TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

নতুন রাজা ও রাজ্য

সামন্ত, নতুন রাজবংশ, কনৌজের সংঘর্ষ, পাল, রাষ্ট্রকূট, চোল, সেচ, স্থানীয় সভা, মন্দির ও ব্রোঞ্জশিল্পের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

নতুন রাজা ও রাজ্য

খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু নতুন রাজবংশের উত্থান ঘটে। কোনো কোনো রাজবংশ আগে শক্তিশালী রাজার অধীন সামন্ত ছিল; পরে সামরিক শক্তি, জমি, দুর্গ, বাণিজ্যপথ ও স্থানীয় সমর্থনের সাহায্যে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এই সময়কে শুধু রাজবংশ ও যুদ্ধের তালিকা হিসেবে দেখলে কৃষক, সেচব্যবস্থা, মন্দির, নগর, বণিক এবং স্থানীয় সভার ভূমিকা অদৃশ্য থেকে যায়।

পরিবর্তনের সামগ্রিক রেখাচিত্র

বৃহৎ সাম্রাজ্যের দুর্বলতা → সামন্তের শক্তিবৃদ্ধি → নিজস্ব উপাধি ও রাজধানী → প্রতিবেশী অঞ্চলে অভিযান → নতুন রাজবংশ ও রাজ্য

প্রধান পরিবর্তনকীভাবে প্রকাশ পায়
নতুন রাজবংশের উত্থানপ্রাক্তন সামন্ত বা স্থানীয় প্রধান স্বাধীন শাসক হন
রাজকীয় মর্যাদার নির্মাণমহারাজাধিরাজের মতো উপাধি, প্রশস্তি ও বংশকাহিনি
ভূমিদানের প্রসারব্রাহ্মণ, মন্দির ও কর্মকর্তাকে জমি বা রাজস্বের অধিকার
আঞ্চলিক কেন্দ্রের বৃদ্ধিকনৌজ, মান্যখেট, কাবেরী বদ্বীপ, তাঞ্জাবুর প্রভৃতির গুরুত্ব
মন্দিরকেন্দ্রিক কার্যক্রমউপাসনা, জমি, কর্মসংস্থান, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতা
কৃষি (Agriculture) সম্প্রসারণবন পরিষ্কার, নতুন বসতি, বাঁধ, জলাধার ও খাল নির্মাণ

সময় ও প্রধান রাজবংশ

আনুমানিক সময়রাজবংশ বা শক্তিপ্রধান অঞ্চল
সপ্তম–একাদশ শতাব্দীগুর্জর-প্রতিহারপশ্চিম ও উত্তর ভারত
অষ্টম–দ্বাদশ শতাব্দীপালবাংলা ও বিহারের বিস্তীর্ণ অংশ
অষ্টম–দশম শতাব্দীরাষ্ট্রকূটদাক্ষিণাত্যের বৃহৎ অঞ্চল
নবম–ত্রয়োদশ শতাব্দীচোলতামিল অঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকা
সপ্তম–দ্বাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন পর্যায়চাহমান, কলচুরি, চান্দেল ও অন্যান্য শক্তিউত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল

রাজবংশগুলির সীমানা স্থির ছিল না। যুদ্ধ, জোট, বিবাহ, উত্তরাধিকার ও সামন্তের আনুগত্য অনুযায়ী কর্তৃত্ব বদলাত।

ইতিহাস জানার উৎস

সামন্ত থেকে স্বাধীন রাজা

‘সামন্ত’ বলতে অধীন, সহযোগী বা সীমান্তবর্তী শাসককে বোঝানো হত। তিনি প্রধান রাজাকে উপহার, কর বা সৈন্য দিতেন এবং দরবারে উপস্থিত থাকতেন। কেন্দ্র দুর্বল হলে শক্তিশালী সামন্ত নিজের উপাধি, মুদ্রা বা প্রশস্তির মাধ্যমে স্বাধীনতার দাবি করতে পারতেন।

সামন্ত অবস্থায়স্বাধীন শাসক হওয়ার পরে
অধিপতির নাম ও কর্তৃত্ব স্বীকারনিজস্ব সর্বোচ্চ উপাধি গ্রহণ
নির্দিষ্ট অঞ্চল পরিচালনানতুন অঞ্চল জয়ের চেষ্টা
সৈন্য ও উপহার প্রদাননিজস্ব সামন্তের কাছ থেকে সেবা গ্রহণ
অধিপতির রাজনৈতিক মর্যাদার অংশনিজের বংশকাহিনি ও রাজকীয় আদর্শ প্রচার

