স্থাপত্য
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় মন্দির, মসজিদ, সমাধি, দুর্গ, নির্মাণপদ্ধতি, জলব্যবস্থা এবং অলংকরণের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।
Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team
স্থাপত্য
স্থাপত্য একটি সমাজের প্রযুক্তি, সম্পদ, শ্রমসংগঠন, ধর্মীয় ধারণা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দৃশ্যমান প্রকাশ। মন্দির, মসজিদ, সমাধি, দুর্গ, প্রাসাদ, জলাধার, সেতু ও নগর নির্মাণে রাজা ও অভিজাতের অর্থের পাশাপাশি স্থপতি, রাজমিস্ত্রি, পাথরশিল্পী, কাঠমিস্ত্রি, ধাতুশিল্পী, চিত্রকর এবং অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের দক্ষতা যুক্ত ছিল।
স্থাপত্য জানার প্রধান উপাদান
| উপাদান | প্রাপ্ত তথ্য |
|---|---|
| স্থাপনার পরিকল্পনা | কক্ষ, প্রাঙ্গণ, প্রবেশপথ ও চলাচলের বিন্যাস |
| নির্মাণসামগ্রী | অঞ্চলভিত্তিক পাথর, ইট, কাঠ, চুন ও ধাতুর ব্যবহার |
| শিলালিপি (Inscription) | নির্মাতা, পৃষ্ঠপোষক, তারিখ, দান ও মেরামতের তথ্য |
| অলংকরণ | ধর্মীয় প্রতীক, উদ্ভিদ, প্রাণী, জ্যামিতি (Geometry) ও লিপিশিল্প |
| নির্মাণচিহ্ন | পাথর কাটা, জোড়া, ছাঁচ ও কারিগরি পদ্ধতি |
| নগর-পরিবেশ | দুর্গ, রাস্তা, বাজার, জল ও বসতির পারস্পরিক সম্পর্ক |
সময়রেখা
| আনুমানিক সময় | স্থাপত্যগত বিকাশ বা নিদর্শন |
|---|---|
| খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী | অশোকীয় স্তম্ভ ও প্রাথমিক স্তূপের বিস্তার |
| খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী–খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দী | সাঁচীর তোরণ; শৈলকর্তিত চৈত্য ও বিহার |
| চতুর্থ–ষষ্ঠ শতাব্দী | প্রাথমিক নির্মিত মন্দির ও শিখরের বিকাশ |
| সপ্তম–অষ্টম শতাব্দী | মহাবলীপুরম, কাঞ্চীপুরম, বাদামি, আইহোল ও পট্টদকল |
| অষ্টম শতাব্দী | ইলোরার কৈলাস মন্দির |
| একাদশ শতাব্দী | তাঞ্জাবুরের বৃহদীশ্বর মন্দির |
| ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ | কুতুব মিনার ও দিল্লির প্রাথমিক সুলতানি স্থাপনা |
| চতুর্দশ–পঞ্চদশ শতাব্দী | তুঘলক দুর্গ, আঞ্চলিক মসজিদ ও সমাধির বিকাশ |
| ষোড়শ–সপ্তদশ শতাব্দী | মুঘল দুর্গ, বাগান-সমাধি, প্রাসাদ ও বৃহৎ মসজিদ |
ভার বহনের দুটি প্রধান পদ্ধতি
| পদ্ধতি | গঠন | উদাহরণগত ব্যবহার |
|---|---|---|
| স্তম্ভ–আড়া পদ্ধতি | দুটি উল্লম্ব স্তম্ভের ওপর একটি অনুভূমিক আড়া | মণ্ডপ, প্রাথমিক মন্দির ও বহু প্রবেশপথ |
