ব | তরল জল থাকার উপযোগী তাপমাত্রা |
| তরল জল | জীবদেহের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যম |
| বায়ুমণ্ডল | প্রয়োজনীয় গ্যাস, চাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ |
| অক্সিজেন | অধিকাংশ জটিল জীবের শ্বসন (Respiration) |
| ওজোন স্তর | ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষণ |
| চৌম্বক ক্ষেত্র | সৌরবায়ুর ক্ষতিকর কণার বড় অংশ থেকে সুরক্ষা |
| উপযুক্ত মহাকর্ষ | বায়ুমণ্ডল ও জল ধরে রাখা |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য
| বিষয় | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| সূর্য | গ্রহ নয়; একটি নক্ষত্র |
| চাঁদ | নিজস্ব আলো নেই; সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে |
| ভোরের তারা | শুক্র গ্রহ; নক্ষত্র নয় |
| আলোকবর্ষ | সময়ের নয়, দূরত্বের একক |
| পৃথিবীর আকৃতি | নিখুঁত গোলক নয়; মেরুতে চাপা ও বিষুবে স্ফীত |
| দিন–রাত | পৃথিবীর আবর্তনের ফল |
| ঋতু পরিবর্তন | অক্ষের হেলন ও পরিক্রমণের সম্মিলিত ফল |
| অধিবর্ষ | 4 দ্বারা বিভাজ্য; শতাব্দীবর্ষের ক্ষেত্রে 400 দ্বারা বিভাজ্য হতে হয় |
| চাঁদের একই পৃষ্ঠ | আবর্তনকাল ও পরিক্রমণকাল প্রায় সমান বলে দেখা যায় |
| চাঁদের কলা | পৃথিবীর ছায়ার জন্য নয়; আলোকিত অংশের দৃশ্যমান পরিবর্তন |
| গ্রহণ | কক্ষপথ হেলানো বলে প্রতি অমাবস্যা বা পূর্ণিমায় হয় না |
| প্লুটো | 2006 সাল থেকে বামন গ্রহ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ |
| উল্কা | নক্ষত্র নয়; বায়ুমণ্ডলে জ্বলন্ত ছোট মহাজাগতিক বস্তু |
PRACTICE QUIZ
Take a Test from This Topic
26. সৌরজগতে পৃথিবী — MCQ Test
30 questions
OWNER QUIZ TOOL
Add a test to this topic
The quiz form will automatically select this topic and its primary category.
➕ Add a Quiz for This Topic