TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - History (ইতিহাস)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

স্থাপত্য

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় মন্দির, মসজিদ, সমাধি, দুর্গ, নির্মাণপদ্ধতি, জলব্যবস্থা এবং অলংকরণের সারণি-সমৃদ্ধ বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

স্থাপত্য

স্থাপত্য একটি সমাজের প্রযুক্তি, সম্পদ, শ্রমসংগঠন, ধর্মীয় ধারণা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দৃশ্যমান প্রকাশ। মন্দির, মসজিদ, সমাধি, দুর্গ, প্রাসাদ, জলাধার, সেতু ও নগর নির্মাণে রাজা ও অভিজাতের অর্থের পাশাপাশি স্থপতি, রাজমিস্ত্রি, পাথরশিল্পী, কাঠমিস্ত্রি, ধাতুশিল্পী, চিত্রকর এবং অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের দক্ষতা যুক্ত ছিল।

স্থাপত্য জানার প্রধান উপাদান

উপাদানপ্রাপ্ত তথ্য
স্থাপনার পরিকল্পনাকক্ষ, প্রাঙ্গণ, প্রবেশপথ ও চলাচলের বিন্যাস
নির্মাণসামগ্রীঅঞ্চলভিত্তিক পাথর, ইট, কাঠ, চুন ও ধাতুর ব্যবহার
শিলালিপি (Inscription)নির্মাতা, পৃষ্ঠপোষক, তারিখ, দান ও মেরামতের তথ্য
অলংকরণধর্মীয় প্রতীক, উদ্ভিদ, প্রাণী, জ্যামিতি (Geometry) ও লিপিশিল্প
নির্মাণচিহ্নপাথর কাটা, জোড়া, ছাঁচ ও কারিগরি পদ্ধতি
নগর-পরিবেশদুর্গ, রাস্তা, বাজার, জল ও বসতির পারস্পরিক সম্পর্ক

সময়রেখা

আনুমানিক সময়স্থাপত্যগত বিকাশ বা নিদর্শন
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীঅশোকীয় স্তম্ভ ও প্রাথমিক স্তূপের বিস্তার
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী–খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীসাঁচীর তোরণ; শৈলকর্তিত চৈত্য ও বিহার
চতুর্থ–ষষ্ঠ শতাব্দীপ্রাথমিক নির্মিত মন্দির ও শিখরের বিকাশ
সপ্তম–অষ্টম শতাব্দীমহাবলীপুরম, কাঞ্চীপুরম, বাদামি, আইহোল ও পট্টদকল
অষ্টম শতাব্দীইলোরার কৈলাস মন্দির
একাদশ শতাব্দীতাঞ্জাবুরের বৃহদীশ্বর মন্দির
ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগকুতুব মিনার ও দিল্লির প্রাথমিক সুলতানি স্থাপনা
চতুর্দশ–পঞ্চদশ শতাব্দীতুঘলক দুর্গ, আঞ্চলিক মসজিদ ও সমাধির বিকাশ
ষোড়শ–সপ্তদশ শতাব্দীমুঘল দুর্গ, বাগান-সমাধি, প্রাসাদ ও বৃহৎ মসজিদ

ভার বহনের দুটি প্রধান পদ্ধতি

পদ্ধতিগঠনউদাহরণগত ব্যবহার
স্তম্ভ–আড়া পদ্ধতিদুটি উল্লম্ব স্তম্ভের ওপর একটি অনুভূমিক আড়ামণ্ডপ, প্রাথমিক মন্দির ও বহু প্রবেশপথ
খিলান পদ্ধতিকীলকাকৃতি অংশের চাপ দুই পাশের স্তম্ভে নামেমসজিদ, সমাধি, ফটক ও বৃহৎ হল

স্তম্ভ → অনুভূমিক আড়া → ওপরের ভার স্তম্ভে নামে

খিলানের শীর্ষ → কীলকাকৃতি পাথরে চাপ → দুপাশের ভিত্তিতে ভার সঞ্চালন

টোডা ও প্রকৃত খিলান

বৈশিষ্ট্যটোডা খিলানপ্রকৃত খিলান
নির্মাণপাথরের সারি ধাপে ধাপে ভিতরের দিকে এগিয়ে দেওয়াকীলকাকৃতি পাথর কেন্দ্রের দিকে সাজানো
ভার বহনঅনুভূমিক স্তরের ক্রমবর্ধমান প্রসারবাঁকা রেখা ধরে চাপ দুই পাশে নামে
মধ্যবর্তী অংশওপরে পাথর বসিয়ে ফাঁক বন্ধকেন্দ্রীয় শীর্ষপাথর বা কীস্টোন
বিস্তৃতিতুলনামূলক ছোট ফাঁকবড় প্রবেশপথ ও ছাদে কার্যকর

