TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

রাজনৈতিক বিকাশ

মৌর্য-পরবর্তী আঞ্চলিক শক্তি, গুপ্ত, হর্ষ, পল্লব–চালুক্য, প্রশাসন, ভূমিদান ও সামন্তীয় সম্পর্কের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

রাজনৈতিক বিকাশ

সময় ও প্রধান পরিবর্তনের রেখাচিত্র

আনুমানিক সময়রাজনৈতিক ঘটনাবৃহত্তর তাৎপর্য
খ্রিস্টপূর্ব 185-এর কাছাকাছিমৌর্য শাসনের অবসান; শুঙ্গদের উত্থানউত্তর ভারতে আঞ্চলিক শক্তির বৃদ্ধি
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয়–প্রথম শতাব্দীইন্দো-গ্রিক, শক ও অন্যান্য উত্তর-পশ্চিমী শক্তিসীমান্ত অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ (Communication)
খ্রিস্টীয় প্রথম–তৃতীয় শতাব্দীকুষাণ ও সাতবাহন শক্তির বিস্তারস্থল ও সমুদ্রবাণিজ্যপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব
খ্রিস্টীয় চতুর্থ–ষষ্ঠ শতাব্দীগুপ্তদের উত্থানউত্তর ভারতে বৃহৎ সাম্রাজ্য (Empire), কিন্তু স্থানীয় শক্তিও সক্রিয়
খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগহর্ষবর্ধনের শাসনউত্তর ভারতের কিছু অংশে সাময়িক রাজনৈতিক সংহতি
একই বিস্তৃত সময়পল্লব, চালুক্যসহ দাক্ষিণাত্যের শক্তিআঞ্চলিক রাজ্য, নগর ও মন্দিরকেন্দ্রিক ক্ষমতার বিকাশ

তারিখগুলি আনুমানিক। কোনো রাজবংশের ক্ষমতা সব অঞ্চলে সমান ছিল না এবং মানচিত্রের সীমানাও আধুনিক রাষ্ট্রসীমার মতো স্থির ছিল না।

ইতিহাস জানার প্রধান উৎস

উৎস মিলিয়ে দেখার ধারা:

রাজকীয় দাবি → সমকালীন মুদ্রা ও দলিল → প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ → অন্য অঞ্চলের বিবরণ → যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত

গুপ্তদের উত্থান

গুপ্ত রাজবংশের প্রথম দিকের শাসকদের মধ্যে শ্রীগুপ্ত ও ঘটোৎকচের নাম পাওয়া যায়। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং লিচ্ছবি বংশের কুমারদেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তাঁদের যুগ্ম প্রতিকৃতিযুক্ত মুদ্রা এই বৈবাহিক সম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্ব দেখায়।

শাসকগুরুত্বপূর্ণ দিকপ্রমাণের ধরন
প্রথম চন্দ্রগুপ্তরাজবংশের শক্ত ভিত; লিচ্ছবি সম্পর্কমুদ্রা ও বংশপরিচয়
সমুদ্রগুপ্তসামরিক অভিযান, বিভিন্ন শাসকের সঙ্গে ভিন্ন সম্পর্কপ্রয়াগ প্রশস্তি ও মুদ্রা
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তপশ্চিম ভারতে প্রভাব; রৌপ্যমুদ্রা; সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতামুদ্রা, শিলালিপি (Inscription) ও সাহিত্য
কুমারগুপ্তদীর্ঘ শাসন; প্রশাসনিক ধারাবাহিকতাশিলালিপি ও মুদ্রা
স্কন্দগুপ্তবহিরাগত আক্রমণ প্রতিরোধের দাবি; চাপের সময়শিলালিপি ও মুদ্রা

সমুদ্রগুপ্ত ও প্রয়াগ প্রশস্তি

সমুদ্রগুপ্ত সম্পর্কে প্রধান লিখিত উৎস হল তাঁর সভাকবি হরিষেণ রচিত প্রয়াগ প্রশস্তি। এটি অশোকের একটি স্তম্ভে উৎকীর্ণ। ‘প্রশস্তি’ হল শাসকের গুণ, বংশ ও সাফল্যের প্রশংসামূলক রচনা। এটি মূল্যবান ঐতিহাসিক উৎস, কিন্তু নিরপেক্ষ যুদ্ধবিবরণী নয়।

প্রশস্তিতে সব পরাজিত শাসকের সঙ্গে একই আচরণের কথা নেই:

