TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান

ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা, ধাতুবিদ্যা, শিল্প ও স্থাপত্যের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান

প্রাচীন ভারতের সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান কোনো এক রাজা, ধর্ম বা অঞ্চলের সৃষ্টি নয়। কৃষক, কারিগর, চিকিৎসক, গণক, জ্যোতির্বিদ, কবি, নাট্যকার, স্থপতি, ভাস্কর, সন্ন্যাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বহু প্রজন্মের অভিজ্ঞতা এতে যুক্ত হয়েছে। ভারত, মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় জগতের যোগাযোগও জ্ঞান ও শিল্পের বিকাশকে প্রভাবিত করেছে।

সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের প্রধান ক্ষেত্র

ক্ষেত্রঅন্তর্ভুক্ত বিষয়প্রধান উৎস
ভাষা ও সাহিত্যকাব্য, নাটক, ব্যাকরণ, জীবনী ও কাহিনিপাণ্ডুলিপি (Manuscript), শিলালিপি (Inscription) ও উদ্ধৃতি
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাশিক্ষক–শিক্ষার্থী, বিহার, আশ্রম ও পাঠকেন্দ্রভ্রমণবৃত্তান্ত, গ্রন্থ ও প্রত্নস্থল
গণিতসংখ্যা, গণনা, ভগ্নাংশ (Fraction), ক্ষেত্রফল (Area) ও বীজগণিত (Algebra)গাণিতিক গ্রন্থ ও ব্যবহারিক নথি
জ্যোতির্বিজ্ঞানগ্রহ, নক্ষত্র, গ্রহণ, দিন ও বর্ষ গণনাজ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ ও পঞ্জিকা
চিকিৎসারোগনির্ণয়, ওষুধ, খাদ্য, শল্যচিকিৎসাচিকিৎসাশাস্ত্রের সংকলন
ধাতুবিদ্যালোহা, তামা, স্বর্ণ, সংকর ধাতু ও মুদ্রাস্তম্ভ, মূর্তি, যন্ত্র ও ধাতব বস্তু
শিল্প ও স্থাপত্যস্তূপ, গুহা, মন্দির, চিত্র ও ভাস্কর্যটিকে থাকা স্থাপনা ও প্রত্নবস্তু (Artefact)

জ্ঞান গঠনের ধারা:

পর্যবেক্ষণ → ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা → নিয়ম নির্ণয় → লিখিত সংকলন → শিক্ষা ও বিতর্ক → সংশোধন ও বিস্তার

সময়রেখায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন

আনুমানিক সময়ব্যক্তি, গ্রন্থ বা নিদর্শনগুরুত্ব
খ্রিস্টপূর্ব শেষ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীগুলিচরকসংহিতা ও সুশ্রুতসংহিতার সংকলন ও পরিমার্জনচিকিৎসাজ্ঞানের সুসংবদ্ধ রূপ
খ্রিস্টীয় প্রথম–তৃতীয় শতাব্দীগান্ধার ও মথুরা শিল্পরীতিবুদ্ধ ও অন্যান্য মূর্তির নতুন রূপ
খ্রিস্টীয় চতুর্থ–পঞ্চম শতাব্দীকালিদাসের সাহিত্যিক রচনাসংস্কৃত কাব্য ও নাটকের উৎকর্ষ
499 খ্রিস্টাব্দআর্যভটীয়গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ
খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীবরাহমিহিরের বৃহৎসংহিতা ও পঞ্চসিদ্ধান্তিকাজ্যোতির্বিজ্ঞান ও বহুবিষয়ক জ্ঞানের সংকলন
খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীব্রহ্মগুপ্তের ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্তশূন্য ও ঋণাত্মক সংখ্যার গণনার নিয়ম
খ্রিস্টীয় চতুর্থ–ষষ্ঠ শতাব্দীঅজন্তার বহু গুহাচিত্রকাহিনি, সমাজ, রং ও চিত্রকৌশল
গুপ্তযুগমেহরৌলির লৌহস্তম্ভউন্নত লোহা প্রস্তুত ও সংরক্ষণক্ষমতা

সময় নির্ধারণে গ্রন্থের মূল রচনা, পরবর্তী সংযোজন এবং বর্তমান পাণ্ডুলিপির তারিখ আলাদা হতে পারে।