রাষ্ট্রকূট প্রতিষ্ঠাতা দন্তিদুর্গ প্রথমে চালুক্যদের অধীন ছিলেন। অষ্টম শতাব্দীতে তিনি তাঁদের ক্ষমতাকে সরিয়ে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাধি স্বাধীনতার প্রতীক হতে পারত, কিন্তু বাস্তব ক্ষমতার ভিত্তি ছিল সেনা, সম্পদ ও স্থানীয় সম্পর্ক।

রাজবংশের মর্যাদা ও বংশকাহিনি

নতুন শাসকেরা অনেক সময় নিজেদের সূর্যবংশ, চন্দ্রবংশ, পৌরাণিক নায়ক বা প্রাচীন ক্ষত্রিয় বংশের সঙ্গে যুক্ত করতেন। সভাকবি ও ব্রাহ্মণরা প্রশস্তিতে এই বংশকাহিনি লিখতেন।

বাস্তব রাজনৈতিক উত্থান → মর্যাদাপূর্ণ পূর্বপুরুষের দাবি → ধর্মীয় অনুমোদন → প্রজার কাছে বৈধতার প্রচার

এটি শাসক কী ধরনের পরিচয় গড়তে চেয়েছেন তা জানায়।

রাজা ও প্রশাসন

শাসকেরা মহারাজাধিরাজ, পরমভট্টারক বা ত্রিভুবনচক্রবর্তী ধরনের উচ্চ উপাধি গ্রহণ করতেন। তবে রাজ্য পরিচালনা করতেন মন্ত্রী, সেনাপতি, রাজস্বকর্মী, দূত, লেখক, আঞ্চলিক প্রধান ও গ্রামের কর্মকর্তারা। কিছু পদ একই পরিবারের মধ্যে চলত।

প্রশাসনিক স্তর বা ব্যক্তিসম্ভাব্য কাজ
রাজাযুদ্ধ, জোট, দান ও সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের দাবি
মন্ত্রী ও উচ্চ কর্মকর্তানীতি, নথি, রাজস্ব ও বিচারসংক্রান্ত কাজ
সামন্ত বা অধীন প্রধানআঞ্চলিক শাসন ও সামরিক সহায়তা
গ্রামপ্রধান ও হিসাবরক্ষকভূমি, কর, সেচ ও স্থানীয় নথি
সভা বা স্থানীয় সমিতিজমি, জল, দান ও জনকার্যের কিছু সিদ্ধান্ত

রাজকীয় আদেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর সহযোগিতা প্রয়োজন হত। তাই শাসন ছিল কেন্দ্র থেকে একমুখী নির্দেশের বদলে বহুস্তরীয় সম্পর্ক।

রাজস্বের উৎস

রাজ্য, সেনাবাহিনী, কর্মকর্তা, নির্মাণ ও রাজদরবার চালাতে সম্পদ দরকার হত। কৃষিজ উৎপাদনের অংশ ছিল প্রধান ভিত্তি; সঙ্গে বাণিজ্য, পশুপালন, খনি, বন ও পেশাভিত্তিক আদায়ও থাকতে পারত।

রাজস্ব বা সম্পদের ক্ষেত্রসম্ভাব্য রূপ
কৃষিফসলের অংশ বা তার অর্থমূল্য
বাণিজ্যপথ, বাজার, বন্দর ও পণ্যের শুল্ক
কারুশিল্পউৎপাদক বা পেশাজীবীর কাছ থেকে আদায়
পশুপালনপশু, চারণভূমি বা উৎপাদনের ওপর দাবি
অধীন শাসককর, উপহার ও সামরিক সহায়তা
বাধ্যতামূলক শ্রমনির্মাণ, পরিবহণ (Transport) বা অন্যান্য জনকার্যে শ্রম

সব কর সব অঞ্চলে একসঙ্গে নেওয়া হত না। শিলালিপির করের নাম অঞ্চল ও সময় অনুসারে ব্যাখ্যা করতে হয়।

কৃষক ও উৎপাদন

রাজকীয় প্রশস্তিতে সাধারণ কৃষকের কথা কম থাকলেও রাজ্যের সম্পদ মূলত তাঁদের উৎপাদনের ওপর নির্ভর করত। কৃষককে কর দেওয়ার পাশাপাশি সেচব্যবস্থা রক্ষা, স্থানীয় প্রভাবশালীর দাবি এবং কখনও শ্রমের দায় বহন করতে হত।

বৃষ্টি ও সেচ → কৃষিজ উৎপাদন → পরিবারের ভরণপোষণ → কর ও দান → সেনা, প্রশাসন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যয়

