বিরাম চিহ্ন
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক টেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরাম চিহ্নের নিয়মসমূহ
Published by: TET Sampan Editorial Team
বিরাম চিহ্ন (Punctuation Marks)
লিখিত ভাষায় বাক্যের সমাপ্তি, পদ বা বাক্যাংশের সম্পর্ক, প্রশ্ন, আবেগ, উদ্ধৃতি এবং অতিরিক্ত তথ্য স্পষ্ট করতে ব্যবহৃত চিহ্নগুলিকে বিরাম চিহ্ন বলা হয়। এগুলি কেবল পড়ার সময় বিরতির দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে না; বাক্যের গঠন ও অর্থও নির্ধারণ করে। ভুল চিহ্ন একই শব্দসমষ্টির অর্থ বদলে দিতে পারে।
প্রধান বিরাম চিহ্ন
| চিহ্ন | নাম | প্রধান ব্যবহার |
|---|---|---|
| । | দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ | সম্পূর্ণ বিবৃতিমূলক বাক্যের সমাপ্তি |
| , | কমা বা পাদচ্ছেদ | তালিকা, সম্বোধন ও সম্পর্কিত অংশ পৃথক করা |
| ; | সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ | ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত স্বাধীন বাক্যাংশ পৃথক করা |
| : | কোলন বা দ্বিবিন্দু | ব্যাখ্যা, উদাহরণ বা তালিকা সূচিত করা |
| ? | প্রশ্নচিহ্ন | প্রত্যক্ষ প্রশ্নের সমাপ্তি |
| ! | বিস্ময়চিহ্ন | তীব্র আবেগ, বিস্ময় বা সতর্কতা |
| “ ” | দ্বৈত উদ্ধৃতিচিহ্ন | সরাসরি উক্তি বা উদ্ধৃতি |
| ‘ ’ | একক উদ্ধৃতিচিহ্ন | উদ্ধৃতির ভিতরে উদ্ধৃতি বা বিশেষভাবে চিহ্নিত শব্দ |
| — | ড্যাশ | আকস্মিক ছেদ, জোর বা সংযোজিত ব্যাখ্যা |
| - | হাইফেন | ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত শব্দাংশ বা যুগ্ম শব্দ |
| ( ) | প্রথম বন্ধনী | মূল বাক্যের অতিরিক্ত তথ্য |
| … | ত্রিবিন্দু | অসমাপ্তি, ইতস্তত ভাব বা বাদ দেওয়া অংশ |
দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন ও কোলন
দাঁড়ি (।) একটি সম্পূর্ণ বিবৃতিমূলক বা নির্দেশমূলক বাক্যের শেষে বসে—আজ বিদ্যালয় বন্ধ। শিরোনাম বা তালিকার প্রতিটি অসম্পূর্ণ পদের শেষে অকারণে দাঁড়ি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কমা (,) সমজাতীয় পদ আলাদা করে—আম, জাম, লিচু ও কাঁঠাল। সম্বোধনের পরেও কমা বসে—মিতা, দরজাটি বন্ধ করো। তবে কর্তা ও ক্রিয়ার মধ্যে শুধু পড়ার বিরতি মনে করে কমা বসানো ঠিক নয়।
সেমিকোলন (;) দুটি পূর্ণ কিন্তু ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বক্তব্যকে যুক্ত রাখতে পারে—আকাশ মেঘলা ছিল; তবু বৃষ্টি হলো না। আধুনিক সাধারণ গদ্যে এর ব্যবহার সীমিত; অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়ি ব্যবহার করলেই বাক্য বেশি স্বচ্ছ হয়।
কোলন (:) কোনো সম্পূর্ণ বক্তব্যের পরে ব্যাখ্যা, তালিকা বা উদাহরণ সূচিত করে—আমাদের তিনটি উপকরণ লাগবে: খাতা, কলম ও রং। ক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মের আগে অকারণে কোলন বসানো উচিত নয়।
প্রশ্নচিহ্ন ও বিস্ময়চিহ্ন
প্রশ্নচিহ্ন (?) প্রত্যক্ষ প্রশ্নের শেষে বসে—তুমি কখন ফিরবে? কিন্তু পরোক্ষ প্রশ্নে সাধারণত দাঁড়ি হয়—সে জানতে চাইল আমি কখন ফিরব।
বিস্ময়চিহ্ন (!) বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ, আহ্বান বা সতর্কতা প্রকাশ করে—বাহ, কী সুন্দর! সাবধান! একই বাক্যে একাধিক বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার করলে লেখা অতিরঞ্জিত দেখাতে পারে।
উদ্ধৃতিচিহ্ন ও বন্ধনী
সরাসরি উক্তি দ্বৈত উদ্ধৃতিচিহ্নে লেখা হয়—শিক্ষক বললেন, “আগামীকাল বই আনবে।” উদ্ধৃতির ভিতরে আরেকটি উদ্ধৃতি থাকলে একক উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করা যায়—তিনি বললেন, “রবীন্দ্রনাথের ‘সভ্যতার সংকট’ পড়ো।”
প্রথম বন্ধনী ( ) মূল বাক্যের সহায়ক তথ্য ধরে—কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বন্ধনীর অংশ বাদ দিলেও মূল বাক্যের ব্যাকরণগত কাঠামো সম্পূর্ণ থাকা উচিত।
ড্যাশ, হাইফেন ও সময়সীমা
ড্যাশ (—) বাক্যের মধ্যে জোরালো ছেদ বা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা আনে—তার একটিই লক্ষ্য—সবার জন্য শিক্ষা। ড্যাশের দুই পাশে সাধারণত ফাঁক রাখার রীতি পুরো লেখায় একই হওয়া দরকার।
হাইফেন (-) ড্যাশের চেয়ে ছোট এবং শব্দস্তরে ব্যবহার হয়—বাংলা-ইংরেজি অভিধান, উত্তর-পূর্ব ভারত। দুটি আলাদা বাক্যাংশ বিচ্ছিন্ন করতে হাইফেন ব্যবহার করা যায় না। সংখ্যা বা সময়ের পরিসর বোঝাতে এন ড্যাশ (–) উপযোগী—২০২৫–২০২৬, পৃষ্ঠা ১৫–২০।
ত্রিবিন্দু ও স্ল্যাশ
ত্রিবিন্দু (…) অসমাপ্ত বক্তব্য, দ্বিধা বা উদ্ধৃতির বাদ দেওয়া অংশ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়—আমি ভেবেছিলাম… থাক, পরে বলব। তিনটির বেশি এলোমেলো বিন্দু ব্যবহার করা উচিত নয়।
স্ল্যাশ (/) বিকল্প, ভগ্নাংশ (Fraction) বা সংক্ষিপ্ত সংখ্যাতাত্ত্বিক রূপে দেখা যায়—১/২, হ্যাঁ/না। সাধারণ গদ্যে বারবার স্ল্যাশ না দিয়ে বা, এবং ইত্যাদি সংযোজক ব্যবহার করলে লেখা বেশি স্বাভাবিক হয়।
বিরাম চিহ্ন নির্ধারণে শুধু কোথায় থামতে হবে তা নয়, বাক্যের কোন অংশের সঙ্গে কোন অংশের সম্পর্ক এবং লেখক কী অর্থ প্রকাশ করতে চান—সেটিই প্রধান বিবেচ্য।
OWNER QUIZ TOOL
Add a test to this topic
The quiz form will automatically select this topic and its primary category.
➕ Add a Quiz for This Topic