গম্বুজ নির্মাণ

বর্গাকার কক্ষের ওপর গোল গম্বুজ বসাতে কোণের পরিবর্তন প্রয়োজন। স্কুইঞ্চ বা পেন্ডেন্টিভ ব্যবহারে বর্গাকার ভিত্তিকে ধাপে অষ্টভুজ বা বৃত্তাকার রূপ দেওয়া হয়।

বর্গাকার কক্ষ → কোণে স্কুইঞ্চ → অষ্টভুজীয় রূপ → গোল ভিত্তি → গম্বুজ

শব্দঅর্থ
ড্রামগম্বুজের নিচের উঁচু গোল বা বহুভুজ ভিত্তি
স্কুইঞ্চবর্গাকার কক্ষের কোণ ভরাটকারী খিলানসদৃশ গঠন
পেন্ডেন্টিভবাঁকা ত্রিভুজাকার অংশ যা গম্বুজের ভার নামায়
দ্বিস্তর গম্বুজভিতর ও বাইরের উচ্চতা আলাদা রাখতে দুটি আবরণ

মন্দিরের মৌলিক অংশ

অংশকাজ বা পরিচয়
গর্ভগৃহপ্রধান দেবমূর্তির ক্ষুদ্র অন্তঃকক্ষ
মণ্ডপসমাবেশ, আচার বা প্রবেশের স্তম্ভযুক্ত অংশ
অন্তরালগর্ভগৃহ ও মণ্ডপের সংযোগকক্ষ
প্রদক্ষিণাপথগর্ভগৃহ ঘিরে চলার পথ
শিখরউত্তর ভারতীয় মন্দিরে গর্ভগৃহের ওপর উঁচু কাঠামো
বিমানদক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরে গর্ভগৃহের ওপর তলবিন্যস্ত কাঠামো
গোপুরমদক্ষিণ ভারতীয় মন্দির-প্রাঙ্গণের উঁচু প্রবেশতোরণ
আমলকনাগর শিখরের মাথায় খাঁজকাটা চাকতির মতো অংশ

মন্দির স্থাপত্যের প্রধান রীতি

বৈশিষ্ট্যনাগর রীতিদ্রাবিড় রীতিবেসর রীতি
প্রধান বিস্তারউত্তর ভারতদক্ষিণ ভারতদাক্ষিণাত্যের সংযোগ অঞ্চল
গর্ভগৃহের ওপরবক্ররেখীয় শিখরপিরামিডের মতো তলবিন্যস্ত বিমাননাগর ও দ্রাবিড় বৈশিষ্ট্যের আঞ্চলিক সমন্বয়
প্রবেশপথসাধারণত গোপুরম প্রধান নয়বৃহৎ গোপুরমের বিকাশঅঞ্চল ও সময়ভেদে বিভিন্ন
উল্লেখযোগ্য উদাহরণখাজুরাহো, ভুবনেশ্বরকাঞ্চীপুরম, তাঞ্জাবুরপট্টদকল ও হোয়সল মন্দিরসমূহ

প্রাথমিক নির্মিত মন্দির

নিদর্শনস্থানবৈশিষ্ট্য
দশাবতার মন্দিরদেওগড়, উত্তরপ্রদেশউঁচু ভিত্তি, গর্ভগৃহ, ভাস্কর্যফলক ও প্রাথমিক শিখর
ইটের মন্দিরভিতরগাঁও, উত্তরপ্রদেশপোড়া ইটের উঁচু কাঠামো
উদয়গিরি গুহামধ্যপ্রদেশশৈলকর্তিত মন্দির ও বরাহ ভাস্কর্য

শৈলকর্তিত স্থাপত্য

শৈলকর্তিত স্থাপনা পাহাড়ের অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি হয়। এখানে নির্মাণের বদলে অপসারণ প্রধান পদ্ধতি।