ভাষার বহুত্ব

প্রাচীন ভারতে সংস্কৃত, পালি, বিভিন্ন প্রাকৃত ভাষা এবং তামিলসহ বহু ভাষায় জ্ঞান ও সাহিত্য রচিত হয়েছে। ভাষার ব্যবহার উদ্দেশ্য, অঞ্চল, ধর্মীয় পরম্পরা এবং শ্রোতার ওপর নির্ভর করত।

ভাষাব্যবহারের কয়েকটি ক্ষেত্রউদাহরণ
সংস্কৃতকাব্য, নাটক, ব্যাকরণ, প্রশস্তি ও শাস্ত্রীয় গ্রন্থকালিদাসের রচনা, প্রয়াগ প্রশস্তি
পালিবৌদ্ধ ধর্মীয় সাহিত্যত্রিপিটকের পরম্পরা
প্রাকৃতশিলালিপি, জৈন সাহিত্য, নাটকের সংলাপনানা আঞ্চলিক প্রাকৃত রূপ
তামিলপ্রেম, যুদ্ধ, সমাজ, নীতি ও ভক্তিমূলক রচনাসঙ্গম সাহিত্য ও পরবর্তী ভক্তিকাব্য

‘সংস্কৃতই একমাত্র জ্ঞানের ভাষা ছিল’—এই ধারণা ভুল।

পাণ্ডুলিপি কীভাবে টিকে থাকে

গ্রন্থগুলি তালপাতা, ভূর্জপত্র বা অন্য উপাদানে হাতে লেখা হত। এগুলি সহজে নষ্ট হওয়ায় বারবার নকল করতে হত। নকলকারীর ভুল, ব্যাখ্যা বা সংযোজনের ফলে একই গ্রন্থের পাঠভেদ তৈরি হতে পারত।

মৌখিক শিক্ষা → প্রাথমিক রচনা → হাতে নকল → অঞ্চলভেদে পাঠভেদ → টীকা ও ব্যাখ্যা → আধুনিক পাঠ-সমালোচনা

সমস্যাগবেষকের করণীয়
মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছেবিভিন্ন কপি তুলনা করা
বানান বা বাক্যে পার্থক্যপ্রাচীনতম ও যুক্তিসংগত পাঠ নির্ণয়
পরবর্তী সংযোজনভাষা, বিষয় ও উদ্ধৃতির সাহায্যে স্তর চিহ্নিত করা
রচয়িতার পরিচয় অনিশ্চিতঅতিরিক্ত নিশ্চয়তা না দেখানো

কাব্য, নাটক ও রাজদরবার

কালিদাসের রচনার মধ্যে ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’, ‘মেঘদূত’‘রঘুবংশ’ বিশেষ পরিচিত। তাঁর রচনায় প্রকৃতি, মানবিক অনুভূতি, রাজধর্ম, নগর ও আশ্রমজীবনের নানা চিত্র দেখা যায়। তবে সাহিত্য বাস্তব সমাজের সরাসরি প্রতিবেদন নয়; কল্পনা, অলংকার ও আদর্শায়নও থাকে।

সাহিত্যিক উৎস থেকে জানা যায়যা সরাসরি ধরে নেওয়া যায় না
পোশাক, যান, নগর ও প্রকৃতির বর্ণনাবর্ণিত প্রতিটি ঘটনা সত্যিই ঘটেছিল
সামাজিক আদর্শ ও সম্পর্কসমাজের সব মানুষের জীবন একই ছিল
রাজা ও দরবারের কাঙ্ক্ষিত আচরণশাসকেরা সর্বদা সেই আদর্শ মেনেছেন
ভাষা ও নান্দনিক রুচিসাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা একই ছিল

ব্যাকরণ ও ভাষাবিজ্ঞান

পাণিনির ‘অষ্টাধ্যায়ী’ সংস্কৃত ভাষার ধ্বনি (Sound), শব্দগঠন ও বাক্যরীতিকে সংক্ষিপ্ত সূত্রে বিশ্লেষণ করে। তাঁর সময় গুপ্তযুগের অনেক আগে, সাধারণভাবে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের মধ্যভাগের কাছাকাছি ধরা হয়। পতঞ্জলির ‘মহাভাষ্য’ পাণিনীয় ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা।

