TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Primary TET - Language (Bengali) - পদUpper Primary TET - Language (Bengali) - পদ

পদ

পদ (বাংলা ভাষা) Bengali Language for TET / CTET for Freshers and In-Service Teachers

Published by: TET Sampan Editorial Team

১. পদ (Part of Speech) কাকে বলে?

সংজ্ঞা: বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে পদ বলা হয়।

> বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিভক্তি (Case Marker) ছাড়া কোনো শব্দ সরাসরি বাক্যে অর্থপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট করতে এবং পদের সঠিক অবস্থান বোঝাতে বিভক্তি যুক্ত হওয়া অপরিহার্য।

  • উদাহরণ: "মানুষ বাঘ মারে" এবং "বাঘ মানুষ মারে"— এখানে শব্দের অবস্থান ও বিভক্তির ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে বাক্যের মূল অর্থ পুরোপুরি বদলে যায়।

২. পদের প্রধান শ্রেণিবিভাগ

গঠন ও অর্থগত দিক থেকে বাংলা ভাষার পদকে প্রধানত দুইটি মৌলিক ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. নামপদ (প্রাতিপদিক): প্রাতিপদিকের সাথে কারক (Case)-বিভক্তি বা নাম-বিভক্তি যুক্ত হয়ে নামপদ গঠিত হয়।
  2. ক্রিয়াপদ: ধাতুর সাথে ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

সাধারণ ব্যাকরণগত রূপ অনুযায়ী পদ প্রধানত ৫ প্রকার:

  1. বিশেষ্য (Noun)
  1. সর্বনাম (Pronoun)
  1. বিশেষণ (Adjective)
  1. অব্যয় (Conjunction/Interjection/Preposition)
  1. ক্রিয়া (Verb)

৩. পদের বিস্তারিত আলোচনা ও শ্রেণিবিন্যাস

ক. বিশেষ্য পদ (Noun)

যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, স্থান, গুণ বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

শ্রেণিবিভাগ (উদাহরণসহ):

  • সংজ্ঞাবাচক/নামবাচক: সুনির্দিষ্ট কোনো নাম। (যেমন: রবীন্দ্রনাথ, পদ্মা, ঢাকা, হিমালয়)
  • জাতিবাচক: এক জাতীয় সকল প্রাণী বা বস্তুর সাধারণ নাম। (যেমন: মানুষ, নদী, পর্বত, পাখি)
  • বস্তুবাচক/দ্রব্যবাচক: গণনার অযোগ্য কিন্তু ওজন বা পরিমাপ (Measurement) করা যায়। (যেমন: পানি, তেল, চিনি, লোহা)
  • সমষ্টিবাচক: একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুর দলগত রূপ। (যেমন: সভা, সমিতি, দল, বহর, পঞ্চায়েত)
  • গুণবাচক: কোনো বস্তুর দোষ, গুণ বা অবস্থার নাম। (যেমন: সততা, দয়া, মধুরতা, যৌবন, সৌন্দর্য)
  • ক্রিয়াবাচক/ভাববাচক: কোনো কাজের নাম। (যেমন: দর্শন, পঠন, গমন, ভোজন, শয়ন)

খ. সর্বনাম পদ (Pronoun)

বিশেষ্য পদের পুনরাবৃত্তি এড়াতে তার পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।

প্রধান প্রকারভেদ:

  • ব্যক্তিবাচক/পুরুষবাচক: আমি, তুমি, সে, তারা, আপনি, ইনি।
  • নির্দেশক: এটি, ওটি, এরা, এগুলো।
  • অনির্দেশক: কেউ, কিছু, কোনো, অনেকে।
  • প্রশ্নবাচক: কে, কী, কোনটি, কার।
  • আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
  • সম্বন্ধবাচক/সাপেক্ষ: যে...সে, যিনি...তিনি, যারা...তারা।
  • ব্যতিহারিক: পরস্পর, নিজেদের মধ্যে।

গ. বিশেষণ পদ (Adjective)

যে পদ বাক্যের অন্য কোনো পদের (বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়া) দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি নির্দেশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষণের প্রধান প্রয়োগ:

  1. নাম-বিশেষণ: বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে। (যেমন: সুস্থ দেহ, মেধাবী ছাত্র)
  2. ক্রিয়া-বিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের ধরন বা সময় প্রকাশ করে। (যেমন: ধীরে ধীরে বাতাস বইছে, দ্রুত হাঁটো)
  3. বিশেষণের বিশেষণ: অন্য কোনো বিশেষণের মাত্রা বা তীব্রতা প্রকাশ করে। (যেমন: সে খুব ভালো ছেলে)
  4. বিধেয় বিশেষণ: বিশেষ্যের পর বসে বিশেষিত করে। (যেমন: আকাশটা নীল)

ঘ. অব্যয় পদ (Conjunction / Preposition / Interjection)

যে পদের কোনো অবস্থাতেই রূপের পরিবর্তন হয় না (লিঙ্গ, বচন বা কারকভেদে ব্যয় বা রূপান্তর ঘটে না), তাকে অব্যয় পদ বলে।

প্রধান শ্রেণিবিভাগ:

  • সংযোজক অব্যয়: বাক্য বা পদকে যুক্ত করে। (যেমন: রহিম এবং করিম স্কুলে গেল)
  • বিয়োজক অব্যয়: বাক্য বা পদকে পৃথক করে। (যেমন: তুমি অথবা তোমার ভাই আসবে)
  • সংকোচক অব্যয়: বিপরীত বা ব্যতিক্রমী ভাব প্রকাশ করে। (যেমন: লোকটা ধনী কিন্তু কৃপণ)
  • অনুকার/ধনাত্মক অব্যয়: প্রাকৃতিক বা অনুভূত শব্দের অনুকরণ। (যেমন: ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে, মড়মড় করে গাছ ভাঙল)
  • আবেগসূচক অব্যয়: মানসিক ভাব বা আবেগ প্রকাশ করে। (যেমন: হায় হায়! এ কী হলো!)

ঙ. ক্রিয়াপদ (Verb)

যে পদ দ্বারা কোনো কাজ করা, হওয়া, খাওয়া, যাওয়া ইত্যাদি বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

অর্থ ও গঠনভেদে শ্রেণিবিভাগ:

  1. ভাবপ্রকাশের দিক থেকে:
  • সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়। (যেমন: সে নিয়মিত বই পড়ে।)
  • অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। (যেমন: সে ভাত খেয়ে... [স্কুলে গেল])
  1. কর্মপদের উপস্থিতি অনুযায়ী:
  • সকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার কর্মপদ থাকে। (যেমন: সাকিব ক্রিকেট খেলছে।)
  • অকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার কোনো কর্মপদ থাকে না। (যেমন: সে ঘুমায়।)
  • দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ থাকে। (যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।)
  1. গঠনগত দিক থেকে:
  • যৌগিক ক্রিয়া: একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে। (যেমন: সে হেসে উঠল)