পাহাড় নির্বাচন → ওপর ও সম্মুখভাগ চিহ্নিতকরণ → পাথর অপসারণ → কক্ষ ও স্তম্ভ তৈরি → ভাস্কর্য ও মসৃণকরণ

স্থানস্থাপত্যরূপবৈশিষ্ট্য
কার্লেচৈত্যগৃহদীর্ঘ হল, স্তম্ভ, অর্ধবৃত্তাকার শেষভাগ ও স্তূপ
অজন্তাচৈত্য ও বিহারবাসকক্ষ, উপাসনা, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা
ইলোরাবৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য ও জৈন গুহাদীর্ঘ সময়ে বহু ধর্মীয় স্থাপনা
মহাবলীপুরমরথ ও গুহামণ্ডপএকশিলা রথ, ভাস্কর্যফলক ও স্থাপত্য-পরীক্ষা

ইলোরার কৈলাস মন্দির

রাষ্ট্রকূট শাসক প্রথম কৃষ্ণের সঙ্গে কৈলাস মন্দিরের নির্মাণ যুক্ত। মন্দিরটি একশিলা স্থাপত্য—পাহাড়ের ওপর থেকে নিচের দিকে পাথর সরিয়ে মুক্তভাবে দাঁড়ানো মন্দিরের রূপ তৈরি করা হয়েছে।

বৈশিষ্ট্যতথ্য
নির্মাণপদ্ধতিওপর থেকে নিচে পাথর অপসারণ
পরিকল্পনাপ্রবেশদ্বার, নন্দিমণ্ডপ, প্রধান মন্দির ও প্রাঙ্গণ
শিল্পরামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের ভাস্কর্য
তাৎপর্যপ্রকৌশল, শ্রমবিভাগ ও ধারাবাহিক পরিকল্পনার নিদর্শন

পল্লব স্থাপত্য

মহাবলীপুরমে পল্লব স্থাপত্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ দেখা যায়—গুহামণ্ডপ, একশিলা রথ এবং নির্মিত মন্দির। পঞ্চরথ এক একটি অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি; এগুলি চলমান রথ নয়। সমুদ্রতীরের মন্দির আলাদা পাথর জুড়ে নির্মিত।

নিদর্শনধরন
বরাহ গুহামণ্ডপশৈলকর্তিত মণ্ডপ
পঞ্চরথএকশিলা স্থাপত্যের বিভিন্ন পরিকল্পনা
সমুদ্রতীরের মন্দিরনির্মিত কাঠামোগত মন্দির
কাঞ্চীর কৈলাসনাথ মন্দিরপ্রাথমিক দ্রাবিড় নির্মিত মন্দির

চালুক্য ও পট্টদকল

আইহোল, বাদামি ও পট্টদকলে মন্দির পরিকল্পনার নানা পরীক্ষা দেখা যায়। পট্টদকলের বিরূপাক্ষ মন্দির লোকমহাদেবী তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্যের বিজয় স্মরণে নির্মাণ করান। এখানে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য পাশাপাশি পাওয়া যায়।

চোল স্থাপত্য

তাঞ্জাবুরের বৃহদীশ্বর মন্দির প্রথম রাজরাজ নির্মাণ করান। গ্রানাইটের বৃহৎ বিমান, বিস্তৃত প্রাঙ্গণ, শিলালিপি ও ভাস্কর্য চোল রাষ্ট্রের সম্পদ ও কারিগরি দক্ষতা প্রকাশ করে।

অংশতথ্য
প্রধান দেবতাশিব
নির্মাতাপ্রথম রাজরাজ চোল
প্রধান উপাদানগ্রানাইট
গর্ভগৃহের ওপরবহু তলবিশিষ্ট উঁচু বিমান
শিলালিপিদান, কর্মী, ভূমি, আচার ও হিসাবের তথ্য

গঙ্গাইকোণ্ডচোলপুরমে প্রথম রাজেন্দ্র আরেকটি বৃহৎ শিবমন্দির নির্মাণ করেন। পরবর্তী দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরে গোপুরম ক্রমে প্রাঙ্গণের প্রধান দৃশ্যমান অংশ হয়ে ওঠে।