| খিলান পদ্ধতি | কীলকাকৃতি অংশের চাপ দুই পাশের স্তম্ভে নামে | মসজিদ, সমাধি, ফটক ও বৃহৎ হল |
স্তম্ভ → অনুভূমিক আড়া → ওপরের ভার স্তম্ভে নামে
খিলানের শীর্ষ → কীলকাকৃতি পাথরে চাপ → দুপাশের ভিত্তিতে ভার সঞ্চালন
টোডা ও প্রকৃত খিলান
| বৈশিষ্ট্য | টোডা খিলান | প্রকৃত খিলান |
|---|---|---|
| নির্মাণ | পাথরের সারি ধাপে ধাপে ভিতরের দিকে এগিয়ে দেওয়া | কীলকাকৃতি পাথর কেন্দ্রের দিকে সাজানো |
| ভার বহন | অনুভূমিক স্তরের ক্রমবর্ধমান প্রসার | বাঁকা রেখা ধরে চাপ দুই পাশে নামে |
| মধ্যবর্তী অংশ | ওপরে পাথর বসিয়ে ফাঁক বন্ধ | কেন্দ্রীয় শীর্ষপাথর বা কীস্টোন |
| বিস্তৃতি | তুলনামূলক ছোট ফাঁক | বড় প্রবেশপথ ও ছাদে কার্যকর |
গম্বুজ নির্মাণ
বর্গাকার কক্ষের ওপর গোল গম্বুজ বসাতে কোণের পরিবর্তন প্রয়োজন। স্কুইঞ্চ বা পেন্ডেন্টিভ ব্যবহারে বর্গাকার ভিত্তিকে ধাপে অষ্টভুজ বা বৃত্তাকার রূপ দেওয়া হয়।
বর্গাকার কক্ষ → কোণে স্কুইঞ্চ → অষ্টভুজীয় রূপ → গোল ভিত্তি → গম্বুজ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| ড্রাম | গম্বুজের নিচের উঁচু গোল বা বহুভুজ ভিত্তি |
| স্কুইঞ্চ | বর্গাকার কক্ষের কোণ ভরাটকারী খিলানসদৃশ গঠন |
| পেন্ডেন্টিভ | বাঁকা ত্রিভুজাকার অংশ যা গম্বুজের ভার নামায় |
| দ্বিস্তর গম্বুজ | ভিতর ও বাইরের উচ্চতা আলাদা রাখতে দুটি আবরণ |
মন্দিরের মৌলিক অংশ
| অংশ | কাজ বা পরিচয় |
|---|---|
| গর্ভগৃহ | প্রধান দেবমূর্তির ক্ষুদ্র অন্তঃকক্ষ |
| মণ্ডপ | সমাবেশ, আচার বা প্রবেশের স্তম্ভযুক্ত অংশ |
| অন্তরাল | গর্ভগৃহ ও মণ্ডপের সংযোগকক্ষ |
| প্রদক্ষিণাপথ | গর্ভগৃহ ঘিরে চলার পথ |
| শিখর | উত্তর ভারতীয় মন্দিরে গর্ভগৃহের ওপর উঁচু কাঠামো |
| বিমান | দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরে গর্ভগৃহের ওপর তলবিন্যস্ত কাঠামো |
| গোপুরম | দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির-প্রাঙ্গণের উঁচু প্রবেশতোরণ |
| আমলক | নাগর শিখরের মাথায় খাঁজকাটা চাকতির মতো অংশ |
মন্দির স্থাপত্যের প্রধান রীতি
| বৈশিষ্ট্য | নাগর রীতি | দ্রাবিড় রীতি | বেসর রীতি |
|---|---|---|---|
| প্রধান বিস্তার | উত্তর ভারত | দক্ষিণ ভারত | দাক্ষিণাত্যের সংযোগ অঞ্চল |
| গর্ভগৃহের ওপর | বক্ররেখীয় শিখর | পিরামিডের মতো তলবিন্যস্ত বিমান | নাগর ও দ্রাবিড় বৈশিষ্ট্যের আঞ্চলিক সমন্বয় |
