TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
শিখন ও শিক্ষাবিজ্ঞান

শিক্ষণ–শিখনের মৌলিক প্রক্রিয়া, শিশুর শেখার কৌশল এবং সামাজিক কার্যকলাপ হিসেবে শিখন

শিক্ষণ–শিখনের মৌলিক প্রক্রিয়া, শিশুর নিজস্ব শেখার কৌশল, সক্রিয় জ্ঞান নির্মাণ এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শেখার প্রকৃতি নিয়ে বিশদ আলোচনা।

Published by: TET Sampan Editorial Team Reviewed by: Bengali Content Review Team

শিক্ষণ–শিখনের মৌলিক প্রক্রিয়া, শিশুর কৌশল ও সামাজিক শিখন

শিক্ষণ (Teaching) হলো শিক্ষকের পরিকল্পিত সহায়তা; শিখন (Learning) হলো অভিজ্ঞতা, অনুশীলন, চিন্তা ও মিথস্ক্রিয়ার ফলে জ্ঞান, দক্ষতা বা মনোভাবে তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন। শিক্ষক বিষয় উপস্থাপন করলেই শিখন নিশ্চিত হয় না। শিশু যখন ধারণাটি বোঝে, ব্যাখ্যা করে এবং নতুন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করে, তখন প্রকৃত শিখন ঘটে।

শিশু নিষ্ক্রিয় গ্রাহক নয়। সে পূর্বজ্ঞান, ভাষা, প্রশ্ন, ভুল ও সামাজিক অভিজ্ঞতার সাহায্যে অর্থ নির্মাণ করে। এই সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গঠনবাদ (Constructivism)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

শিখনের মৌলিক প্রক্রিয়া

  • মনোযোগ (Attention): প্রাসঙ্গিক তথ্য বাছাই করা। আগ্রহ, আবেগ, ক্লান্তি ও কাজের জটিলতা এতে প্রভাব ফেলে; চুপ করে বসাই মনোযোগের একমাত্র প্রমাণ নয়।
  • উপলব্ধি (Perception): ইন্দ্রিয়লব্ধ তথ্যের অর্থ তৈরি করা। শুধু দেখা বা শোনা নয়, তার তাৎপর্য বোঝা প্রয়োজন।
  • পূর্বজ্ঞানের সংযোগ: পরিচিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন ধারণা যুক্ত হলে শিখন অর্থপূর্ণ হয়। ভুল পূর্বধারণা (Prejudice) থাকলে প্রমাণ ও বিপরীত উদাহরণের সাহায্যে তা পুনর্বিবেচনা করতে হয়।
  • অনুশীলন (Practice): অনুশীলন দক্ষতা দৃঢ় করে, কিন্তু যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি গভীর বোঝাপড়ার নিশ্চয়তা নয়। ধারণাটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করানো জরুরি।
  • প্রতিক্রিয়া (Feedback): শুধু “ভুল” না বলে কোন অংশ ঠিক, কোথায় সমস্যা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী—তা জানাতে হয়। সংশোধনের সুযোগ প্রতিক্রিয়াকে কার্যকর করে।
  • প্রতিফলন: “কোথায় আটকালাম?” বা “কোন কৌশল কাজে দিল?”—এভাবে নিজের চিন্তা পর্যবেক্ষণ করা অধিজ্ঞান (Metacognition)

আচরণগত শিখনে কোনো আচরণের পরে ফল তার পুনরাবৃত্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। ইতিবাচক পুনর্বলন (Positive Reinforcement) মানে কাঙ্ক্ষিত আচরণের পরে আনন্দদায়ক ফল যোগ করা; নেতিবাচক পুনর্বলন (Negative Reinforcement) মানে আচরণের ফলে অস্বস্তিকর অবস্থা সরানো—এটি শাস্তি (Punishment) নয়। তবে শুধু পুরস্কারনির্ভরতা বোঝাপড়া ও অন্তর্নিহিত আগ্রহের বিকল্প হতে পারে না।

শিশু অন্যকে দেখেও শেখে। ব্যান্ডুরার পর্যবেক্ষণমূলক শিখন (Observational Learning)-এ মনোযোগ, মনে রাখা, আচরণ পুনরুৎপাদন এবং তা করার প্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক ও সহপাঠীর আচরণ তাই শক্তিশালী আদর্শ (Model)। শুধু আচরণ নকল করাই নয়, শিশু তার সম্ভাব্য ফলও বিবেচনা করতে পারে।

শিশুর শেখার কৌশল

শেখার কৌশল (Learning Strategies) হলো তথ্য বোঝা, সংগঠিত করা, মনে রাখা, প্রয়োগ করা ও নিজের অগ্রগতি যাচাইয়ের পদ্ধতি। প্রধান কৌশলগুলি হলো—

