TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Weekly Mock Tests2 tests
শিখন ও শিক্ষাবিজ্ঞানUpper Primary TET - Learning and Pedagogy

শিশুর বিকল্প ধারণা ও শিখনে ভুলের তাৎপর্য

শিশুর বিকল্প ধারণা কীভাবে গড়ে ওঠে, শেখার সময় ভুল কেন স্বাভাবিক এবং শিক্ষক কীভাবে ভুল ও পূর্বধারণাকে অর্থপূর্ণ শেখার সুযোগে রূপ দিতে পারেন তার বিশদ আলোচনা।

Author: Mr. Sandipan Roy, M.A., B.Ed. Last reviewed: 2026-09-25Report a correction

ভুল উত্তর দেখলে প্রথমে শিশুর কথাটি শুনুন। সে কী ভেবে উত্তর দিয়েছে, তা না জেনে ভুলের কারণ ঠিক করা যায় না। তার যুক্তি জানুন, অন্য একটি প্রশ্নে সেই যুক্তি কীভাবে ব্যবহার করে দেখুন, তারপর সাহায্য করুন।

চারপাশে যা দেখে, শিশু তা থেকে নিজের মতো করে নানা নিয়ম তৈরি করে। সেই নিয়ম পাঠ্যবইয়ের ব্যাখ্যার সঙ্গে না মিললে তাকে বিকল্প ধারণা (alternative conception) বলা হয়। তবে সব ভুল উত্তরের পিছনে এমন ধারণা থাকে না। কেউ প্রশ্নটি বুঝতে পারেনি, কেউ হিসাবের চিহ্ন ভুল পড়েছে, আবার কেউ তাড়াহুড়ো করেছে। তাই একটি উত্তর দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিশুকে তার ভাবনাটি বলতে দিন।

ভুল আর বিকল্প ধারণার তফাত কীভাবে বুঝবেন?

একটি শিশু ২/৫ + ১/৫-এর উত্তর ৩/১০ লিখেছে। সে কি লব ও হর দুটোই যোগ করার নিয়ম বানিয়েছে, নাকি একবারের অসতর্কতা? খাতার উত্তর থেকে তা বোঝা যায় না। তাকে একই ধরনের আরেকটি অঙ্ক, যেমন ১/৬ + ২/৬, করতে দিন। তারপর বলুন, “তুমি কীভাবে করলে, আমাকে দেখাও।” প্রতিবার লবের সঙ্গে লব এবং হরের সঙ্গে হর যোগ করলে তার ব্যবহৃত নিয়মটি জানা যাবে। অন্যদিকে, সে যদি দ্বিতীয় অঙ্কটি ঠিক করে এবং প্রথমটির ভুল নিজেই ধরতে পারে, তবে আগের উত্তরটি অসতর্কতার ফলও হতে পারে।

তিনটি সূত্র একসঙ্গে দেখুন: শিশু একই ধরনের প্রশ্নে বারবার কী করছে, নিজের পদ্ধতি কীভাবে বোঝাচ্ছে এবং ছবি বা বস্তু দিয়ে দেখাতে পারছে কি না। তারপরও সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ রাখুন। একটি শিশু একই বিষয়ে কিছু কাজ ঠিক, কিছু কাজ ভুল করতে পারে।

ভাষার অসুবিধাও আলাদা করে দেখতে হবে। “অবশিষ্টের অর্ধেক” কথাটির অর্থ না বুঝলে শিশু সঠিক গুণ বা ভাগ জানলেও অঙ্কটি ভুল করতে পারে। প্রশ্নটি তার পরিচিত ভাষায় বুঝিয়ে আবার করতে দিন। তখন ভুল সরে গেলে গণিতের ধারণা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শ্রেণিকক্ষের উদাহরণ ১: ১/৮ কি ১/৪-এর চেয়ে বড়?

শিক্ষক একই মাপের দুটি রুটি দেখালেন। একটি চারটি, অন্যটি আটটি সমান টুকরোয় কাটা। তিনি জানতে চাইলেন, কোন রুটির একটি টুকরো বড়। এক শিশু বলল, “আট ভাগের রুটির টুকরো। ৮ তো ৪-এর চেয়ে বড়।” সে সম্ভবত হরের সংখ্যা দেখেই ভগ্নাংশ তুলনা করছে। কিন্তু একটি উত্তর শুনে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

শিক্ষক দুটি সমান মাপের কাগজের বৃত্ত নিলেন। একটি চার ভাগে, অন্যটি আট ভাগে ভাঁজ করে শিশুকে একটি করে অংশ পাশাপাশি রাখতে বললেন। প্রশ্ন করলেন, “একই কাগজকে আরও বেশি ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ বড় হয়, না ছোট?” শিশু নিজের চোখে দেখল, ১/৮-এর অংশটি ১/৪-এর চেয়ে ছোট। এরপর শিক্ষক ভিন্ন মাপের দুটি রুটির ছবি দেখালেন। এবার শুধু ভগ্নাংশ দেখে টুকরো দুটির প্রকৃত মাপ তুলনা করা যাবে কি? সমগ্রের মাপও জানতে হবে—এ কথাটি শিশুর নিজের ভাষায় বলতে পারা জরুরি।