| প্রবেশপথ | সাধারণত গোপুরম প্রধান নয় | বৃহৎ গোপুরমের বিকাশ | অঞ্চল ও সময়ভেদে বিভিন্ন |
| উল্লেখযোগ্য উদাহরণ | খাজুরাহো, ভুবনেশ্বর | কাঞ্চীপুরম, তাঞ্জাবুর | পট্টদকল ও হোয়সল মন্দিরসমূহ |
প্রাথমিক নির্মিত মন্দির
| নিদর্শন | স্থান | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| দশাবতার মন্দির | দেওগড়, উত্তরপ্রদেশ | উঁচু ভিত্তি, গর্ভগৃহ, ভাস্কর্যফলক ও প্রাথমিক শিখর |
| ইটের মন্দির | ভিতরগাঁও, উত্তরপ্রদেশ | পোড়া ইটের উঁচু কাঠামো |
| উদয়গিরি গুহা | মধ্যপ্রদেশ | শৈলকর্তিত মন্দির ও বরাহ ভাস্কর্য |
শৈলকর্তিত স্থাপত্য
শৈলকর্তিত স্থাপনা পাহাড়ের অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি হয়। এখানে নির্মাণের বদলে অপসারণ প্রধান পদ্ধতি।
পাহাড় নির্বাচন → ওপর ও সম্মুখভাগ চিহ্নিতকরণ → পাথর অপসারণ → কক্ষ ও স্তম্ভ তৈরি → ভাস্কর্য ও মসৃণকরণ
| স্থান | স্থাপত্যরূপ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| কার্লে | চৈত্যগৃহ | দীর্ঘ হল, স্তম্ভ, অর্ধবৃত্তাকার শেষভাগ ও স্তূপ |
| অজন্তা | চৈত্য ও বিহার | বাসকক্ষ, উপাসনা, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা |
| ইলোরা | বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য ও জৈন গুহা | দীর্ঘ সময়ে বহু ধর্মীয় স্থাপনা |
| মহাবলীপুরম | রথ ও গুহামণ্ডপ | একশিলা রথ, ভাস্কর্যফলক ও স্থাপত্য-পরীক্ষা |
ইলোরার কৈলাস মন্দির
রাষ্ট্রকূট শাসক প্রথম কৃষ্ণের সঙ্গে কৈলাস মন্দিরের নির্মাণ যুক্ত। মন্দিরটি একশিলা স্থাপত্য—পাহাড়ের ওপর থেকে নিচের দিকে পাথর সরিয়ে মুক্তভাবে দাঁড়ানো মন্দিরের রূপ তৈরি করা হয়েছে।
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| নির্মাণপদ্ধতি | ওপর থেকে নিচে পাথর অপসারণ |
| পরিকল্পনা | প্রবেশদ্বার, নন্দিমণ্ডপ, প্রধান মন্দির ও প্রাঙ্গণ |
| শিল্প | রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের ভাস্কর্য |
| তাৎপর্য | প্রকৌশল, শ্রমবিভাগ ও ধারাবাহিক পরিকল্পনার নিদর্শন |
পল্লব স্থাপত্য
মহাবলীপুরমে পল্লব স্থাপত্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ দেখা যায়—গুহামণ্ডপ, একশিলা রথ এবং নির্মিত মন্দির। পঞ্চরথ এক একটি অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি; এগুলি চলমান রথ নয়। সমুদ্রতীরের মন্দির আলাদা পাথর জুড়ে নির্মিত।
| নিদর্শন | ধরন |
|---|---|
| বরাহ গুহামণ্ডপ | শৈলকর্তিত মণ্ডপ |
| পঞ্চরথ | একশিলা স্থাপত্যের বিভিন্ন পরিকল্পনা |
