TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

নারী ও সমাজসংস্কার

সতীদাহ বিলোপ, বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ, নারীশিক্ষা, সাবিত্রীবাই ফুলে, বিদ্যাসাগর, পণ্ডিতা রামাবাই ও বেগম রোকেয়ার সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

নারী ও সমাজসংস্কার

ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের ভারতে নারীশিক্ষা, সতীদাহ, বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ এবং নারীর জনজীবনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তৃত সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে। অঞ্চল, ধর্ম, শ্রেণি ও পরিবারের অবস্থান অনুযায়ী নারীর অভিজ্ঞতা আলাদা ছিল। নারী লেখক, শিক্ষিকা ও সংগঠকেরা শুধু সংস্কারের সুবিধাভোগী ছিলেন না; তাঁরা নিজেদের অধিকার ও সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় নির্মাতা ছিলেন।

প্রধান পরিবর্তনের সময়রেখা

সালঘটনা
1829সতীদাহ নিবারণ বিধি
1848পুনেতে সাবিত্রীবাই ও জ্যোতিরাও ফুলের বালিকা বিদ্যালয়
1849কলকাতায় বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা
1856হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন
1883কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসুর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন
1891সম্মতির বয়স আইন
1911সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা
1929বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বা সারদা আইন

সতীদাহ প্রথা ও তার বিলোপ

সতীদাহে কোনো কোনো হিন্দু বিধবাকে মৃত স্বামীর চিতায় দাহ করা হত। এটি ভারতের সব অঞ্চল, জাত বা পরিবারের সর্বজনীন প্রথা ছিল না। রাজা রামমোহন রায় শাস্ত্র, যুক্তি ও মানবিকতার ভিত্তিতে সতীদাহের বিরোধিতা করেন। গভর্নর-জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 1829 সালের ১৭ নম্বর বিধি দ্বারা বাংলা প্রেসিডেন্সিতে সতীদাহকে বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য ঘোষণা করেন; পরে অন্য প্রেসিডেন্সিতেও তা প্রয়োগ হয়।

বিষয়তথ্য
প্রধান ভারতীয় বিরোধী কণ্ঠরাজা রামমোহন রায়
সংগঠনআত্মীয় সভা; পরে ব্রাহ্ম সভা/ব্রাহ্ম সমাজ
আইন1829 সালের সতীদাহ নিবারণ বিধি
গভর্নর-জেনারেললর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
বিরোধী সংগঠনরাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে ধর্মসভা

রাজা রামমোহন রায় ও ব্রাহ্ম সমাজ

রামমোহন রায় একেশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে লিখেছিলেন। 1828 সালে তিনি ব্রাহ্ম সভা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ব্রাহ্ম সমাজ নামে পরিচিত হয়। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কেশবচন্দ্র সেন পরবর্তী পর্যায়ে আন্দোলনকে বিস্তার দেন। ব্রাহ্ম সমাজ মূর্তিপূজার বিরোধিতা, একেশ্বরবাদ, নারীশিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান করে।

বিধবাবিবাহ আন্দোলন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ব্যবহার করে দেখান যে হিন্দু বিধবার পুনর্বিবাহ নিষিদ্ধ নয়। তাঁর প্রচার, আবেদন ও জনমতের ফলে 1856 সালের হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন পাস হয়। আইনটি পুনর্বিবাহকে বৈধতা দিলেও সামাজিক বিরোধ, সম্পত্তির বিধান এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতার কারণে এর বিস্তার ধীর ছিল।

বিষয়তথ্য
প্রধান সংস্কারকঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
আইন1856 সালের হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন
উদ্দেশ্যহিন্দু বিধবার পুনর্বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি
বাস্তব সীমাসামাজিক বাধা ও সীমিত সংখ্যক বিবাহ

বাল্যবিবাহ ও বিবাহের বয়স

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সম্মতি ও মানবাধিকারের যুক্তি ওঠে। 1891 সালের সম্মতির বয়স আইন বিবাহের বয়স নয়, দাম্পত্য সহবাসে সম্মতির ন্যূনতম বয়স বাড়িয়েছিল। 1929 সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বা সারদা আইন বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে; পরে তা একাধিকবার সংশোধিত হয়।

আইনমূল বিষয়
1891 সালের সম্মতির বয়স আইনদাম্পত্য সহবাসে সম্মতির ন্যূনতম বয়স বৃদ্ধি
1929 সালের সারদা আইনবাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিবাহের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ
1955 সালের হিন্দু বিবাহ আইনস্বাধীন ভারতে বিবাহ ও বিচ্ছেদের আইনি কাঠামো

নারীশিক্ষার সূচনা ও বিস্তার

ঊনবিংশ শতকের শুরুতে মিশনারি বিদ্যালয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং ভারতীয় সংস্কারকদের প্রচেষ্টায় মেয়েদের বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। বিরোধীরা আশঙ্কা করতেন শিক্ষা নারীকে গৃহের বাইরে নিয়ে যাবে বা প্রচলিত ভূমিকা বদলাবে। সমর্থকেরা প্রথমে ভালো স্ত্রী ও মা তৈরির যুক্তি দিলেও শিক্ষিত নারীরা পরে নিজের অধিকার, পেশা ও জনজীবনের দাবি তোলেন।

সাবিত্রীবাই ও জ্যোতিরাও ফুলে

1848 সালে পুনেতে জ্যোতিরাও ফুলে ও সাবিত্রীবাই ফুলে মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ফাতিমা শেখ তাঁদের সহকর্মী হিসেবে মেয়ে ও নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের পড়ান। সাবিত্রীবাই ভারতের প্রথম দিকের পেশাদার নারী শিক্ষকদের একজন; বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে অপমান ও আক্রমণ সহ্য করতে হত। ফুলে দম্পতি বিধবা, পরিত্যক্ত শিশু এবং জাতপাতের নিপীড়নের বিরুদ্ধেও কাজ করেন।