ধারণাসরল ব্যাখ্যা
সূত্রঅতি সংক্ষিপ্ত নিয়মবাক্য
ধাতুশব্দগঠনের মৌলিক ক্রিয়ামূল
প্রত্যয় (Suffix)মূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন রূপ তৈরি করে
সন্ধি (Sandhi)পাশাপাশি ধ্বনির মিলনে রূপপরিবর্তন

পাণিনির কাজ আধুনিক কম্পিউটার-প্রণালীর মতো ছিল—এমন সরাসরি তুলনা বিভ্রান্তিকর। তাঁর ব্যাকরণ অত্যন্ত নিয়মবদ্ধ, কিন্তু তা নিজস্ব ঐতিহাসিক ভাষাচর্চার ফল।

শিক্ষা ও জ্ঞানকেন্দ্র

শিক্ষা পরিবার, কারিগরগোষ্ঠী, আশ্রম, মন্দির, বিহার এবং শিক্ষকের আবাসে হতে পারত। কৃষি (Agriculture), বয়ন, ধাতুকাজ বা চিকিৎসার অনেক জ্ঞান কাজে অংশ নিয়ে শেখা হত। উচ্চতর পাঠে স্মরণ, পাঠ, ব্যাখ্যা, প্রশ্ন, বিতর্ক ও অনুশীলন ব্যবহৃত হত।

শিক্ষার পরিবেশশেখার ধরনসম্ভাব্য বিষয়
পরিবার ও পেশাজীবী গোষ্ঠীপর্যবেক্ষণ ও হাতে-কলমে কাজকৃষি, বয়ন, নির্মাণ ও বাণিজ্য
শিক্ষকের আবাসপাঠ, স্মরণ, ব্যাখ্যা ও বিতর্কভাষা, দর্শন, ধর্ম ও গণনা
বৌদ্ধ বিহারবক্তৃতা, আলোচনা, পাণ্ডুলিপি ও তর্কদর্শন, ব্যাকরণ, চিকিৎসা ও যুক্তিবিদ্যা
মন্দির ও অন্যান্য কেন্দ্রপাঠ, দান ও বিশেষজ্ঞের পৃষ্ঠপোষকতাধর্মীয় পাঠ, শিল্প ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

নালন্দা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ মহাবিহার ও জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়। সেখানে বহু অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী ও পণ্ডিত আসতেন। তাকে বর্তমান অর্থে সম্পূর্ণ আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় বলা হলে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য ঢাকা পড়ে যায়।

ভারতীয় সংখ্যা-পদ্ধতি

স্থানীয় মান (Place Value) নির্ভর দশমিক সংখ্যা-পদ্ধতিতে একটি অঙ্কের মূল্য তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। যেমন 505-এ প্রথম 5-এর মান 500, শেষ 5-এর মান 5। শূন্য কোনো স্থান ফাঁকা আছে তা বোঝায় এবং নিজেও একটি সংখ্যা হিসেবে গাণিতিক নিয়মে ব্যবহৃত হয়।

ধারণাউদাহরণগুরুত্ব
দশমিক ভিত্তিএকক, দশক, শতকদশটি অঙ্কে বড় সংখ্যা লেখা যায়
স্থানীয় মান27 ও 207-এ 2-এর মান আলাদাসংক্ষিপ্ত ও কার্যকর গণনা
শূন্যের স্থানচিহ্ন204-এ কোনো দশক নেইঅবস্থানের অস্পষ্টতা দূর করে
শূন্য সংখ্যা হিসেবেযোগ, বিয়োগ ও গুণের নিয়মবীজগাণিতিক চিন্তার বিকাশে সহায়ক

শূন্য ‘একদিনে একজন ব্যক্তি আবিষ্কার করেছিলেন’—এমন বলা যায় না। স্থানচিহ্ন, প্রতীক এবং সংখ্যা হিসেবে শূন্যের নিয়ম বহু শতাব্দীতে বিকশিত হয়েছে।

আর্যভটের অবদান

আর্যভট 476 খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন বলে তাঁর গ্রন্থের তথ্য থেকে জানা যায়। 499 খ্রিস্টাব্দে রচিত ‘আর্যভটীয়’ গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত সূত্রগ্রন্থ।

