TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

জাতপাত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

জ্যোতিরাও ফুলে, সত্যশোধক সমাজ, নারায়ণ গুরু, আয়্যঙ্কালি, পেরিয়ার, আম্বেদকর, মহাড়, পুনা চুক্তি ও অস্পৃশ্যতা বিলোপের বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

জাতপাত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

ভারতীয় সমাজে জাতপাত জন্ম, পেশা, বিবাহ, খাদ্য, বসতি এবং জনপরিসরে প্রবেশের ওপর অসম নিয়ন্ত্রণ তৈরি করেছিল। তথাকথিত ‘অস্পৃশ্য’ মানুষকে কূপ, বিদ্যালয়, মন্দির, পথ ও জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হত। ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর নেতা ও সংগঠন শিক্ষা, আত্মমর্যাদা, সামাজিক সমতা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং জাতপাতের সম্পূর্ণ বিলোপের দাবি তোলে।

আন্দোলনের ধারাচিত্র

জাতপাতভিত্তিক বঞ্চনা → শিক্ষা ও আত্মমর্যাদার দাবি → নিজস্ব সংগঠন ও লেখা → জল, পথ ও মন্দির ব্যবহারের আন্দোলন → রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব → সাংবিধানিক সমতা ও সংরক্ষণ

প্রধান নেতা ও সংগঠন

ব্যক্তি বা সংগঠনঅঞ্চলপ্রধান অবদান
জ্যোতিরাও ফুলে ও সত্যশোধক সমাজমহারাষ্ট্রশূদ্র–অতিশূদ্র ঐক্য, শিক্ষা ও ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যের বিরোধিতা
শ্রী নারায়ণ গুরুকেরালাধর্মীয় সমতা, শিক্ষা ও এঝভা সমাজের সংগঠন
আয়্যঙ্কালিকেরালাপথ, বিদ্যালয় ও কৃষিশ্রমিকের অধিকার
আয়োথিদাস পণ্ডিতরতামিল অঞ্চলদলিত ইতিহাস, শিক্ষা ও বৌদ্ধ পরিচয়
পেরিয়ারতামিল অঞ্চলআত্মমর্যাদা আন্দোলন, জাতপাত ও পিতৃতন্ত্রের বিরোধিতা
ড. বি. আর. আম্বেদকরসর্বভারতীয়জল, মন্দির, শিক্ষা, প্রতিনিধিত্ব ও জাতপাত বিনাশের আন্দোলন

জাতপাত ও অস্পৃশ্যতার কাঠামো

বর্ণের চার ভাগের আদর্শ এবং বাস্তবের অসংখ্য জাত বা জাতি এক বিষয় নয়। পেশা, জন্ম, বিবাহ, খাদ্য, বসতি এবং মন্দির–জলাশয় ব্যবহারে জাতপাতের নিয়ম কাজ করত। তথাকথিত ‘অস্পৃশ্য’ মানুষকে শিক্ষা, জমি, কূপ, পথ ও ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত করা হত। অঞ্চলভেদে নিয়ম ও পরিচয় বদলালেও অসম মর্যাদা ও শ্রমশোষণ ছিল ব্যাপক।

শব্দব্যাখ্যা
বর্ণধর্মশাস্ত্রীয় চারস্তরীয় আদর্শ বিভাগ
জাত/জাতিজন্ম, পেশা ও স্থানীয় সমাজভিত্তিক অসংখ্য গোষ্ঠী
অস্পৃশ্যতাস্পর্শ ও সামাজিক যোগাযোগের নামে আরোপিত বৈষম্য (Discrimination)
দলিতনিপীড়িত জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা ও রাজনৈতিক পরিচয়; অর্থ ‘দলিত/নিপীড়িত’
বহুজনেসংখ্যাগরিষ্ঠ শোষিত জনগোষ্ঠী বোঝাতে ব্যবহৃত রাজনৈতিক ধারণা

জ্যোতিরাও ফুলে ও সত্যশোধক সমাজ

জ্যোতিরাও ফুলে ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য ও জাতপাতকে ঐতিহাসিক শোষণের ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। 1873 সালে তাঁর ‘গুলামগিরি’ প্রকাশিত হয় এবং একই বছরে সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি পুরোহিতনির্ভর আচার ছাড়া বিবাহ, শিক্ষা, সামাজিক সমতা এবং শূদ্র–অতিশূদ্রের ঐক্যের পক্ষে কাজ করে।

শ্রী নারায়ণ গুরু

কেরালায় এঝভা সম্প্রদায়ের শ্রী নারায়ণ গুরু জাতপাত ও ধর্মীয় বর্জনের বিরোধিতা করেন। 1888 সালে আরুভিপ্পুরমে শিবমূর্তি প্রতিষ্ঠা উচ্চবর্ণের একচেটিয়া পুরোহিত অধিকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছিল। তাঁর সঙ্গে যুক্ত শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালনা যোগম শিক্ষা, সংগঠন ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। ‘এক জাতি, এক ধর্ম, এক ঈশ্বর মানবের জন্য’ তাঁর সমতামূলক ভাবনার পরিচিত প্রকাশ।