| সমুদ্রতীরের মন্দির | নির্মিত কাঠামোগত মন্দির |
| কাঞ্চীর কৈলাসনাথ মন্দির | প্রাথমিক দ্রাবিড় নির্মিত মন্দির |
চালুক্য ও পট্টদকল
আইহোল, বাদামি ও পট্টদকলে মন্দির পরিকল্পনার নানা পরীক্ষা দেখা যায়। পট্টদকলের বিরূপাক্ষ মন্দির লোকমহাদেবী তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্যের বিজয় স্মরণে নির্মাণ করান। এখানে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য পাশাপাশি পাওয়া যায়।
চোল স্থাপত্য
তাঞ্জাবুরের বৃহদীশ্বর মন্দির প্রথম রাজরাজ নির্মাণ করান। গ্রানাইটের বৃহৎ বিমান, বিস্তৃত প্রাঙ্গণ, শিলালিপি ও ভাস্কর্য চোল রাষ্ট্রের সম্পদ ও কারিগরি দক্ষতা প্রকাশ করে।
| অংশ | তথ্য |
|---|---|
| প্রধান দেবতা | শিব |
| নির্মাতা | প্রথম রাজরাজ চোল |
| প্রধান উপাদান | গ্রানাইট |
| গর্ভগৃহের ওপর | বহু তলবিশিষ্ট উঁচু বিমান |
| শিলালিপি | দান, কর্মী, ভূমি, আচার ও হিসাবের তথ্য |
গঙ্গাইকোণ্ডচোলপুরমে প্রথম রাজেন্দ্র আরেকটি বৃহৎ শিবমন্দির নির্মাণ করেন। পরবর্তী দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরে গোপুরম ক্রমে প্রাঙ্গণের প্রধান দৃশ্যমান অংশ হয়ে ওঠে।
মসজিদের প্রধান অংশ
| অংশ | পরিচয় |
|---|---|
| কিবলা | মক্কার দিক নির্দেশকারী অভিমুখ |
| মিহরাব | কিবলা দেওয়ালের কুলুঙ্গি |
| মিম্বর | বক্তব্য প্রদানের উঁচু স্থান |
| সাহন | খোলা প্রাঙ্গণ |
| মিনার | উঁচু স্তম্ভ; আজান ও রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার সঙ্গে যুক্ত |
| অজুখানা | নামাজের আগে শুচিকরণের জলব্যবস্থা |
মসজিদে দেবমূর্তি থাকে না। জ্যামিতিক নকশা, উদ্ভিদলতা এবং সুন্দর হস্তলিপি বা ক্যালিগ্রাফি অলংকরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
কুতুব স্থাপত্যসমষ্টি
| নিদর্শন | নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ | কুতুবউদ্দিন আইবকের সময় শুরু | প্রাথমিক দিল্লি মসজিদ; পুনর্ব্যবহৃত স্তম্ভ ও স্থানীয় কারুকাজ |
| কুতুব মিনার | আইবক শুরু; ইলতুতমিশ সম্প্রসারণ; পরে মেরামত | খাঁজকাটা তল, বারান্দা ও লিপিশিল্প |
| ইলতুতমিশের সমাধি | ত্রয়োদশ শতাব্দী | সমৃদ্ধ খোদাইযুক্ত বর্গাকার কক্ষ |
| আলাই দরওয়াজা | আলাউদ্দিন খলজি | সুগঠিত প্রকৃত খিলান ও গম্বুজ; লাল পাথর ও সাদা মার্বেল |
| আলাই মিনার | আলাউদ্দিনের অসমাপ্ত প্রকল্প | কুতুব মিনারের চেয়ে বৃহৎ করার পরিকল্পনা |
নির্মাণসামগ্রীর পুনর্ব্যবহার