বিষয়আর্যভটের আলোচনার গুরুত্ব
পাইয়ের মানবৃত্তের পরিধি নির্ণয়ে অত্যন্ত কাছাকাছি মান
ত্রিকোণমিতিজ্যা বা আধুনিক সাইনের পূর্ববর্তী ধারণার সারণি
স্থানীয় মানশব্দ ও বর্ণের সাহায্যে বৃহৎ সংখ্যা প্রকাশ
পৃথিবীর ঘূর্ণনআকাশের আপাত দৈনিক গতিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাহায্যে ব্যাখ্যা
গ্রহণপৃথিবী ও চাঁদের ছায়ার সাহায্যে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের ব্যাখ্যা

নৌকায় চলার সময় তীরের স্থির গাছকে পিছিয়ে যেতে দেখার উপমা দিয়ে আপাত গতি বোঝানো হয়। তিনি আধুনিক সব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ধারণা জানতেন—এমন দাবি যেমন ভুল, তেমনই তাঁর পর্যবেক্ষণভিত্তিক অবদানকে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস বলাও ভুল।

গ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ঘটনাঅবস্থানকী ঘটে
সূর্যগ্রহণসূর্য → চাঁদ → পৃথিবীচাঁদের ছায়া পৃথিবীর কোনো অংশে পড়ে
চন্দ্রগ্রহণসূর্য → পৃথিবী → চাঁদপৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে

প্রতিটি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ বা প্রতিটি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না, কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষতলের সঙ্গে কিছুটা হেলে আছে।

ব্রহ্মগুপ্ত ও সংখ্যার নিয়ম

ব্রহ্মগুপ্ত 628 খ্রিস্টাব্দে ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’ রচনা করেন। তিনি ধনাত্মক সংখ্যা, ঋণাত্মক সংখ্যা ও শূন্য নিয়ে গণনার নিয়ম সুসংবদ্ধ করেন। ধনকে সম্পদ এবং ঋণাত্মক সংখ্যাকে দেনার উপমায় বোঝানো হয়।

ক্রিয়ামূল ধারণা
সংখ্যার সঙ্গে শূন্য যোগসংখ্যাটি অপরিবর্তিত থাকে
সংখ্যা থেকে একই সংখ্যা বিয়োগফল শূন্য
সংখ্যা ও শূন্যের গুণফল শূন্য
ধনাত্মক ও ঋণাত্মক সংখ্যার যোগবিপরীত দিকের পরিমাণের পার্থক্য

শূন্য দিয়ে ভাগ সম্পর্কে প্রাচীন নিয়ম সম্পূর্ণ আধুনিক সংজ্ঞার সমান ছিল না। আধুনিক গণিতে শূন্য দিয়ে ভাগ অসংজ্ঞায়িত।

বরাহমিহির ও জ্ঞানসংকলন

ষষ্ঠ শতাব্দীর বরাহমিহির ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’য় পাঁচটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরম্পরার আলোচনা করেন। ‘বৃহৎসংহিতা’য় জ্যোতির্বিজ্ঞান ছাড়াও আবহাওয়া (Weather), জল, উদ্ভিদ, স্থাপত্য, রত্ন এবং নগর-পরিকল্পনার মতো বহু বিষয় আছে।

এ থেকে দুটি বিষয় বোঝা যায়:

  1. জ্ঞান বিভিন্ন দেশ ও পরম্পরা থেকে গ্রহণ ও সংশোধিত হত।
  2. প্রাচীন গ্রন্থে পর্যবেক্ষণ, ব্যবহারিক নিয়ম এবং জ্যোতিষবিশ্বাস পাশাপাশি থাকতে পারে; সব বক্তব্যকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক সত্য বলা যায় না।

চিকিৎসাশাস্ত্র

চরকসংহিতা মূলত দেহ, রোগের কারণ, রোগনির্ণয়, খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসকের আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। সুশ্রুতসংহিতায় শল্যচিকিৎসা, অঙ্গসংস্থান, ক্ষত, হাড়ভাঙা এবং শল্যযন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ আছে। বর্তমান রূপে উভয় গ্রন্থই বহু সময়ের সংকলন ও পরিমার্জনের ফল।