শাসক বা অঞ্চলবর্ণিত নীতিরাজনৈতিক অর্থ
আর্যাবর্তের কয়েকজন শাসকপরাজিত করে রাজ্য সংযুক্ত করার দাবিপ্রত্যক্ষ কর্তৃত্ব বিস্তারের চেষ্টা
দক্ষিণাপথের রাজারাপরাজিত করে মুক্তি ও পুনঃপ্রতিষ্ঠাদূরবর্তী অঞ্চলে আনুগত্য ও মর্যাদা লাভ
সীমান্তবর্তী রাজ্যকর, আদেশ পালন ও উপস্থিতিপরোক্ষ অধীনতা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক
গণ ও উপজাতীয় শক্তিআনুগত্য স্বীকারসাম্রাজ্যের প্রান্তে বহুস্তরীয় সম্পর্ক
দূরবর্তী শাসকদূত, উপহার বা বৈবাহিক সম্পর্কের দাবিসরাসরি শাসন নয়; মর্যাদার স্বীকৃতি

অতএব ‘অভিযান হয়েছে’ এবং ‘স্থায়ীভাবে প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’—দুটি এক কথা নয়।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শাসন

বৃহৎ রাজ্য পরিচালনায় শাসকের কর্তৃত্ব বিভিন্ন স্তরে কাজ করত।

রাজা → প্রদেশ বা দেশ → জেলা বা বিষয় → গ্রাম ও নগর

শাসনের ধরনবৈশিষ্ট্যসম্ভাব্য সুবিধাসীমাবদ্ধতা
প্রত্যক্ষ শাসনরাজকর্মচারী, কর সংগ্রহ ও নিয়মিত নির্দেশকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক বেশিদূরত্ব ও যোগাযোগের সমস্যা
পরোক্ষ শাসনস্থানীয় রাজা বা প্রধান আনুগত্য স্বীকার করতেনকম ব্যয়ে বিস্তৃত প্রভাবআনুগত্য পরিবর্তনশীল হতে পারত
সামন্তীয় সম্পর্কঅধীন শাসক উপহার, সৈন্য বা সেবা দিতেনযুদ্ধের সময় সহায়তাশক্তিশালী হলে স্বাধীনতার চেষ্টা
ভূমিদানের মাধ্যমে অধিকারগ্রহীতা কিছু রাজস্ব ও স্থানীয় অধিকার পেতেননতুন অঞ্চল ও কৃষির প্রসারে সহায়তারাজস্ব ও কর্তৃত্ব স্থানীয় হাতে সরে যেতে পারত

রাজা, মন্ত্রী ও কর্মকর্তা

রাজাকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী বলে প্রচার করা হলেও শাসন ছিল বহু মানুষের সম্মিলিত কাজ। মন্ত্রী, সেনাপতি, দূত, রাজস্বকর্মী, নথিরক্ষক এবং প্রাদেশিক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা প্রশাসন চালাতেন। একই ব্যক্তি কখনও একাধিক পদও ধারণ করতেন। কিছু পদ বংশানুক্রমিক হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা যায়।

গুপ্ত যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক শব্দ:

শব্দসরল অর্থ
ভুক্তিবড় প্রাদেশিক একক
বিষয়জেলার মতো প্রশাসনিক একক
উপরিকপ্রাদেশিক স্তরের কর্মকর্তা
বিষয়পতিবিষয় বা জেলার প্রধান
কুমারামাত্যউচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী
সন্ধিবিগ্রহিকসন্ধি (Sandhi) ও যুদ্ধসংক্রান্ত কর্মকর্তা
মহাদণ্ডনায়কউচ্চ সামরিক বা বিচারসংক্রান্ত পদ

নগর ও গ্রামের অংশগ্রহণ

প্রশাসন শুধু রাজদরবারে সীমাবদ্ধ ছিল না। কিছু দলিলে নগরশ্রেষ্ঠী, সার্থবাহ, প্রথম কুলিক ও প্রথম কায়স্থের মতো প্রতিনিধির উল্লেখ আছে।

প্রতিনিধিসম্ভাব্য ভূমিকা
নগরশ্রেষ্ঠীধনী বণিক বা নগরের বাণিজ্যিক নেতৃত্ব
সার্থবাহদূরপাল্লার বণিকদলের নেতা
প্রথম কুলিকপ্রধান কারিগর বা কারিগরগোষ্ঠীর প্রতিনিধি
প্রথম কায়স্থপ্রধান লেখক বা নথিরক্ষক

এগুলি থেকে বোঝা যায়, সম্পদশালী বণিক, কারিগর ও লেখকগোষ্ঠী স্থানীয় সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। তবে সাধারণ কৃষক, শ্রমজীবী ও নারীর মতামত একইভাবে নথিভুক্ত হয়েছে—এমন প্রমাণ নেই।

ভূমিদান ও পরিবর্তিত ক্ষমতার সম্পর্ক

রাজা বা স্থানীয় শাসক ব্রাহ্মণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা বা অন্য গ্রহীতাকে জমি দান করতেন। অনেক দান তাম্রশাসনে লেখা হত। দানপত্রে জমির সীমানা, গ্রাম, কর, গ্রহীতার অধিকার এবং কখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্তব্য লেখা থাকত।