পরের দিন সমান দৈর্ঘ্যের দুটি কাগজের ফিতায় ১/৩ ও ১/৬ দেখাতে দিন। নতুন উদাহরণেও শিশু কারণটি বুঝিয়ে বলতে পারলে বোঝা যাবে, সে শুধু রুটির উদাহরণটি মুখস্থ করেনি।

শিক্ষকের সতর্কতা: কাগজ ভাঁজের কাজটি করতে গিয়ে টুকরোগুলি অসমান হলে তুলনাটি বিভ্রান্তিকর হবে। দুটি বৃত্ত বা ফিতা যে সমান মাপের, তা শুরুতেই শিশুকে দেখান। সে যেন “৮ বড়, তাই ১/৮ বড়” থেকে শুধু “হর বড়, তাই উত্তর ছোট” মুখস্থ না করে; একই সমগ্রকে বেশি সমান ভাগে ভাগ করলে এক ভাগ ছোট হয়—কারণটি বোঝে।

শ্রেণিকক্ষের উদাহরণ ২: “ভারী জিনিস সব সময় ডোবে”

একটি কাঠের টুকরো ও একটি ছোট ধাতব চামচ নিন। আগে ওজন মেপে নিশ্চিত হোন, কাঠের টুকরোটি চামচের চেয়ে ভারী। তারপর জিজ্ঞাসা করুন, “জলে কোনটি ভাসবে বলে মনে হয়? কেন?” শিশু আগে অনুমান করুক। দুটিকে জলে দিয়ে কী হল দেখুক এবং নিজের অনুমানের সঙ্গে মিলিয়ে বলুক। ভারী কাঠের টুকরো ভাসলেও হালকা চামচ ডুবতে পারে। তখন প্রশ্ন করুন, “শুধু ওজন দেখেই কি ভাসবে না ডুববে বলা যায়?”

তবে “সব কাঠ ভাসে” বা “সব ধাতু ডোবে”—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে দেবেন না। একটি ফাঁপা ধাতব নৌকাও ভাসে। বস্তুটি কী দিয়ে তৈরি, তার গড়ন কেমন এবং জলের তুলনায় তার গড় ঘনত্ব কত—এসবই ভাসা-ডোবায় প্রভাব ফেলে। প্রাথমিক স্তরে সূত্র শেখানোর আগে নানা বস্তু নিয়ে অনুমান, পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা করাই বেশি কাজে আসে।

শিশু যদি বলে, “নৌকা বড় বলে ভাসে”, তাৎক্ষণিকভাবে আরেকটি নিয়ম ঘোষণা করবেন না। একটি শক্ত ধাতব বল ও ফাঁপা ধাতব পাত্রের ছবি বা নিরাপদ নমুনা দেখিয়ে তার পূর্বানুমান চাইতে পারেন। পর্যবেক্ষণ সব ক্ষেত্রে একরকম না হলে সে নিজেই আগের নিয়মটি নিয়ে প্রশ্ন করবে। এই প্রশ্ন থেকেই পরের আলোচনা শুরু করা যায়।

একই ভুল উত্তরের পিছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে

শিশুর উত্তর দেখে যা জানা গেলশিক্ষক যা জানতে চাইবেনতারপর যা করবেন
১/৮ বড় বলছে, কারণ ৮ বড়“একই কাগজকে আট ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ কেমন হবে?”কাগজ ভাঁজ করে ও সংখ্যারেখায় অংশ দুটি তুলনা করুন
মুখে ১/৮ বড় বলছে, ছবিতে ১/৪ বড় দেখাচ্ছে“প্রশ্নের কোন কথাটি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে?”‘সমান ভাগ’, ‘হর’ ও ‘সমগ্র’ কথাগুলির অর্থ বুঝিয়ে দিন
১/৪ বড় বুঝেছে, কিন্তু ভুল ঘরে টিক দিয়েছে“তুমি যে ঘরে টিক দিয়েছ, সেটি পড়ে শোনাও”উত্তর জমা দেওয়ার আগে পড়ে দেখার অভ্যাস করান

এগুলি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। একই শিশু অন্য দিন অন্য কারণে ভুল করতে পারে। তাই ‘অঙ্কে দুর্বল’ বলার বদলে নির্দিষ্ট করে বলুন, কোন কাজে তার সাহায্য দরকার।

ভুল জানার পর কীভাবে সাহায্য করবেন?