আয়্যঙ্কালি ও দক্ষিণ ভারতের আন্দোলন

কেরালার আয়্যঙ্কালি দলিত মানুষের পথ ব্যবহারের অধিকার, বিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং কৃষিশ্রমিকের মর্যাদার জন্য আন্দোলন করেন। তামিলনাড়ুতে আয়োথিদাস পণ্ডিতর দলিত ইতিহাস, বৌদ্ধ পরিচয় ও শিক্ষার প্রশ্ন তোলেন। দক্ষিণ ভারতে পরে ই. ভি. রামস্বামী পেরিয়ারের আত্মমর্যাদা আন্দোলন ব্রাহ্মণ্যবাদ, জাতপাত, পিতৃতন্ত্র এবং অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রচার চালায়।

ড. ভীমরাও আম্বেদকর

ড. বি. আর. আম্বেদকর জাতপাতকে শ্রমের বিভাজন নয়, শ্রমিকদের স্তরবদ্ধ বিভাজন হিসেবে দেখেছিলেন। শিক্ষা, সংগঠন ও আন্দোলনের মাধ্যমে দলিত অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

ঘটনা বা উদ্যোগসালগুরুত্ব
বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা1924শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন
মহাড় সত্যাগ্রহ1927সর্বজনীন চৌদার জলাধার ব্যবহারের অধিকার
মনুস্মৃতি দহন1927জাতপাতের শাস্ত্রীয় বৈধতার প্রতিবাদ
কালারাম মন্দির প্রবেশ আন্দোলন1930ধর্মীয় স্থানে সমান প্রবেশাধিকার
পুনা চুক্তি1932পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর বদলে সংরক্ষিত আসন
‘জাতপাতের বিনাশ’1936জাতপাত বিনাশের তাত্ত্বিক কর্মসূচি

গান্ধী ও অস্পৃশ্যতা বিরোধ

মহাত্মা গান্ধী অস্পৃশ্যতাকে পাপ বলে এর বিলোপের প্রচার করেন এবং হরিজন সেবক সংঘ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নেন। তিনি তথাকথিত অস্পৃশ্য মানুষকে ‘হরিজন’ বলতেন; বর্তমানে বহু দলিত চিন্তক এই পিতৃতান্ত্রিক শব্দ প্রত্যাখ্যান করেন। গান্ধী বর্ণের কিছু আদর্শিক রূপ ও সামাজিক ঐক্যের কথা বলতেন, আর আম্বেদকর জাতপাতের কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং স্বাধীন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব চাইতেন।

পুনা চুক্তি

1932 সালের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর প্রস্তাব দেয়। গান্ধী এর বিরোধিতা করে অনশন শুরু করেন। আম্বেদকর ও অন্যান্য নেতার আলোচনায় পুনা চুক্তি হয়—পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে সাধারণ হিন্দু নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যে দলিতদের জন্য বেশি সংখ্যক সংরক্ষিত আসন নির্ধারিত হয়। এটি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বাড়ালেও স্বাধীন দলিত রাজনৈতিক কণ্ঠ নিয়ে বিতর্ক বজায় থাকে।

মন্দির প্রবেশ ও জনপরিসরের অধিকার

আন্দোলনসময়/স্থানদাবি
ভাইকম সত্যাগ্রহ1924–1925, ত্রিবাঙ্কুরমন্দিরসংলগ্ন সর্বজনীন পথ ব্যবহারের অধিকার
গুরুভায়ুর সত্যাগ্রহ1931–1932, মালাবারমন্দির প্রবেশ
কালারাম আন্দোলন1930, নাসিকদলিতদের মন্দিরে প্রবেশ
ত্রিবাঙ্কুর মন্দির প্রবেশ ঘোষণা1936ত্রিবাঙ্কুরের মন্দির দলিত হিন্দুদের জন্য উন্মুক্ত

মন্দির প্রবেশ শুধু ধর্মীয় আচার নয়; পথ, কূপ, বিদ্যালয় ও নাগরিক মর্যাদায় সমান অধিকারের বৃহত্তর দাবির অংশ ছিল।

সাংবিধানিক ও আইনি পরিবর্তন

বিধানগুরুত্ব
14 অনুচ্ছেদআইনের দৃষ্টিতে সমতা
15 অনুচ্ছেদধর্ম, জাতি, জাতপাত, লিঙ্গ ও জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ
16 অনুচ্ছেদসরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ ও বিশেষ ব্যবস্থার ভিত্তি
17 অনুচ্ছেদঅস্পৃশ্যতা বিলোপ
1955 সালের আইনঅস্পৃশ্যতাজনিত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করা
প্রতিনিধিত্ব ও সংরক্ষণঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ বৃদ্ধি

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
বর্ণ ও জাতচার বর্ণের শাস্ত্রীয় আদর্শ এবং বাস্তবের অসংখ্য জাত এক নয়
দলিতনিপীড়িত জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা ও রাজনৈতিক পরিচয়
সত্যশোধক সমাজ1873 সালে জ্যোতিরাও ফুলে প্রতিষ্ঠা করেন
মহাড় সত্যাগ্রহ1927 সালে সর্বজনীন জলাধার ব্যবহারের অধিকারের আন্দোলন
পুনা চুক্তিপৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর বদলে যৌথ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসন
গান্ধী ও আম্বেদকরউভয়ে অস্পৃশ্যতার বিরোধী হলেও জাতপাত ও প্রতিনিধিত্বে মতভেদ ছিল
মন্দির প্রবেশধর্মীয় অধিকারের সঙ্গে নাগরিক মর্যাদা ও জনপরিসরে সমতার দাবিও যুক্ত ছিল
17 অনুচ্ছেদস্বাধীন ভারতের সংবিধানে অস্পৃশ্যতা বিলোপ করে

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

22. জাতপাত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন — MCQ Test
31 questions

Start quiz →