  • পুনরাবৃত্তি (Rehearsal): মৌলিক তথ্য মনে রাখতে বলা বা লেখা; অর্থ ও প্রয়োগ ছাড়া এর ফল সীমিত।
  • সংগঠন (Organization): তথ্যকে শ্রেণি, ক্রম, তুলনামূলক তালিকা বা ধারণা-মানচিত্রে সাজানো।
  • বিস্তার (Elaboration): নতুন তথ্যকে পরিচিত উদাহরণ, পূর্বজ্ঞান বা নিজের ভাষার ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত করা।
  • পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ: লক্ষ্য স্থির করা, কাজ ভাগ করা, বোঝাপড়া যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে কৌশল বদলানো।
  • সহায়তা চাওয়া: কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা শনাক্ত করে উপযুক্ত প্রশ্ন করা।

শিক্ষক চিন্তা উচ্চারণ (Think-aloud) করে দেখাতে পারেন—পড়ার আগে কী অনুমান করছেন, অজানা শব্দের অর্থ কীভাবে খুঁজছেন বা ভুল হলে কৌশল কেন বদলাচ্ছেন। প্রথমে দেওয়া সাময়িক সহায়তা স্ক্যাফোল্ডিং (Scaffolding); দক্ষতা বাড়লে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে শিশুকে স্বাধীন করতে হয়। শিশুদের স্থায়ী “দৃশ্য”, “শ্রাব্য” বা অন্য কোনো শেখার ধরনে আবদ্ধ করা উচিত নয়; বিষয় ও লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন উপস্থাপন ব্যবহার করা দরকার।

সামাজিক কার্যকলাপ হিসেবে শিখন

শিশু কথোপকথন, সহযোগিতা, প্রশ্ন ও সাংস্কৃতিক উপকরণের মাধ্যমে শেখে। ভাইগটস্কির মতে বহু উচ্চতর মানসিক প্রক্রিয়া প্রথমে সামাজিক স্তরে গড়ে ওঠে, পরে শিশু তা নিজের চিন্তার অংশ করে। ভাষা তাই যোগাযোগের পাশাপাশি চিন্তা সংগঠনের উপকরণ।

নিকটতম বিকাশের ক্ষেত্র (Zone of Proximal Development—ZPD) হলো শিশু স্বাধীনভাবে যা পারে এবং উপযুক্ত সহায়তায় যা পারে—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী ক্ষেত্র। নির্দেশিত প্রশ্ন, ইঙ্গিত, উদাহরণ বা দক্ষ সহপাঠীর সহায়তায় কাজ সম্ভব হলে তা শিশুর শেখার সম্ভাবনা প্রকাশ করে। সহায়তা শিশুর হয়ে কাজ করে দেওয়া নয়; লক্ষ্য ধীরে ধীরে স্বাধীনতা।

সব দলীয় কাজ সহযোগী শেখা নয়। সহযোগী শেখায় (Collaborative Learning) প্রত্যেকে চিন্তা, ব্যাখ্যা, প্রশ্ন বা সিদ্ধান্তে অংশ নেয় এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থাকে। ভিন্ন উত্তরের ক্ষেত্রে “কোন প্রমাণটি সমর্থন করে?” প্রশ্ন করলে মতভেদ জ্ঞানীয় অনুসন্ধানে রূপ নেয়। বিভিন্ন ভাষা ও সক্ষমতার শিশুর জন্য অপেক্ষার সময়, জোড়ায় আলোচনা এবং ছবি, লেখা বা বস্তু দিয়ে মত প্রকাশের সুযোগ সামাজিক শিখনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করে।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের করণীয়

  • পূর্বজ্ঞান ও নিজস্ব ব্যাখ্যা জেনে পাঠ শুরু করা;
  • শেখার লক্ষ্য স্পষ্ট করে বাস্তব সমস্যা ও পরিচিত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা;
  • প্রশ্নের পরে চিন্তার সময় এবং একাধিক সমাধান ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া;
  • কৌশল দেখানো, প্রয়োজনমতো ইঙ্গিত দেওয়া এবং পরে সহায়তা কমানো;
  • দলীয় কাজে প্রত্যেকের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
  • ভুলের কারণ বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া ও পুনরায় চেষ্টার সুযোগ দেওয়া;
  • ভিন্ন পরিস্থিতিতে ধারণা প্রয়োগ করিয়ে শিখনের স্থানান্তর যাচাই করা;
  • আত্মমূল্যায়ন ও সহপাঠী প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতা বাড়ানো।

কার্যকর শিক্ষণ একমুখী তথ্য সরবরাহ নয়। শিশু সক্রিয়ভাবে অর্থ নির্মাণ করে; শিক্ষক উপযুক্ত কাজ, সামাজিক সংলাপ, সহায়তা ও প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা করে তাকে ধীরে ধীরে স্বনিয়ন্ত্রিত ও স্বাধীন শিক্ষার্থী হতে সাহায্য করেন।

PRACTICE QUIZ

Take a Test from This Topic

এই বিষয়ের অনুশীলনী
30 questions

Start quiz →