ব্যক্তিপ্রধান অবদান
সাবিত্রীবাই ফুলেমেয়েদের শিক্ষক, কবি ও সমাজসংস্কারক
জ্যোতিরাও ফুলেবিদ্যালয়, সত্যশোধক সমাজ ও জাতপাতবিরোধী চিন্তা
ফাতিমা শেখপ্রাথমিক নারী শিক্ষক; মেয়ে ও নিম্নবর্ণ শিক্ষায় অগ্রণী
সগুণাবাই ক্ষীরসাগরফুলেদের শিক্ষাপ্রচেষ্টার সহযোগী

বাংলায় নারীশিক্ষা

1849 সালে কলকাতায় বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যাসাগর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনে সাহায্য করেন। কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসু 1883 সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম দিকের নারী স্নাতকদের মধ্যে স্থান পান। কাদম্বিনী পরে চিকিৎসক হন। বিদ্যালয়শিক্ষার বিস্তার ধীর ও প্রধানত শহরকেন্দ্রিক হলেও তা নারীর জনজীবনে প্রবেশের পথ তৈরি করে।

মুসলিম নারীশিক্ষা ও বেগম রোকেয়া

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীশিক্ষা, যুক্তিবাদ ও পর্দাব্যবস্থার অসমতার সমালোচনা করেন। তাঁর ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নারীর ক্ষমতায়নের কল্পবিজ্ঞানধর্মী রচনা। 1911 সালে কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম সমাজের ভেতর থেকেও বহু ব্যক্তি আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় নিয়ে কাজ করেন।

নারীর নিজের লেখা

লেখকরচনা ও গুরুত্ব
রাসসুন্দরী দেবী‘আমার জীবন’; গোপনে পড়তে শেখা এক গৃহবধূর আত্মজীবনী
তারাবাই শিন্দে‘স্ত্রী পুরুষ তুলনা’; পুরুষতান্ত্রিক দ্বিচারের সমালোচনা
পণ্ডিতা রামাবাই‘উচ্চবর্ণের হিন্দু নারী’; উচ্চবর্ণ বিধবার অবস্থার বিশ্লেষণ
বেগম রোকেয়া‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অবরোধবাসিনী’; নারীশিক্ষা ও পর্দার সমালোচনা
কৈলাসবাসিনী দেবীঊনবিংশ শতকে নারীর অবস্থা ও সমাজ নিয়ে বাংলা গদ্য

নারীর লেখা দেখায় যে তারা শুধু সংস্কারের প্রাপক ছিলেন না; নিজেদের অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যাকার এবং পরিবর্তনের সক্রিয় নির্মাতাও ছিলেন।

পণ্ডিতা রামাবাই

সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতা রামাবাই উচ্চবর্ণ হিন্দু নারীর দুর্দশার সমালোচনা করেন। তিনি 1889 সালে বোম্বাইয়ে শারদা সদন প্রতিষ্ঠা করে বিধবাদের শিক্ষা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। পরে কেডগাঁওয়ে মুক্তি মিশন গড়ে ওঠে। তাঁর ধর্মান্তর ও মতামত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নারীশিক্ষা ও বিধবার স্বনির্ভরতায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রার্থনা সমাজ ও আর্য সমাজ

1867 সালে বোম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রার্থনা সমাজ একেশ্বরবাদ, বিধবাবিবাহ, নারীশিক্ষা ও জাতপাত সংস্কারে কাজ করে। মহাদেব গোবিন্দ রানাডে ও আর. জি. ভাণ্ডারকর এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী 1875 সালে আর্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন; বেদে প্রত্যাবর্তন, শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের কথা বলেন। আর্য সমাজের শুদ্ধি কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে।

আইন ও সামাজিক বাস্তবতা

আইনপ্রধান বিষয়বাস্তব প্রভাব
সতীদাহ নিবারণ বিধি, 1829সতীদাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধআইন প্রয়োগের সঙ্গে সামাজিক প্রচারও প্রয়োজন হয়
হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন, 1856বিধবার পুনর্বিবাহ বৈধসামাজিক বাধায় গ্রহণযোগ্যতা সীমিত ছিল
সম্মতির বয়স আইন, 1891দাম্পত্য সহবাসে সম্মতির ন্যূনতম বয়স বৃদ্ধিএটি বিবাহের ন্যূনতম বয়সের আইন ছিল না
সারদা আইন, 1929বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণপ্রয়োগ অঞ্চল ও সমাজভেদে অসম ছিল

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
সতীদাহভারতের সব অঞ্চল বা সব হিন্দু পরিবারের সর্বজনীন প্রথা ছিল না
1829 সালের বিধিরামমোহনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেন্টিঙ্কের প্রশাসন জারি করে
বিধবাবিবাহ আইনপুনর্বিবাহ বৈধ করে; সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি
সম্মতির বয়স আইনবিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণকারী আইন নয়
নারীশিক্ষামিশনারি, ভারতীয় সংস্কারক এবং নারী শিক্ষিকার সম্মিলিত উদ্যোগে বিস্তার লাভ করে
সাবিত্রীবাই ফুলেভারতের প্রথম দিকের পেশাদার নারী শিক্ষক ও সমাজসংস্কারক
বেগম রোকেয়ামুসলিম নারীশিক্ষা, যুক্তিবাদ ও নারীর স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেন
নারীসংস্কারের নিষ্ক্রিয় প্রাপক নন; লেখক, শিক্ষক ও সংগঠকও ছিলেন

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

21. নারী ও সমাজসংস্কার — MCQ Test
32 questions

Start quiz →