TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Primary TET - Language (Bengali) - বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়Upper Primary TET - Language (Bengali) - বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়

বাক্যের উপাদান ও গঠন

TET (Bengali) বাক্যের উপাদান : উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং মুখ্য ও গৌণ কর্মের বিস্তারিত আলোচনা

Published by: TET Sampan Editorial Team

বাক্যের উপাদান ও গঠন

সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশকারী সুবিন্যস্ত পদসমষ্টিকে বাক্য বলে। শুধু কয়েকটি শব্দ পাশাপাশি থাকলেই বাক্য হয় না; শব্দগুলির মধ্যে ব্যাকরণগত সম্পর্ক, উপযুক্ত ক্রম এবং সম্পূর্ণ ভাব থাকতে হয়। যেমন “মাঠে শিশুরা খেলছে” একটি বাক্য, কিন্তু “মাঠে খেলছে শিশুরা” প্রসঙ্গভেদে গ্রহণযোগ্য হলেও “শিশুরা মাঠে একটি” সম্পূর্ণ অর্থ দেয় না।

উদ্দেশ্য ও বিধেয়

বাক্যকে অর্থের ভিত্তিতে দুটি প্রধান অংশে দেখা যায়—উদ্দেশ্যবিধেয়

  • যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়, সে অংশ উদ্দেশ্য
  • উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, সে অংশ বিধেয়

নীল আকাশে পাখিরা উড়ছে। এখানে ‘পাখিরা’ উদ্দেশ্য এবং ‘নীল আকাশে উড়ছে’ বিধেয়। উদ্দেশ্যের মূল পদ ‘পাখিরা’; বিধেয়ের মূল হলো ‘উড়ছে’। উদ্দেশ্য সব সময় বাক্যের শুরুতে থাকবে এমন নয়—“আজ আসবে রাহুল” বাক্যে ‘রাহুল’ উদ্দেশ্য।

আদেশ বা অনুরোধের বাক্যে উদ্দেশ্য উহ্য থাকতে পারে। “দরজাটি বন্ধ করো” বাক্যে উহ্য উদ্দেশ্য হলো ‘তুমি’

কর্তা ও ক্রিয়া

যে ব্যক্তি বা বস্তু ক্রিয়া সম্পাদন করে অথবা যার সম্পর্কে ক্রিয়াটি বলা হয়, তাকে কর্তা বলে। বাক্যের কাজ, ঘটনা বা অবস্থাকে প্রকাশ করে ক্রিয়া

  • মিতা বই পড়ে।—মিতা কর্তা, পড়ে ক্রিয়া।
  • পাতা ঝরছে।—পাতা কর্তা, ঝরছে ক্রিয়া।
  • ছেলেটি অসুস্থ।—এখানে ‘অসুস্থ’ অবস্থা প্রকাশ করছে; কথ্য বাংলায় ‘আছে’ ক্রিয়াটি উহ্য।

কর্তা ও উদ্দেশ্য প্রায়ই একই হলেও ধারণা দুটি এক নয়। ‘উদ্দেশ্য’ বাক্যের তথ্যবিন্যাসের অংশ; ‘কর্তা’ ক্রিয়ার সঙ্গে ব্যাকরণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে। কর্মবাচ্যে “চিঠিটি রীনার দ্বারা লেখা হয়েছে” বাক্যে ‘চিঠিটি’ উদ্দেশ্য, কিন্তু কাজের কর্তা ‘রীনা’

কর্ম

ক্রিয়ার ফল যাকে বা যার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাকে কর্ম বলে। ক্রিয়াকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে অনেক ক্ষেত্রে কর্ম পাওয়া যায়।

  • রিমি গল্প পড়ে।—কী পড়ে? ‘গল্প’ কর্ম।
  • আমি বন্ধুকে ডাকলাম।—কাকে ডাকলাম? ‘বন্ধুকে’ কর্ম।

সব ক্রিয়ার কর্ম থাকে না। “শিশুটি হাসে”, “পাখি উড়ে”—এগুলি অকর্মক ক্রিয়াযুক্ত বাক্য। আবার “সে ভাত খায়”-এ ‘ভাত’ থাকায় ক্রিয়াটি সকর্মক। একই ক্রিয়া প্রসঙ্গভেদে ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হতে পারে—“ঘণ্টা বাজে” অকর্মক, কিন্তু “সে ঘণ্টা বাজায়” সকর্মক।

মুখ্য ও গৌণ কর্ম

কিছু ক্রিয়ার সঙ্গে দুটি কর্ম থাকে। বস্তু বা বিষয়বাচক কর্মটি সাধারণত মুখ্য কর্ম, আর ব্যক্তি বা প্রাণীবাচক কর্মটি গৌণ কর্ম

শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা শেখান। এখানে ‘বাংলা’ মুখ্য কর্ম এবং ‘ছাত্রদের’ গৌণ কর্ম। মা শিশুকে দুধ দিলেন।‘দুধ’ মুখ্য কর্ম, ‘শিশুকে’ গৌণ কর্ম। তবে কেবল শব্দের অবস্থান দেখে নয়, ক্রিয়ার অর্থের সঙ্গে সম্পর্ক দেখে কর্ম নির্ধারণ করতে হয়।

পরিপূরক

কিছু ক্রিয়া একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না; কর্তা বা কর্ম সম্পর্কে পরিচয়, অবস্থা বা গুণ জানাতে একটি পরিপূরক লাগে।

  • রাহুল ডাক্তার হয়েছে।‘ডাক্তার’ কর্তৃ-পরিপূরক।
  • তারা অমলকে নেতা নির্বাচিত করল।‘নেতা’ কর্ম-পরিপূরক।
  • আকাশ নীল।‘নীল’ উদ্দেশ্যের গুণ জানিয়ে বিধেয় সম্পূর্ণ করেছে।

পরিপূরক কর্ম নয়, কারণ তার ওপর ক্রিয়ার কাজ পড়ে না; এটি কর্তা বা কর্মের পরিচয় বা অবস্থা সম্পূর্ণ করে।

ক্রিয়াবিশেষণীয় উপাদান

সময়, স্থান, উপায়, কারণ, পরিমাণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া অংশকে ক্রিয়াবিশেষণীয় উপাদান বলা যায়।

রাহুল আজ সকালে দ্রুত বিদ্যালয়ে গেল। এখানে ‘আজ সকালে’ সময়, ‘দ্রুত’ ধরন এবং ‘বিদ্যালয়ে’ গন্তব্য নির্দেশ করছে। এই উপাদান বাদ দিলেও “রাহুল গেল” ন্যূনতম বাক্য থাকে, কিন্তু তথ্যের পরিমাণ কমে যায়। তবে কিছু ক্রিয়ায় স্থান বা দিক অর্থ সম্পূর্ণ করতে অপরিহার্য হতে পারে—“সে থাকে”-র তুলনায় “সে কলকাতায় থাকে” বেশি সম্পূর্ণ।

পদগুচ্ছ ও উপবাক্য

বাক্যের কোনো উপাদান একটি পদ, একটি পদগুচ্ছ অথবা একটি উপবাক্য দিয়েও গঠিত হতে পারে। “ছেলেটি এল” বাক্যে ‘ছেলেটি’ একক পদ; “লাল জামা পরা ছেলেটি এল” বাক্যে সম্পূর্ণ ‘লাল জামা পরা ছেলেটি’ উদ্দেশ্যরূপে কাজ করছে।

একইভাবে “আমি তার আগমন জানি” বাক্যে ‘তার আগমন’ কর্মরূপী পদগুচ্ছ, আর “আমি জানি যে সে আসবে” বাক্যে ‘যে সে আসবে’ কর্মের ভূমিকা পালনকারী উপবাক্য। অর্থাৎ বাক্যের কাজ নির্ধারণে অংশটির দৈর্ঘ্য নয়, মূল ক্রিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

সরল বাক্যে সাধারণত একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। একাধিক সমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বাক্যে প্রতিটি উপবাক্যের উদ্দেশ্য–বিধেয় আলাদাভাবে শনাক্ত করে পরে তাদের সংযোগ দেখতে হয়। যেমন “বৃষ্টি থামলে আমরা মাঠে যাব”-এ ‘বৃষ্টি থামলে’ শর্ত বা সময়সূচক নির্ভর উপবাক্য এবং ‘আমরা মাঠে যাব’ প্রধান উপবাক্য।

বাক্য বিশ্লেষণের সহজ ধাপ

১. প্রথমে সমাপিকা ক্রিয়া শনাক্ত করুন।

২. ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক দেখে কর্তা নির্ণয় করুন।

৩. ‘কী/কাকে’ প্রশ্ন করে কর্ম আছে কি না দেখুন।

৪. পরিচয় বা গুণসূচক অংশ পরিপূরক কি না যাচাই করুন।

৫. সময়, স্থান, কারণ ও উপায়সূচক অংশ আলাদা করুন।

৬. শেষে উদ্দেশ্য ও সম্পূর্ণ বিধেয় নির্ধারণ করুন।

বাংলা বাক্যে পদক্রম তুলনামূলকভাবে নমনীয়। তাই শুধু শব্দের অবস্থান নয়, বিভক্তি (Case Marker), ক্রিয়ার রূপ, অর্থ এবং প্রসঙ্গ—সব মিলিয়ে বাক্যের উপাদান নির্ণয় করা উচিত।