মসজিদের প্রধান অংশ

অংশপরিচয়
কিবলামক্কার দিক নির্দেশকারী অভিমুখ
মিহরাবকিবলা দেওয়ালের কুলুঙ্গি
মিম্বরবক্তব্য প্রদানের উঁচু স্থান
সাহনখোলা প্রাঙ্গণ
মিনারউঁচু স্তম্ভ; আজান ও রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার সঙ্গে যুক্ত
অজুখানানামাজের আগে শুচিকরণের জলব্যবস্থা

মসজিদে দেবমূর্তি থাকে না। জ্যামিতিক নকশা, উদ্ভিদলতা এবং সুন্দর হস্তলিপি বা ক্যালিগ্রাফি অলংকরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

কুতুব স্থাপত্যসমষ্টি

নিদর্শননির্মাণসংক্রান্ত তথ্যবৈশিষ্ট্য
কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদকুতুবউদ্দিন আইবকের সময় শুরুপ্রাথমিক দিল্লি মসজিদ; পুনর্ব্যবহৃত স্তম্ভ ও স্থানীয় কারুকাজ
কুতুব মিনারআইবক শুরু; ইলতুতমিশ সম্প্রসারণ; পরে মেরামতখাঁজকাটা তল, বারান্দা ও লিপিশিল্প
ইলতুতমিশের সমাধিত্রয়োদশ শতাব্দীসমৃদ্ধ খোদাইযুক্ত বর্গাকার কক্ষ
আলাই দরওয়াজাআলাউদ্দিন খলজিসুগঠিত প্রকৃত খিলান ও গম্বুজ; লাল পাথর ও সাদা মার্বেল
আলাই মিনারআলাউদ্দিনের অসমাপ্ত প্রকল্পকুতুব মিনারের চেয়ে বৃহৎ করার পরিকল্পনা

নির্মাণসামগ্রীর পুনর্ব্যবহার

প্রাথমিক দিল্লির কয়েকটি স্থাপনায় পূর্ববর্তী মন্দির ও অন্যান্য ভবনের স্তম্ভ বা পাথর পুনর্ব্যবহৃত হয়েছে। এতে দ্রুত নির্মাণ, উপলব্ধ উপাদানের ব্যবহার এবং বিজিত স্থানের রাজনৈতিক প্রতীকের পুনর্নির্ধারণ—সবই যুক্ত ছিল। স্থানীয় কারিগরের পরিচিত স্তম্ভ–আড়া পদ্ধতির সঙ্গে নতুন খিলান ও গম্বুজের চাহিদা মিলিয়ে নতুন রূপ গড়ে ওঠে।

তুঘলক স্থাপত্য

বৈশিষ্ট্যপ্রকাশ
ঢালু প্রাচীরনিচে চওড়া, ওপরে সরু; দৃঢ় সামরিক রূপ
রুক্ষ পাথরের গাঁথুনিপাথরকুচি ও চুনের ব্যবহার
সীমিত অলংকরণকাঠামোর শক্তি ও সরলতার ওপর জোর
দুর্গনগরতুঘলকাবাদ, জাহানপনা ও ফিরোজাবাদ
সমাধিগিয়াসউদ্দিন তুঘলকের দুর্গসদৃশ সমাধি

আঞ্চলিক সুলতানি স্থাপত্য

দিল্লির বাইরে বাংলা, গুজরাট, মালব, জৌনপুর, দাক্ষিণাত্য ও কাশ্মীরে স্থানীয় উপাদান ও কারিগরি ব্যবহার করে স্বতন্ত্র স্থাপত্য গড়ে ওঠে।

অঞ্চলবৈশিষ্ট্য
বাংলাইট, পোড়ামাটির অলংকরণ, বাঁকানো কার্নিশ ও বহু গম্বুজ
গুজরাটসূক্ষ্ম পাথরখোদাই, জালি ও সরু মিনার
মালবউঁচু ভিত্তি, বৃহৎ হল, পাথর ও জলাশয়ের সমন্বয়
দাক্ষিণাত্যবিশাল দুর্গ, প্রাসাদ, মসজিদ ও রঙিন টালির ব্যবহার
কাশ্মীরকাঠ ও পাথরের মিলিত ব্যবহার; ঢালু ছাদ

দুর্গের গঠন

অংশকাজ
পরিখাশত্রুর সরাসরি অগ্রগতি বাধা দেওয়া
প্রাচীর ও বুরুজপ্রতিরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ
বাঁকানো প্রবেশপথহাতি বা সেনার দ্রুত আঘাত কমানো
কাঁটাযুক্ত দরজাযুদ্ধহাতির আক্রমণ প্রতিরোধ
জলাধারঅবরোধের সময় জল সরবরাহ
শস্যাগারখাদ্য সংরক্ষণ
অভ্যন্তরীণ দুর্গশেষ প্রতিরক্ষা ও শাসকের নিরাপদ অংশ

দুর্গ ছিল সামরিক কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রাসাদ, দপ্তর, বাজার, কর্মশালা ও বসতির সমন্বিত নগর।

মুঘল স্থাপত্যের প্রাথমিক সমন্বয়

মুঘল স্থাপত্যে মধ্য এশীয়–পারসিক পরিকল্পনা, ভারতীয় স্তম্ভ–আড়া নির্মাণ, রাজস্থানি ছতরি, জালি, খিলান, গম্বুজ এবং বাগানকে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়।

নিদর্শনপৃষ্ঠপোষকপ্রধান বৈশিষ্ট্য
হুমায়ুনের সমাধিহাজি বেগমবৃহৎ বাগান-সমাধি, উঁচু ভিত্তি ও দ্বিস্তর গম্বুজ
আগ্রা দুর্গআকবর ও পরবর্তী শাসকলাল বেলেপাথর; সামরিক ও প্রাসাদীয় অংশ
ফতেহপুর সিক্রিআকবরপরিকল্পিত রাজধানী, প্রাসাদ, মসজিদ ও প্রশাসনিক ভবন
ইতমাদ-উদ-দৌলার সমাধিনূরজাহানসাদা মার্বেল ও পাথরের জড়াই কাজের প্রসার
তাজমহলশাহজাহানসাদা মার্বেল, সমমিতি, বাগান, গম্বুজ ও জড়াই কাজ
দিল্লির লালকেল্লাশাহজাহানপ্রাচীরঘেরা প্রাসাদনগর ও জলনির্ভর উদ্যান

চারবাগ পরিকল্পনা

চারবাগ হল পথ বা জলনালায় চার ভাগে বিভক্ত বাগান। এটি কোরআনে বর্ণিত জান্নাতের প্রতীক এবং নিয়ন্ত্রিত জল–প্রকৃতির রাজকীয় প্রকাশ।

প্রবেশপথ → কেন্দ্রীয় অক্ষ → চার ভাগের বাগান → জলনালা ও ফোয়ারা → প্রধান ভবন

হুমায়ুনের সমাধিতে সমাধিভবন বাগানের কেন্দ্রে। তাজমহলে সমাধি নদীর দিকের উঁচু প্রান্তে স্থাপিত হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনায় অক্ষ ও সমমিতি বজায় আছে।

ফতেহপুর সিক্রি

অংশপরিচয়
জামা মসজিদবৃহৎ সমবেত মসজিদ
বুলন্দ দরওয়াজাগুজরাট বিজয়ের স্মারক প্রবেশতোরণ
শেখ সলিম চিশতির সমাধিসুফি সাধকের সাদা পাথরের সমাধি
দিওয়ান-ই-আমপ্রকাশ্য দরবার
দিওয়ান-ই-খাসবিশেষ সভা বা রাজকীয় আলোচনার ভবন
পঞ্চমহলস্তম্ভযুক্ত পাঁচতলা খোলা মণ্ডপ

রাজধানী স্থানান্তরের সঙ্গে জল, সরবরাহ, সামরিক ও রাজনৈতিক কারণ যুক্ত ছিল। ফতেহপুর সিক্রি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত জনশূন্য নগরে সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়নি; রাজকীয় কেন্দ্রের গুরুত্ব কমে যায়।

তাজমহলের স্থাপত্য

উপাদানবৈশিষ্ট্য
প্রধান উপাদানসাদা মার্বেল
পরিকল্পনাঅক্ষভিত্তিক সমমিতি ও চারবাগ
গম্বুজউঁচু দ্বিস্তর গম্বুজ
চার মিনারপ্রধান মঞ্চের চার কোণে
অলংকরণপাথরের জড়াই কাজ, ক্যালিগ্রাফি ও জালি
সমাধিবিন্যাসদৃশ্যমান প্রতীকী কবরের নিচে প্রকৃত কবরকক্ষ
নদীসংযোগযমুনার তীরে জল ও দৃশ্যের সমন্বয়

নির্মাণে মানুষ ও সংগঠন

বৃহৎ স্থাপত্যে উপকরণ সংগ্রহ, পরিবহণ (Transport), নকশা, ভিত্তি, গাঁথুনি, ছাদ, অলংকরণ ও জলব্যবস্থার আলাদা দল কাজ করত।

কর্মীপ্রধান কাজ
স্থপতি ও নকশাকারপরিকল্পনা, অনুপাত (Ratio) ও গঠন
রাজমিস্ত্রিইট-পাথর ও চুনের গাঁথুনি
পাথরশিল্পীপাথর কাটা, মসৃণ করা ও খোদাই
কাঠমিস্ত্রিদরজা, মাচা, ছাঁচ ও ছাদের অংশ
ধাতুশিল্পীবন্ধনী, দরজা, শিখর ও যন্ত্র
লিপিশিল্পীশিলালিপি ও ক্যালিগ্রাফি
উদ্যান ও জলবিশেষজ্ঞনালা, জলতোলা, ফোয়ারা ও বাগান
শ্রমিক ও পরিবহণকারীমাটি, পাথর, জল ও নির্মাণসামগ্রী বহন

জলব্যবস্থা ও স্থাপত্য

স্থাপনাকাজ
বাওলি বা সোপানকূপধাপে নেমে ভূগর্ভস্থ জল সংগ্রহ
হাউজবৃহৎ জলাধার
বাঁধ ও খালজল নিয়ন্ত্রণ ও নগরে সরবরাহ
পারসিক চাকাকূপ থেকে জল তোলা
ছাদের নালাবৃষ্টির জল নামানো বা সংগ্রহ
উদ্যানের জলনালাসেচ, শীতলতা ও নান্দনিক বিন্যাস

দিল্লির হাউজ খাস, গুজরাট ও রাজস্থানের সোপানকূপ এবং মুঘল উদ্যানের জলনালা জলপ্রযুক্তি ও স্থাপত্যের সম্পর্ক দেখায়।

অলংকরণের প্রধান রূপ

রূপবৈশিষ্ট্য
ভাস্কর্যদেবতা, মানুষ, প্রাণী ও কাহিনির ত্রিমাত্রিক রূপ
পোড়ামাটির ফলকইটের স্থাপত্যে দৃশ্য ও নকশা
ক্যালিগ্রাফিপাথর বা পলেস্তরায় সুন্দর লিপিশিল্প
আরাবেস্কপুনরাবৃত্ত উদ্ভিদলতা ও জ্যামিতিক নকশা
জালিছিদ্রকাটা পাথরের পর্দা; আলো ও বাতাস নিয়ন্ত্রণ
জড়াই কাজএক রঙের পাথরে ভিন্ন রঙের পাথর বসানো
চিত্রাঙ্কনদেয়াল, ছাদ ও অন্তঃকক্ষের রং ও দৃশ্য

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক পার্থক্য

বিষয়সঠিক তথ্য
শৈলকর্তিত ও নির্মিত স্থাপনাপ্রথমটি অখণ্ড পাথর কেটে; দ্বিতীয়টি আলাদা উপাদান জুড়ে তৈরি
শিখর ও গোপুরমশিখর গর্ভগৃহের ওপর; গোপুরম প্রাঙ্গণের প্রবেশতোরণ
টোডা ও প্রকৃত খিলানটোডায় পাথর ধাপে এগোয়; প্রকৃত খিলানে কীলকাকৃতি অংশ চাপ বহন করে
স্তম্ভ–আড়া ও খিলানপ্রথমটিতে অনুভূমিক আড়া; দ্বিতীয়টিতে বাঁকা গঠন
বিমান ও মণ্ডপবিমান গর্ভগৃহের ওপর; মণ্ডপ সমাবেশের অংশ
মিনার ও গোপুরমমিনার মসজিদসংলগ্ন উঁচু স্তম্ভ; গোপুরম মন্দির-প্রাঙ্গণের তোরণ
সমাধির প্রতীকী ও প্রকৃত কবরদৃশ্যমান কবরচিহ্নের নিচের কক্ষে প্রকৃত দেহাবশেষ থাকে
চারবাগজলনালা বা পথে চার ভাগে বিভক্ত অক্ষভিত্তিক বাগান

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

13. স্থাপত্য — MCQ Test
30 questions

Start quiz →