ফসল খারাপ হলে একই রাজস্বদাবি কৃষকের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করত। কৃষি সম্প্রসারণের অর্থ সবসময় সমান উপকার নয়; বনবাসী ও পশুপালক গোষ্ঠীর জমি ব্যবহারের ধরনও বদলাতে পারত।

কনৌজের জন্য ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষ

অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে গুর্জর-প্রতিহার, পাল ও রাষ্ট্রকূট শাসকেরা কনৌজের নিয়ন্ত্রণের জন্য বারবার সংঘর্ষে জড়ান। একে ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষ বলা হয়।

শক্তিপ্রধান ভিত্তিপরিচিত শাসক
গুর্জর-প্রতিহারপশ্চিম ও উত্তর ভারতনাগভট, মিহিরভোজ
পালবাংলা ও বিহারগোপাল, ধর্মপাল, দেবপাল
রাষ্ট্রকূটদাক্ষিণাত্যধ্রুব, তৃতীয় গোবিন্দ

কনৌজের গুরুত্বের সম্ভাব্য কারণ:

  • গঙ্গা–যমুনা সমভূমির উর্বর অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান
  • উত্তর ভারতের পথ ও নদীসংযোগ
  • হর্ষের পুরোনো রাজধানী হিসেবে রাজনৈতিক মর্যাদা
  • আশপাশের সম্পদ ও রাজস্বের ওপর প্রভাব

কোনো এক শক্তি দীর্ঘ সময় কনৌজকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

পাল রাজবংশ

অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলায় গোপালের উত্থান ঘটে। একটি পরবর্তী শিলালিপিতে বলা হয় যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দূর করতে ‘প্রকৃতি’ তাঁকে রাজা নির্বাচন করেছিল। এখানে ‘নির্বাচন’কে আধুনিক সর্বজনীন ভোট হিসেবে বোঝা ভুল; প্রভাবশালী প্রধান বা গোষ্ঠীর সম্মতি বোঝাতে পারে।

শাসকগুরুত্বপূর্ণ দিক
গোপালপাল ক্ষমতার প্রতিষ্ঠা
ধর্মপালউত্তর ভারতে প্রভাব বিস্তার ও কনৌজের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ
দেবপালরাজ্যের বিস্তার ও শক্তির ধারাবাহিকতা

পাল শাসকেরা বৌদ্ধ মহাবিহার ও জ্ঞানচর্চার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন; একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেও দান করা হত। শাসকের ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে তাঁর সমগ্র প্রজাসমাজের ধর্ম নির্ধারণ করা যায় না।

রাষ্ট্রকূট রাজবংশ

রাষ্ট্রকূটদের প্রধান কেন্দ্র ছিল মান্যখেট। তাঁরা দাক্ষিণাত্য থেকে উত্তর ভারতের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং কনৌজের সংঘর্ষে অংশ নেন। কৃষ্ণ প্রথমের সঙ্গে ইলোরার কৈলাস মন্দিরের নির্মাণ যুক্ত। পাহাড়ের ওপর থেকে নিচের দিকে পাথর কেটে একটি সম্পূর্ণ মন্দির গড়া প্রকৌশল ও সংগঠিত শ্রমের অসাধারণ উদাহরণ।

ক্ষেত্ররাষ্ট্রকূটদের গুরুত্ব
রাজনীতিদাক্ষিণাত্য ও উত্তর ভারতের রাজনীতির সংযোগ
স্থাপত্যইলোরার একশিলা কৈলাস মন্দির
ভাষা ও সাহিত্যসংস্কৃত ও কন্নড় রচনার পৃষ্ঠপোষকতা
ধর্মবিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতার নিদর্শন

চাহমান ও অন্যান্য রাজপুত রাজবংশ

চাহমান বা চৌহানরা বর্তমান রাজস্থান ও দিল্লির কিছু অঞ্চলে শক্তিশালী হন। দ্বাদশ শতাব্দীর পৃথ্বীরাজ তৃতীয় তাঁদের পরিচিত শাসক। 1191 সালে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে তিনি মুহাম্মদ ঘোরিকে পরাজিত করেন; 1192 সালের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত হন।

বিষয়সতর্ক ব্যাখ্যা
‘রাজপুত’ পরিচয়দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন যোদ্ধা ও ভূস্বামী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে গড়ে ওঠে
বীরকাব্যস্মৃতি ও আদর্শ জানায়, কিন্তু সব ঘটনা সমকালীন নয়
একটি যুদ্ধবৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ; একমাত্র কারণ নয়
পরাজয়পূর্ববর্তী সব রাজনৈতিক কাঠামো সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়নি