চিকিৎসার দিকচরকসংহিতাসুশ্রুতসংহিতা
প্রধান গুরুত্বঅন্তর্দৈহিক রোগ, খাদ্য ও ওষুধশল্যচিকিৎসা, ক্ষত ও অঙ্গসংস্থান
রোগনির্ণয়লক্ষণ, জীবনযাপন ও দেহের অবস্থাক্ষত, অঙ্গ ও শারীরিক পর্যবেক্ষণ
প্রশিক্ষণজ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নৈতিকতাঅনুশীলন, যন্ত্রচর্চা ও প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ

প্রাচীন চিকিৎসায় মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ছিল, আবার কিছু ধারণা বর্তমান প্রমাণের সঙ্গে মেলে না। তাই ঐতিহাসিক অবদানকে সম্মান করার অর্থ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করা নয়।

ধাতুবিদ্যা

মেহরৌলির লৌহস্তম্ভ প্রায় ছয় টন ওজনের একটি বৃহৎ লোহার নিদর্শন। এর নির্মাণে বহু লোহার খণ্ড উত্তপ্ত করে জোড়া দেওয়ার উন্নত দক্ষতা দরকার ছিল। এর পৃষ্ঠে গঠিত সুরক্ষামূলক স্তর মরচে ধরা ধীর করেছে। ‘স্তম্ভে একেবারেই মরচে ধরে না’ বলা অতিরঞ্জিত।

ধাতব নিদর্শনকী বোঝায়
লৌহস্তম্ভবৃহৎ লোহার খণ্ড প্রস্তুত ও জোড়ার দক্ষতা
স্বর্ণমুদ্রাছাঁচ, ওজন, বিশুদ্ধতা ও সূক্ষ্ম নকশা
তাম্রশাসনপাত তৈরি, খোদাই ও দীর্ঘস্থায়ী নথি
ব্রোঞ্জমূর্তিতামা-টিনের সংকর এবং মোম-হারানো ঢালাই পদ্ধতি

স্থাপত্যের পরিবর্তন

স্থাপত্যরূপপ্রধান বৈশিষ্ট্যব্যবহার
স্তূপঅর্ধগোল গম্বুজ, প্রদক্ষিণপথ ও বেষ্টনীস্মৃতি, উপাসনা ও ধর্মীয় সমাবেশ
চৈত্যউপাসনাকক্ষ; ভিতরে স্তূপ থাকতে পারেসমবেত উপাসনা
বিহারকক্ষ ও সাধারণ প্রাঙ্গণসন্ন্যাসীদের আবাস ও শিক্ষা
শৈলকর্তিত গুহাপাহাড় কেটে ভিতর থেকে নির্মাণউপাসনা, বাস ও দান
নির্মিত মন্দিরভিত্তি, গর্ভগৃহ, প্রবেশমণ্ডপ ও কখনও শিখরদেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা ও উপাসনা

শৈলকর্তিত স্থাপনা পাথরের খণ্ড জুড়ে তৈরি নয়; পাহাড়ের অখণ্ড অংশ কেটে গঠন করা হয়। নির্মিত মন্দিরে আলাদা পাথর বা ইট সাজিয়ে কাঠামো তৈরি হয়।

প্রাথমিক মন্দির স্থাপত্য

গুপ্ত ও সমসাময়িক সময়ে মন্দিরের গর্ভগৃহ, প্রবেশমণ্ডপ এবং শিখরের প্রাথমিক রূপ দেখা যায়। দেওগড়ের দশাবতার মন্দির, ভিতরগাঁওয়ের ইটের মন্দির এবং উদয়গিরির গুহা গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

গর্ভগৃহ → দেবমূর্তির প্রধান স্থান

মণ্ডপ → প্রবেশ বা সমাবেশের আচ্ছাদিত অংশ

শিখর → গর্ভগৃহের ওপর উঁচু নির্মাণ

মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়; শিল্পী, কারিগর, দাতা, পুরোহিত এবং স্থানীয় অর্থনীতির মিলনক্ষেত্রও হতে পারত।