প্রাথমিক দিল্লির কয়েকটি স্থাপনায় পূর্ববর্তী মন্দির ও অন্যান্য ভবনের স্তম্ভ বা পাথর পুনর্ব্যবহৃত হয়েছে। এতে দ্রুত নির্মাণ, উপলব্ধ উপাদানের ব্যবহার এবং বিজিত স্থানের রাজনৈতিক প্রতীকের পুনর্নির্ধারণ—সবই যুক্ত ছিল। স্থানীয় কারিগরের পরিচিত স্তম্ভ–আড়া পদ্ধতির সঙ্গে নতুন খিলান ও গম্বুজের চাহিদা মিলিয়ে নতুন রূপ গড়ে ওঠে।
তুঘলক স্থাপত্য
| বৈশিষ্ট্য | প্রকাশ |
|---|---|
| ঢালু প্রাচীর | নিচে চওড়া, ওপরে সরু; দৃঢ় সামরিক রূপ |
| রুক্ষ পাথরের গাঁথুনি | পাথরকুচি ও চুনের ব্যবহার |
| সীমিত অলংকরণ | কাঠামোর শক্তি ও সরলতার ওপর জোর |
| দুর্গনগর | তুঘলকাবাদ, জাহানপনা ও ফিরোজাবাদ |
| সমাধি | গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের দুর্গসদৃশ সমাধি |
আঞ্চলিক সুলতানি স্থাপত্য
দিল্লির বাইরে বাংলা, গুজরাট, মালব, জৌনপুর, দাক্ষিণাত্য ও কাশ্মীরে স্থানীয় উপাদান ও কারিগরি ব্যবহার করে স্বতন্ত্র স্থাপত্য গড়ে ওঠে।
| অঞ্চল | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| বাংলা | ইট, পোড়ামাটির অলংকরণ, বাঁকানো কার্নিশ ও বহু গম্বুজ |
| গুজরাট | সূক্ষ্ম পাথরখোদাই, জালি ও সরু মিনার |
| মালব | উঁচু ভিত্তি, বৃহৎ হল, পাথর ও জলাশয়ের সমন্বয় |
| দাক্ষিণাত্য | বিশাল দুর্গ, প্রাসাদ, মসজিদ ও রঙিন টালির ব্যবহার |
| কাশ্মীর | কাঠ ও পাথরের মিলিত ব্যবহার; ঢালু ছাদ |
দুর্গের গঠন
| অংশ | কাজ |
|---|---|
| পরিখা | শত্রুর সরাসরি অগ্রগতি বাধা দেওয়া |
| প্রাচীর ও বুরুজ | প্রতিরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ |
| বাঁকানো প্রবেশপথ | হাতি বা সেনার দ্রুত আঘাত কমানো |
| কাঁটাযুক্ত দরজা | যুদ্ধহাতির আক্রমণ প্রতিরোধ |
| জলাধার | অবরোধের সময় জল সরবরাহ |
| শস্যাগার | খাদ্য সংরক্ষণ |
| অভ্যন্তরীণ দুর্গ | শেষ প্রতিরক্ষা ও শাসকের নিরাপদ অংশ |
দুর্গ ছিল সামরিক কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রাসাদ, দপ্তর, বাজার, কর্মশালা ও বসতির সমন্বিত নগর।
মুঘল স্থাপত্যের প্রাথমিক সমন্বয়
মুঘল স্থাপত্যে মধ্য এশীয়–পারসিক পরিকল্পনা, ভারতীয় স্তম্ভ–আড়া নির্মাণ, রাজস্থানি ছতরি, জালি, খিলান, গম্বুজ এবং বাগানকে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়।
| নিদর্শন | পৃষ্ঠপোষক | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| হুমায়ুনের সমাধি | হাজি বেগম | বৃহৎ বাগান-সমাধি, উঁচু ভিত্তি ও দ্বিস্তর গম্বুজ |