চোলদের উত্থান

চোল শক্তির প্রাথমিক কেন্দ্র ছিল কাবেরী বদ্বীপ। নবম শতাব্দীতে বিজয়ালয় তাঞ্জাবুর দখল করে নতুন চোল শক্তির ভিত্তি গড়েন। প্রথম রাজরাজ ও প্রথম রাজেন্দ্রের সময় রাজ্য ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।

শাসকগুরুত্বপূর্ণ দিক
বিজয়ালয়তাঞ্জাবুরকেন্দ্রিক চোল শক্তির ভিত্তি
প্রথম রাজরাজরাজ্যবিস্তার; বৃহদীশ্বর মন্দির; প্রশাসনিক নথি
প্রথম রাজেন্দ্রগঙ্গা উপত্যকামুখী অভিযান; সামুদ্রিক অভিযান; নতুন রাজধানী

চোল শাসন বোঝার জন্য যুদ্ধের পাশাপাশি কাবেরী বদ্বীপের উর্বরতা, সেচব্যবস্থা, গ্রাম, বন্দর, মন্দির ও বণিকগোষ্ঠী বিবেচনা করতে হয়।

কাবেরী বদ্বীপ ও সেচ

কাবেরী নদী ও তার শাখাগুলি বদ্বীপ অঞ্চলে পলি জমিয়ে উর্বর জমি তৈরি করেছে। নদীর জল নিয়ন্ত্রণে বাঁধ, খাল, জলাধার ও স্থানীয় শ্রম ব্যবহৃত হত।

নদী ও মৌসুমি বৃষ্টি → বাঁধ ও খাল → ধানচাষ → উদ্বৃত্ত উৎপাদন → কর → রাজ্য, নগর ও মন্দিরের বিকাশ

সেচব্যবস্থার অংশকাজ
আনিকাট বা বাঁধনদীর জল আটকে বা ঘুরিয়ে দেওয়া
খালজল কৃষিজমিতে পৌঁছে দেওয়া
জলাধারবৃষ্টির জল সঞ্চয়
বাঁধের মুখ ও জলকপাটজলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
স্থানীয় সমিতিমেরামত, জলবণ্টন ও ব্যয়ের দেখাশোনা

সেচের সাফল্য কেবল রাজার কৃতিত্ব ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, কারিগর ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজ অপরিহার্য ছিল।

চোল প্রশাসনের স্তর

এককসরল পরিচয়
মণ্ডলমবৃহৎ প্রাদেশিক অঞ্চল
বলনাড়ুএকাধিক নাড়ুর সমন্বয়ে বড় একক
নাড়ুকয়েকটি গ্রামের আঞ্চলিক গোষ্ঠী
উরসাধারণ গ্রামের সমাবেশ
সভাব্রাহ্মদেয় গ্রামের ব্রাহ্মণ ভূস্বামীদের সমিতি
নগরমবণিক ও নগরকেন্দ্রিক সমিতি

এই প্রতিষ্ঠানগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না। ভূমির মালিকানা, সামাজিক মর্যাদা, লিঙ্গ ও যোগ্যতার শর্ত অংশগ্রহণ সীমিত করত।

উত্তরমেরুর শিলালিপি (Inscription) ও কমিটি

উত্তরমেরুর শিলালিপিতে একটি ব্রাহ্মদেয় গ্রামের সভা, যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং বিভিন্ন কমিটি বাছাইয়ের নিয়ম পাওয়া যায়। কুডাভোলাই পদ্ধতিতে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম লেখা পত্র পাত্রে রেখে তোলা হত।

কমিটিসম্ভাব্য কাজ
জলাধার কমিটিসেচ ও জলাধার রক্ষণাবেক্ষণ
বাগান কমিটিবাগান ও সংশ্লিষ্ট সম্পদের দেখাশোনা
বার্ষিক কমিটিবছরের সাধারণ প্রশাসনিক কাজ

এটি আধুনিক সর্বজনীন নির্বাচনের সমান নয়। প্রার্থী হওয়ার জন্য জমি, বাসস্থান, জ্ঞান, বয়স ও আচরণসংক্রান্ত শর্ত ছিল; বহু মানুষ অংশ নিতে পারতেন না।

ভূমির ধরন ও দান

শব্দসাধারণ অর্থ
ব্রাহ্মদেয়ব্রাহ্মণকে দান করা জমি বা গ্রাম
দেবদানদেবতা বা মন্দিরের জন্য দান
শালাভোগশিক্ষাকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জমি
ভেল্লানভগৈঅ-ব্রাহ্মণ কৃষক বা ভূস্বামীর বসতিপ্রধান গ্রামাঞ্চল