ভূমিদানের সম্ভাব্য ধারা:

রাজকীয় অনুমোদন → জমি ও রাজস্বের অধিকার হস্তান্তর → গ্রহীতার স্থানীয় প্রভাব বৃদ্ধি → নতুন কৃষিজমি বা বসতি বিস্তার → কেন্দ্র ও এলাকার সম্পর্কের পরিবর্তন

ভূমিদানের দিকতাৎপর্য
কর গ্রহণের অধিকাররাজস্বের অংশ গ্রহীতার হাতে যেত
সীমানার লিখিত বিবরণজমির অধিকার নির্দিষ্ট করার চেষ্টা
স্থানীয় কর্তব্যের উল্লেখকৃষক ও বাসিন্দার ওপর নতুন দাবি তৈরি হতে পারত
অনাবাদি জমি ব্যবহারের উদ্যোগকৃষি (Agriculture) ও বসতি বিস্তারের সম্ভাবনা
ধর্মীয় বা শিক্ষাকেন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতাসংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারত

সব ভূমিদান একই রকম ছিল না। দানপত্রে দাবি করা অধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকর ছিল, তা অন্য প্রমাণ দিয়ে যাচাই করতে হয়।

সামন্ত ও বহুকেন্দ্রিক ক্ষমতা

‘সামন্ত’ শব্দটি প্রথমে প্রতিবেশী বা অধীন শাসক বোঝাতে ব্যবহৃত হত; পরে রাজদরবারের পদমর্যাদাসম্পন্ন অধীন প্রধানের অর্থও পায়। তাঁরা উপহার, কর বা সৈন্য দিতে পারতেন এবং দরবারে উপস্থিত থাকতেন। কেন্দ্র দুর্বল হলে তাঁদের কেউ স্বাধীন শাসক হয়ে উঠতে পারতেন।

কেন্দ্র শক্তিশালী হলেকেন্দ্র দুর্বল হলে
সামন্ত আনুগত্য ও সৈন্য প্রদান করেনসামন্ত কর বা সেবা বন্ধ করতে পারেন
রাজা উপাধি ও জমি প্রদান করেনস্থানীয় শাসক নিজস্ব উপাধি গ্রহণ করতে পারেন
অভিযানে সম্মিলিত বাহিনী গঠিত হয়আঞ্চলিক সংঘর্ষ ও নতুন রাজবংশের উত্থান ঘটে

এই ব্যবস্থা পুরো উপমহাদেশে একই সময়ে একই রূপে ছিল না। ‘সামন্ততন্ত্র (Feudalism)’ শব্দটি ব্যবহার করলে স্থান, সময় ও প্রমাণ নির্দিষ্ট করা জরুরি।

রাজকীয় ক্ষমতার প্রকাশ

শাসকের ক্ষমতা শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, নানা প্রতীক ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও প্রকাশিত হত।

মাধ্যমকী বার্তা দেওয়া হত
মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি উপাধিঅন্য রাজাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব
অশ্বমেধ যজ্ঞসার্বভৌমত্ব ও সামরিক সাফল্যের দাবি
স্বর্ণমুদ্রাসমৃদ্ধি, রাজপ্রতিমা, ধর্মীয় প্রতীক ও বীরত্ব
প্রশস্তিআদর্শ রাজা, বিজয়ী ও দাতা হিসেবে পরিচয়
মন্দির ও ধর্মীয় দানপুণ্য, মর্যাদা ও সামাজিক সমর্থন
বৈবাহিক সম্পর্করাজবংশের মর্যাদা ও রাজনৈতিক জোট

মুদ্রায় সমুদ্রগুপ্তকে বীণা বাজাতে দেখা যায়। এর অর্থ শুধু সংগীতপ্রেম নয়; যোদ্ধা, দাতা ও সংস্কৃতিমান রাজা—এই বহুমুখী আদর্শ তুলে ধরা।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ও পশ্চিম ভারতের গুরুত্ব

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় পশ্চিম ভারতের শক ক্ষত্রপদের ক্ষমতা হ্রাস পায়। পশ্চিমের বাণিজ্যপথ ও বন্দর অঞ্চলে প্রবেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শক রৌপ্যমুদ্রার আদলে গুপ্ত রৌপ্যমুদ্রা জারি করা নতুন অঞ্চলের প্রচলিত লেনদেনরীতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

শক শক্তির পরাজয় → পশ্চিম অঞ্চলে গুপ্ত প্রভাব → রৌপ্যমুদ্রা প্রচলন → বাণিজ্যপথ ও আঞ্চলিক সম্পদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ

‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে যুক্ত। তবে পরবর্তী লোককথার প্রতিটি ঘটনা তাঁর ঐতিহাসিক জীবনের সরাসরি বিবরণ নয়।