ভাস্কর্যের আঞ্চলিক রীতি

দিকগান্ধার শিল্পরীতিমথুরা শিল্পরীতি
প্রধান উপাদানধূসর শিস্ট পাথরলালচে বেলেপাথর
দৃশ্যমান প্রভাবমধ্য এশীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় রীতির সঙ্গে সংযোগদেশীয় যক্ষরীতি ও স্থানীয় ভাস্কর্যপরম্পরা
পোশাকের প্রকাশগভীর ভাঁজযুক্ত আবরণদেহসংলগ্ন অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ বস্ত্র
বিষয়বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বসহ নানা মূর্তিবুদ্ধ, জৈন তীর্থঙ্কর ও ব্রাহ্মণ্য দেবমূর্তি

দুই রীতিকে ‘বিদেশি’‘ভারতীয়’ বলে সম্পূর্ণ আলাদা করা যায় না। শিল্পীরা বিভিন্ন রীতি গ্রহণ করে নতুন আঞ্চলিক রূপ নির্মাণ করেছেন।

অজন্তার চিত্রকলা

অজন্তার গুহাগুলির নির্মাণ ও চিত্রায়ণ একাধিক পর্যায়ে হয়েছে। বহু চিত্র বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনি, রাজদরবার, যাত্রা, বন, প্রাণী ও দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য দেখায়। দেয়ালের পৃষ্ঠ প্রস্তুত করে তার ওপর রং লাগানো হত; এটি সর্বাংশে ভেজা দেওয়ালে আঁকা খাঁটি ফ্রেস্কো নয়।

চিত্র থেকে জানা যায়ব্যাখ্যার সীমা
পোশাক, গয়না, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাবসব মানুষের দৈনন্দিন জীবন একই ছিল না
মুখভঙ্গি ও অঙ্গসঞ্চালনের দক্ষতাদৃশ্যগুলি আলোকচিত্রের মতো সরাসরি দলিল নয়
ধর্মীয় কাহিনি ও পৃষ্ঠপোষকতাকাহিনি ও ঐতিহাসিক ঘটনা আলাদা করতে হয়

জ্ঞান চলাচল ও বিশ্বসংযোগ

ভারতীয় সংখ্যা-পদ্ধতি পশ্চিম এশিয়ার পণ্ডিতদের রচনার মাধ্যমে আরও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রিক ও পশ্চিম এশীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ধারণার কিছু অংশ ভারতীয় পণ্ডিতেরা গ্রহণ ও পরিবর্তন করেন। বৌদ্ধ পণ্ডিত ও অনুবাদকরা ভারত, মধ্য এশিয়া ও চীনের মধ্যে গ্রন্থ বহন করেন।

যোগাযোগ (Communication) → অনুবাদ → স্থানীয় ব্যাখ্যা → সংশোধন → নতুন অঞ্চলে প্রচার

এই প্রক্রিয়াকে একমুখী ‘দান’ হিসেবে নয়, পারস্পরিক জ্ঞানবিনিময় হিসেবে দেখা উচিত।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
প্রাচীন ভারতের সব জ্ঞান সংস্কৃত ভাষায় ছিলপালি, প্রাকৃত, তামিল ও অন্যান্য ভাষাতেও সমৃদ্ধ জ্ঞানচর্চা ছিল
শূন্য একজন ব্যক্তি হঠাৎ আবিষ্কার করেনপ্রতীক, স্থানচিহ্ন ও গাণিতিক নিয়ম ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে
আর্যভট পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে—সব আধুনিক ধারণাই জানতেনতিনি পৃথিবীর দৈনিক ঘূর্ণন ও গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন; আধুনিক তত্ত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণ এক নয়
সাহিত্য সমাজের অবিকল ছবিসাহিত্য কল্পনা, আদর্শ ও বাস্তব উপাদানের সমন্বয়
লৌহস্তম্ভে কখনও মরচে ধরে নাবিশেষ উপাদান ও সুরক্ষামূলক স্তরের কারণে ক্ষয় অত্যন্ত ধীর
গান্ধার শিল্প সম্পূর্ণ বিদেশিস্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পরীতির মিশ্রণে এর বিকাশ
প্রাচীন চিকিৎসার সব কথা আজও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিতমূল্যবান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অপ্রমাণিত ধারণাও আছে

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

10. সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান — MCQ Test
30 questions

Start quiz →