| আগ্রা দুর্গ | আকবর ও পরবর্তী শাসক | লাল বেলেপাথর; সামরিক ও প্রাসাদীয় অংশ |
| ফতেহপুর সিক্রি | আকবর | পরিকল্পিত রাজধানী, প্রাসাদ, মসজিদ ও প্রশাসনিক ভবন |
| ইতমাদ-উদ-দৌলার সমাধি | নূরজাহান | সাদা মার্বেল ও পাথরের জড়াই কাজের প্রসার |
| তাজমহল | শাহজাহান | সাদা মার্বেল, সমমিতি, বাগান, গম্বুজ ও জড়াই কাজ |
| দিল্লির লালকেল্লা | শাহজাহান | প্রাচীরঘেরা প্রাসাদনগর ও জলনির্ভর উদ্যান |
চারবাগ পরিকল্পনা
চারবাগ হল পথ বা জলনালায় চার ভাগে বিভক্ত বাগান। এটি কোরআনে বর্ণিত জান্নাতের প্রতীক এবং নিয়ন্ত্রিত জল–প্রকৃতির রাজকীয় প্রকাশ।
প্রবেশপথ → কেন্দ্রীয় অক্ষ → চার ভাগের বাগান → জলনালা ও ফোয়ারা → প্রধান ভবন
হুমায়ুনের সমাধিতে সমাধিভবন বাগানের কেন্দ্রে। তাজমহলে সমাধি নদীর দিকের উঁচু প্রান্তে স্থাপিত হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনায় অক্ষ ও সমমিতি বজায় আছে।
ফতেহপুর সিক্রি
| অংশ | পরিচয় |
|---|---|
| জামা মসজিদ | বৃহৎ সমবেত মসজিদ |
| বুলন্দ দরওয়াজা | গুজরাট বিজয়ের স্মারক প্রবেশতোরণ |
| শেখ সলিম চিশতির সমাধি | সুফি সাধকের সাদা পাথরের সমাধি |
| দিওয়ান-ই-আম | প্রকাশ্য দরবার |
| দিওয়ান-ই-খাস | বিশেষ সভা বা রাজকীয় আলোচনার ভবন |
| পঞ্চমহল | স্তম্ভযুক্ত পাঁচতলা খোলা মণ্ডপ |
রাজধানী স্থানান্তরের সঙ্গে জল, সরবরাহ, সামরিক ও রাজনৈতিক কারণ যুক্ত ছিল। ফতেহপুর সিক্রি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত জনশূন্য নগরে সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়নি; রাজকীয় কেন্দ্রের গুরুত্ব কমে যায়।
তাজমহলের স্থাপত্য
| উপাদান | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| প্রধান উপাদান | সাদা মার্বেল |
| পরিকল্পনা | অক্ষভিত্তিক সমমিতি ও চারবাগ |
| গম্বুজ | উঁচু দ্বিস্তর গম্বুজ |
| চার মিনার | প্রধান মঞ্চের চার কোণে |
| অলংকরণ | পাথরের জড়াই কাজ, ক্যালিগ্রাফি ও জালি |
| সমাধিবিন্যাস | দৃশ্যমান প্রতীকী কবরের নিচে প্রকৃত কবরকক্ষ |
| নদীসংযোগ | যমুনার তীরে জল ও দৃশ্যের সমন্বয় |
নির্মাণে মানুষ ও সংগঠন
বৃহৎ স্থাপত্যে উপকরণ সংগ্রহ, পরিবহণ (Transport), নকশা, ভিত্তি, গাঁথুনি, ছাদ, অলংকরণ ও জলব্যবস্থার আলাদা দল কাজ করত।
| কর্মী | প্রধান কাজ |
|---|---|
| স্থপতি ও নকশাকার | পরিকল্পনা, অনুপাত (Ratio) ও গঠন |
| রাজমিস্ত্রি | ইট-পাথর ও চুনের গাঁথুনি |
| পাথরশিল্পী | পাথর কাটা, মসৃণ করা ও খোদাই |
| কাঠমিস্ত্রি | দরজা, মাচা, ছাঁচ ও ছাদের অংশ |