এই শ্রেণিগুলির অর্থ স্থান ও দলিলভেদে বদলাতে পারে। ভূমিদান মানেই সবসময় জমির সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকানা নয়; কর, ব্যবহার, শ্রম ও প্রশাসনিক অধিকারের বিভিন্ন সমন্বয় থাকতে পারে।

মন্দির: ধর্মের চেয়ে বিস্তৃত ভূমিকা

বৃহদীশ্বরসহ বড় মন্দিরগুলি রাজকীয় মর্যাদার প্রতীক হলেও তাদের সঙ্গে জমি, দান, কর্মী, কারুশিল্প, উৎসব ও হিসাবরক্ষণ যুক্ত ছিল।

মন্দিরের ভূমিকাউদাহরণ
ধর্মীয়উপাসনা, আচার ও উৎসব
অর্থনৈতিকজমি, শস্য, দান ও সংরক্ষণ
কর্মসংস্থানপুরোহিত, নৃত্যশিল্পী, সংগীতজ্ঞ, রাঁধুনি ও প্রহরী
কারুশিল্পস্থপতি, ভাস্কর, ধাতুশিল্পী ও চিত্রকর
সাংস্কৃতিকসংগীত, নৃত্য, কাহিনি ও শিলালিপি
রাজনৈতিকশাসকের দান, বিজয় ও বৈধতার প্রকাশ

চোল ব্রোঞ্জমূর্তি

চোল যুগের ব্রোঞ্জমূর্তি মোম-হারানো ঢালাই পদ্ধতিতে তৈরি হত। প্রথমে মোমে মূর্তি গড়ে মাটির আবরণ দেওয়া হত। উত্তাপে মোম বেরিয়ে গেলে ফাঁকা ছাঁচে গলিত ধাতু ঢালা হত। ছাঁচ ভেঙে মূর্তি বের করে ঘষে ও খোদাই করে শেষ রূপ দেওয়া হত।

মোমের প্রতিরূপ → মাটির আবরণ → উত্তাপে মোম অপসারণ → গলিত ধাতু ঢালা → ছাঁচ ভাঙা → মসৃণকরণ

প্রতিটি মূর্তির জন্য ছাঁচ ভাঙতে হত, তাই দুটি মূর্তি সম্পূর্ণ অভিন্ন নয়। নটরাজ মূর্তিতে নৃত্য, সৃষ্টি, ধ্বংস, সুরক্ষা ও মুক্তির প্রতীক একত্রিত হয়েছে।

সামুদ্রিক যোগাযোগ (Communication)

চোল শাসকেরা শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালান। প্রথম রাজেন্দ্রের শ্রীবিজয়মুখী অভিযান বন্দর ও সামুদ্রিক পথের রাজনৈতিক গুরুত্ব দেখায়। তবে অভিযান মানেই দীর্ঘস্থায়ী উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা নয়। বণিকগোষ্ঠী, নাবিক ও বন্দরনগর বহুদিন ধরে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।

যোগাযোগের মাধ্যমচলাচলের বিষয়
বন্দর ও জাহাজপণ্য, মানুষ ও সংবাদ
বণিকগোষ্ঠীবাণিজ্যিক চুক্তি ও ধর্মীয় দান
দূত ও বিবাহরাজনৈতিক সম্পর্ক
ধর্মীয় যাত্রীগ্রন্থ, মূর্তি ও আচার

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
নতুন সব রাজা প্রাচীন রাজপরিবার থেকেই এসেছিলেনঅনেক সামন্ত ও স্থানীয় প্রধান শক্তি অর্জন করে রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন
প্রশস্তি নিরপেক্ষ যুদ্ধবিবরণীএতে তথ্যের সঙ্গে রাজকীয় প্রশংসা ও অতিরঞ্জন থাকে
কনৌজের ওপর এক রাজবংশের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ ছিলপাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূটের প্রভাব বারবার বদলেছে
চোল গ্রামের সভায় সবাই সমানভাবে অংশ নিতেনঅংশগ্রহণ জমি, মর্যাদা ও যোগ্যতার শর্তে সীমিত ছিল
মন্দির শুধু উপাসনার স্থানঅর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্প ও রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিল
চোল অভিযান মানেই বিদেশে স্থায়ী উপনিবেশবহু অভিযান সামরিক প্রদর্শন ও বাণিজ্যপথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা
বড় নির্মাণ একা রাজার কাজকৃষক, শ্রমিক, কারিগর, কর্মকর্তা ও দাতার সম্পদ ও শ্রম যুক্ত ছিল

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

11. নতুন রাজা ও রাজ্য — MCQ Test
30 questions

Start quiz →