হর্ষবর্ধনের রাজনৈতিক উত্থান

খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগে হর্ষবর্ধন থানেশ্বর ও পরে কনৌজকে কেন্দ্র করে উত্তর ভারতের বৃহৎ অংশে প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর সম্পর্কে বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত’, শিলালিপি এবং চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ।

হর্ষ সমগ্র উপমহাদেশের শাসক ছিলেন না। নর্মদার দক্ষিণে চালুক্য শাসক দ্বিতীয় পুলকেশীর প্রতিরোধ তাঁর দক্ষিণমুখী অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয় বলে আইহোল প্রশস্তিতে দাবি করা হয়েছে। দুটি রাজদরবারের উৎস তুলনা করে রাজনৈতিক সীমা বুঝতে হয়।

পল্লব ও চালুক্য

দক্ষিণ ও দাক্ষিণাত্যে পল্লব ও চালুক্য শক্তির সংঘর্ষ রাজনৈতিক বিকাশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। পল্লবদের কেন্দ্র ছিল কাঞ্চীপুরম এবং প্রাথমিক চালুক্যদের কেন্দ্র ছিল বাতাপি বা বর্তমান বাদামি। উর্বর অঞ্চল, পথ, নগর ও মর্যাদাপূর্ণ রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ চলত।

শক্তিপ্রধান কেন্দ্রপরিচিত শাসকগুরুত্বপূর্ণ দিক
পল্লবকাঞ্চীপুরমমহেন্দ্রবর্মণ, প্রথম নরসিংহবর্মণশৈলকর্তিত ও নির্মিত মন্দির; চালুক্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ
প্রাথমিক চালুক্যবাতাপিদ্বিতীয় পুলকেশীদাক্ষিণাত্যে বিস্তার; হর্ষের অগ্রযাত্রা প্রতিরোধের দাবি

প্রথম নরসিংহবর্মণ বাতাপি দখল করে ‘বাতাপিকোণ্ড’ উপাধি গ্রহণ করেন। কিন্তু একটি রাজধানী দখল মানেই প্রতিপক্ষের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে যায় না; চালুক্যরা পরে পুনরায় শক্তি অর্জন করে।

রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের যোগসূত্র

রাজনৈতিক পরিবর্তন কেবল রাজাদের যুদ্ধের ইতিহাস নয়।

কৃষিজ উৎপাদন → কর ও উদ্বৃত্ত → সেনা ও প্রশাসন → পথ ও নগরের নিয়ন্ত্রণ → দান ও স্থাপত্য → রাজকীয় মর্যাদা

আবার:

ভূমিদান → স্থানীয় গ্রহীতার ক্ষমতা → কৃষকের কর্তব্যে পরিবর্তন → নতুন বসতি ও সামাজিক সম্পর্ক → কেন্দ্রের কর্তৃত্বের নতুন রূপ

রাজনৈতিক ব্যবস্থাঅর্থনৈতিক ভিত্তিসামাজিক প্রভাব
বৃহৎ সাম্রাজ্যকৃষিকর, বাণিজ্য ও অধীন শক্তির উপহারকর্মকর্তা ও দরবারি গোষ্ঠীর বৃদ্ধি
আঞ্চলিক রাজ্যস্থানীয় কৃষি, পথ, খনি ও বন্দরআঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা
ভূমিদানজমির রাজস্ব ও শ্রমগ্রহীতার মর্যাদা ও স্থানীয় কর্তৃত্ব বৃদ্ধি
সামন্তীয় সম্পর্ককর, উপহার ও সামরিক সেবাবহুস্তরীয় শাসকগোষ্ঠী তৈরি

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
গুপ্ত শাসকেরা সমগ্র ভারত শাসন করতেনতাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তৃত ছিল, কিন্তু সব অঞ্চল একই নিয়ন্ত্রণে ছিল না
প্রশস্তির প্রতিটি দাবি নিরপেক্ষ সত্যপ্রশস্তি তথ্য দেয়, আবার রাজকীয় ভাবমূর্তিও নির্মাণ করে
অভিযানে জয় মানেই স্থায়ী সংযুক্তিঅনেক শাসককে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে আনুগত্য নেওয়া হত
ভূমিদান মানেই জমির ব্যক্তিগত মালিকানাদানের সঙ্গে রাজস্ব, অধিকার ও কর্তব্যের বিভিন্ন সমন্বয় থাকতে পারে
সামন্ত সবসময় দুর্বল কর্মচারীতিনি শক্তিশালী স্থানীয় শাসক ও ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাজাও হতে পারতেন
রাজনৈতিক ইতিহাস কেবল যুদ্ধের তালিকাকর, কৃষি, বাণিজ্য, দান, প্রশাসন ও সামাজিক সম্পর্কও এর অংশ

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

09. রাজনৈতিক বিকাশ — MCQ Test
30 questions

Start quiz →