TET Sampan – বাংলায় সম্পূর্ণ TET প্রস্তুতি
Practice CentreTopic-wise mock tests with explanationsStart practising →
Weekly Mock Tests4 tests
Primary TET - Language (Bengali) - সমাসUpper Primary TET - Language (Bengali) - সমাস

সমাস

সমাস for Bengali language for TET for Freshers and In-Service TET

Published by: TET Sampan Editorial Team

সমাস (Compound)

পরস্পর অর্থসম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদ সংক্ষেপে মিলিত হয়ে একটি পদে পরিণত হলে তাকে সমাস (Compound) বলে। যেমন, রাজার পুত্র → রাজপুত্র। সমাস ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করে, তবে সমাসবদ্ধ পদের সঠিক অর্থ জানতে তার অন্তর্নিহিত পদসম্বন্ধ বুঝতে হয়।

প্রয়োজনীয় পরিভাষা

  • সমস্যমান পদ: যে পদগুলি মিলিত হয়ে সমাসবদ্ধ পদ গঠন করে—রাজা ও পুত্র।
  • সমস্তপদ: সমাসের ফলে তৈরি নতুন পদ—রাজপুত্র।
  • ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য: সমস্তপদের বিস্তৃত অর্থ—রাজার পুত্র।
  • পূর্বপদ ও উত্তরপদ: সমস্যমান পদগুলির প্রথমটি পূর্বপদ এবং শেষটি উত্তরপদ।

একটি সমস্তপদের সমাস নির্ধারণে শুধু তার বাইরের রূপ নয়, ব্যাসবাক্য ও বাক্যে ব্যবহৃত অর্থ দেখতে হয়। একই শব্দ প্রসঙ্গভেদে ভিন্ন বিশ্লেষণ পেতে পারে।

অর্থপ্রাধান্য ও প্রধান শ্রেণি

সমাসকোন অর্থ প্রধান
দ্বন্দ্বউভয় পদের অর্থ
তৎপুরুষউত্তরপদের অর্থ
কর্মধারয়একই ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশকারী উত্তরপদের অর্থ
দ্বিগুসংখ্যাপূর্বক সমাহার বা সমষ্টির অর্থ
বহুব্রীহিসমস্যমান পদের বাইরে অন্য ব্যক্তি বা বস্তু
অব্যয়ীভাবসাধারণত অব্যয় পূর্বপদের অর্থ

দ্বন্দ্ব সমাস

যে সমাসে উভয় পদের অর্থ সমানভাবে প্রধান এবং ব্যাসবাক্যে ও, আর, এবং প্রভৃতি সংযোজক বসে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

  • মা ও বাবা → মা-বাবা
  • দিন ও রাত → দিনরাত
  • সুখ ও দুঃখ → সুখদুঃখ

শুধু পাশাপাশি দুটি শব্দ থাকলেই দ্বন্দ্ব হয় না; তাদের উভয়ের অর্থ স্বাধীনভাবে বর্তমান থাকতে হবে।

তৎপুরুষ সমাস

যে সমাসে পূর্বপদের কারকবিভক্তি লোপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। লুপ্ত বিভক্তি (Case Marker) অনুসারে এর বিভিন্ন উপপ্রকার হয়—

  • রাজাকে ভক্ত → রাজভক্ত — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  • মন দ্বারা গড়া → মনগড়া — তৃতীয়া তৎপুরুষ
  • শিশুর জন্য শিক্ষা → শিশুশিক্ষা — চতুর্থী তৎপুরুষ
  • ঋণ থেকে মুক্ত → ঋণমুক্ত — পঞ্চমী তৎপুরুষ
  • রাজার পুত্র → রাজপুত্র — ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  • বনে বাস → বনবাস — সপ্তমী তৎপুরুষ

বিপদাপন্ন-এর ব্যাসবাক্য বিপদে আপন্ন; তাই এটি সপ্তমী তৎপুরুষ। পূর্বের “বিপদকে আপন্ন” বিশ্লেষণটি যথার্থ নয়।

কর্মধারয় সমাস

কর্মধারয়ে সমস্যমান পদগুলি একই ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধান হয়। পূর্বপদ সাধারণত উত্তরপদের গুণ, অবস্থা, উপমান বা পরিচয় প্রকাশ করে।

  • নীল যে কমল → নীলকমল
  • মহান যিনি রাজা → মহারাজ
  • কাজলের ন্যায় কালো → কাজলকালো — উপমান কর্মধারয়
  • সিংহের ন্যায় পুরুষ → সিংহপুরুষ — উপমিত কর্মধারয়
  • মুখরূপ চন্দ্র → মুখচন্দ্র — রূপক কর্মধারয়

কর্মধারয়ে দুটি পদ একই সত্তাকে বোঝায়; এই বৈশিষ্ট্যটি তৎপুরুষ থেকে তাকে আলাদা করতে সাহায্য করে।

দ্বিগু সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্তপদে একটি সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।

  • তিন ফলের সমাহার → ত্রিফলা
  • তিন কালের সমাহার → ত্রিকাল
  • সাত ঋষির সমাহার → সপ্তর্ষি

শুরুতে সংখ্যা থাকলেই দ্বিগু হয় না; সমষ্টি বা সমাহারের অর্থও থাকতে হবে।

বহুব্রীহি সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ বা উত্তরপদ কোনোটিই সরাসরি প্রধান নয় এবং সমস্তপদ অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। ব্যাসবাক্যে প্রায়ই যার, যাঁর, যাতে থাকে।

  • নীল কণ্ঠ যাঁর → নীলকণ্ঠ (শিব)
  • দশ আনন যার → দশানন (রাবণ)
  • চক্র পাণিতে যাঁর → চক্রপাণি (বিষ্ণু)

নীলকণ্ঠ যদি নীল রঙের কণ্ঠ বোঝায়, তবে তা কর্মধারয়; শিবকে বোঝালে বহুব্রীহি। তাই প্রসঙ্গ অপরিহার্য।

অব্যয়ীভাব সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয় এবং তার অর্থ প্রধান হয়ে সমস্তপদটি সাধারণত অব্যয়ের মতো ব্যবহৃত হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।

  • সাধ্য অনুসারে → যথাসাধ্য
  • প্রতি দিন → প্রতিদিন
  • কূলের সমীপে → উপকূল

সমাস চেনার নির্ভরযোগ্য উপায় হলো প্রথমে স্বাভাবিক ব্যাসবাক্য তৈরি করা, তারপর কোন পদের অর্থ প্রধান এবং কোন সংযোজক বা বিভক্তি লোপ পেয়েছে তা দেখা। শুধু একটি “চেনার শব্দ” দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে।