TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Upper Primary TET - Social Studies / Social Science - Social and Political Life (সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন)Upper Primary TET - Social Studies / Social Science

সংসদীয় সরকার

সংসদের গঠন, লোকসভা, রাজ্যসভা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী জবাবদিহির বাংলা আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Social Science Review Team

সংসদীয় সরকার (Parliamentary Government)

যে ব্যবস্থায় কার্যনির্বাহী আইনসভা (Legislature) থেকে গঠিত হয় এবং আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে, তাকে সংসদীয় সরকার বলে। ভারতে রাষ্ট্রপতি (President) সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) সরকারের বাস্তব প্রধান। মন্ত্রিসভা (Council of Ministers) সম্মিলিতভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ।

সংসদের (Parliament) গঠন

ভারতের সংসদ (Parliament) রাষ্ট্রপতি, লোকসভা (Lok Sabha) ও রাজ্যসভা (Rajya Sabha) নিয়ে গঠিত। রাষ্ট্রপতি কোনো কক্ষের সদস্য নন, কিন্তু সংসদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, সরকারকে জবাবদিহি করানো এবং জাতীয় বিষয় আলোচনা সংসদের প্রধান কাজ।

লোকসভা (House of the People)

লোকসভার সদস্যরা সাধারণ নির্বাচনে জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন। এর স্বাভাবিক মেয়াদ পাঁচ বছর, তবে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে আগে ভেঙে দেওয়া যায়। সরকারকে লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন বজায় রাখতে হয়। অর্থবিল উত্থাপন ও মন্ত্রিসভার দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে লোকসভার বিশেষ ভূমিকা আছে।

রাজ্যসভা (Council of States)

রাজ্যসভা রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বকারী কক্ষ। এটি স্থায়ী কক্ষ; সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় না। সদস্যদের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় অন্তর অবসর নেন। রাজ্যসভার অধিকাংশ সদস্য রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন এবং কিছু সদস্যকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করেন।

রাষ্ট্রপতি (President)

রাষ্ট্রপতি ভারতের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শে কাজ করেন। সংসদে গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরে আইনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা এক নয়; প্রধানমন্ত্রী দৈনন্দিন সরকার পরিচালনার নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) ও মন্ত্রিসভা (Council of Ministers)

লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনপ্রাপ্ত দল বা জোটের নেতা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের কাজের সমন্বয় করেন এবং সরকারের নীতিগত নেতৃত্ব দেন। মন্ত্রিসভা সম্মিলিতভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ—লোকসভার আস্থা হারালে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।

বিরোধী দল (Opposition)

বিরোধী দল প্রশ্ন, বিতর্ক, কমিটির কাজ এবং বিকল্প নীতির মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করায়। শক্তিশালী বিরোধিতা আইন ও নীতির ত্রুটি শনাক্ত করতে সাহায্য করে। বিরোধী দল সরকারের শত্রু নয়; সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয় অংশ।

আইন প্রণয়নের সাধারণ ধাপ

একটি প্রস্তাব বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপিত হয়। আলোচনা, সংশোধন ও ভোটের মাধ্যমে উভয় কক্ষে গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে তা আইনে পরিণত হয়। অর্থবিলের ক্ষেত্রে লোকসভার প্রাধান্য রয়েছে। সব সরকারি সিদ্ধান্ত সংসদীয় আইন নয়; অনেক সিদ্ধান্ত বিদ্যমান আইনের অধীনে প্রশাসনিকভাবে নেওয়া হয়।

সংসদ কীভাবে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে

প্রশ্নোত্তর, বিতর্ক, অনাস্থা প্রস্তাব, বাজেটের ওপর ভোট এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করানো হয়। জনঅর্থ ব্যয়ের অনুমোদন সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য সদস্যদের তথ্য, আলোচনা ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দরকার।

প্রতিনিধিত্ব

সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজের এলাকার সমস্যা এবং জাতীয় স্বার্থ উভয়ই তুলে ধরেন। নারীদের, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং নানা অঞ্চলের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব সিদ্ধান্তকে অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক করে। প্রতিনিধিত্ব কেবল উপস্থিতি নয়; মত প্রকাশ ও সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

মূল পার্থক্য

প্রতিষ্ঠান বা পদপ্রধান বৈশিষ্ট্য
লোকসভাজনগণের প্রত্যক্ষ নির্বাচিত কক্ষ; সরকার এর কাছে দায়বদ্ধ
রাজ্যসভারাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বকারী স্থায়ী কক্ষ
রাষ্ট্রপতিসাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান
প্রধানমন্ত্রীসরকারের বাস্তব প্রধান
মন্ত্রিসভালোকসভার কাছে সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ কার্যনির্বাহী নেতৃত্ব

সংসদের প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা

সংসদ দেশের নানা অঞ্চল, সামাজিক গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক মতকে জাতীয় আলোচনায় আনে। সদস্যরা নির্বাচনী এলাকার দাবি তুলে ধরলেও সংবিধান (Constitution) ও সমগ্র দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেন। আলোচনা ও সমঝোতা প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

অর্থবিল (Money Bill) ও সাধারণ বিল (Ordinary Bill)

কর আরোপ, সরকারি ঋণ বা সংযুক্ত তহবিলের অর্থসংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিলকে অর্থবিল বলা হয় এবং তা কেবল লোকসভায় উত্থাপিত হয়। সাধারণ বিল সাধারণত সংসদের যেকোনো কক্ষে উত্থাপিত হতে পারে। অর্থবিলের ক্ষেত্রে রাজ্যসভার ক্ষমতা সীমিত, কিন্তু সাধারণ বিলে দুই কক্ষের সম্মতি দরকার।

সংসদীয় কমিটি (Parliamentary Committee)

সমস্ত বিল ও সরকারি ব্যয় কক্ষের পূর্ণ আলোচনায় বিস্তারিতভাবে দেখা কঠিন। বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি নথি, বিশেষজ্ঞ মত ও দপ্তরের বক্তব্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়। কমিটির কাজ তুলনামূলকভাবে বিশদ অনুসন্ধান এবং দলীয় উত্তেজনার বাইরে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।

কার্যনির্বাহী ও আইনসভার সম্পর্ক

সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রীরা সাধারণত সংসদের সদস্য এবং আইনসভার আস্থা নিয়ে কাজ করেন। তাই দুই অঙ্গের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তবু আইনসভার কাজ কেবল সরকারি প্রস্তাব অনুমোদন করা নয়; প্রশ্ন, সংশোধন, বাজেট ও কমিটির মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করাও তার দায়িত্ব।

কেন সংসদ দরকার

সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, জাতীয় বিষয় নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা করে, আইন প্রণয়ন করে, সরকার নির্বাচন ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নেয় এবং জনঅর্থ অনুমোদন করে। শুধু আইন পাস করাই সংসদের কাজ নয়; বিভিন্ন মতের সংঘাতকে সাংবিধানিক আলোচনায় রূপ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন ও সরকার গঠন

দেশকে লোকসভা নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি এলাকা থেকে একজন সদস্য নির্বাচিত হন। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সমর্থন পাওয়া দল বা জোট সরকার গঠন করে। ভোটের মোট শতাংশ ও আসনের সংখ্যা এক বিষয় নয়; প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার কারণে এদের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে।

প্রশ্নকাল (Question Hour) ও অনাস্থা প্রস্তাব (No-confidence Motion)

সংসদে সদস্যরা মন্ত্রীদের কাছে সরকারি কাজের তথ্য ও ব্যাখ্যা চান। অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে লোকসভা পরীক্ষা করে মন্ত্রিসভার ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা আছে কি না। অনাস্থা হারালে মন্ত্রিসভা ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

আইন তৈরিতে জনগণের ভূমিকা

আইনের প্রস্তাব সরকার বা সদস্যদের কাছ থেকে এলেও নাগরিক সংগঠন, আন্দোলন, বিশেষজ্ঞ মত, আদালতের সিদ্ধান্ত ও জনআলোচনা তার বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে। কোনো দাবি জনপ্রিয় হলেই তা সরাসরি আইন হয় না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিল আলোচনা ও অনুমোদন দরকার।

লোকসভা ও রাজ্যসভার উচ্চমূল্যের পার্থক্য

বিষয়লোকসভারাজ্যসভা
নির্বাচনজনগণের প্রত্যক্ষ ভোটপ্রধানত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে
মেয়াদসাধারণত পাঁচ বছর; ভেঙে যেতে পারেস্থায়ী কক্ষ; সদস্যরা পর্যায়ক্রমে অবসর নেন
সরকারের দায়বদ্ধতামন্ত্রিসভা সরাসরি এর কাছে দায়বদ্ধমন্ত্রিসভাকে অনাস্থায় অপসারণ করতে পারে না
অর্থবিলউত্থাপন ও চূড়ান্ত প্রাধান্যসুপারিশ করতে পারে; ক্ষমতা সীমিত

সংসদের সাংবিধানিক ভিত্তি

অনুচ্ছেদ ৭৯ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা ও লোকসভা নিয়ে সংসদ গঠিত। অনুচ্ছেদ ৭৪ রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা এবং অনুচ্ছেদ ৭৫ মন্ত্রীদের নিয়োগ ও লোকসভার কাছে সম্মিলিত দায়বদ্ধতার ভিত্তি দেয়।

আইন প্রণয়ন ও অর্থবিল

অনুচ্ছেদ ১০৭ সাধারণ বিলের উত্থাপন ও গৃহীত হওয়ার সাধারণ কাঠামো দেয়। অনুচ্ছেদ ১১০ অর্থবিলের বিষয় নির্ধারণ করে এবং অনুচ্ছেদ ১০৯ তার বিশেষ পদ্ধতি বর্ণনা করে। সব আর্থিক বিষয়যুক্ত বিল অর্থবিল নয়; সংবিধানের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। কোনো বিল অর্থবিল কি না, সে বিষয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের সাংবিধানিক ভূমিকা আছে।

যৌথ অধিবেশন (Joint Sitting)

সাধারণ বিল নিয়ে দুই কক্ষের অচলাবস্থা হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি যৌথ অধিবেশন ডাকতে পারেন। অর্থবিল বা সংবিধান সংশোধনী বিলের জন্য এই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। যৌথ অধিবেশনে দুই কক্ষের সদস্যরা একসঙ্গে আলোচনা ও ভোট দেন।

সংসদীয় জবাবদিহির ছক

ব্যবস্থাউদ্দেশ্য
প্রশ্নমন্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য ও ব্যাখ্যা নেওয়া
বিতর্কনীতি ও জনসমস্যা প্রকাশ্যে আলোচনা
বাজেট ও অনুদানজনঅর্থ ব্যয় অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ
সংসদীয় কমিটিনথি ও প্রশাসনিক কাজ বিশদভাবে পরীক্ষা
অনাস্থা প্রস্তাবলোকসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন যাচাই

সংসদের অধিবেশন ও স্থগিতকরণ

রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রতিটি কক্ষ আহ্বান (Summoning) করেন; দুটি অধিবেশনের মধ্যে ছয় মাসের বেশি ব্যবধান হতে পারে না। অধিবেশন সমাপ্ত করাকে সত্রাবসান (Prorogation) এবং লোকসভার অস্তিত্ব শেষ করাকে ভঙ্গ (Dissolution) বলা হয়। রাজ্যসভা স্থায়ী কক্ষ বলে ভেঙে দেওয়া যায় না। দিনের বৈঠক সাময়িকভাবে বন্ধ করা হল মুলতবি (Adjournment), যা সাধারণত সভাপতিত্বকারী আধিকারিক করেন।

সভাপতিত্বকারী আধিকারিক

লোকসভা নিজের সদস্যদের মধ্য থেকে অধ্যক্ষ (Speaker) ও উপাধ্যক্ষ নির্বাচন করে। উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে রাজ্যসভার সভাপতি (Chairman); রাজ্যসভা নিজের সদস্যদের মধ্য থেকে উপসভাপতি নির্বাচন করে। তাঁরা কার্যপ্রণালি পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিয়মের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সাধারণ বিলের ধাপ

উত্থাপন ও প্রথম পাঠ → সাধারণ আলোচনা → কমিটিতে পরীক্ষা বা ধারাবিবরণী আলোচনা → বিবেচনা ও সংশোধন → তৃতীয় পাঠ ও ভোট → অন্য কক্ষে একই প্রক্রিয়া → রাষ্ট্রপতির সম্মতি

দুই কক্ষ একই পাঠে বিল অনুমোদন করলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। রাষ্ট্রপতি সাধারণ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন; সংসদ আবার গৃহীত করলে সম্মতি দিতে হয়। অর্থবিল ফেরত পাঠানোর এই বিধান প্রযোজ্য নয়।

সংবিধান সংশোধনী বিল

সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদের যেকোনো কক্ষে উত্থাপিত হতে পারে। প্রতিটি কক্ষে মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন দরকার। কিছু যুক্তরাষ্ট্রীয় বিষয়ে অন্তত অর্ধেক রাজ্যের আইনসভার অনুমোদনও প্রয়োজন। দুই কক্ষের মতভেদে যৌথ অধিবেশন হয় না।

বাজেট ও সংসদের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ

বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি (Annual Financial Statement) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় দেখায়। অনুদানের দাবি লোকসভা বিবেচনা করে। বরাদ্দ আইন সরকারি তহবিল থেকে অর্থ তোলার অনুমতি দেয় এবং অর্থ আইন করসংক্রান্ত প্রস্তাব কার্যকর করে। সংসদের অনুমোদন ছাড়া সরকারি অর্থ ব্যয়ের সাধারণ ক্ষমতা নেই।

সংসদীয় কমিটির প্রধান ধরন

কমিটিপ্রধান কাজ
সরকারি হিসাব কমিটি (Public Accounts Committee)নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে সরকারি ব্যয় পরীক্ষা
প্রাক্কলন কমিটি (Estimates Committee)ব্যয়ের দক্ষতা ও প্রশাসনিক উন্নতির দিক পরীক্ষা
সরকারি উদ্যোগ কমিটি (Committee on Public Undertakings)সরকারি উদ্যোগের প্রতিবেদন ও হিসাব পরীক্ষা
বিভাগ-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিদপ্তরের অনুদান, বিল ও নীতি বিশদভাবে পরীক্ষা

সংসদীয় বিশেষাধিকার

সংসদের কার্যকর কাজের জন্য কক্ষ ও সদস্যদের কিছু বিশেষাধিকার (Parliamentary Privileges) আছে—যেমন কক্ষে বক্তব্যের নির্দিষ্ট সুরক্ষা। এগুলি ব্যক্তিগত সুবিধা নয়; স্বাধীন আইনপ্রণয়নের উপায়। বিশেষাধিকার মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) ও বিচারিক পর্যালোচনার সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্যের মধ্যে পরিচালিত হয়।

সংসদের সদস্যসংখ্যা (Strength of Parliament)

কক্ষবর্তমান নির্ধারিত সদস্যসংখ্যাসাংবিধানিক সর্বোচ্চ সীমাগঠন
লোকসভা (Lok Sabha)৫৪৩ নির্বাচিত সদস্যঅনুচ্ছেদ ৮১ অনুযায়ী সর্বাধিক ৫৫০ নির্বাচিত সদস্যরাজ্য থেকে সর্বাধিক ৫৩০ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে সর্বাধিক ২০
রাজ্যসভা (Rajya Sabha)২৪৫অনুচ্ছেদ ৮০ অনুযায়ী সর্বাধিক ২৫০বর্তমানে ২৩৩ নির্বাচিত ও ১২ রাষ্ট্রপতি-মনোনীত; সর্বোচ্চ সীমায় ২৩৮ নির্বাচিত ও ১২ মনোনীত

বর্তমান নির্ধারিত সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী দুই কক্ষে মোট ৭৮৮টি আসন রয়েছে। শূন্যপদ থাকলে বাস্তবে কর্মরত সদস্যের সংখ্যা সাময়িকভাবে কম হতে পারে। রাষ্ট্রপতি সংসদের সাংবিধানিক অংশ, কিন্তু কোনো কক্ষের সদস্য নন।

লোকসভার ৫৫২ ও ৫৫০ সংখ্যার ব্যাখ্যা

পুরোনো গ্রন্থে লোকসভার সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ৫৫২ দেখা যায়—৫৩০ জন রাজ্য থেকে, ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এবং সর্বাধিক ২ জন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সদস্য রাষ্ট্রপতির দ্বারা মনোনীত হতে পারতেন। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের বিশেষ প্রতিনিধিত্বের বিধান ২০২০ সালে শেষ হওয়ার পর কার্যকর সাংবিধানিক সর্বোচ্চ সীমা ৫৫০ নির্বাচিত সদস্য। বর্তমানে দেশের ৫৪৩টি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে ৫৪৩ জন সদস্য নির্বাচিত হন।

আসন, সদস্য ও শূন্যপদের পার্থক্য

  • আসনসংখ্যা (Number of Seats): একটি কক্ষের নির্ধারিত প্রতিনিধিত্বের মোট স্থান।
  • কর্মরত সদস্যসংখ্যা (Working Strength): শূন্যপদ বাদ দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পদে থাকা সদস্য।
  • সাংবিধানিক সর্বোচ্চ সীমা (Constitutional Maximum): সংবিধানের অনুমোদিত সর্বোচ্চ সংখ্যা; বর্তমান নির্ধারিত সংখ্যা এর চেয়ে কম হতে পারে।
  • শূন্যপদ (Vacancy): মৃত্যু, পদত্যাগ, অযোগ্যতা বা অন্য কারণে সাময়িকভাবে সদস্যহীন আসন।

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

43. সংসদীয় সরকার — MCQ Test
31 questions

Start quiz →