| ধাতুশিল্পী | বন্ধনী, দরজা, শিখর ও যন্ত্র |
| লিপিশিল্পী | শিলালিপি ও ক্যালিগ্রাফি |
| উদ্যান ও জলবিশেষজ্ঞ | নালা, জলতোলা, ফোয়ারা ও বাগান |
| শ্রমিক ও পরিবহণকারী | মাটি, পাথর, জল ও নির্মাণসামগ্রী বহন |
জলব্যবস্থা ও স্থাপত্য
| স্থাপনা | কাজ |
|---|---|
| বাওলি বা সোপানকূপ | ধাপে নেমে ভূগর্ভস্থ জল সংগ্রহ |
| হাউজ | বৃহৎ জলাধার |
| বাঁধ ও খাল | জল নিয়ন্ত্রণ ও নগরে সরবরাহ |
| পারসিক চাকা | কূপ থেকে জল তোলা |
| ছাদের নালা | বৃষ্টির জল নামানো বা সংগ্রহ |
| উদ্যানের জলনালা | সেচ, শীতলতা ও নান্দনিক বিন্যাস |
দিল্লির হাউজ খাস, গুজরাট ও রাজস্থানের সোপানকূপ এবং মুঘল উদ্যানের জলনালা জলপ্রযুক্তি ও স্থাপত্যের সম্পর্ক দেখায়।
অলংকরণের প্রধান রূপ
| রূপ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| ভাস্কর্য | দেবতা, মানুষ, প্রাণী ও কাহিনির ত্রিমাত্রিক রূপ |
| পোড়ামাটির ফলক | ইটের স্থাপত্যে দৃশ্য ও নকশা |
| ক্যালিগ্রাফি | পাথর বা পলেস্তরায় সুন্দর লিপিশিল্প |
| আরাবেস্ক | পুনরাবৃত্ত উদ্ভিদলতা ও জ্যামিতিক নকশা |
| জালি | ছিদ্রকাটা পাথরের পর্দা; আলো ও বাতাস নিয়ন্ত্রণ |
| জড়াই কাজ | এক রঙের পাথরে ভিন্ন রঙের পাথর বসানো |
| চিত্রাঙ্কন | দেয়াল, ছাদ ও অন্তঃকক্ষের রং ও দৃশ্য |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য
| বিষয় | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| শৈলকর্তিত ও নির্মিত স্থাপনা | প্রথমটি অখণ্ড পাথর কেটে; দ্বিতীয়টি আলাদা উপাদান জুড়ে তৈরি |
| শিখর ও গোপুরম | শিখর গর্ভগৃহের ওপর; গোপুরম প্রাঙ্গণের প্রবেশতোরণ |
| টোডা ও প্রকৃত খিলান | টোডায় পাথর ধাপে এগোয়; প্রকৃত খিলানে কীলকাকৃতি অংশ চাপ বহন করে |
| স্তম্ভ–আড়া ও খিলান | প্রথমটিতে অনুভূমিক আড়া; দ্বিতীয়টিতে বাঁকা গঠন |
| বিমান ও মণ্ডপ | বিমান গর্ভগৃহের ওপর; মণ্ডপ সমাবেশের অংশ |
| মিনার ও গোপুরম | মিনার মসজিদসংলগ্ন উঁচু স্তম্ভ; গোপুরম মন্দির-প্রাঙ্গণের তোরণ |
| সমাধির প্রতীকী ও প্রকৃত কবর | দৃশ্যমান কবরচিহ্নের নিচের কক্ষে প্রকৃত দেহাবশেষ থাকে |
| চারবাগ | জলনালা বা পথে চার ভাগে বিভক্ত অক্ষভিত্তিক বাগান |
PRACTICE QUIZ
Take a Test from This Topic
13. স্থাপত্য — MCQ Test
30 questions
OWNER QUIZ TOOL
Add a test to this topic
The quiz form will automatically select this topic and its primary category.
➕ Add a Quiz for This Topic