সব ভুলে একই সাহায্য কাজে আসে না। শিশু যদি সমান ভাগ আঁকতেই না পারে, তাকে আগে কাগজ ভাঁজ বা সমান মাপের টুকরো সাজানোর কাজ দিন। সমান ভাগ আঁকতে পারলেও ১/৪ ও ১/৮ তুলনায় আটকে গেলে একই সমগ্রের দুটি ছবি পাশাপাশি দেখাতে বলুন। ছবি দিয়ে ঠিক বোঝাচ্ছে কিন্তু লিখিত প্রশ্নে বারবার ভুল করছে? তখন ‘সমগ্র’, ‘সমান ভাগ’, ‘একটি অংশ’—এই শব্দগুলি নিয়ে ছোট আলোচনা দরকার। আর যদি কেবল টিক ভুল ঘরে দিয়ে থাকে, পুরো পাঠ নতুন করে পড়ানোর দরকার নেই; উত্তর জমা দেওয়ার আগে নিজে পড়ে দেখার অভ্যাস করান।

প্রতিক্রিয়াও নির্দিষ্ট হওয়া চাই। “ভুল” লিখে থেমে না থেকে বলা যায়, “চার ও আট ভাগ তুমি ঠিক এঁকেছ। এখন একই মাপের কাগজে একটি করে ভাগ রং করে দেখো—কোনটি বেশি জায়গা নেয়?” এতে শিশু জানে, তার কোন কাজটি ঠিক হয়েছে এবং পরের কাজটি কী। তবে প্রতিটি ভুলেই ইঙ্গিত দিতে হবে এমন নয়। শিশুটি নিজের ভুল খুঁজে পেলে আগে তাকেই সংশোধনের সুযোগ দিন।

কয়েকজন শিশুর একই ভুল হলে শুধু তাদের আলাদা করে আবার বোঝানোর আগে নিজের পাঠটিও দেখুন। উদাহরণে কি সব সময় আলাদা মাপের সমগ্র ব্যবহার করা হয়েছিল? ‘ভাগ’ কথাটি কি স্পষ্ট ছিল? বোর্ডের ছবিতে কি অংশগুলি অসমান হয়ে গিয়েছিল? প্রয়োজনে পুরো শ্রেণির সামনে নতুন উপকরণ দিয়ে ধারণাটি আবার তুলনা করুন।

পাঁচ মিনিটে বোঝাপড়া যাচাই

শিশুকে বলুন: “সমান মাপের দুটি কাগজের একটি তিন ভাগে, অন্যটি ছয় ভাগে কাটলে কোনটির একটি টুকরো বড় হবে? ছবি এঁকে কারণ লেখো।” দেখুন, সে দুটি কাগজ সমান মাপের এঁকেছে কি না, প্রতিটিকে সমান ভাগে ভাগ করেছে কি না এবং কেন ১/৩ বড়, তা বুঝিয়ে লিখেছে কি না।

শুধু “১/৩” লিখলেই বোঝা হয়েছে ধরে নেবেন না। পরে ১/৫ ও ১/১০ তুলনা করতে দিন। সেখানেও একই যুক্তি ব্যবহার করতে পারলে বোঝাপড়ার প্রমাণ মিলবে। না পারলে আবার কাগজ ভাঁজ বা সংখ্যারেখা দিয়ে দেখান।

শিক্ষক তিন রকম উত্তর পেতে পারেন। প্রথম শিশু শুধু লিখেছে “১/৩ বড়”—তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করতে হবে। দ্বিতীয় শিশু লিখেছে “৩ ছোট, তাই ১/৩ বড়”—উত্তর ঠিক হলেও যুক্তিটি সব ক্ষেত্রে খাটবে কি না, তা বুঝতে আরও প্রশ্ন দরকার। তৃতীয় শিশু সমান মাপের দুটি ছবি এঁকে দেখিয়েছে, ছয় ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ তিন ভাগের তুলনায় ছোট হয়। এই উত্তরে ধারণার পক্ষে বেশি প্রমাণ আছে। নম্বর এক হলেও তিনটি উত্তরের পরের শিক্ষণ-পদক্ষেপ এক নয়।

পরের সপ্তাহে একই ধরনের প্রশ্ন অন্য উপকরণে দিন—ধরা যাক, সমান দৈর্ঘ্যের দড়ির ১/৪ ও ১/৮ অংশ। শিশুটি ছবি ছাড়াই কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে কি না দেখুন। আজকের সঠিক উত্তর আর কিছুদিন পরেও টিকে থাকা বোঝাপড়া এক জিনিস নয়।

মনে রাখুন

ভুলটি দেখুন → শিশুর যুক্তি শুনুন → আরেকটি উদাহরণ দিন → প্রয়োজনমতো সাহায্য করুন → পরে আবার যাচাই করুন। এভাবেই ভুলকে গঠনমূলক মূল্যায়নের (formative assessment) কাজে লাগানো যায়। শিশুর আগের ধারণা বলতে এখানে পূর্বধারণা (prior conception) বোঝানো হয়েছে; কারও সম্পর্কে পক্ষপাত নয়।

ধারণাগত ভিত্তি

  • National Curriculum Framework for School Education 2023 — পূর্বজ্ঞান, ভুল থেকে শিখনের সুযোগ এবং ধারণাগত বোঝাপড়াভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে জাতীয় নির্দেশনা।
  • NCERT, Helping to Learn Science — শিশুদের পূর্ববিদ্যমান ধারণা এবং শ্রেণিকক্ষে সেগুলি নিয়ে কাজের আলোচনা।

রুটি, কাগজ ও ভাসা–ডোবার শ্রেণিকক্ষের উদাহরণগুলি এই পাঠের জন্য লেখা; উৎসগুলি থেকে উদ্ধৃত নয়।

এই পেজটি শেয়ার করুন